
First Universities in the World
ভারতবর্ষে ইসলামের আগ্রাসন না হলে আজ হয়তো ইউরোপ, আমেরিকার সমকক্ষ থাকতো
ইন্ডিয়া ট্যুরে গিয়ে একবার এক টিমের সঙ্গে শিমলা, মানালি ঘুরেছিলাম। আমি একাই ছিলাম বাংলাদেশি। অন্য সবাই ছিল ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের লোকজন। একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা ও তার স্বামী সাবেক রেলের বড় কর্তাও ছিলেন। আমি বাংলাদেশ থেকে শুনে তাদের প্রথম শব্দ ছিল – ‘তসলিমা নাসরিন।’
আমি যতোটা তাদের কাছে শুধুই ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশের নাগরিক, তার চেয়ে বেশি ছিলাম তসলিমা নাসরিনের দেশের মানুষ। এটা বাস্তবতা – ভারতের শিক্ষিত, সচেতন মানুষ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা শিক্ষামন্ত্রীকে না জানলেও তসলিমা নাসরিনের কীর্তি সম্পর্কে সবাই জানেন। মানবাধিকার, নারী অধিকার, ন্যায়বিচার ও বাক স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর একক সংগ্রাম ও লড়াকু ব্যক্তিত্ব তাদের আকৃষ্ট করে। বিদেশে অনেকের কাছেই বাংলাদেশ মানে এখন তসলিমা নাসরিন। আপনি মানেন বা না মানেন – এটা বাস্তবতা।
তেমনই একজন ছিলেন অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান। আপনি যদি শিক্ষিত, সচেতন তিব্বতীদের কাছে যান, তারা বাংলাদেশের নাম হয়তো শোনেনি, কিন্তু অতীশ দীপংকরের নাম শুনলে শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে দেবে।
৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ) জন্মগ্রহণকারী এই মহাপণ্ডিত ছিলেন নালন্দা ও বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরবর্তীতে আচার্য। তিনি সংস্কৃত, পালি, তিব্বতি সহ বহু ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং বৌদ্ধ দর্শনের জটিলতম তত্ত্বগুলি সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। ১০৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতের রাজা ইয়েশে ওয়ের আমন্ত্রণে তিনি তিব্বত গমন করেন এবং সেখানে বৌদ্ধ জ্ঞানের পুনর্জাগরণ ঘটান। তিব্বতিরা তাঁকে আজও “জোওয়ো আতিশা” বলে সম্মান করেন।
সে সময় এই বাংলা ভূমিতে প্রচুর বিদেশি আসতেন জ্ঞান অন্বেষণের জন্য। সুদূর চীন, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা এসে বছরের পর বছর অবস্থান করে শিক্ষা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতেন। বাংলা সাল, পহেলা বৈশাখ — এই সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান এভাবেই এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ভারত উপমহাদেশঃ সভ্যতার আদি পাঠশালা
আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না, এই ভারত উপমহাদেশেই সভ্যতা ও বিজ্ঞানের অনেক মৌলিক ধারণার সূত্রপাত। দশমিক সংখ্যাপদ্ধতি, শূন্যের ধারণা, বীজগণিত, ত্রিকোণমিতি – এসবের স্রষ্টা আমাদের পূর্বপুরুষরা। আর্যভট্ট পৃথিবীর আবর্তন আবিষ্কার করেছিলেন কোপার্নিকাসের প্রায় এক হাজার বছর আগে। ব্রহ্মগুপ্ত শূন্যের গাণিতিক ব্যবহার নির্ধারণ করেছিলেন। চরক ও সুশ্রুত চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা আজও প্রাসঙ্গিক।
তক্ষশিলাঃ বিশ্বের প্রাচীনতম জ্ঞানকেন্দ্র
বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনেকে তক্ষশিলাকে স্বীকৃতি দেন। এটি অবস্থিত ছিল বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে, ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৭০০ অব্দে এর যাত্রা শুরু। এটা এখানকার আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ছিল না, তবে সেই সময়ের জন্য ছিল বিশ্বসেরা – এমনটাই অনেকে মনে করেন।
