
Palestine and Kashmir
ফিলিস্তিন ও গাজা ইসরায়েলের সঙ্গে, পুরো কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে মিশে গেলেই মানবতার বৃহত্তর কল্যান হবে
আধুনিক রাজনীতিতে স্বাধীনতাকে প্রায় অলঙ্ঘ্য মূল্য ধরা হয়, সেখানে নেতাদের লক্ষ থাকে দেশের নেতৃত্ব বা সরকার গঠন করে দেশের শাসন হাতে নেয়া। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রশ্নগুলো অন্যরকমঃ তার সন্তান কোন মানের স্কুলে পড়বে, অসুখ হলে কোন মানের হাসপাতাল পাবে, রাতে নিরাপদে ঘুমাতে পারবে কি না, আর সন্তান ভবিষ্যতে কোন ধরনের চাকরি পাবে, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে পাবে, রুচিসম্মত পোশাক পাবে, একটি মানসম্মত বাসস্থান থাকবে। ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহাসিক ক্ষোভ ও ইতিহাসের বিচার সরিয়ে রেখে শুধু এই প্রশ্নগুলোর আলোকে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর-গাজা এবং বৃহত্তর কাশ্মীরের ক্ষেত্রে একটি যুক্তি দাঁড় করানো সম্ভব। যুক্তিটি হলো, এই অঞ্চলগুলোর বিপুল সংখ্যক মানুষের বস্তুগত কল্যাণ একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত রাষ্ট্রের অংশ হলে দ্রুততর হতো, যদি সেই রাষ্ট্র তাদের সমান নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি থাকে। এই প্রবন্ধ সেই যুক্তির সর্বোত্তম রূপটি তুলে ধরার চেষ্টা। এর বিপরীতেও কিছু যুক্তি থাকতে পারে। কিন্তু আমি যেহেতু ধর্ম বা রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে মানুষের কল্যানের কথা চিন্তা করি সেহেতু আমার যুক্তি বলে ফিলিস্তিন ও গাজা ইসরায়েলের সঙ্গে, পুরো কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে মিশে গেলেই মানবতার বৃহত্তর কল্যান হবে, যদি তারা সমান নাগরিকত্বের মূল্য দিয়ে গ্রহন করতে সম্মত হয়।
১. অর্থনীতিঃ ব্যবধানের মাপ
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মিথ্যা আবেগের বাইরে বাস্তবিক সংখ্যাগুলো একটি তীক্ষ্ণ ছবি দেয়। ইসরায়েলের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের কাছাকাছি, যা অনেক ইউরোপীয় দেশের সমান বা তার চেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে পশ্চিম তীরের মাথাপিছু আয় তার তুলনায় ১৪-১৫ ভাগের এক ভাগের মতো, প্রায় ৩-৪ হাজার ডলার। গাজায় ২০২৩-এর যুদ্ধের আগেই আয় ছিল এর অর্ধেকেরও কম, বেকারত্ব ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ, আর যুবসমাজের মধ্যে আরও বেশি। বিপুল অংশ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। যুদ্ধের পর গাজার অর্থনীতি ও অবকাঠামো যে মাত্রায় ভেঙে পড়েছে, তাতে পুনর্গঠনে কয়েক দশক ও কয়েক হাজার কোটি ডলার লাগবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অনুমান করছে। এই যুদ্ধের সূচনা কিন্তু করেছিল সাংবিধানিকভাবে ইহুদিদের নির্মুল করতে বদ্ধপরিকর ইসলামী জঙ্গি সংগঠন হামাস। তাদের রাষ্ট্রে মানুষ বছরের পুরোটা সময় বিদেশী সাহায্য ছাড়া কার্যত খেতে পায় না, আর তারা তৎপর থাকে পার্শ্ববর্তী শক্তিশালী রাষ্ট্র ইসরায়েলের নাগরিকদের হত্যা করে নিদের নাগরিকদের জীবনে যুদ্ধ তথা আরো বেশি ভোগান্তি ডেকে আনার মিশনে!
