
Computer Processing Techniques
কম্পিউটার কিভাবে কাজ করেঃ ছবি, পিক্সেল, বাইনারি ও প্রসেসিং – এর বিজ্ঞান
নীচের ছবিগুলো খেয়াল করুন। প্রথম ছবিটি একটি পেইন্টিং-এর অংশ। দ্বিতীয় ছবিটি সেই পেইন্টিংকে এআই বাস্তবসম্মত নারীর ছবিতে রূপান্তর করেছে, যার সাইজ ১.৮১ মেগাবাইট। তৃতীয় ছবিতে এক ইমেজ এডিটরে দেখা যাচ্ছে – এই দ্বিতীয় ছবিটির মোট রেজোলিউশন ৯২৮ × ১১৪৬। অর্থাৎ ছবিটিতে মোটঃ ৯২৮ × ১১৪৬ = ১,০৬৩,৪৮৮ টি পিক্সেল আছে। এই পিক্সলের সংখ্যা আবার ছবির কোয়ালিটির উপরে নির্ভর করে। যতো বেশী পিক্সেল ততো বেশী ভাল ছবি। এই ছবিতে প্রতি ইঞ্চি লাইনে ৭২ পিক্সেল আছে, এটা আরো বেশী হতে পারে, যেমন ৩০০ বা আরো বেশী। যতো বেশী হবে ততো নিঁখুত হবে, অনেক বড় করলে বা জুম করলে পিক্সেলগুলো আলাদা হয়ে ছবিকে ফাঁটা দেখাবে না। সর্বশেষ দুটি ছবি এমনিই দেয়া, এর কোন কারন নেই। পিক্সেল একটি আলপিনের আগার চেয়ে আরো ক্ষুদ্র একটা জায়গা।
খেয়াল করেছেন, এই নতুন জেনারেটেড দ্বিতীয় ছবিতে আছে দশ লক্ষেরও বেশি পিক্সেল।
প্রতি পিক্সেলে থাকে তিনটি রঙের মান – R (Red), G (Green), B (Blue)। প্রতিটি মান ০ থেকে ২৫৫ এর মধ্যে একটি সংখ্যা। যেমন, ধরেন –
- চুলের কোনো গাঢ় অংশের পিক্সেল হতে পারেঃ 0, 0, 0 (সম্পূর্ণ কালো)
- ব্লাউজের সাদা অংশের কোনো পিক্সেল হতে পারেঃ 255, 255, 255 (সম্পূর্ণ সাদা)
- এমনিভাবে অন্য কোন অংশের পিক্সেল হতে পারেঃ 145, 31, 212 যা ভিন্ন একটা রঙ
এই সংখ্যাগুলোই স্ক্রিনে রঙ হিসেবে দেখা যায়, মানে প্রসেসর প্রসেস করে মনিটরে এই সংখ্যা পাঠায়, মনিটর সেগুলোকে রঙ হিসাবে দেখায়। আপনি মাউস মুভ করা মানে প্রতিনয়ত কার্সর পজিশনের হাজার খানিক পিক্সেল প্রতিনিয়ত মান পরিবর্তন করছে।



