
Fantasy in the name of Islam
ইসলামের ফাঁপা বেলুন, কল্পনাবিলাস ও তার বিপরীতে প্রকৃত বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন
আপনারা যারা আমাদের পড়াশুনা, জানাশোনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আপনাদের কেন মনে হয় যে আমরা আপনাদের চেয়ে কম পড়াশুনা করি? কোরআন, সহিহ হাদীস, সিরাত, তাফসির পড়ি না – কনফিডেন্স নিয়ে এটা যে বলেন, নিজের পড়াশুনা, জানাশুনা আছে তো? একাডেমিক লাইফেও রিসার্স মেথডোলজি নিয়ে পড়াশুনা করেছিলাম – কিভাবে রেফারেন্সিং করতে হয়, কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল, কোনটা জাল – এগুলো বোঝার মতো নূন্যতম কমন সেন্স আমাদের আছে – আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন। ইসলামকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে হুদাই ত্যানা প্যাঁচাবেন না। ইসলামের ধারক হিসাবে আল্লাহ যেটা হালাল করেছে সেটাকে বুক ফুলিয়ে হালাল বলে মেনে নিয়ে সেটা কেন হালাল সেটা ডিফেন্ড করায় মনোযোগ দেন। যেমন আল্লার আদেশে ইসলামে শিশুর সঙ্গে বিয়ে ও সহবাস হালাল, ফুলস্টপ। আমরা এটাকে বলি ধর্ষণ, শিশুর সঙ্গে মানবতা বিরোধী অপরাধ। ওদিকে এটা নিয়ে যদি, কিন্তু চলে না ইসলামে। এখন এই আলাপ শুরু করেন, এটা হালাল করা কেন জরুরী ছিল আল্লাহর জন্য। প্রয়জনে এই আলাপ নিয়ে আসেন, একটা ৯ বছরের বাচ্চা মেয়ে ৫৩ বছরের বুইড়ার সঙ্গে সেক্স করলে তার ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গগুলো চ্যালচেলায়া জান্নাতে যাবে, যদি এমন কোন যুক্তি আপনাদের থাকে (ইসলামের নবী তো ৬ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করে ৯ বছরে বাসর করেছিল)। এরপর তার স্বামীর হুরদের সর্দারনীর অঙ্গে মিশে মাইলের পর মাইল খেজুর বাগানে বসে স্বর্গীয় ফল ডুমুর খাবে। অনন্তকাল ধরে ত্বীন বা এই ডুমুর খাওয়ার লোভে কেউ হয়তো ইসলামের প্রেমে পড়ে আল্লাহ সর্বশক্তিমান বলে কারো কল্লা কাটার জন্য চাপাতি হাতে রওনা দিতে পারে, যেমনটা জঙ্গিরা করে।
আপনারা দাবী করেন – “ইসলাম মানে শান্তি, ইসলাম শান্তির ধর্ম।” ইসলাম অনুসারেই এই দাবী মিথ্যা। ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পন। আল্লাহ ও নবী মোহাম্মদের সমীপে বিনা প্রশ্নে, বিনা সন্দেহে নিজের, পরিবারের, দেশের জান, মাল, ইজ্জত সব দিয়ে দেয়াই ইসলাম। ইসলাম অনুসারে মুসলিমরা নাকে দড়ি বাঁধা উটের মতো, মালিক তথা ইসলাম তাদের যেভাবে চরাবে, চালাবে, ঘুরাবে তাদের সেভাবেই চরতে হবে – সেটার নামই ইসলাম। সেজন্য ইসলামের কোন একটা ছোট্ট আকীদা নিয়েও কেউ ভুল বললে, সন্দেহ করলে, বিকল্প দেখালে সে আর ইসলামে থাকে না, মুরতাদ হয়ে যায়। আর ইসলামে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। আর যদি নবী মোহাম্মদের কোন কাজ, সিদ্ধান্তকে যদি একটুও কেউ সন্দেহ করেছে তো সে শাতিমে রাসূল, সে তওবা করে ক্ষমা চাইলেও তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। ইসলাম এক বড় জেলখানা, সেখানে ঢোকার ১০১ টা দরজা আছে, বের হওয়ার কোন রাস্তা নেই।
