
Donald Trump Buffalo
আলবিনো বাফেলোর নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ও বিশ্ব মিডিয়ার মাতামাতি
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বাফেলো নিয়ে বাংলাদেশের অনেক মুমিন মুসলমানদের মাতামাতি এর নাম নিয়ে। তারা খুশি হতো এটাও ছুরির নীচে দিতে পারলে, দুনিয়ায় প্রলয় ঘটে গেলেও তাদের পশু জবাই ও মাংস খাওযার উৎসবে ছেদ ফেলা যাবে না! আন্তর্জাতিক মিডিয়াও এই মহিষের প্রচারে এগিয়ে আছে এখন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মিডিয়া এই মহিষের নামের পাশাপাশি এর পরিবেশগত, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও প্রচার করছে। এটা একটা রেয়ার বাফেলো, যা কোন অবস্থাতেই মানুষের পেটে চালান হওয়া উচিৎ না; কিন্তু সেই সেন্স, পরিবেশগত ও বিজ্ঞানের জ্ঞান তো বাঙ্গু মুমিন মূর্খ ইসলামিস্টদের ছিল না। এটা এতোটাই বিরল আলবিনো মহিষ যা সাধারণত ১ কোটিতে একটি জন্মায়।
আলবিনো বাফেলো (Albino Buffalo) বা আলবিনো মহিষ হলো জিনগত মিউটেশন বা পরিবর্তনের কারণে জন্ম নেওয়া এক ধরনের অত্যন্ত বিরল মহিষ। সাধারণ মহিষের গায়ের রঙ কালো বা কালচে ধূসর হলেও, আলবিনো মহিষের শরীরে মেলানিন (যা ত্বক, চুল ও চোখের রঙ নির্ধারণ করে) তৈরি হয় না। ফলে এদের পুরো শরীর ধবধবে সাদা এবং চোখ ও নাক সাধারণত গোলাপি বা লালচে রঙের হয়ে থাকে।
উত্তর আমেরিকার বাইসন (যা সেখানে বাফেলো নামে পরিচিত) এবং এশিয়ার জলমহিষ – উভয় ক্ষেত্রেই এই আলবিনো রূপ দেখা যেতে পারে।
এটা কতটা বিরল বা এটি পাওয়ার সম্ভাবনা কেমন?
প্রকৃতিতে আলবিনো মহিষ পাওয়া যাওয়া অত্যন্ত ভাগ্যের ব্যাপার।
১ কোটিতে ১টি (১:১০,০০০,০০০): ন্যাশনাল বাইসন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) মহিষের জন্মের মধ্যে মাত্র ১টি খাঁটি আলবিনো মহিষ জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
লুকানো জিন (Recessive Trait): আলবিনো বৈশিষ্ট্যটি একটি প্রচ্ছন্ন জিনগত বৈশিষ্ট্য। এর মানে হলো, একটি বাচ্চার আলবিনো হওয়ার জন্য তার বাবা এবং মা-উভয় মহিষেরই শরীরে এই বিশেষ জিনটি থাকতে হবে।
টিকে থাকার লড়াই: বন্য পরিবেশে সাদা রঙের কারণে এরা খুব সহজেই শিকারী প্রাণীদের চোখে পড়ে যায়। এছাড়া মেলানিনের অভাবে এদের ত্বক সূর্যের আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয় এবং এদের দৃষ্টিশক্তিও সাধারণত দুর্বল থাকে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে এদের বেঁচে থাকার হার কম। দেখছেন না সরকার ইন্টারভেন না করলে এই মহিষ এতক্ষণে বাঙ্গু শিকারী প্রাণীদের পেটে চালান হয়ে যেতো।
সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব
আমেরিকার আদিবাসী (Native Americans) জনজাতিগুলোর কাছে সাদা বা আলবিনো বাফেলো (White Buffalo) কেবল একটি বিরল প্রাণী নয়, বরং এটি এই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে পবিত্র ও অলৌকিক জীবন্ত প্রতীকগুলোর একটি। বিশেষ করে লাকোটা, ডাকোটা, চেইয়েন ও সিউক্সের মতো আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে এর স্থান সবার ওপরে। তাদের প্রাচীন লোকগাথা ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘হোয়াইট বাফেলো কাফ ওম্যান’ (White Buffalo Calf Woman) নামের এক স্বর্গীয় দেবী তাদের কঠিন সংকটের সময়ে বেঁচে থাকার পথ দেখিয়েছিলেন, সংস্কৃতির পাঠ দিয়েছিলেন এবং পবিত্র পাইপ বা ধূমপানের নল উপহার দিয়েছিলেন। বিদায় নেওয়ার সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, পৃথিবীতে যখন আবার শান্তি ও ভারসাম্যের প্রয়োজন হবে, তখন তিনি সাদা মহিষের রূপ ধরে ফিরে আসবেন। এই কারণে আদিবাসীদের কাছে একটি সাদা মহিষের জন্ম হওয়া মানেই হলো ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ, যা চরম সংকট কেটে গিয়ে পৃথিবীতে নতুন আশা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে আসে। এটি তাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির সবকিছুর মধ্যে একটি সুগভীর ঐশ্বরিক সংযোগ রয়েছে।
ঠিক একইভাবে, ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও—বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়—সাদা মহিষ বা জলমহিষকে অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এবং ফিলিপাইনের মতো কৃষিপ্রধান দেশগুলোতে সাদা মহিষকে প্রকৃতির এক অলৌকিক সৃষ্টি এবং চরম শুভ লক্ষণ (Good Omen) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গ্রামীণ লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, শ্বেত মহিষের উপস্থিতি যেকোনো অঞ্চলের খরা, মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দূর করতে সক্ষম। এদের আগমন ফসলের বাম্পার ফলন এবং রাজপরিবার বা দেশের জন্য অফুরন্ত সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে মনে করা হয়। রূপক ও আধ্যাত্মিক, উভয় অর্থেই পূর্ব এবং পশ্চিম—দুই ভিন্ন গোলার্ধের প্রাচীন সংস্কৃতিতেই এই ধবধবে সাদা মহিষটি মানবজাতির কাছে শান্তি, পবিত্রতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে ঐশ্বরিক মেলবন্ধনের এক অনন্য ও চিরন্তন প্রতীক হয়ে উঠেছে।
Related Posts

Even in this era, religious fanaticism stands as a barrier to the spread of science!
For being ahead of his time, Socrates had to drink the cup of poison 2,400Read More

In the light of open‑source, a new horizon: How WordPress is showing Bangladesh’s young generation the path to self‑reliance
If you walk along the roads of villages and small towns in Bangladesh, you willRead More

Comments are Closed