
Selfishness and Civilization
স্বার্থপরতা, সভ্যতা, ক্র্যাব মেন্টালিটি ও তৃতীয় বিশ্বের ধাঁধা
বাংলা সিনেমায় দেখে থাকবেন, নায়ক এতিম, গরীব। একদিন সে বনে ঘুরতে আসা শহরের মস্তবড় ধনীর দুলালীকে দেখে প্রেমে পড়ে যায়। এরপর একদিন ঐ মেয়ের বাবা তাকে শর্ত দেয় কোনদিন যদি সে তার সমান ধন-সম্পদ অর্জন করে দেখাতে পারে তবেই তার মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিবে। ভ্যাগাবন্ড নায়ক এরপর কুলি, মজুরের কাজ থেকে ধীরে ধীরে ট্রাক ড্রাইভার হয়, ট্রাকের মালিক হয়, কোম্পানি দেয়, একদিন দেখা যায় নায়িকার বাবার কোম্পানিই কিনে ফেলে। মাঝপথে নায়কের বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, ভিলেনসহ ডজনখানিক লোক হত্যাকান্ডের শিকার হয়ে মারা যায়। এই সবাই এতো আত্মত্যাগ, এতো জীবনদান, এতো সংগ্রাম, এতো পরিশ্রম – সবই স্রেফ একটি সফল বিয়ের জন্য। এতো এতো ত্যাগ তিতিক্ষার পরে বিয়ে হয়ে সিনেমা শেষ! বাঙালি দর্শক আবার এসব বুঁদ হয়ে দেখতো, এখন মনে হয় আর দেখতে চায় না এসব আজগুবি জিনিস। তবে এই ক্ষতিকর স্বার্থপরতা হয়তো বাঙালিদের সঙ্গে মিশে আছে নিকট অতীতকাল থেকে।
কষ্টের মধ্যেই মজার বাস
সবচেয়ে অসাধারণ জিনিসটা যদি সবচেয়ে সহজ হতো, তাহলে আর জীবনের মজা থাকতো না। আর আমরা তো বাঁচি মজার এককে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, মজার জিনিসও বেশিরভাগ সময়ই আরামদায়ক নয়। কষ্ট করার মানসিকতা আর সাহস না থাকলে মজা মেলে না।
এই সত্যটা খুব সহজ শোনালেও, এর গভীরে একটি মানবিক প্যারাডক্স লুকিয়ে আছে। আমরা যা চাই, তা সহজে পাওয়া গেলে আমরা আর তা চাই না। যে পথে বাধা নেই, সে পথে হাঁটার আনন্দও তেমন নেই। পর্বতারোহী পাহাড় জয় করতে চায় কারণ পাহাড় জয় করা কঠিন – যদি হেলিকপ্টারে চূড়ায় নামিয়ে দেওয়া হয়, সে বিজয়ের স্বাদ মেলে না। প্রোগ্রামার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিবাগ করে যখন বাগটা ধরে ফেলে, তখন যে তৃপ্তি পায়, সেটা সহজ কোডে পাওয়া যায় না।
তা সে হিমালয়ে চড়া, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করা বা আকর্ষণীয় সঙ্গী জোগাড় করা, যাই হোক না কেন – প্রতিটি ক্ষেত্রেই কষ্টটাই পুরস্কারের দরজা খুলে দেয়।
প্রকৃতিগত ঝোঁক ও মানবিক বৈচিত্র্য
এছাড়া আছে ব্যক্তির প্রকৃতিগত ঝোক বা অ্যাপটিচিউড। যে হিমালয়ে চড়তে পারে, সে হয়তো প্রিয় মানুষটিকে মুখ ফুটে বলতে পারে না ভালো লাগার কথাটা।
এই সীমাবদ্ধতাটা আসলে মানুষের প্রকৃতির একটি সুন্দর বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো ক্ষেত্রে অসাধারণ, কিন্তু সব ক্ষেত্রে নয়। যে গণিতজ্ঞ জটিল সমীকরণ মুহূর্তের মধ্যে সমাধান করতে পারেন, তিনি হয়তো বাজারে গিয়ে দরদাম করতে পারেন না। যে কবি শব্দের মধ্যে মহাবিশ্ব আঁকতে পারেন, তিনি হয়তো একটা সরল ব্যবসায়িক চুক্তি বুঝতে পারেন না। এটা দোষ নয়, এটা বিশেষত্ব।