🔢 সংখ্যা থেকে বাইনারি: কম্পিউটারের ভাষা
কম্পিউটার সরাসরি ০-২৫৫ বা A, B, C, D, 2, 3 বা অন্য কিছুই বোঝে না। সে বোঝে শুধু 0 এবং 1 – অর্থাৎ বাইনারি।
উদাহরণঃ
- ২ এর বাইনারি মানঃ 00000010
- ২৫৫ এর বাইনারি মানঃ 11111111
কারণ ২৫৫ হলো ৮-বিটের সর্বোচ্চ মান।
কম্পিউটার এই ০ ও ১ কে বৈদ্যুতিক সংকেত হিসেবে পড়ে –
- চার্জ থাকলে = ১
- চার্জ না থাকলে = ০
এটাই কম্পিউটারের সবচেয়ে মৌলিক ভাষা। ধরেন একটা বৈদুতিক বাল্ব, আপনি সুইচ অন করলে বাল্বে বৈদ্যুতিক সংকেত বা চার্জ পৌঁছাবে, সেটা ১ আর অফ করলে চার্জ থাকবে না, বাতি নিভে যাবে, সেটা ০। এভাবে প্রতি সেকেন্ডে কম্পিউটার কোটি কোটি বার এই ধরনের চার্জ প্রদান ও ছেড়ে দেয়ার কাজের পূণরাবৃত্তি করে। যার ফলে আমরা অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করি।
প্রথম প্যারায় দেখেছেন, এআই জেনারেটেড দ্বিতীয় ছবির সাইজ ১.৮১ মেগাবাইট। আমরা জানি,
কম্পিউটার স্টোরেজে এককগুলো হয় বাইনারি ভিত্তিতে (1024):
- 8 (আট) বিট = 1 বাইট
- 1024 বাইট = 1 কিলোবাইট (KB)
- 1024 কিলোবাইট = 1 মেগাবাইট (MB)
- 1024 মেগাবাইট = 1 গিগাবাইট (GB)
- 1024 গিগাবাইট = 1 টেরাবাইট (TB)
সেই হিসাবে ইমেজটি ১.৮১ MB ≈ ১,৮৯৭,৯২৪ বাইট
একটি সাধারণ RGB পিক্সেল = ২৪ বিট = ৩ বাইট
সেই হিসাবে দ্বিতীয় ছবির ১,৮৯৭,৯২৪ বাইটের একদম প্রথম ২৫৬ বাইটের বাইনারী বা কম্পিউটারের ভাষা এমন –
11111111 11011000 11111111 11100000 00000000 00010000 01001010 01000110
00000000 00000001 00000001 00000001 00000000 00000000 11111111 11100001
00000000 00010000 01001010 01000110 01000101 01011000 01001001 01000110
00000000 00000001 00000001 00000001 00000000 00000000 11111111 11100010
00000000 00010000 01001010 01000110 01000101 01011000 01001001 01000110
00000000 00000001 00000001 00000001 00000000 00000000 11111111 11100011
11110000 11000000 00000000 00000000 00000000 00000000 00000000 00000000
11111111 11110100 00000000 00010000 01001010 01000110 01000101 01011000
01001001 01000110 00000000 00000001 00000001 00000001 00000000 00000000
11111111 11110101 11110000 11000000 00000000 00000000 00000000 00000000
00000000 00000000 11111111 11110110 00000000 00010000 01001010 01000110
01000101 01011000 01001001 01000110 00000000 00000001 00000001 00000001
00000000 00000000 11111111 11110111 11110000 11000000 00000000 00000000
00000000 00000000 00000000 00000000 11111111 11111000 00000000 00010000
01001010 01000110 01000101 01011000 01001001 01000110 00000000 00000001
00000001 00000001 00000000 00000000 11111111 11111001 11110000 11000000
00000000 00000000 00000000 00000000 00000000 00000000 11111111 11111010
00000000 00010000 01001010 01000110 01000101 01011000 01001001 01000110
00000000 00000001 00000001 00000001 00000000 00000000 11111111 11111011
11110000 11000000 00000000 00000000 00000000 00000000 00000000 00000000
11111111 11111100 00000000 00010000 01001010 01000110 01000101 01011000
01001001 01000110 00000000 00000001 00000001 00000001 00000000 00000000
11111111 11111101 11110000 11000000 00000000 00000000 00000000 00000000
00000000 00000000 11111111 11111110 00000000 00010000 01001010 01000110
01000101 01011000 01001001 01000110 00000000 00000001 00000001 00000001
00000000 00000000 11111111 11111111
যদি আপনি ইমেজটি সেভ করেন তবে এই স্পেস হার্ড ডিস্কে যোগ হবে, আর সেভ না করলে সেটা র্যামে যোগ হবে।
🧠 কম্পিউটারকে “সরল যন্ত্র” বলা হয় কেন?
কম্পিউটার আসলে খুবই সরল – সে শুধু দুইটি অবস্থা বোঝে: অন বা অফ, ১ বা ০।
কিন্তু এই সরলতার ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে অবিশ্বাস্য জটিলতা। দুনিয়ার যতো জটিলতার সমাধান যা কম্পিউটার প্রযুক্তি বা মোবাইল করে তা এই দুই সংখ্যার উপর ভর করে তৈরি হয়।
একটি ছবি প্রসেস করতে কম্পিউটারকে করতে হয় –
- লক্ষ লক্ষ পিক্সেল পড়া
- প্রতিটি পিক্সেলের তিনটি রঙের মান বিশ্লেষণ
- প্রতিটি মানকে বাইনারিতে রূপান্তর
- তারপর সেই ডেটা দিয়ে গণনা, পরিবর্তন, ফিল্টার, রেন্ডারিং ইত্যাদি
এই সব কাজ ঘটে ন্যানোসেকেন্ড – এর মধ্যে।
🤖 এআই যখন একটি ছবি রূপান্তর করে
এখানে একটি পেইন্টিংকে এআই বাস্তবসম্মত নারীর ছবিতে রূপান্তর করেছে – এমন একটি কর্ম করতে সিপিইউ বা জিপিইউকে কোটি কোটি গণনা করতে হয়।
এআই মডেলকে যা করতে হয় –
- ছবির প্রতিটি পিক্সেল বিশ্লেষণ
- রঙ, টেক্সচার, শেড, আকার শনাক্ত
- মানুষের মুখের গঠন, আলো, ছায়া, ত্বকের টোন অনুমান
- তারপর নতুন একটি বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি
এই পুরো প্রক্রিয়ায় ঘটে –
- ম্যাট্রিক্স মাল্টিপ্লিকেশন
- কনভলিউশন অপারেশন
- নিউরাল নেটওয়ার্কের লেয়ার-টু-লেয়ার গণনা
- ব্যাকপ্রোপাগেশন ও ওজন (weights) প্রয়োগ
এগুলো সবই ০ ও ১ এর ওপর ভিত্তি করে।
আমরা দেখি – “এক ক্লিকেই ছবি তৈরি!”
কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে ঘটে –
- কোটি কোটি গণনা
- হাজার হাজার প্যারামিটার আপডেট
- গণনার পর গণনা
এটাই কম্পিউটারের গতি ও শক্তি।
⚙️ কম্পিউটার কীভাবে কাজ করেঃ ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ
1️⃣ ইনপুট
তুমি ছবি দাও, কমান্ড দাও, বা কোনো ফাইল খোলো – এটাই ইনপুট।
2️⃣ প্রসেসিং
সিপিইউ বা জিপিইউ ইনপুটকে ভেঙে ফেলে ছোট ছোট বাইনারি অংশে।
তারপর গণনা শুরু হয়।
3️⃣ স্টোরেজ
ডেটা RAM বা স্টোরেজে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে রাখা হয়।
4️⃣ আউটপুট
শেষে স্ক্রিনে দেখা যায় –
- ছবি
- ভিডিও
- টেক্সট
- বা অন্য কোনো ফলাফল
এই পুরো চক্রই চলে প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বার। এতো দ্রুত সব কিছু ঘটে যায় যে আমরা ভাবি এ তো মুহূর্ত্তেই ঘটছে!


