Myths
Omar’s Caliphate and Islamist Myths

Omar’s Caliphate and Islamist Myths

খলিফা ওমরের খিলাফতী শাসনে কি সব মানুষ, এমনকি বিধর্মীরাও শান্তির সাগরে হাবুডুবু খেত?

ইসলাম, নবী মুহাম্মদের শরীয়া সফলভাবে কোথাও প্রয়োগ হয়েছে কিনা দেখাতে বললে মুমিন ভাইরা পিছলাতে থাকে। সৌদি আরব ইসলাম ও নবী মুহাম্মদের জন্মস্থান, যেখানখান কুরাইশরাই মুসলিমদের নেতা, কাবার রক্ষনাবেক্ষনকারী – আল্লাহ সেটা বলে দিয়েছেন – এর পরেও মুমিন ভাইরা বলবে সৌদি আরব শরীয়া মানে না। আফগান, পাকিস্তান, ইরান, সুদান, ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ – যেই নামই বলেন, সেখানকার অবিচার, মানবাধিকার হরণ, অমানবিক কার্যকলাপ, মানুষের বিশেষ করে নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা হরণের কথা তুলে ধরলে মুমিন ভাইরা দাবী করেন তারাও প্রকৃত ইসলাম ও শরীয়া মেনে চলে না। এক পর্যায়ে গিয়ে তাদের পিছলানো থামে ওমর মিয়ার খেলাফতে গিয়ে। শেষে তারা দাবি করে খলিফা ওমরের খেলাফত ছিল ইসলাম ও শরীয়া শাসনের আদর্শ উদাহরণ যেখানে সব মানুষ, এমনকি বিধর্মীরাও শান্তির সাগরে হাবুডুবু খেত।

আসলে কি তাই? ওমরের শাসন কি এতোই মানবিক ও অধিকারে পরিপূর্ণ ছিল? ওমর কি সত্যিই খুব আদর্শ মানুষ ছিল? নীচের পয়েন্টগুলো দেখে আপনারা নিজেরাই বিচার করুন ইসলামিস্টদের এই দাবী কতটা সঠিক। এর বাইরে আরো অসংখ্য সমালোচনা আছে, যা লিখতে বসলে কয়েকটি বই হয়ে যাবে।

ওমর কে ছিল?

নবুয়তের ষষ্ঠ বছর মানে ইসলাম শুরুর প্রায় ছয় বছর পর, যখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৪০ জনের মতো, তখন জনাব ওমর ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি পরবর্তীতে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা নিযুক্ত হন। আপনারা জানেন, ওমর একাধারে নবী মোহাম্মদের শ্বশুর, তার কন্যা হাফসা ছিল নবীর বউ। ওমর আবার ছিল নবী মোহাম্মদের নাত জামাই, ফাতিমা-আলীর মেয়ে কুলসুমকে জোর খাটিয়ে, শিশু যৌন নির্যাতন করে বিয়ে করে বুড়ো ওমর হয়ে যায় নবী মোহাম্মদের নাত জামাই। বুড়ো বয়সে তাদের সন্তানও হয়। আবার ওমর মারা যাওয়ার পর ওমরের বিধবা স্ত্রী উম্মুল বানিন বিনতে হাজারকে বিয়ে করে ওমরের শ্বশুর ও নবীর জামাতা আলী। মোহাম্মদের শ্বশুর ওমর, আবার ওমর মোহাম্মদের নাত জামাই, মোহাম্মদ ওমরের নানা শ্বশুর। মোহাম্মদের জামাতা আলী, আবার আলী ওমরের শ্বশুর। মেয়ের জা-কে বিয়ে করে আলী, এই সম্পর্ককে কী বলে জানা নেই। মাথা ঘুরলে ক্ষান্ত দেন, এটা মূল আলোচনা না। মূল আলোচনা ভিন্ন।