প্রায় ৬০টি বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ ছিল এখানে – বেদ, ভাষা, ব্যাকরণ, দর্শন, আয়ুর্বেদ, ধনুর্বিদ্যা, রাজনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র, গণিত, অর্থনীতি, সঙ্গীত ও হস্তশিল্প। ব্যাবিলন, আরব, মিশর, চীন, গ্রিস থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসতেন। বিখ্যাত চিকিৎসক চরক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কৌটিল্য (চাণক্য) এবং বৈয়াকরণিক পাণিনি এই তক্ষশিলারই ছাত্র বা শিক্ষক ছিলেন।
তক্ষশিলায় প্রায় ১০ হাজারের বেশি ছাত্র-শিক্ষক একসাথে থাকতেন। দরিদ্র ছাত্ররা বিভিন্ন কাজ করে পড়াশোনার খরচ মেটাতেন। রাজকোষ থেকেও অর্থসাহায্য আসত। যদিও দুঃখজনকভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীশিক্ষার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না – সে যুগের সীমাবদ্ধতার এটি একটি বড় নিদর্শন।
নালন্দাঃ পৃথিবীর প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়
তক্ষশিলার পরে ভারতীয় উপমহাদেশে আরও প্রায় ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল — নালন্দা, বিক্রমশীলা, বল্লভী, ওদন্তপুরী, জগদ্দল প্রভৃতি। সেই সময় ইউরোপে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। ইউরোপের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১০০০ খ্রিষ্টাব্দের পরে।
এর মধ্যে সবচেয়ে গৌরবময় ছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় – পৃথিবীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিহারে, পাটনা থেকে ৮৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এর অবস্থান। পঞ্চম শতাব্দীতে গুপ্ত সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় এর প্রতিষ্ঠা এবং ১১৯৩ সালে এর ধ্বংস পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বছর ধরে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল।
নালন্দায় একসময় প্রায় ১০,০০০ ছাত্র ও ২,০০০ শিক্ষক ছিলেন। তিব্বত, চীন, গ্রিস, পারস্য, কোরিয়া থেকে শিক্ষার্থীরা আসতেন। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দে এখানে দীর্ঘ সময় অধ্যয়ন করেন এবং তাঁর বিবরণী থেকে আমরা নালন্দার বিশদ চিত্র পাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে ছিল তিনটি বিশাল ভবন — রত্নরঞ্জক, রত্নোদধি ও রত্নসাগর। লক্ষাধিক পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল সেখানে।
বাংলার কৃতী সন্তান অতীশ দীপংকর এই নালন্দা ও বিক্রমশীলায় অধ্যয়ন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিক্রমশীলার প্রধান আচার্য হয়েছিলেন।
ধ্বংসের ইতিহাসঃ ইসলামের আগমন এবং নালন্দার পতন
১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি সামরিক সেনাপতি বখতিয়ার খলজি ইসলামের নামে বঙ্গ অভিযানের সময় নালন্দা আক্রমণ করেন এবং এটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেন। শুধু নালন্দা নয়, একই অভিযানে বিক্রমশীলা ও ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়ও ভস্মীভূত হয়। এটা ইসলামের বৈশিষ্ট্য, যেখানেই যায় সেখানকার স্থানীয় জ্ঞান, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, ভাষা সব ধ্বংস করে দিয়ে ইসলামের বায়বীয় শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব প্রতিষ্ঠা করে।
বলা হয়, নালন্দার গ্রন্থাগারে আগুন লাগানোর পর বইগুলি টানা তিন মাস ধরে জ্বলেছিল। এই বিবরণ থেকেই অনুমান করা যায় সেখানে কী অপরিমেয় জ্ঞানসম্পদ ছিল। শত শত বছরের পাণ্ডুলিপি, গবেষণা, অনুবাদ – সব ছাই হয়ে গেল। যেসব পণ্ডিত পালাতে পারলেন না, তারা নিহত হলেন। যারা বাঁচলেন, তারা পালিয়ে গেলেন তিব্বত ও দক্ষিণ ভারতে – সঙ্গে নিয়ে গেলেন যতটুকু পারলেন।
এই বিধ্বংসী কাজের প্রভাব শুধু ভারতে সীমাবদ্ধ ছিল না। যে জ্ঞানসম্পদ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে উঠেছিল, যা ছড়িয়ে পড়েছিল এশিয়ার কোণে কোণে – তার একটি বিশাল অংশ চিরতরে হারিয়ে গেল।
ইসলামী শাসনঃ যতটা এদ্গিয়ে দিয়েছে তার চেয়ে পিছিয়ে দিয়েছে অনেক
