
Religious Barriers on the Path of Science
এই যুগেও বিজ্ঞান প্রসারের পথে ধর্মীয় উন্মাদনা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়!
তার সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকার জন্য ২৪০০ বছর আগে সক্রেটিসকে বিষের পেয়ালা পান করতে হয়েছিল। এথেন্সে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি তরুণদের বিভ্রান্ত করছেন। তিনি তাদের দেবালয়ে (Pantheon) রাখা দেবতাদের বিশ্বাস করতেন না। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছেন। ঠিক এই ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী তৌহিদী জনতা যেই অভিযোগগুলো করে মুক্তচিন্তকদের নিয়ে, তসলিমা নাসরিনদের নিয়ে।
সেসময় গ্রিক দেবতাদের (Greek Gods) প্রচণ্ড প্রভাব ছিল সেখানে, এখন যেমন আছে ইসলামের নবী মুহাম্মদের। সমুদ্রে ঝড় আসত গ্রিক দেবতা পসাইডনের (Poseidon) কারণে। মানুষ সমুদ্রে বিভিন্ন ধরণের উপঢৌকন বা ভোগ উৎসর্গ করত যাতে দেবতার রাগ কমে। রোগব্যাধি ছিল অ্যাপোলো (Apollo) নামক দেবতার ক্রোধের ফল।
তারপর সময় পেরিয়ে গেল। এখন গ্রিক দেবতারা খোদ গ্রিসেই অতীতের অংশ, মিথ। এখন মানুষ তাদের জাদুঘরে বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে দেখে আর ভাবে যে সক্রেটিসই ঠিক ছিলেন – “তিনি তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন।” গ্রিক দেবতারা ছিল কল্পিত এবং মিথ্যা।
প্রচুর সময় পার হয়ে গেল। বহু নতুন ধর্মের সৃষ্টি হলো এরই মাঝে, বহু নতুন ঈশ্বরের আগমন ঘটলো। সেই অন্ধ বিশ্বাস আর অদৃশ্য, আনকোরা নব্য দেবতাদের রক্ষার জন্য তাদের অনুসারীরা ব্লাসফেমি (ধর্মনিন্দা) আইন তৈরি করল। যে ধর্ম ত্যাগ করবে বা ধর্ম নিয়ে কথা বলবে, তাকে হত্যা করো। যে ধর্মীয় মহাপুরুষের কথার সমালোচনা করবে তাকে হত্যা করো, কোন মাফ নেই। ঠিক সক্রেটিসের মতোই – কারণ তারা তরুণদের বিভ্রান্ত করছে, ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে, তারা অশান্তি নিয়ে আসছে। এই ধারাগুলোকে রীতিমতো ধর্মীয় বইয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হলো যে, ঈশ্বর আসলে মানুষকে অন্য মানুষকে হত্যা করার নির্দেশ দেন, নারীদের ধর্ষণ করার নির্দেশ দেন।
তারপর এলো বিজ্ঞানের যুগ। সাধারণ মানুষ তাদের সরলতার কারণে যেসব বিষয় দেবতাদের ওপর চাপিয়ে দিত, বিজ্ঞান একে একে সেগুলোর উত্তর দিতে শুরু করল।
বৃষ্টি কোনো দেবতার উদ্দেশ্যে কোরবানি বা উপঢৌকন দিলে বর্ষণ হয় না, এর পেছনে একটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞান রয়েছে।
কখন বৃষ্টি হবে বা মায়ের পেটে ছেলে নাকি মেয়ে সন্তান বিজ্ঞান তা বলে দিতে পারে। ধর্মীয় সব দাবি হাস্যকর হয়ে গেল।
ভূমিকম্প বা ঝড় দেবতাদের ক্রোধ বা রাগের কারণে আসে না, এগুলোর পেছনেও একটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞান রয়েছে, নারীর পোশাকের সেখানে কোনোই ভূমিকা নেই।
রোগব্যাধি বা মৃত্যুর পেছনেও কার্যকারণ (Cause and effect) রয়েছে; কোনো মসজিদ, মজার, মন্দির বা গির্জায় নিজের আকাশের ঈশ্বর বা দেবতার সামনে কান্নাকাটি করলে নয়, বরং ওষুধ বা ডাক্তারের চিকিৎসায় রোগী সুস্থ হবে। ক্যান্সারের চিকিৎসা প্রার্থনা নয়, কেমোথেরাপি (Chemotherapy)।