ইসলামী সোর্স কী বলে? ওমর ছিল দুর্ধর্ষ ডাকাত। মোহাম্মদকে হত্যা করার জন্য সে তরবারি নিয়ে রওনা দিয়েছিল, পথে সাহাবি নাঈম বিন আবদুল্লাহ তাঁকে জানান, তাঁর বোন ও ভগ্নিপতি ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে রাগান্বিত হয়ে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে কুরআনের আয়াত শুনে মুগ্ধ হয় এবং তার হৃদয় পরিবর্তিত হয়। এরপর সে দারুল আরকাম-এ গিয়ে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে। এই তো ইসলামী বয়ান, তাই না? যাক বাদ দেন, নবী মুহাম্মদের ডাকাত দলের বাণিজ্য কাফেলায় হামলা ও ডাকাতি করে সম্পদ আহরনের কথা নাইবা বুঝলাম। কমন সেন্স থাকলে বুঝে নিতে পারবেন, ওমর কেন নবী মুহাম্মদের মরুদস্যু বাহিনীতে ভিড়েছি।

রাতের বেলা নবীর স্ত্রীদের অনুসরণ উত্যক্ত করতো ওমর

প্রাচীন আরবে ঘরবাড়ির ভেতরে আধুনিক শৌচাগার ছিল না। ফলে রাতের অন্ধকারে মদিনার নারীরা, বিশেষ করে নবী মুহাম্মদের স্ত্রীরা সারাদিন প্রস্রাব, পায়খানা চেপে রেখে রাতে শৌচকার্য বা মলমূত্র ত্যাগের জন্য মদিনার উন্মুক্ত মাঠ ‘আল-মানাসি’-তে যেতেন। ওমর চাইতেন নবীর স্ত্রীরা যেন পর্দার আড়ালে থাকেন এবং বাইরে বের না হন। এজন্য তিনি রাতের বেলা তাদের অনুসরণ করতেন ও উত্যক্ত করতেন।

সহীহ বুখারী (হাদিস নং ১৪৬): হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, “নবীর স্ত্রীরা রাতের বেলা শৌচকার্যের জন্য ‘মানাসি’ (একটি উন্মুক্ত স্থান)-এ বের হতেন। ওমর (রা.) নবী (সা.)-কে বলতেন, ‘আপনার স্ত্রীদের পর্দা করান।’ কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) তা করেননি। এক রাতে ওমরের কঠোর নজরদারির মধ্যে নবীপত্নী সওদা বিনতে জামআহ (যিনি ছিলেন বেশ দীর্ঘকায় নারী) এশার সময় বাইরে বের হলেন। ওমর তাঁকে চিনে ফেললেন এবং চিৎকার করে বললেন, ‘হে সওদা! জেনে রাখো, আমরা তোমাকে চিনে ফেলেছি!’ ওমরের উদ্দেশ্য ছিল যাতে এই লজ্জায় পর্দা প্রথা চালু করা হয়।”

সহীহ মুসলিম (হাদিস নং ২১৭০): এই বর্ণনায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, ওমরের এই আকস্মিক চিৎকারে ও মন্তব্যে নবীপত্নী সওদা অত্যন্ত বিব্রত ও লজ্জিত হন এবং দ্রুত মুহাম্মদের কাছে গিয়ে ওমরের এই আচরণের তীব্র অভিযোগ জানান।

ক্ষমতালোভী ওমর নবী মুহাম্মদের পরিবারকে পাত্তা দিত না

মুহাম্মদের মৃত্যুর পর খেলাফতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে নবীর পরিবার বা বনু হাশেমের সাথে খলিফা আবু বকর ও ওমরের তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। ওমরের শাসনামলেও এই নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখা হয়।

খাইবার যুদ্ধের পর মুহাম্মদ-এর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ‘ফাদাক’ নামক একটি উর্বর বাগানের জমি তাঁর কন্যা ফাতিমা উত্তরাধিকার সূত্রে দাবি করেছিলেন। কিন্তু আবু বকর ও ওমর “নবীদের কোনো উত্তরাধিকারী থাকে না” এই যুক্তিতে তা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় বাজেয়াপ্ত করেন। শিয়া এবং আধুনিক সেক্যুলার ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল নবীবংশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও কোণঠাসা করার একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন।

সহীহ বুখারী (হাদিস নং ৪২৪০ ও ৬৭২৫) – এখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, ফাদাকের সম্পত্তি না পেয়ে হযরত ফাতিমা খলিফাদের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ (ক্রোধান্বিত) হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত (৬ মাস) তাঁদের সাথে কোনো কথা বলেননি।