আপনারা বলেন কোরআন পড়েন, হাদিস পড়েন। আরে ভাই, এগুলো পড়ার পরেই না প্রশ্ন নিয়ে হাজির হই আমরা। অপ্রয়োজনীয় সময়ের অপচয়, তার পরেও পড়ি। কারন আপনাদের ত্যানার প্যাঁচ খুলতে হয়। এতো অমানবিকতা, এতো কুসংস্কার, এতো গাঁজাখোরী, এতো জঘন্য, এতো নৃশংসতা একটা ঐশ্বরিক ধর্মের নীতিতে থাকতে পারে? এই জিজ্ঞাসা – সে তো আজকের কথা না, সেই ক্লাস সেভেন এইটে যখন পড়ি সেই সময় থেকেই প্রশ্ন করি। এখনো প্রশ্ন করি। এরপর যখন দেখি উত্তর নেই, তখন বড় বড় মুফতি, মাওলানাদের ব্যাখ্যা দেখি। সেখানেও তো একই জিনিস দেখি যা কোরআনে আছে, সহিহ হাদীসে আছে, তাফসিরে আছে, সিরাতে আছে। আপনারা যে তাদের কথা নিতে নিষেধ করেন – বড় বড় হুজুরেরা কি ধৈনঞ্চা? তারা মাদ্রাসায় পড়েনি? এমনি এমনিই মাওলানা, মুফতি হয়েছে? সৌদির গ্রান্ড মুফতিদের কাউন্সিল, মক্কায় কাবার সামনে জানাজা হওয়ার মতো সম্মানিত আলেম মাওলানা আবুল আলা মওদুদী, আয়াতুল্লাহ খোমেনি, দারুল উলুম দেওবন্দ, মুফতি আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, দেলাওয়ার সাঈদী, মুফতি জাকারিয়া, মুফতি ইব্রাহিম, পাকিস্তানের জামায়াতের প্রধান, মুফতি আব্বাসী, মুফতি তারেক মনোয়ার, মুফতি গুনবি – এদের ব্যাখ্যা নেয়া যাবে না, আর আপনারা মডারেট মুমিনরা যেই শ্বাশত, সুন্দর, কল্পনাবিলাসের ইসলাম দেখাবেন সেটাকেই প্রকৃত ইসলাম মেনে নিতে হবে? একজন মুফতি কখন হয়, জানেন? যখনই তাদের বক্তব্য নিয়ে আপনারা আপনাদের কল্পনা বিলাসের ইসলামকে ডিফেন্ড করতে পারেন না, তখনই তাদের খারিজ করে দেন, আবার যখনি প্রয়োজন কোনটা গ্রহন করেন।
ইসলাম প্রচার প্রসারের স্বার্থে তাকিয়াবাজি তথা মিথ্যা বলা, প্রতারনা করা, ছলনা করা জায়েজ – জানি। নবী মোহাম্মদ, এবং স্বয়ং আল্লাপাকও সেটা করেছেন। আপনারাও করেন, জানি। কিন্তু আপনারা কোরআনের তাফসির মানবেন না, সহিহ হাদীস মানবেন না – মানবেন শধু আপনার মনে ইসলাম সম্পর্কে যে কল্পনা সেটাকে। তাহলে আপনাদের সঙ্গে আলোচনা হবে কিভাবে? জেনে রাখুন, ইসলাম আপনার কল্পনার মতো না। আপনাদেরই বরং বাংলা অনুবাদসহ কোরআন, সহিহ হাদীস, সিরাত, তাফসির বেশি বেশি করে পড়া উচিৎ। বিবেক বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নিজের ভিতরে থাকলে তখন নিজেই প্রশ্ন করা শুরু করবেন। একসময় মনে হবে আপনার কল্পনার ইসলাম একটা ফাঁপা বেলুন, যেটা পিন দিয়ে ছিদ্র করে দিলেই শেষ।
ইসলামিস্টরা দাবী করে দুনিয়ার যতো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সব হয়েছে কোরআন গবেষণা করে, সবই কোরআনে ছিল। কিন্তু আবিষ্কার করেছে আবার অমুসলিমরা। এই লোকগুলোর ধারনা নাসাসহ যত বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে কোরআন গবেষণা করা হয়। এগুলো আবার প্রচার করে বড় বড় ওয়াজী হুজুরেরাই। কিন্তু ফ্যাক্ট হলো, কোন বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কোরআন গবেষণা তো হয়ই না, সেখানকার বিজ্ঞানীদের কোরআনের মতো একটা অপ্রয়োজনীয় বই নিয়ে ভাবারই সুযোগ হয় না, বেশিরভাগই জীবনে কখনো হাতে নিয়েও দেখেনি।
যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নেন, কোরআন, হাদীস সেই ১৪০০ বছর আগে কিছুটা প্রাসঙ্গিক ছিল, তবে এখন তা কোন বিচারেই, সভ্যতার কোন মানদন্ডেই তা বিবেচনায় নেয়ার মতো কিছুই না আজকের দিনে। কোরআন, হাদীস পড়া মানে স্রেফ মূল্যবান সময়ের অপচয় করা। উন্নত দেশের স্কুল, কলেজে সাধারন ছাএ-ছাত্রীরা এসব ধর্মগ্রন্থ নিয়ে ভাবেই না, অনেকে জানেই না কোন ধর্মের গ্রন্থের নাম কী। আমাদের পড়তে হয় কোরআন, হাদীস – কারন আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, আমাদের জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে যে অঞ্চলের বড় সংখ্যক মানুষ আবার মনে করে এগুলোই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় জ্ঞানের ভান্ডার। যে ভাষা ও অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এই বিশ্বাস, মতাদর্শ নিয়ে জীবন পার করে, সেগুলো না দেখে আমাদের উপায় থাকে না, কারন আমরা এর অসারতা দেখিয়ে দেই। আপনাদের অবান্তর, অযৌক্তিক, ফ্যালসিতে ভরা প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলেও পড়তে হয়।
