
Muhammad and Khadiza
খাদিজা বেঁচে থাকতে নবী মুহাম্মদ আর কোন বিয়ে করেননি কেন?
নবী মুহাম্মদের ৯-১৩ স্ত্রী, ৪+ যৌনদাসী ছিল। তথাকথিত জিহাদের সময় কারো বাবা-ভাই-স্বামী-আত্মীয়দের হত্যা করে ঐ দিনই সুন্দরী নারীদের যৌনদাসী বানিয়ে সঙ্গম করার ইতিহাসও আছে। শিশু স্ত্রী আয়েশা থাকার পরেও তিনি মরুর মাঝে বাগানবাড়িতে সম্ভ্রান্ত বংশের দুই কণ্যাশিশু জাওনিয়া ও উমাইমাকে সঙ্গমে রাজী করাতে না পেরে যৌন নির্যাতন করেন। পরপর দুইবার অপমানিত হয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরে সাহাবী আশ’আছ তার সুন্দরী শিশু বোন কাতীলাকে নবীর কাছে এনে দেন, মুহাম্মদ তাকে ধর্ষণ করে শান্ত হয়েছিল। এর বাইরেও রঙ্গিলা নবী মুহাম্মদ অন্য সাধারণ নারীদের সাথেও বিয়ে ও মোহর ছাড়া সঙ্গম করতেন। যার প্রমাণ পাওয়া যায় ইবনে কাসীরের তাফসীরের বাংলা অনুবাদে, সূরা আহজাবের ৫০/৫১ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায়, ১৩৬ ও ১৩৭ পৃষ্ঠা দেখুন। মুহাম্মদের এই বদভ্যাস নিয়ে মুহাম্মদের শিশু স্ত্রী আয়েশা রীতিমত বিরক্ত ছিলেন, তিনি এটিও বলে মুহাম্মদকে খোঁচা দিয়েছিলেন যে, মুহাম্মদের সুবিধামতই আয়াত নাজিল হয়! যে সমস্ত আয়াত সাহাবীদের বলেছেন সেগুলোই কোরআনে আছে, এর বাইরে নারীদের বেডে নেয়ার জন্য কত প্রাইভেট আয়াত উনি ডাউনলোড করেছিলেন সে তো কেউ জানে না। তার সঙ্গে সঙ্গম করলেই নাকি বিয়ে হয়ে যায়, মুহাম্মদের এমন বউ কত শত ছিল? ইবনে কাসীরের তাফসীর বলছে মুহাম্মদের এই দুর্দমনীয় সেক্স লাইফের কথা! তার সেবা করার জন্য নারীরা আসলে তিনি নানান বাহানায় তাদের সঙ্গে সঙ্গম করতেন। মোটকথা নারী দেখলেই তার ইমানদন্ড টনটন করতো। হাদিসেই তো আছে রাস্তায় নারী দেখে সেক্সউন্মাদ হয়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি কোন এক বউয়ের কাছে ছুটে যেতেন!