বখতিয়ার খলজির আক্রমণের পর থেকে শুরু করে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বছরের মুসলিম শাসনকালে ভারতের জ্ঞানচর্চার ধারায় কী পরিবর্তন এলো – এটি একটি জটিল ও বিতর্কিত প্রশ্ন। তবে একথা নিশ্চিন্তে বলা যায় তারা জ্ঞান, বিজ্ঞানের প্রসারে তেমন কিছুই করেনি, আজও যা করেনা ইসলামের নামে শাসন চালানো শক্তিগুলো।
একদিকে দৃঢ় সত্য এই যে, দিল্লি সালতানাতের প্রথম পর্যায়ে অনেক হিন্দু মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও জ্ঞানকেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয় পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা কমেছে। সংস্কৃত শিক্ষার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু সত্য হলো – পরবর্তী মুঘল শাসনামলে – বিশেষত আকবর, জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের আমলে – একটি বিশেষ ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। আকবর নিজে নিরক্ষর হলেও তিনি জ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, তাঁর দরবারে ছিলেন বিভিন্ন ধর্ম ও মতের পণ্ডিতরা। আইন-ই-আকবরি ও আকবরনামা সেই যুগের অমূল্য ঐতিহাসিক দলিল। বীরবল, তানসেন, আবুল ফজল – এরা ছিলেন মুঘল দরবারের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মনীষী। তিনি এগুলো করেছিলেন কারন তিনি ইসলামের ধ্যান ধারনা থেকে নিজেকে কিছুটা মুক্ত করতে পেরেছিলেন।
কিন্তু সমালোচকরা যথার্থভাবেই প্রশ্ন করেন – এই পৃষ্ঠপোষকতা কি মূলত রাজকীয় বিনোদন ও প্রচারের জন্য ছিল, নাকি সত্যিকারের জ্ঞান-বিস্তারের জন্য? তক্ষশিলা ও নালন্দার মতো গণমুখী বিশ্ববিদ্যালয় কি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল? উত্তর হলো – না। ভারতে কি দশটা অক্সফোর্ড হতে পারতো? উত্তর হলো – হ্যাঁ। কিন্তু তারা করেনি, কারন ইসলামের নীতির সঙ্গে এগুলো যায় না। ইসলামে জ্ঞান মানেই কোরআন, হাদিস, পরকাল। এসব জ্ঞান ছাড়া অন্য সকল জ্ঞানের স্থান তাদের কাছে গৌন।
তাজমহল নির্মাণে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে – তৎকালীন হিসেবে প্রায় ৩২ মিলিয়ন রুপি – সেই অর্থ দিয়ে অনেকগুলো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সম্ভব ছিল। শাহজাহানের শাসনামলেই বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে – অথচ প্রাসাদ ও সৌধ নির্মাণ অব্যাহত ছিল। এটি সেই সময়ের ইসলামী শাসনব্যবস্থার একটি বাস্তব ও তিক্ত সমালোচনার বিষয়।
আওরঙ্গজেবের শাসনামলে (১৬৫৮-১৭০৭) পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল। তিনি সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিলেন, হিন্দু মন্দির ভেঙেছিলেন, জিজিয়া কর পুনরায় চালু করেছিলেন। বহু বিদ্বান ও শিল্পী দরবার ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
কিছু আত্মসমালোচনা অবশ্য আছে
ভারতবর্ষের জ্ঞানচর্চার অধঃপতনকে শুধু বাইরের আক্রমণের উপর চাপানো কি সম্পূর্ণ সত্য? ইতিহাসবিদরা আরও কিছু কারণ চিহ্নিত করেন –
জাতিভেদ প্রথার শৃঙ্খলঃ তক্ষশিলা ও নালন্দায় নারীরা পড়তে পারতেন না, শূদ্ররা পড়তে পারতেন না। জ্ঞান ছিল উচ্চবর্ণের একচেটিয়া সম্পদ। এই বৈষম্য নিজেই জ্ঞানবিস্তারের বড় বাধা ছিল।
রাজনৈতিক বিভাজনঃ উপমহাদেশ কখনো একটি ঐক্যবদ্ধ সত্তা ছিল না। বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই থাকত। বখতিয়ার খলজির আগেও বৌদ্ধ বিহারগুলো হিন্দু রাজাদের আক্রমণের শিকার হয়েছিল বলে কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন।
প্রযুক্তিগত স্থবিরতাঃ মধ্যযুগে ইউরোপ যখন শিল্পবিপ্লবের দিকে এগোচ্ছিল, ভারত তখন কৃষিনির্ভর সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোয় আটকে ছিল।
এই বৈষ্যম্যগুলো বিশ্বের সব প্রান্তেই ছিল তখন, তবে কে বলতে পারবে যে ভারতে ইউরোপের আগে একটা রেঁনেসা হতো না? তখনকার স্বাভাবিক জ্ঞানের প্রবাহ টিকে থাকতে দিলে সেটা হওয়াটা ছিল অবশ্যম্ভাবী। তখন ভারতই হয়তো বিশ্বের জ্ঞানের নেতৃত্ব দিতো – এমন চিন্তা করতে দোষ কি?
এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, বখতিয়ার খলজির হামলা এবং পরবর্তী শাসনামলের ক্ষমতাকেন্দ্রিক নীতি ভারতের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যে একটি বিশাল ক্ষত তৈরি করেছিল। লক্ষাধিক পাণ্ডুলিপি পুড়ে গেছে, হাজার হাজার পণ্ডিত নিহত বা বিতাড়িত হয়েছেন, বহু জ্ঞানপরম্পরা চিরতরে ছিন্ন হয়ে গেছে – এই ক্ষতির পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
নালন্দার পুনর্জন্ম
২০০৬ সালে সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান ও আরও কিছু দেশ মিলে সিদ্ধান্ত নেয় – নালন্দাকে আবার গড়ে তোলা হবে। ২০১০ সালে ভারতের সংসদে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। ২০১৪ সালে নতুন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এটি কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার গল্প নয় – এটি একটি সভ্যতার স্মৃতি পুনরুদ্ধারের প্রতীক। কিন্তু যেটা হতে পারতো তা তো আর এখন হওয়া সম্ভব না। যে প্রতিষ্ঠান পুরো বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানে নেতৃত্ব দিতে পারতো এখন তো তা কেবলই কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠানের একটি মাত্র। সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান জানে এক সময় নালন্দা তাদের জনপদের জ্ঞান, সমৃদ্ধিতে কী অবদান রেখেছিল। সেজন্য আজ তারা উদোগী হয়েছে আবার, হয়তো কিছু ঋন শোধ।
আজ কেমন হতো ভারতবর্ষ?
ইতিহাস কখনো সরলরেখায় চলে না। ভারতবর্ষের জ্ঞানসভ্যতার উত্থান ছিল মানবজাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। তার পতন ছিল বহু কারণের সম্মিলিত ফল – বাইরের আক্রমণ, ভেতরের সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক বিভাজন এবং মুসলিম শাসকদের অদূরদর্শিতা।
কিন্তু সেই জ্ঞানের আলো সম্পূর্ণ নিভে যায়নি। তিব্বতে, চীনে, জাপানে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় – সেই জ্ঞানের বীজ ছড়িয়ে পড়েছিল। আজ আমাদের দায়িত্ব সেই ইতিহাসকে সঠিকভাবে জানা, সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা – এবং সেই হারানো ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আবার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হওয়া। ভারতবর্ষে ইসলামের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন না আসলে হয়তো ভারতের অবস্থান আজ হতো ইউরোপ বা আমেরিকার সমকক্ষ। কারন ইসলামের সঙ্গে জ্ঞান-বিজ্ঞান সমান্তরাল পথে চলতে পারে না, কোথাও চলেনি কোনদিন, আজও চলছে না।
ডিসক্লেইমারঃ এটা কোন ঐতিহাসিক বা একাডেমিক প্রবন্ধ নয়। কিছু ঐতিহাসিক বা তথ্যগত ভুল ভ্রান্তি থাকতে পারে।
Related Posts

Even in this era, religious fanaticism stands as a barrier to the spread of science!
For being ahead of his time, Socrates had to drink the cup of poison 2,400Read More

In the light of open‑source, a new horizon: How WordPress is showing Bangladesh’s young generation the path to self‑reliance
If you walk along the roads of villages and small towns in Bangladesh, you willRead More

Comments are Closed