কোরআন ও তার রচয়িতা নিয়ে প্রশ্ন করলে আবার বাংলাদেশে ইসলামের উগ্র অনুসারীরা কল্লা কেটে নিতে উদ্যত হয়। এমন একটি গ্রন্থে কী এমন আছে যে এতো লক্ষ লক্ষ উন্মাদ তৈরি করতে পারে বিশ্বজুড়ে? এসব জানার জন্য হলেও কোরআন, হাদীস পড়তে হয়। কিন্তু এই সময়টা স্রেফ অপচয়। এগুলো স্থবির জ্ঞান বা অপজ্ঞান। যে জ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না, যা সবসময় একই অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, যে জ্ঞানের কোন ভুল বের করলে সেটা সংশোধন করার সুযোগ থাকে না তা আদতে কোন জ্ঞানই না। জ্ঞান এমন একটা জিনিস যার প্রবাহ থাকতে হয়, একটা থেকে একাধিক নতুন জ্ঞান তৈরি হয়। নিউটনের সূত্রগুলোকে আপাতত নির্ভুল মনে হলেও কেউ যদি প্রমান করে দিতে পারে সেগুলো ঠিক নয় – তাহলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে কারো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু আপনি চাইলেও কোরআনের ভুলকে সংশোধন করতে পারবেন না, সেই সুযোগ ইসলামে নেই। তাদের ধারনাই হলো সেখানে কোন ভুল থাকা সম্ভব না।
ইসলাম ও কোরআনকে ঘোড়ার ডিম প্রমান করার জন্য তো সব পড়ারও দরকার নেই। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত গ্রন্থ, তার বাহক আবার সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, সবার জন্য সর্বকালের আদর্শ, তার জীবনে কোন অন্যায় নেই – এই দাবীর বিপরীতে মাত্র একটা ভুল দেখাতে পারলেই তো ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের বেলুন ফুঁটা হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে কোরআন, হাদীসে শত শত ভুল ভ্রান্ত্রি, অবৈজ্ঞানিক, গাঁজাখোরী, অমানবিক, মানুষের জন্য ক্ষতিকর, আজগুবি, কুসংস্কারাছন্ন, নৃশংস অনেক কিছু আছে। এই গ্রন্থ, এই ধর্ম, এর প্রবক্তা ঐশ্বরিক হয় কিভাবে? কোরআন, হাদীস না পড়ে স্রেফ বিবেক সমৃদ্ধ কমন সেন্স দিয়েই তো বোঝা যায় আধুনিক বিজ্ঞান, আধুনিক আইন, কল্যানকামী অর্থনীতি, মানবাধিকারের ধারনা, মানুষের মর্যাদার ধারনা ভাল নাকি কোরআন, হাদীস নামক আগডুম-বাগডুম ভাল। এই সিম্পল ইকুয়েশানের রেজাল্ট বের করতে তো রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না। সমস্যা হলো, ছোট থাকতেই মাথায় জোর করে গেঁথে দেয়া ইসলামের ফাঁপা বেলুন থেকে সহজে কেউ বের হতে পারে না।
Related Posts

Islam and the Qur’an must go through reform, otherwise Islam will be pushed aside
Historically, Islamic jurisprudence or classical fiqh developed within a specific social and political context, whichRead More

ইসলাম ও কোরআনকে রিফর্মের মধ্য দিয়ে যেতে হবে অথবা ইসলাম ছিটকে পড়বে
ঐতিহাসিকভাবে ইসলামি আইনশাস্ত্র বা ক্লাসিক্যাল ফিকহ একটি নির্দিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছিল, যাRead More

Reading the Qur’an, its translations, tafsir, sirah and hadith – no person with common sense can remain in Islam
Will you continue to remain a blind believer? Blind faith prevents a person from seeingRead More

Comments are Closed