Benefits
Public Charges and Bangladeshis

Public Charges and Bangladeshis

বাংলাদেশের মানুষের এই কালো অর্জন ঠিক হলো না!

বৃদ্ধ বাবা–মা বাংলাদেশে থাকেন, অথচ তাদের সন্তানেরা যুক্তরাষ্ট্রে বসে সেই বাবা–মাকে দেখাশোনা করার নামে সরকারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার সমপরিমাণ সুবিধা নিয়েছে – সম্প্রতি এমন ঘটনাও পাওয়া গেছে। আমেরিকায় পঙ্গু, চলতে অক্ষম বা মানসিক সমস্যাগ্রস্ত নাগরিকদের দেখাশোনার জন্য প্রতি ঘণ্টায় ২০০০ টাকারও বেশি সমমূল্যের পেমেন্ট দেওয়া হয়। বাংলাদেশিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সুবিধা নিজেরাই নেন – বৃদ্ধ বাবা–মা, সন্তান, স্বামী–স্ত্রী, ভাই–বোন যে কেউকে দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেখিয়ে। এমনও হয়, এই আয়ের ওপর পুরো পরিবারের খরচ চলে যায়, এবং দেখা যায় পরিবারের কেউই আর কাজ করে না; বসে বসেই তারা চলতে পারে যতদিন ওই নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য বেঁচে থাকেন।

অনেকে দীর্ঘদিন কাজ না করে বসে বসে বেকার ভাতা নেন। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম। কারণ তাদের বেশিরভাগই ভালো যোগাযোগ দক্ষতার কারণে কোনো না কোনো চাকরিতে ঢুকে যায়, এবং তাদের বেতন এত বেশি হয় যে তারা কোনো বেনিফিট পাওয়ার যোগ্যই থাকে না। ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার মানের কারণেই তারা এই অসম্মানজনক কালো তালিকায় যায়নি। পরিশ্রমী ট্যাক্স পেয়ারদের টাকার যথেচ্ছ অপব্যবহার কেউ ভালভাবে নেয় না, দিনশেষে পুরো বাংলাদেশিদের এই কালো পুরষ্কার পাওয়ার দায় নিতে হচ্ছে এখন।

আমেরিকায় পাবলিক চার্জ বলে একটি ধারণা আছে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি বেনিফিট নেওয়াকে বোঝায়। বাংলাদেশিদের প্রায় ৫৪% বিভিন্ন সরকারি বেনিফিট নেন। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৪%। পাকিস্তানিদের মধ্যেও হার বেশি। USCIS দেখে – যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকতে চাওয়া কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি নগদ সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠানিক যত্নের ওপর নির্ভরশীল হবেন কিনা। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাংলাদেশিরা একটি “কালো পদক” পেয়েছে।

অনেকের আবার ভুল ধারণা আছে – তারা মনে করেন যে যেকোনো সহায়তাই পাবলিক চার্জ। ভবিষ্যতে ইমিগ্রেশনে সমস্যা হবে ভেবে তারা সেই সুবিধা প্রাপ্য হলেও নেন না। যেমন – মেডিকেয়ার বা মেডিক্যাল, ফুড স্ট্যাম্প – এসব কোনো পাবলিক চার্জ নয়; এগুলো কারো ইমিগ্রেশনে প্রভাব ফেলে না। সরাসরি সরকারি নগদ সহায়তা (যেমন SSI, TANF, state/local cash assistance), বেকার ভাতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠানিক যত্ন (যেমন Medicaid দ্বারা অর্থায়িত দীর্ঘমেয়াদি নার্সিং হোম কেয়ার) – এসবই পাবলিক চার্জ, এবং এগুলোই বাংলাদেশিদের কালো তালিকায় ফেলেছে। এগুলো ছাড়া বেশিরভাগ সুবিধা – যেমন Medicaid-এর সাধারণ ব্যবহার, SNAP/ফুড স্ট্যাম্প, WIC, স্কুল লাঞ্চ, COVID সহায়তা, হাউজিং ভাউচার – পাবলিক চার্জ হিসেবে গণ্য হয় না।

