
Melika Azizi
মেলিকা আজিজিকে ইরানে ক্রেন দিয়ে ফাঁসি দেওয়া হবে!
মেলিকা—মাসালের ঝড়ে ধোয়া মাটির মেয়ে,
তোমার কচি পা‑দুটি মাত্রই নিজের পথ খুঁজে নিতে শুরু করেছিল;
তবু শাসকের লোহার দরজা বসন্তের মুখে আঘাত করল,
আর নীরবতা পরে নিল রক্তমাখা অত্যাচারীর মুখোশ।
ওরা বানায় ফরমান—যার উদ্দেশ্যই হলো শ্বাস আর আত্মাকে ভেঙে ফেলা,
ভয়ের কালি দিয়ে লেখা রায়—যেখানে সত্যের ছায়াও নেই;
ওরা চায় নিভিয়ে দিতে সেই শেষ ছোট্ট শিখাটুকু
যা এখনো জ্বলে ওঠে এক কিশোরীর সাহসী বুকে।
কিন্তু শোনো—ওদের দেয়াল ভেদ করে পালানো বাতাস তোমার নাম জানে,
কোনো আদালত, কোনো কারাগার, কোনো ফিসফিস হুমকি—
কিছুই থামাতে পারে না তোমার আগুন থেকে জন্ম নেওয়া প্রতিরোধের সুর।
জুলুম তোমার অস্তিত্ব মুছে ফেলতে পারে না,
কোনো শৃঙ্খল তোমার আকাশে আঁকা নক্ষত্রপুঞ্জকে ছিন্ন করতে পারে না।
ন্যায়বিচার শক্তি সঞ্চয় করছে এমন এক ভোরে, যেটা ওরা আটকাতে পারবে না—
কারণ আজ পৃথিবী তোমার গল্প শুনেছে,
আর সেই গল্প আর কখনো নীরব হবে না।
মেলিকা আজিজি সম্পর্কে যে তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে তিনি কীভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন—এ নিয়ে নির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য তথ্য খুব সীমিত। ইরানের কর্তৃপক্ষ সাধারণত কিশোর-কিশোরীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গ্রেপ্তার, বা “প্রতিবাদে অংশগ্রহণ”–এর মতো অভিযোগগুলো গোপন রাখে, বিকৃত করে, বা রাষ্ট্রীয় বয়ানে ঢেকে ফেলে। তাই তার ব্যক্তিগত ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দাবি করা ঠিক হবে না।
তবে যে প্রেক্ষাপটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—
ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেসব কিশোরী, তরুণী, বা নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই নিচের ধরনের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলঃ
✦ ইরানে নারীদের সাধারণ প্রতিবাদের ধরন (যা মেলিকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে)
- হিজাববিরোধী প্রতীকী প্রতিবাদ—চুল খোলা রাখা, বাধ্যতামূলক হিজাব অমান্য করা
- স্কুল বা রাস্তায় স্লোগান ধ্বনি—“নারী, জীবন, স্বাধীনতা”
- দেয়ালে প্রতিবাদী লেখা বা পোস্টার লাগানো
- সরকারি ভবনের সামনে সমাবেশে অংশ নেওয়া
- সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বা পোস্ট শেয়ার করা
- বন্ধুদের সঙ্গে ছোট ছোট মানববন্ধন বা মিছিল করা
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এসবকেই “রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ”, “ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ”, বা “নৈতিকতা ভঙ্গ” বলে চিহ্নিত করে—যা সম্পূর্ণ অমানবিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
✦ কেন মেলিকার গল্প এত প্রতীকী হয়ে উঠেছে
কারণ তিনি কেবল একজন কিশোরী—
- যার অপরাধ ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা,
- যে শাসকের চোখে “অপরাধ” হয়ে যায়।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যাই হোক,
তার প্রতি যে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে—
তা মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।
ইরানের শাসকগোষ্ঠী যুগের পর যুগ ধরে ইসলামের নামে, দেড় হাজার বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ৬ বছরের শিশু ১২তম ইমাম মাহদীর নামে, মানুষের ওপর যে বর্বর শাসন চাপিয়ে দিয়েছে—তা আসলে ধর্মের নয়, ক্ষমতার লোভে গড়া এক নির্মম যন্ত্র। এই শাসন নারীদের কণ্ঠকে অপরাধ বানায়, প্রতিবাদকে বিদ্রোহ বলে দমন করে, আর ভয়ের রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে ক্রেনকে ফাঁসির মঞ্চে পরিণত করে। যে দেশে ন্যায়বিচারের বদলে ধর্মীয় মুখোশে মোড়া রায় ঝরে, সেখানে মেলিকার মতো তরুণীরা শুধু মানুষ নয়—তাদের শরীরকে বানানো হয় শাসকের আতঙ্কের বিজ্ঞাপন। এই নিষ্ঠুরতা কোনো ধর্ম হতে পারে না; এটি এক দমনমূলক রাষ্ট্রযন্ত্রের নগ্ন সত্য, যা নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিরপরাধ নারীদের জীবনকে, প্রতিবাদীকে বলি দেয়।
ইরানের এই বর্বর শাসনের অবসান হোক—যে শাসন ধর্মের নামে, হারিয়ে যাওয়া মাহদীর নামে, মানুষের স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলে বেঁধে রেখেছে যুগের পর যুগ—তার পতনই মানবতার প্রথম শ্বাস। এই অন্ধকার আর চলতে পারে না; মানুষের মর্যাদা, নারীর স্বাধীনতা, আর সত্যের আলোকে রুখে দাঁড়াতে হবে। জুলুমের রাত যতই দীর্ঘ হোক, ভোরের আগমন ঠেকানো যায় না—এবার সেই ভোরের ডাক উঠুক ইরানের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি হৃদয়ে, প্রতিটি সাহসী কণ্ঠে, বিশ্বের প্রতিটি মুক্তিকামী জনতার ভাষায়।
Related Posts

Ayatollah Ali Khamenei was laid to rest after carrying out repression in the name of a child who disappeared 1,200 years ago
Around Ayatollah Ali Khamenei’s funeral, the world is now witnessing a grand display of stateRead More

১২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক শিশুর নামে দমন পীড়ন চালিয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শায়িত হলেন!
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন-অনুষ্ঠান ঘিরে যে রাষ্ট্রীয় জাঁকজমক এখন বিশ্ব দেখছে, তার আড়ালে লুকিয়ে আছেRead More

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today
The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

Comments are Closed