আল-ইমামাহ ওয়াস-সিয়াসাহ (ইবনে কুতাইবাহ দিনাওয়ারী) – এই বিখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, হযরত আলীর (রা.) ঘরে যখন বনু হাশেমের লোকেরা আবু বকরের আনুগত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তখন ওমর সেই বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন, “যার হাতে ওমরের প্রাণ, তাঁর কসম! তোমরা যদি বাইয়াত (আনুগত্য) স্বীকার করতে বের হয়ে না আসো, তবে আমি এই ঘর ভেতরের লোকজনসহ পুড়িয়ে দেব।” যদিও বলা হয় ঘর পোড়ানো হয়নি, কিন্তু ওমরের এই আক্রমণাত্মক ও সহিংস দৃষ্টিভঙ্গিকে শিয়া ও আধুনিক ঐতিহাসিকরা চরম স্বৈরতান্ত্রিক অবিচার হিসেবে গণ্য করেন।

ছদ্মবেশে নারীদের যৌন নির্যাতন করতো ওমর

যায়দ ইব্‌ন আমর ইবন নুফায়লের কন্যা আতিকা (যিনি ছিলেন ওমরের চাচাতো বোন) খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তিনি মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। যদিও ওমর তাকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেননি – যেহেতু নবী বলেছিলেন, ‘তোমরা আল্লাহর দাসীদের (নারীদের) মসজিদে যেতে বাধা দিও না’ – তবুও নিজের কঠোর ও অতি-রক্ষনশীল স্বভাবের কারণে ওমর বিষয়টি মোটেও পছন্দ করতেন না।

একদা অন্ধকার রাতে ওমর মসজিদে যাওয়ার পথে ওত পেতে বসে ছিলেন। আতিকা যখন সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ওমর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পেছন থেকে তার নিতম্বে হাত দিয়ে স্পর্শ (বা মৃদু আঘাত) করেন। এতে চমকে উঠে এবং চরম অপমানিত বোধ করে আতিকা বাড়ি ফিরে যান এবং বলেন, ‘নিশ্চয়ই মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে (মানুষ নষ্ট হয়ে গেছে)!’ এই ঘটনার পর, তিনি মসজিদের উদ্দেশ্যে আর কখনও ঘর থেকে বের হননি।

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫৩৩ – এখানে এই ঘটনার বিস্তারিত পাবেন।

আতিকা বিনতে যায়দ ছিলেন আরবের অন্যতম রূপবতী ও বিদুষী নারী। কিন্তু তাঁর জীবন ছিল ট্র্যাজেডিতে ভরা। মদিনার সমাজে একটি প্রবাদ তৈরি হয়ে গিয়েছিল যে, “যে ব্যক্তি শহীদ হতে চায়, সে যেন আতিকাকে বিয়ে করে।” কারণ তাঁর পরপর ৪ জন স্বামীই (আবদুল্লাহ, যায়দ, ওমর এবং যুবায়ের) যুদ্ধ বা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে মারা যান। হযরত আলী যখন তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন আতিকা আলীর জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই মূলত প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

ওমর শিশুদের প্রতি যৌনাসক্ত ছিল মুহাম্মদের মতো জোর খাটিয়ে শিশুবিবাহ ও সঙ্গম করেছিল

ইবনে সাদের ‘আল-তাবাকাত আল-কুবরা’ গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব হযরত আলী ইবনে আবী তালিবের কাছে তাঁর কন্যা উম্মে কুলসুমের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান। আলী প্রথমে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং জানান যে মেয়েটি খুবই ছোট (স্বগীরা/অপ্রাপ্তবয়স্ক) এবং সে এখনও বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়নি। কিন্তু ওমর তাঁর দাবিতে অনড় থাকেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর এই ইচ্ছার পেছনে কোনো জাগতিক উদ্দেশ্য নেই, বরং তিনি কেবল মহানবী (সা.)-এর পবিত্র বংশের (আহলুল বাইত) সাথে একটি পারিবারিক আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি করতে চান।

পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার জন্য আলী উম্মে কুলসুমের হাতে একটি চাদর (পোশাক) দিয়ে ওমরের কাছে পাঠান এবং তাকে বলতে বলেন যে ওমর এই চাদরটি পছন্দ করেন কি না। ঐতিহাসিক বিবরণগুলোতে বলা হয়েছে, উম্মে কুলসুম যখন ওমরের কাছে পৌঁছান, তখন ওমর তাকে পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণ করার জন্য তার পোশাক টেনে ধরেন অথবা তার পা/কবজি স্পর্শ করেন। এতে উম্মে কুলসুম অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হন, নিজেকে সরিয়ে নেন এবং ওমরকে ধমক দিয়ে বলেন: “আমাকে ছাড়ুন! আপনি যদি আমীরুল মুমিনীন (বিশ্বাসীদের নেতা) না হতেন, তবে আমি আপনার নাক ভেঙে দিতাম (অথবা আপনার চোখে আঘাত করতাম)!” এরপর সে তার বাবার কাছে ফিরে যায় এবং ওমরের এই আচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। তাসত্ত্বেও, ১৭ হিজরির জিলকদ মাসে (আনুমানিক নভেম্বর/ডিসেম্বর ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে) এই বিবাহ সম্পন্ন হয়।

ঐতিহাসিকভাবে, উম্মে কুলসুম আনুমানিক ৬২৭-৬৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই হিসাবে ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে যখন এই বিয়ে হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৮ থেকে ১১ বছরের কাছাকাছি; অন্যদিকে ওমরের বয়স ছিল পঞ্চাশের কোঠার মাঝামাঝি। ঐতিহ্যগত সুন্নি সূত্রগুলো উল্লেখ করে যে, এই বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন (যৌনসংসর্গ) শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে উম্মে কুলসুম ‘যায়দ’ ও ‘রুকাইয়াহ’ নামে দুটি সন্তানের জন্ম দেন।

ওমর তার পুত্র বাপ-বেটা মিলে একই যৌনদাসীদের ধর্ষণ করতো

ইসলামী আইন (ফিকহ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দাসীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে সেই দাসীকে অন্য কারও কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করার আগে তার ‘ইস্তিবরা’ (استبراء) বা গর্ভমুক্ততা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, অন্তত একটি ঋতুস্রাব (পিরিয়ড) হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে দাসীটি পূর্ববর্তী মালিকের দ্বারা গর্ভবতী হয়নি। এটিকে ইসলামে “পবিত্র হওয়া” বা ইদ্দত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ইমাম মালিকের ‘মুয়াত্তা’ (হাদিস নং ২২৫৩/ কিতাবুল বুয়ু) অনুযায়ী ওমর (রা.) তাঁর নিজের ভোগে থাকা বা স্পর্শ করা একটি দাসীকে তাঁর পুত্রকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি নিজেই দাসীটির কাপড় উন্মোচন করেছিলেন বা তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, তাই ইসলামী আইন অনুযায়ী পুত্রকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন ইদ্দত বা পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগে সে দাসীটির সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন না করে। এতে করে সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না। (https://sunnah.com/urn/511300)

ইবনে আবি শায়বাহর ‘আল-মুসান্নাফ’ (হাদিস নং ১৮৩৩৪) – এই গ্রন্থেও ওমরের এই ব্যক্তিগত পারিবারিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ আছে।

ওমর অন্যদের অঞ্চল দখলের সময় তাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করতো

ফিলিপ কে. হিট্টি তাঁর বিখ্যাত “History of the Arabs” (আরব জাতির ইতিহাস) গ্রন্থে খলিফা ওমরের শাসনকালের সামরিক বিস্তারকে কেবল একটি ধর্মীয় উন্মাদনা বা আকস্মিক ঘটনা হিসেবে না দেখে, এর পেছনে থাকা আরবের অর্থনৈতিক সংকট ও জনসংখ্যার চাপকে প্রধান প্রভাবক হিসেবে দেখিয়েছেন। হিট্টির বিশ্লেষণে, ওমরের সময়কার এই দ্রুত সামরিক জয়কে অনেক ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রসারণের লেন্স থেকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, যেখানে আরবের যাযাবর বা বেদুইন যোদ্ধাদের বিজিত অঞ্চলের সম্পদ ও উর্বর ভূমির প্রতি আকর্ষণ ছিল তীব্র। ওমরের কঠোর প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের ফলে যে বিশাল ভূখণ্ড ইসলামী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়, তা বিজিত অঞ্চলের স্থানীয় রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে চিরতরে খর্ব করে এবং এক বিশাল অঞ্চলের ক্ষমতা কাঠামোকে আমূল বদলে দেয়।