আমেরিকার রাস্তায় আপনি শত শত হোমলেস মানুষ দেখবেন – যারা রাস্তায়, বাস–ট্রেন স্টেশনে রাত কাটায়, সারাদিন শপিং কার্টে লোটা–কম্বল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এদের অনেকেই সরকারি বেনিফিট খেয়ে চলে। অনেকের কাজ করার সামর্থ্য থাকলেও কাজ করে না। এই হোমলেসদের তালিকায় বেশি আছে আফ্রিকান আমেরিকান বা কালোরা, শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান বা ইউরোপীয় বংশোদ্ভূতরা; খুব সামান্য আছে হিস্প্যানিক। আপনি সাধারণত কোনো এশীয়, ভারতীয় বা বাংলাদেশিকে এই রাস্তার জীবনে দেখবেন না। এর মানে কি এশীয়, বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভূটানি, আফগানি সবাই পরিশ্রমী? তা নয় – এদের অনেকেই জানে কীভাবে বাড়িতে বসে বেনিফিট খেয়ে পুরো জীবন পার করে দেওয়া যায়। দেশে গিয়ে এতিমখানা–মাদ্রাসায় দান–খয়রাত করে নিজ এলাকায় দানবীর সেজেও থাকে তারা। অনেক বাংলাদেশি আবার বেনিফিট খেয়ে চলে, আবার সারাদিন আওয়ামী লীগ–বিএনপি–জামায়াত করে বিদেশের মাটিতে মারামারি করে।

ভয়ে যারা নিজের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বেনিফিট নেয়া থেকেও বিরত থাকতে চান, তাদের জন্য আবারো বলি –

ভুল ধারণা থেকে অনেকেই মনে করেন –
– Medicaid
– Food Stamps (SNAP)
– WIC
– Housing Voucher
– Free of Low Cost School Lunch
– COVID 19 Support

এসব নিলে ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্বে সমস্যা হবে। এটি ভুল. এগুলো যা পাবলিক চার্জ নয়। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, যেমন দ্যা স্যালভেশান আর্মি, চার্চ এসব থেকে পাওয়া কোন সুবিধাও পাবলিক চার্জ নয়। এসব সুবিধা নেওয়া ইমিগ্রেশনে কোনো সমস্যা তৈরি করে না।

যা পাবলিক চার্জ হিসেবে গণ্য হয় –
– SSI (Supplemental Security Income)
– TANF (cash welfare)
– State/local cash assistance
– Medicaid‑funded দীর্ঘমেয়াদি নার্সিং হোম কেয়ার
– দীর্ঘমেয়াদি বেকার ভাতা নির্ভরতা

মানে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরাসরি ক্যাশ সাপোর্ট এগুলো। এই সুবিধাগুলোই বাংলাদেশিদের “কালো তালিকায়” ফেলেছে – কারণ আগেই বলেছি, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রায় ৫৪% কোনো না কোনো সরকারি বেনিফিট নেন, যেখানে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৪%।

সেখানে বাংলাদেশের কমিউনিটি লিডাররা দেশ থেকে গায়ক, গায়িকা, নর্তকী, অভিনেতা, অভিনেত্রী নিয়ে বিভিন্ন মেলা আয়োজন করে আয় করতে যতোটা ব্যস্ত থাকেন, সেই পরিমান কোন উদ্যোগে তাদের দেখা যায় না যেখানে বাংলাদেশিদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে। এমনিতেই আমেরিকার বেশিরভাগ মানুষ বাংলাদেশকে চেনে না, যারা চেনে তারাও জানে দেশটি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, দূর্যোগ, অস্থিরতা কবলিত একটা অঞ্চল। তার উপর বাংলাদেশের মানুষের এই কালো অর্জন তাদের ধারনা আরো নেতিবাচক করে দিবে।

Related Posts

Politics in the Public Sphere

Actresses Shabana, Moushumi, Popy – Religious Sentiment and the Politics of the Public Sphere

In the history of Bangladeshi cinema, names like Shabana, Moushumi and Popy mark important chapters.Read More

Politics in the Public Sphere

নায়িকা শাবানা, মৌসুমী, পপি – ধর্মানুভূতি এবং জনপরিসরের রাজনীতি

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে শাবানা, মৌসুমী কিংবা পপির মতো নাম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তারা আশি, নব্বই ওRead More

Hindu Attacked for Speaking

In Bangladesh, the very meaning of the “blasphemy” law is to find a new pretext for persecuting minorities

The attack on the house, shop, and temple of Deepto Roy in Tahirpur, Sunamganj isRead More

Comments are Closed