ইসলামের নবী মুহাম্মদের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর বিবাহজীবন, শত শত বছর ধরে মুসলিম পণ্ডিত, প্রাচ্যবিদ (Orientalists) এবং ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসবিদদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। তবে একটি অকাট্য সত্য কথা হলো – খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ জীবিত থাকা পর্যন্ত (অর্থাৎ মুহাম্মদের ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত, প্রায় ২৫ বছর) তিনি কেন আর কোনো বিয়ে করেননি। অথচ তার মৃত্যুর পর অপেক্ষাকৃত স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বিয়ে করেছিলেন। ইসলামি ঐতিহ্যবাহী ব্যাখ্যা এই পরিবর্তনকে ধর্মীয়, মানবিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজনের আলোকে দেখে, কিন্তু সমালোচক ও প্রাচ্যবিদ ধারার বিশ্লেষকরা এর পেছনে সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং ক্ষমতা-কেন্দ্রিক কারণ খুঁজে পান।
অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও খাদিজার সামাজিক প্রভাব
মুহাম্মদ-খাদিজার সম্পর্কে অর্থনৈতিক বাস্তবতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বিয়ের সময় মুহাম্মদের বয়স ছিল আনুমানিক ২৫ বছর, আর খাদিজার বয়স ছিল ৪০ বছর – তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নারী, যাঁর বাণিজ্যিক কাফেলা সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মুহাম্মদ বিয়ের আগে খাদিজার এই ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মচারী ছিলেন। সমালোচকদের যুক্তি, এই প্রেক্ষাপটে দম্পতির মধ্যকার অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য খাদিজার দিকেই ঝুঁকে ছিল। তারা মনে করেন, খাদিজার জীবদ্দশায় অতিরিক্ত বিয়ে করলে তা তার পরিবার, সম্পদ ও সামাজিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারত, যা একজন তরুণ ও তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবশালী ব্যক্তির পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হতো।
মক্কার সামাজিক রীতিনীতি ও একবিবাহের প্রথা
তৎকালীন আরব সমাজের সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে। প্রাক-ইসলামি আরবে বহুবিবাহ প্রচলিত থাকলেও, সমালোচকদের মতে, সমাজের উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী নারীদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ে করাটাকে সংশ্লিষ্ট নারী ও তাঁর গোত্রের জন্য একপ্রকার সামাজিক অপমান হিসেবে গণ্য করা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রভাবশালী বা ধনাঢ্য পরিবারের নারীরা বিয়ের চুক্তিতে শর্ত রাখতেন যে, তার স্বামী দ্বিতীয় কোনো বিয়ে করতে পারবেন না। খাদিজা মক্কায় ব্যাপক সম্মানের অধিকারী ছিলেন এবং তাকে “আত-তাহিরা” (পবিত্র নারী) উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচকরা বলেন, খাদিজার জীবদ্দশায় অন্য বিয়ে করলে তা তার (মুহাম্মদের) শক্তিশালী গোত্রীয় সংযোগের সঙ্গে সামাজিক সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারত, এবং মক্কায় নিজের অবস্থান সুরক্ষিত রাখার জন্যও একবিবাহ মুহাম্মদের জন্য কার্যকর একটি সিদ্ধান্ত ছিল।
নবুয়তের সূচনাপর্বের রাজনৈতিক সংকট
নবুয়ত প্রাপ্তির পরের কঠিন বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি দেয়। মুহাম্মদ চল্লিশ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন, তখন খাদিজার বয়স ছিল প্রায় পঞ্চান্ন। ইসলাম প্রচারের সূচনাপর্বে কুরাইশদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়, এমনকি একপর্যায়ে মুহাম্মদের পুরো গোত্র বনু হাশিমকে “শিআবে আবি তালিবে” তিন বছরের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কটের শিকার হতে হয়। সমালোচকদের মতে, এই অস্তিত্ব-সংকটময় পরিস্থিতিতে নতুন বিয়ে বা রাজনৈতিক জোট গঠনের কথা চিন্তা করার সুযোগ ছিল না। বরং এই কঠিন সময়ে খাদিজা একাধারে তাঁর স্ত্রী, আর্থিক আশ্রয়স্থল ও মানসিক শক্তির উৎস ছিলেন – এমন এক সম্পর্ক, যা ঝুঁকির মুখে ফেলার মতো পরিস্থিতি তখন ছিল না।
মদিনায় রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন
মক্কা-পর্ব ও মদিনা-পর্বের মধ্যে একটি স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য আছে। মক্কায়, খাদিজার মৃত্যু পর্যন্ত (যখন মুহাম্মদের বয়স পঞ্চাশ), তিনি ছিলেন তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকা একজন নির্যাতিত ধর্মপ্রচারক। কিন্তু পঞ্চান্ন বছর বয়সে মদিনায় হিজরতের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে যায় – তিনি একটি নতুন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতা হয়ে ওঠেন। সমালোচকদের দাবি, এই নতুন অর্জিত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বই পরবর্তীতে একাধিক বিয়ের সুযোগ তৈরি করে দেয়, যা মক্কার তুলনামূলক দুর্বল সামাজিক অবস্থানে সম্ভব ছিল না।
পরবর্তী বিয়েসমূহ ও বহুবিবাহ-তত্ত্ব
খাদিজার মৃত্যুর পরের এক দশকে সংঘটিত একাধিক বিয়ের প্রসঙ্গ ঘটে। সমালোচকদের মতে, ইসলামি ঐতিহ্যবাহী ব্যাখ্যায় এই বিয়েগুলোকে প্রধানত বিধবা ও অনাথদের প্রতি সহায়তা বা গোত্রীয়-রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্দেশ্যে করা বলে বর্ণনা করা হয়। কিন্তু সমালোচকরা মনে করেন, এই ব্যাখ্যা সব বিয়ের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁরা বিশেষভাবে আয়েশা বিনতে আবু বকর এবং জয়নব বিনতে জাহশের সঙ্গে বিয়ের ঘটনাগুলো উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তাঁদের যুক্তি – খাদিজার মৃত্যুর পর পারিবারিক ও সামাজিক বাধা দূর হওয়া এবং মদিনায় একচ্ছত্র কর্তৃত্ব অর্জনই এই পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ।
শেষের কথা
অনেক সমালোচক মনে করেন নবী মুহাম্মদের জীবন মক্কার অন্য অনেকের মতো মসৃন ছিল না। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিয়ে না হওয়া। বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়া, এমন অনেক মনস্তাত্ত্বিক তাড়না বা ব্যক্তিগত সুখ-সন্ধানের জন্য উনি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন যা উনি পেয়ে যান খাদিজা মৃত্যু পরবর্তী মদিনার জীবনে। আপনারা যান যে স্বামীর অনুপস্থিতিতে চাচাতো বোন উম্মে হানির ঘরে রাত কাটিয়ে সকালে সাহাবীদের কাছে ধরা খেয়ে উনি জরথ্রুস্ট দেবতা আর্দাই ভিরাগের মিরাজের কাহিনী নিজের জীবনে ঘটেছে বলেছিলেন। উম্মে হানির (ফাতিমা বিনতে আবি তালিব) ক্ষেত্রে প্রথম জীবনে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পরে চাচা আবি তালিব তা ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
খাদিজার জীবদ্দশায় একবিবাহ এবং তাঁর মৃত্যুর পর একাধিক বিয়ে – এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা ইতিহাসবিদ, ধর্মতত্ত্ববিদ এবং প্রাচ্যবিদদের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের বিষয়। সমালোচক ও প্রাচ্যবিদ ধারা এই পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা, সামাজিক রীতিনীতি, রাজনৈতিক সংকট এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের আলোকে ব্যাখ্যা করেন, যেখানে ইসলামি ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিকোণ একে আবেগগত বন্ধন, ধর্মীয় কর্তব্য এবং সামাজিক-রাজনৈতিক প্রয়োজনের সমন্বয়ে দেখে। যেকোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবন বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একাধিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় রাখা এবং প্রাথমিক সূত্রের সীমাবদ্ধতা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে কোনো একপাক্ষিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া এড়ানো যায়।
Related Posts

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today
The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

সোমনাথ থেকে জয়পুরহাট – এক সহস্রাব্দের পুরনো ধ্বংসের ছায়া আজও বিদ্যমান
প্রথম আঘাত গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে, যেখানে আরব সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পাথুরে তটে, সেখানেRead More

For 125 years, the Islamic world has been spinning on the basis of a single false key!
Once I was listening to a sermon by Professor Mufti Kazi Ibrahim Huzur where heRead More

Comments are Closed