বিজিত অঞ্চলের সংস্কৃতি ধ্বংস বা রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি নিয়ে হিট্টি এক মিশ্র ও ক্রিটিক্যাল মতামত তুলে ধরেছেন। একদিকে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তৎকালীন আরবরা বিজিত অঞ্চলের সমৃদ্ধ বাইজেন্টাইন বা পারস্য সংস্কৃতিকে তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করেনি, বরং নিজেদের অনভিজ্ঞতার কারণে পূর্বতন প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোকে শুরুতে টিকিয়ে রেখেছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদে, ওমরের প্রবর্তিত জিজিয়া ও খরাজ করের কঠোর নীতি এবং বিজিত অঞ্চলের জনগণকে সামরিক বাহিনী থেকে দূরে রেখে ‘জিম্মি’ বা আশ্রিত হিসেবে রাখার প্রক্রিয়াটি স্থানীয় সংস্কৃতির ওপর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত চাপ তৈরি করেছিল। এর ফলে বিজিত অঞ্চলের ভাষা, ধর্ম ও হাজার বছরের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলো ধীরে ধীরে খর্ব হতে থাকে এবং ইসলামীকরণ ও আরবীকরণের এক সুদূরপ্রসারী রূপান্তর প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটে, যা প্রাচীন পারসিক ও সেমেটিক সভ্যতার মৌলিক চরিত্রকে চিরতরে বদলে দেয়।

ওমর নবী মুহাম্মদের মতোই বিধর্মীদের উপর নিপীড়নমূলক জিজিয়া কর আরোপ করেছিল

ইতিহাসবিদদের (যেমন ফিলিপ কে. হিট্টি বা প্যাট্রিসিয়া ক্রোন) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খলিফা ওমরের সময়ে জিজিয়া কর আরোপের বিষয়টি কোনো উদার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, বরং এটি ছিল বিজিত অমুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতিগত বৈষম্য ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার। সমালোচকদের মতে, ওমরের তৈরি এই ‘Fixed Poll Tax’ বা মাথাপিছু কর ব্যবস্থাটি মূলত বিজিত অঞ্চলের মানুষকে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করার একটি রাষ্ট্রীয় কৌশল ছিল, যেখানে করের হার (বার্ষিক ৪৮, ২৪ বা ১২ দিরহাম) আপাতদৃষ্টিতে সুনির্দিষ্ট মনে হলেও তৎকালীন অর্থনৈতিক মন্দার তুলনায় তা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। এই কর দেওয়ার পদ্ধতিটি ছিল অত্যন্ত অপমানজনক, কারণ তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী জিজিয়া দেওয়ার সময় অমুসলিমদের করদাতাদের তুলনায় নিজেদের হীন ও নতিস্বীকারকারী হিসেবে প্রকাশ করতে হতো, যা তাদের সমাজে ‘দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে’ (জিম্মি) পরিণত করেছিল। তদুপরি, এই কর থেকে বাঁচতে এবং করের বোঝা থেকে অর্থনৈতিক মুক্তি পেতে বিজিত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে নিজের আদি ধর্ম ও সংস্কৃতি ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে; ফলে সমালোচকদের চোখে ওমরের জিজিয়া নীতি ছিল একটি পরোক্ষ ও সুনিপুণ মনস্তাত্ত্বিক চাপ, যা প্রাচীন অমুসলিম সভ্যতাগুলোর বিলুপ্তি ও জোরপূর্বক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করেছিল।

যদিও ওমরের জিজিয়া নীতিতে দরিদ্রদের ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কর আদায়ের ক্ষেত্রে বিজিত অঞ্চলের মানুষের ওপর চরম জুলুমের নজির রয়েছে। পারস্য ও সিরিয়ার অনেক অঞ্চলের অমুসলিম প্রজাদের ওপর কর পরিশোধের জন্য শারীরিক নির্যাতন ও বন্দি করে রাখার ঘটনা ঘটেছিল, যা কেন্দ্রীয় শাসক হিসেবে ওমরের কঠোর রাজস্ব নীতিরই পরোক্ষ ফলাফল ছিল।

