Name
Is the name Muhammad owned

Is the name Muhammad owned?

মানুষের আরবি নাম আল্লাহ বা মুহাম্মদের সম্পত্তি না, নাম পাল্টে রাখার আবদার বাদ দিন

ওয়ান ফাইন মর্নিং ফেসবুকে ঢুকে দেখলেন, ভুরুঙ্গামারির চায়ের দোকানদার মোখলেস থেকে শুরু করে বুয়েটের ডিগ্রি নেওয়া শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ার পর্যন্ত সবাই আপনাকে তুই-তোকারি সম্বোধন করে, আপনার বাবা-মাকে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে নির্দেশ দিচ্ছে – আপনার বাবা-মায়ের দেওয়া নাম পরিবর্তন করতে। আপনার ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ বাবা-মা রেওয়াজ মেনে আপনার নাম রেখেছিলেন আরবি শব্দ দিয়ে। সেটা নাকি রাখা যাবে না। আপনি ইসলামের সমালোচনা করেছেন, তাই আপনি নাকি হিন্দু, কেন আপনি মুসলমানি নাম রাখবেন? মাথা চুলকে নিজে নিজে ভাববেন – ইসলামের সমালোচনা করলেই কেউ হিন্দু হয়ে যায় না, এই সাধারণ বোধটুকু যাদের নেই, তাদের সঙ্গে তর্ক করবেন কি? আবার একটু গবেষণা করে দেখলেন – আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে দুর্ভিক্ষপীড়িত, অপরিচিত রুক্ষ আরব অঞ্চলের বেদুইনদের মধ্যে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তি, শিশুকামী ও মরুদস্যু সর্দার মুহাম্মদ, দাবি করে বসে আছেন – হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত আরবের সব গুণবাচক নাম নাকি তার ও তার এসিট্যান্ট আল্লাহর সম্পত্তি।

এই নিয়ে আমি গত ১৫ বছরে অনেকবার লিখেছি। মানুষের নাম কোনো ধর্মের সম্পত্তি হয় না। “ইসলামি নাম” বলে দুনিয়ায় আলাদা কিছু নেই, বড়জোর বলা যায় আরবি নাম। আরবি ভাষার জন্ম ইসলামের আগমনেরও বহু আগে। সে সময়ের প্রচলিত সুন্দর সুন্দর গুণবাচক নামগুলো ইসলাম গ্রহণ করে দাবি করা হলো, এগুলো আল্লাহর নাম। অথচ মূলত এগুলো ছিল সেই অঞ্চলের বিভিন্ন প্যাগান দেবদেবীর নাম। মুহাম্মদের নিজের নামও তো তাঁর বাবা-মা-দাদা রেখেছিলেন, আর তাঁরা সবাই ছিলেন প্যাগান। মুহাম্মদ নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তর বাবা-মা প্যাগান হওয়ার কারণে জাহান্নামে যাবেন। তাহলে মুহাম্মদের বাবা-মা, দাদা, চৌদ্দগুষ্টির নাম তো সবই প্যাগান আমলের নাম। উমর, আবু বকর, উসমান, আলী – এঁদের কেউই তো নিজেদের প্যাগান আমলের নাম পাল্টাননি।

তাহলে অজ্ঞ মুমিন ভাইয়েরা কেন আমাদের নাম পাল্টাতে বলেন? আমাদের নাম কি আমরা নিজেরা রেখেছিলাম? নিজেরা রাখলে নিশ্চয় অন্য কারও জবরদখলে নেওয়া নাম রাখতাম না। আরব অঞ্চলের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের নামও একই রকম। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের আমলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক আজিজ ছিলেন খ্রিস্টান। রেবেকা, ইউসুফ, জুলেখা – এমন অসংখ্য নাম আছে যা মুসলমান, খ্রিস্টান, ইহুদি – সবার মধ্যেই দেখা যায়। সেমিটিক ভাষার এই সম্পদ ইসলাম দাবি করলেই কি তা মুহাম্মদের সম্পত্তি হয়ে যায়? মুহাম্মদের বাবা কিংবা আল্লাহ কি সেমিটিক বা আরবি ভাষার জন্ম দিয়েছিলেন?

