Women
Is a Woman’s Knowledge Less?

Is a Woman’s Knowledge Less?

কোরআন ও আল্লহ দাবি করে পুরুষদের তুলনায় নারীদের জ্ঞান-বুদ্ধি কম – এটা কি বিজ্ঞান প্রমান পেয়েছে?

কিছুদিন আগে একটি টেলিভিশন আলোচনায় একজন ইসলাম ধর্মীয় পণ্ডিত, বাংলাদেশের গ্রান্ড মুফতি দাবিদার, জৈনপুরের পীর ডক্টর সাইয়েদ মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী দৃঢ়ভাবে দাবি করলেন যে আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে নারীর মস্তিষ্ক পুরুষের তুলনায় ছোট, এবং সেই কারণেই তাদের বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞান কম – যা ইসলামের কোরআন ও নবী মুহাম্মদের কথাকে ন্যায়সঙ্গত করে।

চলুন, আগে সংশ্লিষ্ট কোরআন ও হাদিসগুলো জেনে নেই –

“…তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে দুজন সাক্ষী রেখো। যদি দুজন পুরুষ না পাওয়া যায়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী রেখো – যাদের সাক্ষ্যের ব্যাপারে তোমরা সম্মত। যাতে নারীদ্বয়ের একজন ভুলে গেলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।

সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮২

“আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমার সদাক্বাহ করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেনঃ কী কারণে, হে আল্লাহ্‌র রাসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমানে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তারা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, হে আল্লাহ্‌র রাসূল? তিনি বললেনঃ একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।”
(১৪৬২, ১৯৫১, ২৬৫৮; মুসলিম ১/৩৪, হাঃ ৭৯, ৮০ আহমাদ ৫৪৪৩) (আ.প্র. ২৯৩, ই.ফা. ২৯৮)

–  সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ), হাদিস নং ৩০৪

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নারীদের সাক্ষ্য কি পুরুষদের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? উপস্থিতরা বলল, অবশ্যই অর্ধেক। তিনি বলেন, এটা নারীদের জ্ঞানের ত্রুটির কারণেই।
(৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৮২)

–  সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ), হাদিস নং ২৬৫৮

“মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনু মুহাজির আল মিসরী (রহঃ) ….. ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে রমণীগণ! তোমরা দান করতে থাকো এবং বেশি করে ইসতিগফার কর। কেননা, আমি দেখেছি যে, জাহান্নামের অধিবাসীদের বেশির ভাগই নারী। জনৈকা বুদ্ধিমতী মহিলা প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ কি? তিনি বললেনঃ তোমরা বেশি বেশি অভিশাপ দিয়ে থাক এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো। আর দীন ও জ্ঞান-বুদ্ধিতে ত্রুটিপূর্ণ কোন সম্প্রদায়, জ্ঞানীদের উপর তোমাদের চাইতে প্রভাব বিস্তারকারী আর কাউকে আমি দেখিনি প্রশ্নকারিণী জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জ্ঞান-বুদ্ধি ও দীনে আমাদের কমতি কিসে? তিনি বললেন, তোমাদের বুদ্ধির ত্রুটির প্রমাণ হল দু’জন স্ত্রী লোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর স্ত্রীলোক (প্রতি মাসে) কয়েক দিন সালাত থেকে বিরত থাকে আর রামাযান মাসে সিয়াম ভঙ্গ করে; (ঋতুবতী হওয়ার কারণে) এটাই দীনের ত্রুটি।”

আবূ তাহির ইবনু হাদ-এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ ১৪৯-১৫০)। হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ১৪৪ , আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৭৯

 – সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), হাদিস নং ১৪৪

আবার কিছু ক্ষেত্রে ইসলাম, কোরআন, হাদিস নারীর সাক্ষকে ০% মূল্য দেয়। ইসলামে ধর্ষণের কোন সংজ্ঞা নেই, শাস্তিও নেই। যে যিনা, ব্যাভিচারের কথা বলে ধর্ষণের বিচার হয় সেখানে পূর্ণবয়স্ক চারজন চাক্ষুস পুরুষ সাক্ষী লাগে যারা সরাসরি পেনিস ও ভ্যাজাইনায় প্রবেশ -প্রস্থান দেখেছে। ১০০০ নারী সাক্ষী দিলেও সেটা ইসলাম গ্রহন করবে না।