মানবজাতির ইতিহাসে এই বৈচিত্র্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ। যদি সবাই একই ধরনের প্রতিভা নিয়ে জন্মাত, তাহলে সভ্যতা কখনো এতদূর আসতে পারত না। একজন আরেকজনের পরিপূরক হয়ে যে সমন্বয় তৈরি হয়, সেটাই মানব সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি। এখানে থাকে ভিন্নমত, ভিন্ন দর্শন। এই এতোসব ভিন্নতা ও বৈচিত্র থেকেই মানুষ তার ও সমাজের জন্য সেরাটা নিয়েই আগামীর সভ্যতা গড়ে।
বলা হয়, মানুষ বৈচিত্রময়, আর এই বৈচিত্রই মানুষের সৌর্ন্দয্য। কিন্তু সমাজে দেখবেন, অনেকে মানুষের এই বৈচিত্র রুপকে পছন্দ করে না। মানুষের ভিন্নমত, ভিন্ন দর্শন, ভিন্ন বিশ্বাস, ভিন্ন আচার, ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতিকে অনেকে শুধু ঘৃনার চোখেই দেখে না, বাঁধা দেয়, এমনকি নিজের চিন্তা, মত, দর্শন জোর করে চাপিয়ে দেয়ার জন্য হত্যা, গণহত্যা পর্যন্তও করে। মনে রাখবে, এই ধরনের মানুষ বা গোষ্ঠীগুলো বরাবরই মানুষ, প্রকৃতি ও সভ্যতার শত্রু। আপনার, আমার সকলের কর্তব্য তাদের রুখে দেয়া।
নিউটনের নির্জনতাঃ স্বার্থপরতা না দায়িত্ব?
এই যেমন আইজ্যাক নিউটনের কথাই ধরা যাক। প্লেগের মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি কেমব্রিজ ছেড়ে চলে গেলেন দূরে কোনো নির্জন গ্রামে।
নিউটন যখন ওউলসথর্পে একা বসে ছিলেন, তখন লন্ডনে প্রতিদিন শত শত মানুষ মরছিল। ঐ একই সময়ে হয়তো অনেকেই জীবন বাজি রেখে আক্রান্ত মানুষের সেবা করে গেছেন। কেউ গবেষণা করেছে কেন এই রোগ ছড়াচ্ছে, কিভাবে এটা আটকানো যায়। আর নিউটন একের পর এক ক্যালকুলাস, অপটিক্স, আর মধ্যাকর্ষণের রহস্য ভেদ করে চলেছেন।
বাইরে থেকে দেখলে এটাকে পলায়নপরতা মনে হতে পারে। কিন্তু সেই নির্জনতায় বসে তিনি লিখে ফেলছিলেন পুরো মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎ। ক্যালকুলাস ছাড়া আজকের ইঞ্জিনিয়ারিং, পদার্থবিজ্ঞান, অর্থনীতি – কিছুই সম্ভব হতো না। মধ্যাকর্ষণের সূত্র ছাড়া আমরা কখনো মহাকাশে যেতে পারতাম না, স্যাটেলাইট থাকত না, GPS থাকত না।
প্রশ্ন হলো – নিউটন কি স্বার্থপর ছিলেন? একটি অর্থে হয়তো ছিলেন। তিনি সেটাই করেছিলেন যা তাঁকে গভীরতম তৃপ্তি দিত। কিন্তু এই ‘স্বার্থপরতা’র ফল ভোগ করেছে সমগ্র মানবজাতি। নিজের জন্য যেটা সেরা সেই কাজটা ঠিকঠাক করে গেলে সেটাও মানুষ, সমাজ ও সভ্যতার কাজে লাগে।
বৈচিত্র্যময় স্বার্থপরতাই সভ্যতার ইঞ্জিন
আসলে, যে যেটাতে মজা পায় আরকি। আমরা ভাগ্যবান যে মানুষের মজা পাওয়ার স্বাদে প্রচুর ভিন্নতা আছে, স্বার্থপরতায় বৈচিত্র্য আছে। ফলে, আর্তপীড়িতের সাহায্য করা থেকে প্রকৃতির রহস্যভেদ, কোনো কাজই পড়ে থাকছে না।
