
Conversation about Hell
জাহান্নামের ধারণা কি সত্যিকারের মানবিক নৈতিকতার ভিত্তির সঙ্গে যায়?
ছাত্রঃ হুজুর, জাহান্নামীদের তো পুলসিরাত পার হতে হবে?
হুজুরঃ পুলসিরাত হলো জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে একটি সেতু — চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম, তলোয়ারের চেয়েও ধারালো। এর ওপর দিয়ে হাঁটতে হবে।
ছাত্রঃ হুজুর, চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম একটি সেতুর ওপর দিয়ে মানুষ হাঁটবে কীভাবে? পদার্থবিজ্ঞান অনুযায়ী এতে কোনো মানুষের ভার বহন করা সম্ভব নয়।
হুজুরঃ এটা আল্লাহর কুদরত, পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে মাপা যাবে না।
ছাত্রঃ আচ্ছা, ধরে নিলাম কুদরতে সম্ভব। কিন্তু হুজুর, এই সেতু পার হওয়ার উদ্দেশ্যটা কী? আল্লাহ যদি আগে থেকেই জানেন কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে — তাহলে এই বিপজ্জনক সেতু পার করানোর নাটকটা কেন?
হুজুরঃ এটা পরীক্ষা।
ছাত্রঃ দুনিয়া-আখিরাত সখানে পরীক্ষা? কিন্তু সর্বজ্ঞ আল্লাহর আবার পরীক্ষা নেওয়ার দরকার কী? তিনি তো আগে থেকেই ফলাফল জানেন।
হুজুরঃ এটা আল্লাহ ভালো জানে।
ছাত্রঃ হুজুর, এই উত্তরটাও আমি আগে থেকেই জানতাম। যাই হোক, এবার জাহান্নামের প্রসঙ্গে আসি। জাহান্নামে কত স্তর আছে?
হুজুরঃ সাতটি স্তর আছে।
ছাত্রঃ আর জান্নাতে?
হুজুরঃ একশোটি স্তর।
ছাত্রঃ পুরস্কারের জন্য একশো স্তর, শাস্তির জন্য মাত্র সাত — আল্লাহ কি তাহলে শাস্তির চেয়ে পুরস্কারে বেশি মনোযোগী?
হুজুরঃ রহমত তাঁর ক্রোধের চেয়ে বেশি।
ছাত্রঃ তাহলে যার রহমত এত বেশি, তিনি কেন আদৌ জাহান্নাম বানালেন?
হুজুরঃ পাপীদের শাস্তির জন্য।
ছাত্রঃ আচ্ছা হুজুর, জাহান্নামের আগুন কত গুণ বেশি গরম?
হুজুরঃ দুনিয়ার আগুনের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি গরম।
ছাত্রঃ হুজুর, দুনিয়ার আগুনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৬০০ থেকে ১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটার সত্তর গুণ হলে সর্বোচ্চ ৯৮,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাত্র ৫,৫০০ ডিগ্রি। তাহলে জাহান্নাম সূর্যের চেয়েও বহু গুণ গরম?
হুজুরঃ আল্লাহর কুদরতে সম্ভব।
ছাত্রঃ কুদরত দিয়ে সব সম্ভব হলে সংখ্যাটা দেওয়ার দরকার ছিল কী? সংখ্যা দেওয়া মানেই একটা পরিমাপযোগ্য বাস্তবতার কথা বলা। আর সেই বাস্তবতা যখন পদার্থবিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তখন “কুদরত” দিয়ে পার পাওয়া যায় না।
হুজুরঃ এগুলো গায়েবের বিষয়, মানুষের জ্ঞানের সীমার বাইরে।
ছাত্রঃ আচ্ছা হুজুর, এই যে এত বিশাল জাহান্নাম — এটা আছে কোথায়? মহাকাশে? মাটির নিচে?