আর একটি হস্যকর বিষয় হলো, যে আল্লাহ, কোরআন, হাদিস, ইসলাম মনে করে মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, আবেগ থাকে বক্ষে অবস্থিত হৃদয়ে, তারা আবার আধুনিক বিজ্ঞানের নিরিখে সেগুলো যে মস্তিষ্কপ্রসূত সেটা মেনে নিয়ে মস্তিষ্কের মাপ নিয়ে ইসলামকে ডিফেন্ড করতে উদগ্রীব! ইসলাম তো মনেই করেন না মানুষের জ্ঞান মস্তিষ্কে থাকে, তাহলে নারী-পুরুষের মস্তিষ্কের মাপ নিয়ে তাদের এতো ভাবনা কেন? তারা বরং মনযোগ দিক যে বিজ্ঞানের প্রমানিত মস্তিষ্ক নয়, হৃদপিন্ডই সব!

অন্য অনেক কোরআনের আয়াত ও হাদিস থেকে এমন অসংখ্য নজির দেখানো যায় যেখানে ইসলাম নারীদের অসম্মানিত, অপমানিত, অবজ্ঞা, অবহেলা, পুরুষের অধীনন্ত, পুরুষের সম্পদ দেখানো হয়েছে। নারীদের গণিমতের মাল, পুরুষের জন্য উপভোগ্য উপকরণ দেখানো হয়েছে, নারীকে গাঁধা, ঘোড়া, কালো কুকুর সমতূল্য, পুরুষের জন্য অকল্যানকর, নারীর কাজ শুধুই সন্তান উৎপাদন ও স্বামীর সেবা করা, নারীর কোন স্বাধীন সত্ত্বা নেই বলা হয়েছে। তবে এই প্রবন্ধে আমরা সেগুলো আলোচনা করবো না, শুধুই নারীদের জ্ঞান, বুদ্ধি পুরুষের তুলনায় কম সেই আলোচনায় স্টিকি হয়ে থাকি।

এই দাবিটি কতটুকু বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক? মস্তিষ্কের আকার কি সত্যিই বুদ্ধিমত্তার পরিমাপক? আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান এই প্রশ্নের কী উত্তর দেয়?

প্রথমতঃ মস্তিষ্কের আকারে পার্থক্য কি সত্য?

এটি সত্য যে গড়ে পূর্ণবয়স্ক পুরুষের মস্তিষ্ক নারীর মস্তিষ্কের চেয়ে একটু বড়। তবে এই পার্থক্যটি বোঝার জন্য কিছু তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখি।

পুরুষের গড় মস্তিষ্ক
১,৩৫০ গ্রাম
১,৩০০–১,৪০০ গ্রাম পরিসর

নারীর গড় মস্তিষ্ক
১,২২৫ গ্রাম
১,১৫০–১,৩০০ গ্রাম পরিসর

আইনস্টাইনের মস্তিষ্ক
১,২৩০ গ্রাম
পুরুষের গড়ের চেয়ে কম

এই পার্থক্যের মূল কারণ বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং শরীরের আকার। পুরুষের শরীর গড়ে বড় হওয়ায় তাদের মস্তিষ্কও কিছুটা বড়। আমি আইনস্টাইনের চেয়ে ৪/৬ ইঞ্চি বেশি লম্বা, সে হিসাবে আমার মস্তিষ্কের আকার তার চেয়ে হয়তো কিছুটা বড়, তাই বলে আমার বুদ্ধি, জ্ঞান কি তার চেয়ে বেশি? উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রতি কেজি শরীরের ওজনের অনুপাতে মস্তিষ্কের ভর – যাকে বলা হয় এনসেফালাইজেশন কোশেন্ট – পুরুষ ও নারীতে প্রায় অভিন্ন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ আইনস্টাইনের মস্তিষ্কের ওজন ছিল মাত্র ১,২৩০ গ্রাম – যা গড় পুরুষের মস্তিষ্কের চেয়েও কম। তবুও তিনি বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক প্রতিভা ছিলেন। এটিই প্রমাণ করে যে মস্তিষ্কের ভর এবং বুদ্ধিমত্তার মধ্যে কোনো সরল সম্পর্ক নেই।

দ্বিতীয়তঃ বিজ্ঞান কি বলে?

বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত অনেক বিজ্ঞানীও বিশ্বাস করতেন যে বড় মাথা মানেই বেশি বুদ্ধি। কিন্তু আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান সেই ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে। ২০১৮ সালে ৩,০০০ এরও বেশি মানুষের উপর পরিচালিত একটি বৃহৎ গবেষণায় (Nave et al., Psychological Science) দেখা গেছে যে মস্তিষ্কের আকার সামগ্রিক বুদ্ধিমত্তার মাত্র ২% পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের গড়ন, সংযোগ কাঠামো এবং কার্যপদ্ধতিতে পার্থক্য থাকলেও তাদের সামগ্রিক জ্ঞানীয় ক্ষমতা (cognitive ability) একই। কিছু ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে (যেমন মৌখিক স্মৃতি ও ভাষা দক্ষতা), আবার কিছু ক্ষেত্রে পুরুষরা (যেমন মানসিক ঘূর্ণন)। কিন্তু সামগ্রিক বুদ্ধিমত্তায় কোনো পক্ষই শ্রেষ্ঠ নয়।

“Brain size and intelligence are not straightforwardly correlated. What matters is the complexity of neural connections, not the gross volume of brain tissue.”
– ডেভিড ওয়েক্সলার, মনোবিজ্ঞানী ও আইকিউ পরীক্ষার উদ্ভাবক

তৃতীয়তঃ বুদ্ধিমত্তা আসলে কীভাবে কাজ করে?

আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান জানায় যে বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে নিউরনের সংখ্যার উপর নয়, বরং নিউরনের মধ্যকার সিন্যাপটিক সংযোগের জটিলতা, মায়েলিনেশনের মাত্রা, এবং বিভিন্ন মস্তিষ্ক অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের দক্ষতার উপর। হাতি এবং তিমির মস্তিষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের চেয়ে আকারে অনেক বড় – কিন্তু তারা কি মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান?

এছাড়াও, বুদ্ধিমত্তা কোনো একক সত্তা নয়। হার্ভার্ডের মনোবিজ্ঞানী হাওয়ার্ড গার্ডনার বহু বুদ্ধিমত্তার তত্ত্ব (Theory of Multiple Intelligences) প্রস্তাব করেছেন — ভাষাগত, যৌক্তিক-গণিতিক, স্থানিক, সংগীত, আন্তঃব্যক্তিক, ইন্ট্রাপার্সোনাল ইত্যাদি। এই প্রতিটি মাত্রায় নারী ও পুরুষ উভয়ই সমান সম্ভাবনা রাখেন।

চতুর্থতঃ ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রসঙ্গ

উনিশ শতকে পল ব্রোকা-র মতো বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের আকার মেপে নারী ও কৃষ্ণাঙ্গদের “নিম্নতর” প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন। পরে প্রমাণিত হয় যে তাদের পদ্ধতি ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের সতর্ক করে যে বৈজ্ঞানিক ভাষা ব্যবহার করেও পূর্বধারণাকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হয়। এই একই দাবি এখন ইসলামের স্কলার দাবীদার ও সাধারন অনেক ইসলামিস্টরা করে থাকেন।

সতর্কতাঃ “বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে” – এই বাক্যাংশ ব্যবহার করে কোনো দাবি করা হলে সেটি যাচাই করা জরুরি। বিজ্ঞানের নাম ভাঙিয়ে অবৈজ্ঞানিক দাবি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে – একে বলা হয় “সায়েন্টিজম”।