এই দৃষ্টিভঙ্গিটা আসলে অ্যাডাম স্মিথের সেই বিখ্যাত ‘অদৃশ্য হাত’-এর ধারণার সাথে মিলে যায়। প্রত্যেক মানুষ যখন নিজের স্বার্থে কাজ করে, তখন সামগ্রিকভাবে সমাজের কল্যাণ হয়। রুটিওয়ালা রুটি বানায় নিজের জীবিকার জন্য, কিন্তু সেই রুটিতেই আমাদের পেট ভরে। ডাক্তার রোগী দেখেন নিজের পেশার প্রতি ভালোবাসায়, কিন্তু সেই সেবায় লক্ষ মানুষ সুস্থ হয়। বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষ ভিটে-মাটি বেঁচে বিদেশে গিয়ে হাঁড় ভাঙ্গা খাটুনি খাটে মূলত নিজের ও পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার জন্য। কিন্তু সেটা দেশের মূল সামষ্টিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখে। ব্যক্তির স্বার্থপরতা না থাকলে দেশের অর্থনীতিই ধ্বসে পড়তো।
একজন ফটো সাংবাদিকের কথা ভাবুন। সে যদি তার কাজ ছবি না তুলে আগুন নেভাতে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তবে সেদিনের সেই ইতিহাসটা আর মানুষ জানত না, গবেষণা হত না। সেই ছবিটা যদি ভিয়েতনাম যুদ্ধের নিক উটের ‘নাপালম গার্ল’ হয়, তাহলে সেই একটি ছবিই হয়তো লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে – যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকে জাগিয়ে তুলে। ফটোগ্রাফার তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য করতে পারেননি, কিন্তু তাঁর কাজ দীর্ঘমেয়াদে অনেক বড় সাহায্য করেছে।
তাহলে দেখুন কিছু মানুষ স্বার্থপর হয়ে নিজের কাজটাই যদি করে না যেত, তবে কিন্তু সভ্যতা এতদূর আসতে পারত না।
তৃতীয় বিশ্বের ধাঁধাঃ এত মানুষ, এত অনুর্বরতা কেন?
কিন্তু আসলেই কি তাই? আপনি যদি বাংলাদেশ, ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক হন, তাহলে দেখবেন অনেক কাজই আসলে পড়ে থাকছে আশেপাশে।
এখানেই প্রশ্নটা জটিল হয়ে যায়। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে জনসংখ্যা কম নয়। বরং ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল – এই দেশগুলোতে শত কোটি মানুষ। পরিসংখ্যানের বিচারে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিউটনের মতো অনেক প্রতিভাবান মানুষ থাকার কথা, ফটো সাংবাদিকের মতো সাহসী মানুষ থাকার কথা, উদ্যোক্তা থাকার কথা, বিজ্ঞানী থাকার কথা।
কত শত কোটি মানুষ চারিদিকে কিন্তু কাজ তেমন এগোচ্ছে না। এ যেন কী এক জটিল ধাঁধা! এত জনসংখ্যা, হাজার স্বাদের হাজার প্রকৃতির মানুষ থাকার কথা চারিপাশে। নিজের ভালো লাগার ব্যাপারটাতে জান লড়িয়ে খাটাখাটনি করার মতো মানুষও তো অনেক থাকার কথা।
তাহলে কই? তৃতীয় বিশ্বের এতগুলো জাতি, তার শতকোটি মানুষ মিলিয়ে কি এতটাই অনুর্বর হয়ে পড়েছে? এত সম্ভাবনার জমিনে শুধুই কি আগাছা?