🧩 কেন কম্পিউটার এত দ্রুত?
কারণ –
- সিপিইউতে থাকে বিলিয়ন ট্রানজিস্টর
- প্রতিটি ট্রানজিস্টর ০ বা ১ নির্দেশ করে
- এগুলো একসাথে কাজ করে
- প্রতি সেকেন্ডে বিলিয়ন অপারেশন করতে পারে
মানুষ এক সেকেন্ডে ২-৩টি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কম্পিউটার একই সময়ে বিলিয়ন বা ১০০ কোটি+ সিদ্ধান্ত নেয়।
🖼️ একটি ছবির উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক
দ্বিতীয় ছবিটিঃ
- মোট পিক্সেল: 1,063,488
- প্রতিটি পিক্সেলে ৩টি রঙের মান
- প্রতিটি মান ৮-বিট (০–২৫৫)
অর্থাৎ পুরো ছবিটিঃ
২৫ মিলিয়নেরও বেশি বিট।
এগুলোই কম্পিউটার পড়ে, বিশ্লেষণ করে, পরিবর্তন করে।
কম্পিউটার দেখতে সরল – ০ ও ১
কিন্তু এই সরলতার ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে –
- ছবি প্রসেসিং
- ভিডিও রেন্ডারিং
- এআই
- ইন্টারনেট
- গেমিং
- মহাকাশ গবেষণা
- মেডিকেল ইমেজিং
- ভাষা অনুবাদ
- রোবোটিক্স
একটি ছবিকে এআই দিয়ে রূপান্তর করা আমাদের কাছে “এক ক্লিক” – কিন্তু কম্পিউটারের কাছে এটি কোটি কোটি গণনার ফল। কম্পিউটার তাই একই সাথে সরল এবং অসাধারণ জটিল।
Related Posts

Even in this era, religious fanaticism stands as a barrier to the spread of science!
For being ahead of his time, Socrates had to drink the cup of poison 2,400Read More

In the light of open‑source, a new horizon: How WordPress is showing Bangladesh’s young generation the path to self‑reliance
If you walk along the roads of villages and small towns in Bangladesh, you willRead More

Comments are Closed