এই ব্যবধান সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ আছে। যুদ্ধের আগে প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনি ইসরায়েল ও বসতিগুলোতে কাজের অনুমতি নিয়ে কাজ করতেন, এবং তাঁরা পশ্চিম তীরে সম্ভাব্য আয়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি মজুরি পেতেন। অর্থাৎ মানুষ নিজের আচরণ দিয়েই দেখিয়েছে, শক্তিশালী অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা তাদের কাছে মূল্যবান। বড় বাজার, মূলধন, প্রযুক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাগাল একটি ক্ষুদ্র, ভূবেষ্টিত বা অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে গড়ে তোলা কঠিন।
গাজার আয়তন মাত্র প্রায় ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার, লোকসংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। এত ঘন জনবসতির এলাকায় বন্দর, বিমানবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও কৃষিজমি একসঙ্গে গড়ে তোলার জায়গা ও বাজার কোনোটাই নেই। অর্থনীতিবিদরা একে “স্কেলের সমস্যা” বলেন। ছোট রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর বা এস্তোনিয়ার মতো সফল হতে পারে ঠিকই, কিন্তু তার পেছনে ছিল উন্মুক্ত বাণিজ্যপথ, স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তি, যা এখানে অনুপস্থিত।
২. শিক্ষা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান-অর্থনীতি
একবিংশ শতাব্দীর সম্পদ মূলত মানবসম্পদ। ইসরায়েল তার জিডিপির প্রায় ৫-৬ শতাংশ গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর একটি। প্রযুক্তি-স্টার্টআপ, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি-প্রযুক্তি ও জল-ব্যবস্থাপনায় দেশটি বিশ্বনেতা। ইসরায়েলের কৃষি-প্রযুক্তি ও ড্রিপ সেচ মরু-অঞ্চলে ফসল ফলানোর যে মডেল দিয়েছে, তা আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু দেশ ব্যবহার করে। ইসরায়েল মেডিক্যাল গবেষণায় বিশ্বে শীর্ষ সারিতে থাকে। আপনার জীবন বাঁচানোর কোন মূল্যবান সামগ্রী হয়তো ইসরায়েলের অবদান, আপনি তা জানেনই না।
ফিলিস্তিনি তরুণদের জন্য এর অর্থ কী হতে পারত? পশ্চিম তীরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যেমন বীরজাইত, সুশিক্ষিত স্নাতক তৈরি করে, কিন্তু তাদের অনেকে স্থানীয় চাকরির বাজারের সংকীর্ণতার কারণে বেকার থাকে বা দেশ ছাড়ে। যুব বেকারত্ব ও উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের এই সমস্যা একটি বৃহত্তর প্রযুক্তি-অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগে প্রশমিত হতো। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক, যারা ইসলাম ধর্মের সঙ্গে যুক্তঃ তাঁরা জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ, এবং রাজনীতি, ব্যবসার পাশাপাশি চিকিৎসা ও ফার্মেসি পেশায় তাঁদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। সামান্য কিছু বৈষম্য সত্ত্বেও ইসরায়েলি আরবদের জীবনমান ও আয় পশ্চিম তীর বা গাজার বাসিন্দাদের চেয়ে বহুগুণ ভালো। একই জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সবাই, কিন্তু স্রেফ ইসরায়েলের নাগরিক হওয়ার কারনে তাদের ও তাদের শিশুদের জীবন অনেক উন্নত পাশের পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে। তাহলে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থে উস্কানি দেয়া বায়বীয় স্বাধীনতা পেয়ে লাভ কী?
৩. জীবনের মান ও স্বাস্থ্য
গড় আয়ুষ্কাল একটি সমাজের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পুষ্টি ও নিরাপত্তার সামগ্রিক সূচক। ইসরায়েলে এটি প্রায় ৮২-৮৩ বছর, যা বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর কাছাকাছি। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তা প্রায় ৭৩-৭৫ বছর এবং গাজার সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর আরও কমেছে। শিশুমৃত্যু, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা, এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা, সব ক্ষেত্রেই ব্যবধান বড়। গাজার মানুষকে ক্যানসার বা জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায়ই ইসরায়েল বা মিসরের অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হতো। যে ব্যবস্থায় চিকিৎসার ক্ষমতা ও চিকিৎসা-প্রার্থী আলাদা কর্তৃপক্ষের অধীনে, সেখানে মানুষের কষ্ট স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। হামাস ইসরায়েলের মানুষকে হত্যা করা তাদের ইসলামী ঈমানী দায়িত্ব মনে করে, কিন্তু নিজেদের নাগরিকদের বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য আবার সেই ইসরায়েলের উপর নির্ভর করতে হয়! ইসলাম ধর্মীয় আফিমের কত নিকৃষ্ট ব্যবহার করে ইসলামি জিহাদিরা!