এই প্রশ্নটা কষ্টের, কিন্তু জরুরি। কারণ উত্তরটা না খুঁজলে পরিবর্তন আসবে না। এখানেই সামনে চলে আসে, ক্ষতিকর স্বার্থপরতা বনাম উৎপাদনশীল স্বার্থপরতা।
ক্ষতিকর স্বার্থপরতা বনাম উৎপাদনশীল স্বার্থপরতা
তবে উন্নত বিশ্বের মানুষদের স্বার্থপরতা মোটা দাগে অন্য কারো জন্য ক্ষতিকর হয় না – এখানেই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে পার্থক্য।
নিউটন নির্জনে গিয়ে গবেষণা করলেন – কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলো না, কারন সেখানে যাদের প্লেগ নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব ছিল তারা সেটা সামলেছেন। ফটোগ্রাফার ছবি তুললেন – কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলো না কারন আগুণ নেভানোর জন্য উক্ত ফটোগ্রাফারও ট্যাক্সের টাকা দিয়ে ফায়ার ফাইটিং ফোর্স রেখেছেন, তারা তাদের দায়িত্বটা সঠিকভাবে করবে। কবি কবিতা লিখলেন – কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলো না কারন রাস্তায় না খেয়ে থাকা মানুষটিকে দেখার জন্য সোস্যাল ওয়েলফেরারের কর্মীরা কাজ করবে। এই ধরনের স্বার্থপরতা আসলে একটি ইতিবাচক-সাম যোগফলের খেলা। একজনের লাভ অন্যের ক্ষতি নয়, বরং অনেকের লাভ।
কিন্তু তৃতীয় বিশ্বে, বিশেষত আমাদের সমাজে, স্বার্থপরতার চরিত্রটা ভিন্ন। এখানে মানুষ স্বার্থপর শুধু হয় না, স্বার্থের জন্য অন্ধও হয়ে যায়, অন্যের ক্ষতির কারণ হয়। উদাহরণ হিসাবে যদি দেখেন, বাংলাদেশের সমাজে ধর্মের মতো একটা বড় অনুৎপাদনশীল বিষয় নিয়ে অনেকে মানুষ এতোটাই স্বার্থপর হয়ে যায় যে, তাদের মতাদর্শ যারা সমর্থন করে তা তাদেরকে তারা একেবারে শেষ করে দিতে উদ্যত হয়। বড় কোম্পানি নিজের আখের গোছানোর জন্য নিজ নিয়ন্ত্রনে থাকা ব্যাংকের তহবিল ফাঁকা করে ফেলে। জনগণের সম্পদ লুটে রাজনীতিবিদ ও আমলারা তাদের ভবিষ্যৎ চৌদ্দ পুরুষের বিলাসী জীবন নিশ্চিত করে।
যারা নিজ প্রচেষ্টায় পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে সফল হয়, তাদেরও সামনে শত বাঁধা থাকে। এখানে একজন আরেকজনের জন্য বসে থাকে – কে আগে এগিয়ে যাবে তার অপেক্ষায়, তারপর সেই সফলকে টেনে নামানোর জন্য। সবার ধান্ধা থাকে কে কিভাবে অন্যের কষ্টার্জিত অর্জনে ভাগ বসাবে, এমনকি আসল অর্জনকারীকে শেষ করে দিয়ে হলেও।
এটাকে নেতিবাচক-সাম খেলা বলা যায়। একজন উদ্যোক্তা যখন ব্যবসা শুরু করেন, তখন প্রতিযোগী হওয়ার বদলে তাকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়। একজন বিজ্ঞানী যখন নতুন কিছু আবিষ্কার করেন, তখন কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। একজন সৎ আমলা যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তখন তাকে বদলি করা হয়, প্রোমোশন আটকে দেয়া হয়, হয়রানি করা হয়।
তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
এই প্রশ্নের উত্তর একমাত্রিক নয়। কিন্তু কিছু সূত্র আছে।