হুজুরঃ এটা আল্লাহ ভালো জানেন।
ছাত্রঃ হুজুর, একটা হাদিস পড়েছিলাম — গরমের সময় নাকি জাহান্নাম তার নিশ্বাস ছেড়ে দেয়, সেজন্য পৃথিবীতে গরম পড়ে। আর শীতকালে জাহান্নাম নিশ্বাস টেনে নেয়, তাই শীত লাগে। এই হাদিসটি কি সঠিক?
হুজুরঃ হ্যাঁ, বুখারি ও মুসলিম শরিফে এই হাদিস আছে।
ছাত্রঃ হুজুর, তাহলে একটু ব্যাখ্যা করুন — এখন যখন বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের তীব্র গরম, তখন অস্ট্রেলিয়ায় শীতকাল। আবার বাংলাদেশে যখন শীত, অস্ট্রেলিয়ায় তখন গ্রীষ্ম। একই সময়ে পৃথিবীর একদিকে গরম আরেকদিকে শীত — জাহান্নাম কি একসাথে নিশ্বাস ছাড়ে এবং টানে?
হুজুরঃ এটা…
ছাত্রঃ হুজুর, শুধু এটুকুই নয়। উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে সারা বছরই প্রচণ্ড শীত। জাহান্নাম কি তাহলে সেখানে সারা বছর নিশ্বাস টেনেই রাখে? আর বিষুবরেখার কাছের দেশগুলোতে সারা বছর গরম — জাহান্নাম কি সেখানে সারা বছর নিশ্বাস ছেড়েই রাখে? একটাই জাহান্নামের পক্ষে এত বৈচিত্র্যময় নিশ্বাসের ব্যবস্থাপনা কীভাবে সম্ভব?
হুজুরঃ এটা রূপক অর্থে বলা হয়েছে।
ছাত্রঃ হুজুর, হাদিসটি কিন্তু সরাসরি বলেছে — গরমের কারণ জাহান্নামের নিশ্বাস। এটা রূপক হলে আমরা কীভাবে বুঝবো কোনটা রূপক আর কোনটা আক্ষরিক? সুবিধামতো রূপক, সুবিধামতো আক্ষরিক — এই নীতিটা কোথা থেকে আসে? তাছাড়া পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের কারণ আমরা এখন ভালো করেই জানি — পৃথিবীর অক্ষ ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকায় এবং সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণের কারণে ঋতু পরিবর্তন হয়। এখানে জাহান্নামের নিশ্বাসের কোনো ভূমিকা নেই।
হুজুরঃ বিজ্ঞান সব ব্যাখ্যা করতে পারে না।
ছাত্রঃ ঋতু পরিবর্তনের ব্যাখ্যা বিজ্ঞান শতভাগ দিতে পারে হুজুর, এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। যাই হোক, এবার আসি আল্লাহর পা জাহান্নামে ঢোকানোর হাদিসে। এটা কি সত্য?
হুজুরঃ হ্যাঁ, একটি হাদিসে আছে — জাহান্নাম পূর্ণ হচ্ছে না দেখে আল্লাহ তাতে পা রাখবেন, তখন জাহান্নাম বলবে “বস, বস” — অর্থাৎ থামো।
ছাত্রঃ হুজুর, এই বর্ণনায় আল্লাহর একটি শারীরিক পা আছে — তিনি সেই পা জাহান্নামে ঢোকান, জাহান্নাম কথা বলে। একদিকে বলা হয় আল্লাহ নিরাকার, অন্যদিকে তাঁর পা আছে — এই দুটো কথা কি একসাথে সত্য হতে পারে?
হুজুরঃ এটা রূপক অর্থে বলা হয়েছে।
ছাত্রঃ আবার রূপক! হুজুর, জাহান্নামের নিশ্বাসও রূপক, আল্লাহর পাও রূপক — তাহলে আক্ষরিক অর্থে কিছু আছে কি আদৌ?