৪. সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
সংঘাত-অর্থনীতির মূল্য প্রথমে দেয় সবচেয়ে দুর্বল মানুষ। বিনিয়োগকারী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আসে না, শিশুদের স্কুল বারবার বন্ধ হয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি প্রজন্ম ধরে বয়ে চলে। গাজায় ২০০৭ থেকে হামাস শাসন, ইসরায়েলি অবরোধ এবং একের পর এক যুদ্ধ মিলিয়ে একটি প্রজন্ম কার্যত স্থিতিশীলতা ছাড়াই বড় হয়েছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সংকটেঃ ২০০৬-এর পর কার্যকর জাতীয় নির্বাচন হয়নি, দুর্নীতি ও অদক্ষতার অভিযোগ ব্যাপক, এবং জনমত জরিপে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তলানিতে। একটি আইনের শাসনভিত্তিক, বিচারব্যবস্থা ও পুলিশ-কাঠামোসম্পন্ন রাষ্ট্রের নাগরিক হলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার ও চুক্তি-প্রয়োগের নিশ্চয়তা সম্ভাব্যভাবে বাড়ত।
৫. কাশ্মীরঃ ভূবেষ্টিত অঞ্চলের অর্থনৈতিক যুক্তি
কাশ্মীরের ক্ষেত্রে যুক্তির ভিত্তি আরও ভৌগোলিক। সমুদ্রপথহীন, পর্বতবেষ্টিত এই অঞ্চলের অর্থনীতি পর্যটন, আপেল ও ফলচাষ, হস্তশিল্প ও জলবিদ্যুতের ওপর দাঁড়িয়ে। এগুলোর প্রতিটির জন্যই বড় বাজার ও নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন-সংযোগ লাগে। ১৯৪৭-এর আগে শ্রীনগরের স্বাভাবিক বাণিজ্যপথ ছিল পশ্চিমে রাওয়ালপিন্ডি-লাহোর এবং দক্ষিণে জম্মু-পাঞ্জাব। বিভাজন ও সীমান্ত-সংঘাত সেই সংযোগ কেটে দিয়েছে। স্বাধীন কাশ্মীর হলে সে ভারত ও পাকিস্তান, দুই পরমাণু-শক্তিধর প্রতিবেশীর মাঝখানে ভূবেষ্টিত, সামরিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্র হতো, যার অস্তিত্ব তাদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করত।
তুলনামূলক সূচকও লক্ষণীয়। ভারত বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির একটি, তার মাথাপিছু জিডিপি পাকিস্তানের প্রায় দ্বিগুণ। পাকিস্তান গত কয়েক বছরে আইএমএফ-নির্ভর ঋণসংকট ও দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে গেছে। তবে এখানে সততার সঙ্গে বলতে হয়, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের সাক্ষরতার হার সরকারি তথ্যে বেশ ভালো, এবং ভারতীয় জম্মু-কাশ্মীরও বহু সূচকে জাতীয় গড়ের কাছাকাছি। গিলগিট-বালতিস্তানের সাংবিধানিক মর্যাদা অমীমাংসিত এবং সেখানকার মানুষ পাকিস্তানের সংসদে প্রতিনিধিত্ব পায় না। অর্থাৎ যুক্তির সবচেয়ে শক্ত অংশ হলো স্বাধীনতার বিকল্পের বিরুদ্ধে, কোনো এক পক্ষের ইতিবাচক বর্ণনা হিসেবে নয়। কাশ্মীর স্বধীন হলে বা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকলে কাশ্মীরের জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি বরং অনেক পিছিয়ে যেতো। এখন যে অংশ ভারতের সঙ্গে আছে তারা যদি সংঘাত পরিহার করে সাধারন ভারতীয় হিসাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে শামিল হতো তবে তার বেনিফিট কাশ্মীরের নাগরিকদেরই প্রাপ্য হতো।
৬. “আরেকটি আফগানিস্তান” ঝুঁকি