আরবি ভাষার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আরবি একটি সেমিটিক ভাষা, যার শিকড় সেই একই ভাষা-পরিবারে যেখানে হিব্রু, আরামাইক, আক্কাদিয়ান, ফিনিশিয়ানের মতো প্রাচীন ভাষাগুলোরও অবস্থান। প্রাচীন উত্তর আরবীয় লিপি ও শিলালিপির প্রমাণ থেকে দেখা যায়, আরবি ভাষা ও তার পূর্বসূরি রূপগুলো ইসলামের আবির্ভাবের বহু শতাব্দী, এমনকি সহস্রাব্দ আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। ইসলাম-পূর্ব যুগে (জাহেলিয়া যুগ নামে পরিচিত সময়ে) আরব উপদ্বীপে বহু গোত্র, ধর্মবিশ্বাস ও সংস্কৃতির মানুষ বাস করত – পৌত্তলিক আরব, ইহুদি গোত্র (যেমন মদিনার বনু কাইনুকা, বনু নাদির, বনু কুরাইজা), খ্রিস্টান আরব (নাজরান, গাসসানিদ, লাখমিদ রাজ্যের মানুষ), এবং জরথুস্ত্রবাদীরাও। এই সব সম্প্রদায়ই আরবি বা তৎসংলগ্ন সেমিটিক ভাষায় কথা বলত, কাব্যচর্চা করত এবং তাদের সন্তানদের নাম রাখত সেই ভাষারই শব্দ দিয়ে। অর্থাৎ আরবি ভাষা কোনো একক ধর্মের সৃষ্টি নয় – এটি একটি আঞ্চলিক ও ঐতিহাসিক ভাষা, যা ইসলাম আসার অনেক আগে থেকেই বহু ধর্মের মানুষের সাধারণ যোগাযোগ-মাধ্যম ছিল।

বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে প্রচলিত অভিন্ন নাম

আরব ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বহু নাম মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি, বাহাই ও ইয়াজিদি – সব সম্প্রদায়ের মধ্যেই প্রচলিত, কারণ এগুলো ধর্মীয় নয়, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। কিছু উদাহরণ:

  • মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয়ের মধ্যে প্রচলিত আরবি নাম: ইউসুফ/ইউসুফ (Joseph), ইব্রাহিম, ইউনুস, দাউদ, সুলাইমান, মারিয়াম/মরিয়ম, ইলিয়াস, ইদ্রিস—এগুলো মূলত বাইবেলীয়/তাওরাতি নাম, যা আরবিভাষী ইহুদি-খ্রিস্টান সম্প্রদায় মুসলমানদের আগে থেকেই ব্যবহার করত। আরব খ্রিস্টানরা আজও জর্জ-কে জিরজিস, মাইকেল-কে মিখাইল, পিটার-কে বুতরুস বলে ডাকে।
  • আরব ইহুদি নাম: ইউসুফ, দাউদ, সারা, রাহেল, ইসহাক – এগুলো হিব্রু-আরবি উভয় ভাষায় প্রায় অভিন্ন রূপে আছে।
  • বাহাই নাম: বাহাউল্লাহ, আব্দুল-বাহা, শোঘি-র মতো নামগুলোও মূলত আরবি-পারসিক গুণবাচক শব্দ থেকে নেওয়া, যেমন মুসলমানদের নামেও একই ধরনের শব্দ পাওয়া যায় (আব্দুল-, নূর, রহমান ইত্যাদি)।
  • ইয়াজিদি নাম: ইয়াজিদিরা কুর্দি-ইরানি সংস্কৃতির অংশ হলেও তাদের অনেক নাম আরবি বা সেমিটিক শব্দমূল থেকে এসেছে, আবার অনেক নাম স্থানীয় কুর্দি ঐতিহ্যেরও।
  • নিরপেক্ষ গুণবাচক নাম: রশিদ, আমিন, করিম, সালেহ, নাদিয়া, লায়লা – এই ধরনের নাম আক্ষরিক অর্থে গুণবাচক আরবি শব্দ (সৎ, বিশ্বস্ত, উদার ইত্যাদি অর্থ বহন করে), যা ইসলাম-পূর্ব যুগেও প্রচলিত ছিল এবং আজও ধর্মনিরপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়।

সংক্ষেপে

নাম কোনো একক ধর্মের মালিকানাধীন সম্পত্তি নয় – এটি ভাষা ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। আরবি একটি প্রাচীন সেমিটিক ভাষা, যা ইসলাম আসার বহু আগে থেকেই বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ব্যবহার করে এসেছে, এবং আজও মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি, বাহাই, ইয়াজিদি – সবার মধ্যেই একই বা কাছাকাছি নাম প্রচলিত। কোনো নির্দিষ্ট নাম “শুধু মুসলমানদের” বলে দাবি করা ভাষাগত ও ঐতিহাসিক দিক থেকে ভিত্তিহীন।

মুমিন হয়েছেন বলে মূর্খ ও গোঁয়ার হয়ে থাকাটাই কি আপনাদের নিয়ত ও নিয়তি?

Related Posts

Is the name Muhammad owned

People’s Arabic names are not the property of Allah or Muhammad. Stop demanding that others change their names

One fine morning you log into Facebook and see that everyone—from Mokhles, the tea sellerRead More

Cinmoy vs Anayetullah

Chinmoy Krishna Prabhu or Enayetullah Abbasi?

From Bonn in Germany, I reached a local station to catch the last train toRead More

Cinmoy vs Anayetullah

চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু নাকি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী?

জার্মানির বন থেকে বার্লিনে যাওয়ার শেষ ট্রেন ধরতে একটা লোকাল স্টেশনে পৌঁছে দেখি, ট্রেন ছাড়তেRead More

Comments are Closed