হুজুরঃ মূল বিষয়গুলো আক্ষরিক।
ছাত্রঃ কোনটা মূল আর কোনটা নয় — এটা কে ঠিক করবে? যিনি ব্যাখ্যা করছেন তিনি নিজেই? এটা তো তখন যার যার সুবিধামতো ধর্মের ব্যাখ্যা হয়ে যায়। এবার আসি বিচারব্যবস্থায়। একজন অমুসলিম — ধরুন আইজ্যাক নিউটন, যিনি মাধ্যাকর্ষণ আবিষ্কার করেছেন, আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়েছেন, কোটি কোটি মানুষের জীবন পরিবর্তন করেছেন — তিনি কি জাহান্নামে যাবেন?
হুজুরঃ ইসলাম না মানলে জাহান্নাম।
ছাত্রঃ আর একজন মুসলিম যদি খুন করে, ধর্ষণ করে — সে কি জান্নাতে যাবে?
হুজুরঃ তওবা করলে আল্লাহ মাফ করেন। আর মুসলিম হলে একদিন না একদিন জান্নাতে যাবেই।
ছাত্রঃ অর্থাৎ একজন ধর্ষক মুসলিম শেষ পর্যন্ত জান্নাতে যাবে, আর নিউটন চিরকাল জাহান্নামে জ্বলবেন — শুধুমাত্র কারণ তিনি ভিন্ন ধর্মে জন্মেছিলেন?
হুজুরঃ ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম।
ছাত্রঃ হুজুর, এই বিচারব্যবস্থাকে কি ন্যায়বিচার বলে? পৃথিবীর যেকোনো আদালতে এই রায় দিলে বিচারককে পাগল বলা হতো।
হুজুরঃ আল্লাহর বিচার মানুষের বিচারের মতো নয়।
ছাত্রঃ সেটা বুঝতেই পারছি হুজুর। এবার বলুন জাহান্নামের খাবারের বিষয়ে। সেখানে কী খেতে দেওয়া হবে?
হুজুরঃ যাক্কুম নামের একটি কাঁটাযুক্ত গাছের ফল খেতে দেওয়া হবে, যা পেটে গিয়ে ফুটন্ত পানির মতো টগবগ করবে। পুঁজ আর রক্তও পান করতে হবে।
ছাত্রঃ হুজুর, জাহান্নামে যদি সবকিছু পুড়েই যায়, তাহলে গাছ টিকে থাকে কীভাবে? আর যে মানুষ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, সে পুঁজ-রক্ত গিলবে কোন মুখে?
হুজুরঃ আল্লাহ বারবার তাদের চামড়া নতুন করে দেবেন, যাতে শাস্তি অনুভব করতে পারে।
ছাত্রঃ অর্থাৎ আল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে বারবার পুনর্জীবিত করবেন শুধু আরও কষ্ট দেওয়ার জন্য? এই কাজটি একজন পরম দয়ালু সত্তার, নাকি একজন নিষ্ঠুর জল্লাদের?
হুজুরঃ এটা পাপীদের প্রাপ্য।
ছাত্রঃ হুজুর, জাহান্নামিদের পানীয় হিসেবে আরও কী দেওয়ার কথা বলা আছে?
হুজুরঃ ফুটন্ত পানি পান করতে দেওয়া হবে যা নাড়িভুঁড়ি কেটে বের হয়ে যাবে।
ছাত্রঃ হুজুর, একটু ভাবুন — যে শরীর আগুনে পুড়ছে, তাকে আবার ফুটন্ত পানি পান করানো হচ্ছে যা নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে ফেলছে, তারপর আবার চামড়া গজাচ্ছে, আবার পোড়ানো হচ্ছে — এই বর্ণনাটি একজন ন্যায়বান ঈশ্বরের পরিকল্পনা, নাকি কোনো প্রতিশোধপরায়ণ মানুষের কল্পনা?
হুজুরঃ আল্লাহ ন্যায়বিচারক।
ছাত্রঃ হুজুর, মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী নিষ্ঠুর ও অমানবিক শাস্তি নিষিদ্ধ। একটা অপরাধের জন্য চিরন্তন শাস্তি — এটা কি আনুপাতিক বিচার? পৃথিবীতে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধীকেও আমরা চিরকাল ধরে শাস্তি দিই না।
হুজুরঃ আল্লাহ মানবাধিকার সনদ মানতে বাধ্য নন।
ছাত্রঃ না, বাধ্য নন — কিন্তু পরম ন্যায়বান হলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মানতেন। যাই হোক, হুজুর — জাহান্নামে বেশিরভাগ নাকি নারী থাকবে। এই হাদিসটি কি ঠিক?