ইতিহাসে মেধাবী নারীরা

মেরি কুরিঃ তিনিই ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি যিনি দুইবার নোবেল পান এবং একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখায় এই পুরস্কার জিতেছেন। ১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যায় (তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য) এবং ১৯১১ সালে রসায়নে (রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কারের জন্য) তিনি নোবেল পান।

ইন্দিরা গান্ধীঃ ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সফল প্রধানমন্ত্রীদের যদি কোন তালিকা করা হয় তবে প্রায় সবাই এক বাক্যে তার নাম বলবেন। তার উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ ছাড়া বাঙালিদের সবচেয়ে বড় অর্জন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করা হয়তো দূরুহ হতো।

মার্গারেট থ্যাচারঃ যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে কত প্রধানমন্ত্রী এলো-গেলো, কয়জনের নাম মনে রাখে মানুষ? কিন্তু উনার নাম সবার মাথায় থাকে। মার্গারেট থ্যাচার (Margaret Thatcher) ছিলেন যুক্তরাজ্যের (UK) ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী এবং প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তার নীতি, দৃঢ় ব্যক্তিত্ব এবং আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি বিশ্বব্যাপী “লৌহমানবী” (Iron Lady) নামে পরিচিত ছিলেন।

আঙ্গেলা মের্কেলঃ পুরো ইউরোপ ও জার্মানি তার প্রয়োজনীয়তা এখনো অনুভব করে। জার্মানির প্রথম এবং একমাত্র নারী চ্যান্সেলর হলেন আঙ্গেলা মের্কেল (Angela Merkel)। তিনি আধুনিক বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এবং দীর্ঘমেয়াদী নেতা হিসেবে পরিচিত। জার্মানির জনগণ তাঁকে ভালোবেসে “মুটি” (Mutti) বা ‘মা’ বলে ডাকতেন।

রানী ইসাবেলাঃ ইসলামিস্টরা ভুলতে পারবে না যে তার নেতৃত্বেই স্পেনে ৮০০ বছরের মুসলিম শাসনের অবসান ঘটেছিল। ইতিহাসে রানী ইসাবেলা (Isabella I of Castile) ছিলেন অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দূরদর্শী শাসক। ১৪৭৪ থেকে ১৫০৪ সাল পর্যন্ত কাস্তিলের রানী হিসেবে তাঁর শাসনকাল শুধু স্পেনের ইতিহাসই নয়, বরং সমগ্র পৃথিবীর মানচিত্র এবং ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের প্রধান পৃষ্ঠপোশক ছিলেন তিনি।

এ তো সামান্য কয়েকটি তালিকা। ইতিহাসে এমন অসংখ্য মেধাবী, প্রভাবশালী, শক্তিশালী নারীরা আছেন যাদের কারনে পৃথিবী, মানব সভ্যতা, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, মানবতা, শিক্ষা অনেক এগিয়ে গেছে।

আমেরিকায় কেন কোন নারী প্রেসিডেন্ট নেই?

ইসলামিস্টদের একটি জনপ্রিয় দাবি হলো – নারীদের জ্ঞান, বুদ্ধি কম – এই নীতি আমেরিকার জনগণ ও নীতি নির্ধারকরা মেনে সেখানে কোন নারী প্রেসিডেন্ট বানায় না। ইতিহাসে সেখানে নারী প্রেসিডেন্ট নেই। কিন্তু এই সমীকরন সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে নির্বাচন সিস্টেম অনেক জটিল। তুলনামূলক বেশি ভোট পেয়েও হিলারী ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো নারী প্রেসিডেন্ট না থাকার পেছনে ধর্মীয় বা মনস্তাত্ত্বিক কোনো তত্ত্ব কাজ করে না, বরং এর পেছনে রয়েছে দেশটির অত্যন্ত জটিল নির্বাচনী ব্যবস্থা (Electoral College), দীর্ঘ রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কিছু প্রতিবন্ধকতা। আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থা পৃথিবীর অন্যান্য অনেক গণতান্ত্রিক দেশের মতো সরাসরি জনগণের ভোটে নির্ধারিত হয় না। সেখানে ইলেকটোরাল কলেজ (Electoral College) ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে হিলারি ক্লিনটন ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে প্রায় ২৮ লাখ ৭০ হাজার (২.৮৭ মিলিয়ন) পপুলার ভোট বা জনগণের সরাসরি ভোট বেশি পেয়েছিলেন। শতাংশের হিসাবে তিনি ট্রাম্পের চেয়ে ২.১% বেশি ভোট পান। আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী, শুধু বেশি ভোট পেলেই চলে না, রাজ্যভিত্তিক ইলেকটোরাল ভোট জিততে হয় (মোট ৫৩৮টি ভোটের মধ্যে ২৭০টি)। হিলারি ক্লিনটন জনগণের ভোট বেশি পেলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি “সুইং স্টেট” বা দোদুল্যমান রাজ্যে সামান্য ব্যবধানে হেরে যান। ফলে বেশি মানুষের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও এই জটিল নিয়মের কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।

এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আমেরিকার অধিকাংশ জনগণ একজন নারী প্রেসিডেন্টকে মেনে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল এবং তাকে ভোটও দিয়েছিল। সুতরাং ইসলামিস্টদের দাবি আদৌ ঠিক নয়।

ইসলামের অসারতাকে বিজ্ঞানময় দেখানোটা একটা ভন্ডামি!

মস্তিষ্কের আকার এবং বুদ্ধিমত্তার মধ্যে কোনো সরল সম্পর্ক নেই – এটি আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানের সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থান। আইনস্টাইনের উদাহরণ একাই এই সত্য উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে। নারীর মস্তিষ্ক আকারে কিছুটা ছোট হলেও তাদের জ্ঞানীয় ক্ষমতা পুরুষের সমান – গবেষণার পর গবেষণা এটি নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে অসংখ্য গবেষণা হয়েছে যেখানে ইসলামের এই দাবি স্রেফ শিশুতোষ ও ১৪০০ বছর আগের একটা রুক্ষ, অনুন্নত, দূর্ভিক্ষপীড়িত, যাযাবর সম্প্রদায়ের একজন যুদ্ধবাজ নেতার অজ্ঞতা হিসাবে চিহ্নিত হতে বাধ্য। এই এক ফ্যাক্ট দিয়েই প্রমান হয়ে যায় – ইসলাম মানে নবী মুহাম্মদ, নবী মুহাম্মদ যা জানতেন না, আল্লাহও তা জানতেন না, আল্লাহ বরং নবী মুহাম্মদের ফেইক আইডি। কোরআন কোন ঐশী গ্রন্থ নয়, বর্তমান যুগে এর কোন প্রাসঙ্গিকতা নেই।

কোনো ধর্মীয় বিধানকে ন্যায়সঙ্গত করতে বিজ্ঞানের মিথ্যা উদ্ধৃতি দেওয়া উভয়ের প্রতিই অসম্মানজনক – বিজ্ঞানের প্রতি এবং ধর্মের প্রতিও। ধর্মের যুক্তি ধর্মের ভিত্তিতেই দেওয়া উচিত; বিজ্ঞানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার আগে সেই বিজ্ঞান আসলে কী বলছে তা নিষ্ঠার সাথে জানা দরকার।

Related Posts

Islam Called Microphones Haram

Historically, Islam has often opposed scientific discoveries; they even declared the use of microphones haram!

When I was in class six or seven, my father bought me a higher‑grade bookRead More

Islam Called Microphones Haram

ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম প্রায় সময়ই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের বিরোধীতা করেছে, তারা মাইক ব্যবহারকেও হারাম বলেছিল!

আমি যখন ক্লাস সিক্স-সেভেনে পড়ি তখন আব্বা বাংলা ব্যাকরণের জ্ঞান বাড়ানোর জন্য উচ্চ ক্লাসের একটাRead More

Omar’s Caliphate and Islamist Myths

Under the caliphate rule of Caliph Umar, did all people – even non‑believers – drown in an ocean of peace?

When asked to show where Islam and Prophet Muhammad’s Sharia have been successfully implemented anywhere,Read More

Comments are Closed