প্রথমত, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতা। নিউটন যে সমাজে ছিলেন, সেখানে মেধার একটা স্বীকৃতির ব্যবস্থা ছিল। রয়্যাল সোসাইটি ছিল, পেটেন্ট ব্যবস্থা ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা ছিল। তৃতীয় বিশ্বে প্রায়ই এই কাঠামোগুলো হয় নেই, নয় দুর্নীতিগ্রস্ত।
দ্বিতীয়ত, বেঁচে থাকার চাপ। যখন পরিবারের পেট ভরানোটাই প্রতিদিনের লড়াই, তখন দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা বা সৃষ্টিশীলতার জন্য সময় ও মানসিক শান্তি কোথায়? নিউটন নির্জনে গিয়ে গবেষণা করতে পেরেছিলেন কারণ তাঁর জমি ছিল, খাবার ছিল। দারিদ্র্য সৃষ্টিশীলতার শত্রু।
তৃতীয়ত, শিক্ষার মান ও চরিত্র। মুখস্থনির্ভর পরীক্ষাপদ্ধতি মৌলিক চিন্তার বিপরীতে কাজ করে। যে শিক্ষা প্রশ্ন করতে শেখায় না, সে শিক্ষা নতুন কিছু আবিষ্কার করতেও শেখাতে পারে না।
চতুর্থত, সামাজিক মনোভঙ্গি। ‘ক্র্যাব মেন্টালিটি’ বা ‘কাঁকড়া মানসিকতা’ – যেখানে একটা কাঁকড়া বালতি থেকে বের হতে চাইলে বাকিরা তাকে টেনে নামায়। এই মানসিকতা তৃতীয় বিশ্বের অনেক সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত।
স্বার্থপরতার দুই মুখ
পরিশেষে, এই বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উৎপাদনশীল স্বার্থপরতাঃ আমি আমার কাজ করি, তুমি তোমার কাজ করো। আমার সাফল্য তোমার ক্ষতি নয়, বরং আমার অর্জন সমাজের সম্পদ। নিউটনের গবেষণা, ফটোগ্রাফারের ছবি, কবির কবিতা – এগুলো এই ধরনের স্বার্থপরতার ফল।
ধ্বংসাত্মক স্বার্থপরতাঃ আমি এগোতে পারলাম না, তাই তুমিও এগোতে পারবে না। তোমার সাফল্যকে আমার ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখা। তোমার অর্জন কেড়ে নেওয়া বা ধ্বংস করাই আমার লক্ষ্য।
প্রথম ধরনের স্বার্থপরতা সভ্যতা তৈরি করে। দ্বিতীয় ধরনের স্বার্থপরতা সভ্যতা ধ্বংস করে।
তৃতীয় বিশ্বের সমস্যা স্বার্থপরতা নয়। সমস্যা হলো ভুল ধরনের স্বার্থপরতার প্রাধান্য – যেখানে নিজে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের বদলে, অন্যকে পেছনে ফেলার নেশা প্রবল হয়ে ওঠে।
যেদিন আমাদের সমাজে ‘নিজের ভালো লাগার কাজটা করে যাওয়া’র সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে – অন্যের ক্ষতি না করে, নিজের সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটানোর সংস্কৃতি – সেদিনই হয়তো এই ধাঁধার সমাধান হবে। সেই দিনের অপেক্ষায়।
Related Posts

পাথরের ভেতর বুদ্ধ জেগে ছিলেন দেড় হাজার বছর, ইসলাম তাকে মেরে ফেলে এক সপ্তাহে
এক হিন্দুকুশের কোলে, বামিয়ান উপত্যকার বুকে, একটা নদী বয়ে যেত নিঃশব্দে। তার দুই পাশে বিস্তীর্ণRead More

Religious education does not bring any sustainable change in a person’s moral character
The LAUSD is the second-largest school district in the United States. In America, education fromRead More

Comments are Closed