হুজুরঃ হ্যাঁ, হাদিসে এসেছে — নবীজি বলেছেন জাহান্নামবাসীদের অধিকাংশই নারী।
ছাত্রঃ কারণ কী?
হুজুরঃ তারা স্বামীর অকৃতজ্ঞ হয় এবং বেশি অভিযোগ করে।
ছাত্রঃ হুজুর, স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞ না থাকলে চিরন্তন আগুনে জ্বলতে হবে — এটা কি একটু বেশি বাড়াবাড়ি নয়? একজন খুনি মুসলিম পুরুষ তওবা করে জান্নাতে যাবে, আর একজন নারী স্বামীর সাথে একটু তর্ক করলে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে?
হুজুরঃ এভাবে সরলীকরণ করা ঠিক না।
ছাত্রঃ হুজুর, সরলীকরণ আমি করিনি — হাদিসই এটা বলেছে। তাছাড়া হুজুর, জাহান্নামে পোশাক পরা কিন্তু নগ্ন নারীর কথাও কি হাদিসে নেই?
হুজুরঃ হ্যাঁ, এমন একটি হাদিস আছে — এমন নারীরা জাহান্নামে যাবে যারা পোশাক পরেও নগ্ন থাকে, অর্থাৎ শরীর প্রদর্শন করে।
ছাত্রঃ হুজুর, “পোশাক পরেও নগ্ন” — এই সংজ্ঞাটা কে ঠিক করবে? কতটুকু ঢাকলে নগ্ন নয়? এটা কি সময়ের সাথে বদলায় না? একশো বছর আগে যা শালীন ছিল, এখন তা হয়তো নয়, আবার এখন যা শালীন তা একশো বছর আগে অশালীন ছিল। চিরন্তন শাস্তির মানদণ্ড কি তাহলে পরিবর্তনশীল?
হুজুরঃ ইসলামী পোশাকবিধি স্থায়ী।
ছাত্রঃ কিন্তু তার ব্যাখ্যা তো আলেম থেকে আলেমে বদলায়। শেষ প্রশ্ন হুজুর — উত্তর আমাজনের একজন উপজাতি মানুষ যিনি কোনোদিন ইসলামের নামই শোনেননি, তিনিও কি জাহান্নামে যাবেন?
হুজুরঃ আল্লাহ ভালো জানে।
ছাত্রঃ অবশ্যই। ধন্যবাদ হুজুর।
জাহান্নামের ধারণা কি সত্যিকারের মানবিক নৈতিকতার ভিত্তির সঙ্গে যায়?