ওমর আরবের কুরাইশদের বাইরে অন্য মুসলিমদের সম মর্যাদার মানুষ মনে করতো না

সমালোচনামূলক ও রিভিশনিস্ট ইতিহাসবিদদের (যেমন গোল্ডজিহার বা প্যাট্রিসিয়া ক্রোন) মতে, খলিফা ওমরের রাষ্ট্রনীতি ও ‘দিওয়ান’ (আর্থিক ভাতা ব্যবস্থা) মূলত আরব-কেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ এবং কুরাইশ বংশের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যেখানে আরবের বাইরের বিজিত অঞ্চলের নবদীক্ষিত মুসলমানদের (মাওয়ালি) কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রাখা হয়। ইসলামের নেতৃত্ব কেবল কুরাইশ বংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে – আল্লাহ ও নবী মুহাম্মদের এই তত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ওমরের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য; সাকিফা বনি সায়েদার বিতর্কে তিনি নিজেই কুরাইশদের নেতৃত্বের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তার গঠিত ৬ সদস্যের খেলাফত নির্বাচনী কমিটিও (শুরা) ছিল সম্পূর্ণ কুরাইশ-নির্ভর। ওমরের প্রবর্তিত রাষ্ট্রীয় ভাতা ব্যবস্থায় (দিওয়ান) যোগ্যতা বা তাকওয়ার চেয়ে রাসুলের সাথে আত্মীয়তা, কুরাইশ বংশের মর্যাদা এবং ইসলাম গ্রহণের অগ্রগামিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে একজন খাঁটি আরব মুসলিম একজন অ-আরব মাওয়ালি মুসলিমের চেয়ে বহুগুণ বেশি রাষ্ট্রীয় ভাতা পেতেন। এছাড়া ঐতিহাসিক ইবনে সাদ-এর ‘কিতাব আল-তাবাকাত আল-কুবরা’ এবং বালাজুরীর ‘আনসাব আল-আশরাফ’ গ্রন্থের রেফারেন্স অনুযায়ী, ওমরের শাসনকালে মাওয়ালিদের আরবদের সমকক্ষ মনে করা হতো না; উদাহরণস্বরূপ, ওমরের নির্দেশে আরব পুরুষদের জন্য অ-আরব (মাওয়ালি) নারীদের বিয়ে করার অধিকার থাকলেও, কোনো অ-আরব পুরুষ যাতে আরব বংশোদ্ভূত নারীকে বিয়ে করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা স্পষ্ট করে যে ওমরের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোতে আরবের বাইরের মানুষরা কখনোই আরবদের সমান মর্যাদা পায়নি।

ওমর কি ন্যায়বিচারক ছিল?

আইনি সিদ্ধান্ত এবং মানবাধিকারের লেন্স থেকেও ওমরের অনেক পদক্ষেপকে স্বৈরতান্ত্রিক ও অবিচারমূলক হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি ইসলামের মূল বিধি উপেক্ষা করে এক মজলিসে দেওয়া ‘তিন তালাক’-কে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার আইনি স্বীকৃতি দেন, যা তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারীদের চরম অসহায়ত্ব ও একতরফা অধিকার হরণের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। ক্রীতদাস ও দাসীদের প্রতি ওমরের আচরণও ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং বৈষম্যপূর্ণ; তিনি দাসীদের স্বাধীন নারীদের মতো হিজাব বা পর্দা করার অধিকার কেড়ে নেন এবং আইন অমান্য করলে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। একই সাথে, মুহাম্মদের মৃত্যুর পরপরই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বনু হাশেম বা নবীবংশের (আহলুল বাইত) প্রতি ওমরের আক্রমণাত্মক নীতি এবং ফাদাকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্তকে শিয়া ও বহু আধুনিক ইতিহাসবিদ গভীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অবিচার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সহীহ মুসলিম (হাদিস নং ১৪৭২): ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, “রাসুলুল্লাহ (সা.), আবু বকর (রা.) এবং ওমরের খিলাফতের প্রথম দুই বছর পর্যন্ত তিন তালাক এক তালাক হিসেবেই গণ্য হতো। অতঃপর ওমর ইবনুল খাত্তাব বললেন, মানুষের যে বিষয়ে ধৈর্য ধরা উচিত ছিল, সে বিষয়ে তারা তাড়াহুড়ো করছে। অতএব, আমরা যদি এটি তাদের ওপর কার্যকর করে দিই (তবে ভালো হয়)। তারপর তিনি তা কার্যকর করলেন।”

