
Islam’s Hatred of Animals
ইসলামের কেউ পশু ও প্রকৃতি প্রেমের কথা বললে ধরে নিবেন সেটা তাকিয়াবাজি!
দেশে বা বিশ্বে কোন উৎসব হলে ইসলাম ধর্মীয় পন্ডিতদের শরীরে জ্বালা শুরু হয়, কারন ইসলামে মানুষের আনন্দ উৎসব উদযাপন নিষিদ্ধ। ভাব গাম্ভীর্য ছাড়া ইসলামে কিছু হয় না। আহমাদুল্লাহরা বলেন, ইংরেজি নববর্ষে আতশবাজি ফোটালে পশুপাখি মারা যায় বা পরিবেশের ক্ষতি হয়, অপচয় হয়। মনে করেন যে তারা খুব পশু-পাখি-প্রকৃতি প্রেমী? মূলত ইসলামে অমুসলিমদের উৎসব উদযাপনে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা সরাসরি না বলে পরিবেশ সচেতনতার আধুনিক অজুহাতে উপস্থাপন করা হয় মাত্র।
পশ্চিমা বিশ্বে প্রতিদিন প্রচুর মাংস খাওয়া হলেও, মুসলমানদের মতো বছরের নির্দিষ্ট একটা দিনে (ঈদুল আজহায়) কোটি কোটি পশু প্রকাশ্যে গণ-জবাই করে রাস্তাঘাট রক্তারক্তি ও কলুষিত করে একদিনে অহেতুক অনেক বেশি মাংস খাওয়ার মতো কোনো উৎসবের প্রচলন সেখানে নেই।
ইসলামের নানান বিধি-নিষেধের কারণে একে পুরোপুরি প্রাণীপ্রেমী ধর্ম বলা যায় না, বিশেষ করে কুকুরের ক্ষেত্রে এর দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত কঠোর। সহীহ বুখারীর ৫৪৮০ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, শিকার বা পাহারার উদ্দেশ্য ছাড়া ঘরে কুকুর রাখলে প্রতিদিন একজন মানুষের আমলনামা থেকে বিপুল পরিমাণ নেকি বা পুণ্য হ্রাস পায়। এছাড়া ইসলামিক বিশ্বাস মতে, ঘরে কুকুর থাকলে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না এবং কালো কুকুরকে সরাসরি ‘শয়তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুকুরের পাশাপাশি আরও কিছু নির্দিষ্ট প্রাণীর প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বেশ নেতিবাচক ও আক্রমণাত্মক। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী টিকটিকি, গিরগিটি, সাপ ও বিচ্ছু দেখলেই মেরে ফেললে সওয়াব বা পুণ্য অর্জনের বিধান রয়েছে। স্রেফ রুপকথার গল্পের কারনে এসব প্রানীকে হত্যা করতে বলেছে ইসলাম, যা এখনো কার্যকর! এমনকি কিছু বর্ণনায় নির্দিষ্ট প্রাণীকে অশুভ বা শয়তানের সাথে তুলনা করার মতো অবৈজ্ঞানিক বিবরণও পাওয়া যায়, যেমন কবুতর। সবচেয়ে আপত্তিকর ও বিতর্কিত বিষয়টি আসে যখন ধর্মীয় বিধানে প্রাণীর সাথে নারীর তুলনা করা হয়। হাদিস অনুযায়ী, নামাযের সামনে দিয়ে কালো কুকুর, গাধা বা নারী হেঁটে গেলে নামায ভেঙে যায়, যা আধুনিক যুগে অত্যন্ত বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক মনে হয়। নারীকে প্রকারান্তরে কালো কুকুরের সমগোত্রীয় করে দেখা হয় ইসলামে, যাকে বলা হয় পুরুষের জন্য সবচেয়ে বেশি অনিষ্টকারী।
প্রাণী বা নারীর প্রতি বৈষম্যের পাশাপাশি ইসলামের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও অবাস্তব রূপকথাও আজ আধুনিক মানুষের যৌক্তিক চিন্তার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। যেমন, হাদিসের এক সুপরিচিত ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, কেয়ামতের আগে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইহুদিদের নির্বিচারে হত্যা করার জন্য পাথর এবং গাছ পর্যন্ত কথা বলে উঠবে এবং ডাক দিয়ে বলবে – “হে মুসলিম, আমার পেছনে একজন ইহুদি লুকিয়ে আছে, একে হত্যা করো।” অন্ধত্ব এবং পরধর্মবিদ্বেষ কত প্রকট হলে একটি জড় পাথর বা গাছ মানুষের ভাষা শিখে নির্দিষ্ট একটি জাতিকে হত্যার জন্য উস্কানি দিতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
তবে এই অন্ধ রূপকথার মধ্যেও আবার এক অদ্ভুত স্ববিরোধিতা রাখা হয়েছে; বলা হয়েছে সব গাছ কথা বললেও ‘গারকাদ’ নামের একটি বিশেষ গাছ নাকি কথা বলবে না এবং সেটি ইহুদিদের আশ্রয় দেবে (যে কারণে এটিকে ‘ইহুদি গাছ’ বলা হয়)। এখন বলেন, এই ধরণের প্রানীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বজায় রেখে, গাছকে দোষারোপ করে, আদিম উগ্রতা ধরে রেখে, ইহুদি বিদ্বেষ এবং অবৈজ্ঞানিক রূপকথার গল্পগুলো প্রচার করে কী প্রমাণ হয়? তারা খুব প্রানী, পশু-পাখি, পরিবেশপ্রেমী? ‘গারকাদ’ নামের একটি গাছ ইহুদী গাছ! বাংলাদেশের মানুষ যদি এই গাছ চিনতো তবে দল বেঁধে একদিনে সব কেটে সাবাড় করে দিতো। এই মতবাদগুলো কোনো ঐশ্বরিক বা সর্বজনীন শান্তির বার্তা নয়, বরং মধ্যযুগীয় আরবীয় গোত্রীয় সংঘাতের ফসল মাত্র।
সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, এই সমস্ত উদ্ভট, অমানবিক বিষয় একজন মুমিন মানুষকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে হয়। যুক্তি বা মানবিকতার খাতিরে এসব বিশ্বাস না করলে, না মানলে বা সেই মোতাবেক কাজ না করলে কোনো মুসলমানের আর উপায় নেই। কারণ, এই অন্ধত্বকে মেনে না নিলে নাকি পরকালে সেই ‘৭২ হুরের কল্পিত জান্নাতে’ যাওয়ার কোনো সুযোগই মিলবে না! পরকালের এই অবাস্তব লোভ আর নরকের ভয় দেখিয়েই মূলত শতাব্দী ধরে মানুষকে এই মধ্যযুগীয় অন্ধত্বের বৃত্তে আটকে রাখা হয়েছে।
Related Posts

‘Hijab is my choice’ – the same people who make this claim in secular countries often force women to wear hijab in their own countries
Iranian singer Parastu Ahmadi has been sentenced to 74 lashes for the “crime” of performingRead More

হিজাব ইজ মাই চয়েস – এই বুলি সেক্যুলার দেশে যারা দাবী করেন তারা নিজেদের দেশে হিজাব পরতে বাধ্য করেন
ইরানি গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে হিজাব ছাড়া মঞ্চে পরিবেশনার অপরাধে ৭৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়েছে। এইRead More

Attacks by “Tawhidi Janata” in Bangladesh and Obstruction of Minority Religious Practice
In Palashbari upazila of Gaibandha, local Sanatan (Hindu) devotees had taken the initiative to buildRead More

Comments are Closed