ইসলামে বর্ণিত জাহান্নামের চিত্রটি মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এই ধারণাগুলো মূলত একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভয়-সংস্কৃতির ফসল। পুলসিরাতের বর্ণনা, জাহান্নামের সাত স্তর, আগুনের সত্তর গুণ তীব্রতা, যাক্কুম গাছ, পুঁজ-রক্তের পানীয়, ফুটন্ত পানিতে নাড়িভুঁড়ি ছেঁড়া — এই সবকিছু মিলিয়ে যে চিত্র তৈরি হয় তা একটি ভয়-প্রদর্শনের কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কোনো সর্বজ্ঞ সত্তার পরিকল্পনার সাথে নয়। সবচেয়ে হাস্যকর বর্ণনাটি হলো জাহান্নামের নিশ্বাস ছাড়া ও নেওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীতে গরম ও শীত হওয়ার কথা। পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের কারণ আজ বিজ্ঞান সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে — পৃথিবীর অক্ষ ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকা এবং সূর্যের চারপাশে পরিক্রমণই এর কারণ। কিন্তু তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো এই বর্ণনাটি নিজেই অভ্যন্তরীণভাবে অসংগত। একই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ায় যখন শীত, বাংলাদেশে তখন গরম। মেরু অঞ্চলে সারা বছর শীত, বিষুবরেখার কাছে সারা বছর গরম। একটিমাত্র জাহান্নাম কি একইসাথে নিশ্বাস ছাড়ে এবং টানে? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর ধর্মতত্ত্বে নেই, কারণ যিনি এই বর্ণনা দিয়েছিলেন তিনি জানতেন না যে পৃথিবী গোলাকার এবং একই সময়ে দুই গোলার্ধে বিপরীত ঋতু বিরাজ করে।
বিচারব্যবস্থার দিক থেকে এই ধারণাটি আরও বেশি সমস্যাজনক। একজন মানবতাবাদী বিজ্ঞানী, একজন মানবসেবী ডাক্তার, একজন ন্যায়পরায়ণ দার্শনিক — যিনি ইসলাম মানেননি — তিনি চিরকাল জ্বলবেন; কিন্তু একজন খুনি বা ধর্ষক মুসলিম তওবা করে জান্নাতে যাবেন। এই বিচারব্যবস্থায় মানুষের কাজের কোনো মূল্য নেই, আছে শুধু দলীয় পরিচয়ের মূল্য। নারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও প্রকট — জাহান্নামে অধিকাংশ নারীর উপস্থিতির যে কারণ দেওয়া হয়েছে তা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গির প্রত্যক্ষ প্রতিফলন। স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞ না থাকা বা পোশাকে “নগ্নতা” — এই কারণে চিরন্তন শাস্তি একটি সভ্য বিচারব্যবস্থার কোনো মানদণ্ডেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো — জাহান্নামের ভয় না থাকলে কি মানুষ ভালো থাকতে পারবে না? উত্তর হলো, অবশ্যই পারবে — এবং সেটাই প্রকৃত মানবিকতা। একজন মানুষ যদি শুধু শাস্তির ভয়ে অপরাধ থেকে বিরত থাকে, তাহলে সে আসলে নৈতিক নয়, সে কেবল ভীরু। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস ছাড়াই সৎ, মানবিক এবং নৈতিক জীবন যাপন করছেন। তাঁরা অপরাধ করেন না কারণ অপরাধ অন্য মানুষকে কষ্ট দেয়, সমাজকে ভাঙে — কোনো অদৃশ্য শাস্তির ভয়ে নয়।
সত্যিকারের নৈতিকতা আসে সহানুভূতি থেকে, বিবেক থেকে, অন্যের কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা থেকে। মানুষ সামাজিক প্রাণী — সমাজে টিকে থাকতে, মানবিক সম্পর্ক গড়তে, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে হলে সততা ও নৈতিকতার বিকল্প নেই। এই প্রয়োজনটি সম্পূর্ণ এই পৃথিবীর, সম্পূর্ণ মানবিক। অপরাধ থেকে দূরে থাকুন কারণ অপরাধ অন্য মানুষকে কষ্ট দেয়। মানবিক থাকুন কারণ মানবিকতাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়। জাহান্নামের আগুনের কাল্পনিক ভয় নয় — বরং বিবেক, সহমর্মিতা এবং যুক্তিবোধই হোক আপনার নৈতিকতার একমাত্র ভিত্তি।
প্রথম পর্বঃ জান্নাত নিয়ে কথোপকথন – এই লিংকে পাবেন
Related Posts

পাথরের ভেতর বুদ্ধ জেগে ছিলেন দেড় হাজার বছর, ইসলাম তাকে মেরে ফেলে এক সপ্তাহে
এক হিন্দুকুশের কোলে, বামিয়ান উপত্যকার বুকে, একটা নদী বয়ে যেত নিঃশব্দে। তার দুই পাশে বিস্তীর্ণRead More

Religious education does not bring any sustainable change in a person’s moral character
The LAUSD is the second-largest school district in the United States. In America, education fromRead More

Comments are Closed