স্বাধীন কাশ্মীরে অস্থিরতার আশঙ্কা কল্পনাপ্রসূত নয়। ১৯৯০ সালের পর উপত্যকায় জঙ্গি সংগঠনের উত্থান, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিতাড়ন, যার ফলে কয়েক লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছিলেন, এবং সীমান্তপারের সংগঠনগুলোর ভূমিকা দেখায় যে একটি নতুন, দুর্বল রাষ্ট্র সহজেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে পারত। আফগানিস্তানে ২০২১-এর পর তালিবান শাসন তার একটি চরম উদাহরণঃ মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা নিষিদ্ধ, নারীর কর্মসংস্থানে কঠোর বিধিনিষেধ, অর্থনীতি ধসে পড়া। দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে মানুষের বাক, ব্যক্তি ও শিক্ষার স্বাধীনতা সবার আগে হারায়। ফিলিস্তিনেও হামাসের শাসন ও ২০২৩-এর হামলা-পরবর্তী পরিণতি দেখায়, সংগঠিত সহিংসতার দায় সাধারণ নাগরিককেই বইতে হয়। নেতাদের জীবনে এই ধাক্কা আসে না বললেই চলে, কারন তাদের দৈনন্দিন জীবনের খরচ তারা ঠিকই উসুল করে নেন।
৭. ধর্ম নয়, ভাষা-সংস্কৃতিই রাষ্ট্রের আঠা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম প্রমাণ করেছে, কেবল ধর্মীয় অভিন্নতা একটি রাষ্ট্রকে ধরে রাখতে পারে না। ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ন্যায্যতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বই সংহতির ভিত্তি। এই নীতি যুক্তিটিকে দুই দিক থেকে সাহায্য করে। প্রথমত, “মুসলিম” পরিচয়ের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন বা কাশ্মীরকে অন্য মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে বাঁধার যুক্তি দুর্বল। দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় আবেগের বদলে পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও নাগরিক অধিকারের কাঠামোই বেশি টেকসই। ভারতের মতো বহুভাষিক, বহুধর্মীয় ফেডারেল কাঠামো এবং ইসরায়েলের নাগরিক-সমতার ধারণা, দুটিই তত্ত্বে ধর্মের বদলে নাগরিকত্বকে ভিত্তি করে।
শেষের কথা
সারকথা, যুক্তিটি হলোঃ ক্ষুদ্র, অবরুদ্ধ বা ভূবেষ্টিত, দুর্বল প্রতিষ্ঠানসম্পন্ন একটি ধর্মীয় আবেগ নির্ভর স্বাধীন সত্তার তুলনায় একটি শক্তিশালী অর্থনীতির সমান নাগরিক হওয়া গড়পড়তা মানুষের আয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু ও গবেষণা-ব্যয়ের ব্যবধান সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। আপনি যদি মানুষের কথা ভাবেন, মানবতার কথা ভাবেন তবে সেটিই বাস্তবসম্মত – ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা ইসরায়েলের সঙ্গে, পুরো কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে মিশে গেলেই মানবতার বৃহত্তর কল্যান হবে। রাজনীতি ও ধর্ম আগে নাকি মানবতা আগে? অবশ্যই মানবতা, একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য হলেও রাজনীতি ও ধর্মকে দূরে সরিয়ে রাখা উচিৎ।
Related Posts

Bangladesh’s Special Marriage Act Provides Legal Protection for Interfaith Couples and Non-Religious Individuals to Marry
When discussions of love or marriage arise in Bangladesh, one question keeps coming back: canRead More

বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইন দুই ধর্মের মানুষ বা নিধার্মিকদের বিয়ের সুরক্ষা দেয়
বাংলাদেশে প্রেম বা বিয়ের আলোচনা উঠলে একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসেঃ ভিন্ন ধর্মের দুজন মানুষRead More

Why do Islamist clerics consider Bengali cultural festivals their enemy?
This year, unlike many previous years, the major Hindu religious festival Durga Puja in BangladeshRead More

Comments are Closed