বিজ্ঞানীরা এই কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য নিজেদের পবিত্র বা অলৌকিক ঘোষণা করেননি, আর না তাদের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করার কারণে কোনো ব্লাসফেমি আইন তৈরি করেছেন। তাদের তথ্য, তত্ত্বের ভুল বের করতে পারাটাই নতুন জ্ঞান। এটাই আজ পৃথিবীর উন্নতির রহস্য।
বিজ্ঞানের নিয়মগুলো সার্বজনীন (Scientific laws are universal)। এর অর্থ হলো, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে যেকোনো ধর্মের অনুসারীই এই নিয়মগুলোকে অস্বীকার করতে পারবে না, আর এ নিয়ে কোনো দ্বিমতও নেই। একমাত্র বাংলাদেশের মতো কিছু দেশের পশ্চাৎপদ তৌহিদী জনতা এখনো সেই ২৪০০ বছর আগের গ্রিসে বা ১৪০০ বছর আগের আরবের দুর্ভিক্ষপীড়িত মরুতে পড়ে আছে।
আজকের যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। আজকের যুগকে বলা হয় তথ্যের যুগ (Age of Information)। সভ্য পশ্চিমা বিশ্ব, যারা শিক্ষা এবং গবেষণায় বিশ্বাসী, তারা দ্রুত এই জরাজীর্ণ ধর্মের আধিপত্য থেকে বেরিয়ে আসছে। ইউরোপের দেশে দেশে আজ ধর্মবিমুখ মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ হচ্ছে। তাদের দেশগুলো শান্তির তালিকায় শীর্ষে উঠে যাচ্ছে। তারা জেনে গেছে পৃথিবীকে শান্তিপূর্ণ রাখতে হলে কল্পিত ঈশ্বরের স্বর্গের লোভ বা নরকের ভয়ে নয়, মানুষ হিসাবেই সবাইকে সম্মিলিতভাবে ভাল থাকতে হবে। মানুষের এই একটাই সংক্ষিপ্ত জীবন, সবার জীবনকে সুন্দর রাখাই এই জীবনের লক্ষ।
আমি সামান্য মানুষ, আমার চেয়ে অনেক মহীরুহ ব্যক্তিগণ সারা পৃথিবীজুড়ে একই কথা বলে যাচ্ছেন। তথ্যের এই যুগে আমরা যেসব কথা বলছি, সেগুলো কি আসলেই সময়ের চেয়ে এগিয়ে? নাকি যারা আমাদের কথা বুঝতে পারছে না, আমাদের গালি দেন, হত্যার হুমকি দেন, তারা সময়ের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে? তারা কি তাদের সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা এবং অলসতার কারণে শিক্ষা ও গবেষণা করে নিজেদের পুরনো বিশ্বাস থেকে বেরিয়ে আসতে চায় না? তারা কেন ২৪০০ বা ১৪০০ বছর আগের চিন্তা ও প্রথা নিয়েই পড়ে আছেন?
যাই হোক না কেন, কোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই ধর্মীয় রক্ষণশীল মানুষদের এই অধিকার নেই যে তারা মানুষের মুখ বন্ধ করবে এবং অন্যদের বিষের পেয়ালা পান করাবে। বাংলাদেশের তৌহিদী জনতাকে সভ্যতার এই নিয়মে অভ্যস্ত হতে হবে।
Related Posts

The fate of Salton City teaches that trying to control nature can lead to the opposite of what is intended
Salton Sea: The Story of a Haunted Dream After almost a 300‑kilometer drive in threeRead More

স্যালটন সিটির পরিনতি শেখায় প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রন করতে চাইলে হিতে বিপরীত হতে পারে
স্যালটন সাগরঃ এক ভুতুড়ে স্বপ্নের গল্প তিন ঘন্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ড্রাইভ দিয়ে, সারি সারিRead More

Is the Earth and the universe orderly? Has everything been created only for humans?
Many Muslim people argue by saying, look, how orderly the earth and the universe are,Read More

Comments are Closed