আল-মুসান্নাফ (ইবনে আবি শায়বাহ) – এই গ্রন্থে ওমরের এই কঠোর আইন প্রবর্তনের বিস্তারিত প্রেক্ষাপট ও এর সামাজিক প্রভাবের সমালোচনা পাওয়া যায়।

ক্রীতদাস দাসীদের প্রতি ওমর ছিল নিষ্ঠুর

ইসলামী আইন অনুযায়ী স্বাধীন নারীদের জন্য হিজাব বা পর্দা বাধ্যতামূলক হলেও, ওমর দাসীদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করেন। তিনি আইন করেন যে, দাসীরা স্বাধীন নারীদের মতো নিজেদের আবৃত করতে পারবে না। ইসলামিক স্কলাররা এমনভাবে বলেন যে, খলিফা ওমর বুক ও নিতম্বের বাইরে আর কিছু ঢাকলে দাসীদের খোলা রাস্তায় পাছার কাপড় তুলে পেটাতেন, কারন দাসীরা স্বাধীন নারীদের মতো মর্দাসম্পন্ন না, যার কারনে তাদের পর্দা করা যাবে না। দাসী কারা হতো? ইসলামী জিহাদীরা কোন গোত্রকে আক্রমন করে পরাস্থ করে তাদের নারী ও শিশুদের দাস-দাসী বানাতো। দাসীদের বিক্রিও করা হতো। সারাদিন বিনা পারিশ্রমিকে, বিনা বেতনে গাঁধার খাটুনি দেয়ার পরে কর্তার ইচ্ছায় যে কোন সময় সঙ্গমে যেতে হতো দাসীদের। ইসলামে অনুমোদিত এই বিধান ওমর চালু রাখেন ও সেই হতভাগ্য নারীদের এমন নির্যাতনের উদাহরণ তৈরি করেন। ইসলামের অনেক সৈনিকেরা রাস্তায় পর্দা না করা নারীদের ধর্ষন করা যাবে – যে যুক্তি দেন তা মূলত এই খলিফা ওমরের উদাহরণ থেকেই তারা শেখে, কারন বেপর্দা নারী তাদের কাছে যৌনদাসী সমতূল্য, যাদের ধর্ষণ করা যায়।

প্রখ্যাত মুফতি কাজী ইব্রাহিম ও আহমাদুল্লাহর লেকচার আছে এই বিষয়ে। এখানে ভিডিও আছে, দেখতে পারেন – https://facebook.com/reel/939905695471790

সুনানে বায়হাকী আল-কুবরা (হাদিস নং ৩২১৮): এখানে বর্ণিত আছে, খলিফা ওমর একবার এক দাসীকে চাদর বা ওড়না মাথায় দিয়ে চলতে দেখে তাকে চাবুক (দুররা) দিয়ে আঘাত করেন এবং বলেন, “ওড়না নামিয়ে ফেল! ওহে দাসী, তুই কি স্বাধীন নারীদের সদৃশ হতে চাস?”

ইবনে তাইমিয়াহ-এর ‘মাজমু আল-ফাতাওয়া’ (খণ্ড ২২, পৃষ্ঠা ১১০): প্রাচীন ইসলামী স্কলাররাও স্বীকার করেছেন যে, ওমরের আমলে দাসীদের মাথা ও বুক খোলা রেখে বাজারে চলাচলের নিয়ম ছিল, যা আধুনিক লেন্স থেকে চরম জেন্ডার ও শ্রেণিগত অবিচার।

Related Posts

Omar’s Caliphate and Islamist Myths

Under the caliphate rule of Caliph Umar, did all people – even non‑believers – drown in an ocean of peace?

When asked to show where Islam and Prophet Muhammad’s Sharia have been successfully implemented anywhere,Read More

Surviving the Brutality of Islam

The story of a child who returned alive from darkness – a child who had been a victim of the inhumanity of Islam

In a military base in the Negev Desert, it was midnight. On the Israeli commander’sRead More

Surviving the Brutality of Islam

এক শিশুর অন্ধকার থেকে বেঁচে ফেরার গল্প, ইসলামের অমানবিকতার বলি ছিল যে শিশুটি

নেগেভ মরুভূমির এক সামরিক ঘাঁটিতে তখন মাঝরাত। ইসরাইলি কমান্ডারের টেবিলের ওপর ম্যাপ আর গোয়েন্দা ফাইলেরRead More

Comments are Closed