
Bangabandhu and Dhanmondi 32
জন্মদিন, বঙ্গবন্ধু, ৩২ নাম্বারের বাড়ি ও তার নির্মানের ইতিহাস
আজ ১৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। আজ আমরা মহা আড়ম্বরে এ দিনটি পালন করছি। স্কুল-কলেজে ফিতা কেটে, কেক কেটে, ফুল দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা কয়জনকে শেখাতে পারছি এই মহান মানুষটির ১৯৭১ পূর্ব জীবনের ত্যাগের কথা? কয়জন শিশুকে জানিয়েছি যে বঙ্গবন্ধুর জন্মই হয়েছিল মানুষকে ভালোবাসার জন্য? কয়জন রাজনীতিবিদ তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশপ্রেমের দীক্ষা নিতে পেরেছে? কয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তার মতো ছুটিহীন পরিশ্রমী হতে পেরেছে? যাইহোক, সূর্য আকাশে উঠবে, সূর্যের আলোয় আলোকিত না হতে পারলে তাতে সূর্যের দায় নেই কোনো।
আজকের দিনে ঢাকা শহরে আলীশান বাড়ি নেই, এমন পাতি নেতার নামও গুনে বলা যাবে হাতে। অথচ স্বাধীন দেশের প্রথম বড় নেতা, বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় তার বাড়ির ঋণ শোধ করে যেতে পারেননি। তার ছিল না কোনো বিত্ত-বৈভব। ছিল এক ঝড়-ঝঞ্ঝাপূর্ণ সংগ্রামী জীবন, জেল-গ্রেফতার সেখানে ছিল নিত্যসঙ্গী। তার গল্প শুনি, কিভাবে তিনি ঢাকা শহরে একটি বাড়ির মালিক হয়েছিলেন—যার যাই হোক, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি একেবারে সাদামাটা ছিল; এ নিয়ে মনে হয় তার নিন্দুকেরাও কোনো প্রশ্ন করে না।
বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নিম্ন-মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানের জন্য ধানমন্ডিতে একটি বাড়ি করা আসলেই অনেক কঠিন ছিল। আমরা যারা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান তারা এটা ভালো জানি। বঙ্গবন্ধুও অনেক সময় নিয়ে, ধার-কর্জ করে ধীরে ধীরে করেছিলেন এ বাড়ি।
আজকের অনেক নেতার মতো আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার গল্প এটা নয়। এটা অনেক কষ্টের গল্প। অনেক ত্যাগের গল্প। ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এক মায়ের মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাঁই পাওয়ার আর খোলা আকাশের নিচে ছুটে চলার গল্প। ১৯৬১ সালে শুরু করা সে বাড়ির ঋণের টাকা ১৯৮২ সালেও শোধ হয়নি পুরোপুরি।
একজন সাধারণ মানুষ কিন্তু অসাধারণ নেতার এ গুণাবলিগুলো দেখেও আজকের দিনের দুর্বৃত্তপরায়ণ রাজনীতিবিদরা যদি কিছু শিখতেন!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটির মালিক কিভাবে হয়েছেন তার সঠিক ইতিহাস বাংলাদেশের জনগণের জানা উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্মৃতিবিজড়িত ক্যান্টনমেন্টের ৬ মইনুল রোডের বাড়ি (উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী!) ছেড়ে দিতে বাধ্য করার পর বিএনপি নেতারা অনেক স্ববিরোধী কথাবার্তা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার নানা ধরনের অপপ্রয়াস চালিয়েছিলেন। যদিও রাজনৈতিক সরকারগুলোর সময় এদেশের উচ্চ আদালত সরকারের চাওয়ার বাইরে রায় দিতে পারে কিনা সেটা বড় প্রশ্ন! এর মধ্যে বিএনপি অনাবশ্যকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ‘মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান তো নিম্ন-মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান ছিলেন, তিনি কীভাবে বাড়িটি বানালেন।’ বিএনপির এক প্রথম সারির নেতার এ ধরনের বেসামাল উক্তির পর বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের শীর্ষ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের বাড়িটি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে জিয়া স্মৃতি যাদুঘর বানানো হবে।’ তাদের সে ক্ষমতা থাকলে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়িটি গুড়িয়ে দিতে পারলে দিতেন—এ নিয়ে এই কথার পাল্টা কথা বলে লাভ নেই।
তবে অনাবশ্যকভাবে যেহেতু বঙ্গবন্ধু ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির মালিক কিভাবে হলেন প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেহেতু বাংলার সাধারণ মানুষদের বাড়িটির সঠিক মালিকানা ইতিহাস জানা উচিত। বিভিন্ন সংবাদপত্রের তথ্য থেকে এই বাড়িটির জন্ম ও সৃষ্টি সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে তা পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতি নিয়ে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে বাড়ি-ঘর সংসারের কোনো খবরা-খবরই তিনি তেমন রাখতেন না। ১৯৭১ পূর্ববর্তী সময়, বিশেষ করে শেষ দশকে তিনিই ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কণ্ঠস্বর। তার একটা নির্দেশ মানে মানুষ নিজের জান হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে এমন। জেল-জুলুম ছিল তার নিত্যসঙ্গী। সংসারের দিকটি সামলাতেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবই। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই ছিল না। কয়েক দফায় সরকারের মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সরকারি বাসভবনেই তিনি থাকতেন। ১৯৫৪ সালে বঙ্গবন্ধু প্রথমবারের মতো যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার মন্ত্রী হন। কিন্তু সে সরকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ, কংগ্রেস, তফসিলি ফেডারেশন ও গণতন্ত্রী পার্টি সরকার গঠন করলে সে সরকারের চিফ মিনিস্টার নির্বাচিত হন আতাউর রহমান খান, আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সেই মন্ত্রিসভার বাণিজ্য, শ্রম, শিল্প ও দুর্নীতি দমন মন্ত্রী। তখন বঙ্গবন্ধুর পিএস ছিলেন নুরুজ্জামান। সেই সময় তিনি মন্ত্রী হিসেবে সপরিবারে থাকতেন আব্দুল গণি রোডের ১৫ নম্বর বাড়িতে। তখনই পিডব্লিউডি থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছিল। একদিন বঙ্গবন্ধুর সে পিএস পিডব্লিউডি থেকে একটি আবেদন ফরম সংগ্রহ করে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের হাতে এনে তুলে দেন। ফরমটি যথাযথভাবে পূরণের পর দাখিল করেন। আবেদনের পর ১৯৫৭ সালের শুরুতে বেগম মুজিবের নামে ১ বিঘার একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মূল্য ধরা হয় ৬ হাজার টাকা। নিয়ম মোতাবেক ২ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর বাকি থাকে ৪ হাজার টাকা। বাকি ৪ হাজার টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছিল।
১৯৫৭ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেন। ১৯৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু টি-বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় সেগুনবাগিচায় একটি বাসা তার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর ১২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে সেগুনবাগিচার বাড়িটি তিন দিনের মধ্যে ছেড়ে দিতে বলা হয়। ১৯৫৮ সালের ১৫ অক্টোবর বাড়িটি ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়। টি-বোর্ড থেকে প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর জিপটি এবং বাড়ির কিস্তি পরিশোধের জন্য রাখা ২ হাজার টাকা ও বেশ কিছু মালামাল রেখে দেওয়া হয়।
এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বেগম মুজিব তার সন্তানদের নিয়ে এক অনিশ্চিত ও সমস্যাসংকুল অবস্থার মধ্যে পড়েন। কেননা, তাদেরকে আর তখন কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা-তদবিরের পর সিদ্ধেশ্বরী বয়েজ স্কুলের মাঠের পাশে মাসিক ২০০ টাকায় ভাড়ায় একটি বাড়িতে ওঠেন। কিছুদিনের মধ্যেই শেখ মুজিবের পরিবার যে এ বাড়িতে থাকে তা জানাজানি হয়ে গেল। বাড়ির মালিক বেগম মুজিবকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বললেন। এ বাড়ি ছেড়ে বাধ্য হয়ে তিনি সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে আবার এসে ওঠেন সেগুনবাগিচার একটি বাসার দোতলায়।
১৯৬০ সালের ১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্ত হয়ে আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কন্ট্রোলার অব এজেন্সিস পদে চাকরি নেন। তখনই বেগম মুজিব বুঝেছিলেন, যে কোনোভাবেই হোক তাকে একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে হবে। বঙ্গবন্ধু মুক্তি পাওয়ার পরই বেগম মুজিবের নামে বরাদ্দ পাওয়া জায়গাটিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১৯৬০-৬১ সাল থেকেই ধার-কর্জ ও বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতা এবং হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন থেকে ঋণ নিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের এই বাড়িটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
বঙ্গবন্ধুর এ বাড়িটির নির্মাণকাজ তদারকি করেছিলেন তৎকালীন পিডব্লিউডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও পরবর্তীকালে পূর্ত সচিব মাইনুল ইসলাম। এ বাড়ি নির্মাণের কাজে আর্থিকভাবে ও নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক সহকর্মীরা। সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের নির্বাহী কমিটির সদস্য, বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহকর্মী চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের নূরুল ইসলাম।
এই নূরুল ইসলাম ‘ক্রসওয়ার্ড’ লটারি খেলতেন। আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির একজন কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিল তার আত্মিক পারিবারিক সম্পর্ক। সে অফিসে ক্রসওয়ার্ড লটারি খেলা সবার জন্য ছিল বাধ্যতামূলক। একদিন লটারিতে ব্যবহার করেছিলেন শেখ রেহানার নাম। সেইদিনই তিনি পেয়ে যান ছয় হাজার টাকা। এই টাকা তিনি গচ্ছিত রাখেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কাছে। বাড়ির নির্মাণকাজে টাকার সংকট দেখা দিলে নূরুল ইসলাম এই গচ্ছিত টাকা কাজে লাগানোর জন্য অনুরোধ করেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে এ টাকা ঋণ হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তা যথাযথ পরিশোধও করা হয়।
নূরুল ইসলাম যেহেতু এখনো জীবিত আছেন, তিনিই এ ইতিহাসের বাড়ি নির্মাণের সাক্ষী। বাড়ি নির্মাণকালীন কেয়ারটেকার ছিলেন টুঙ্গিপাড়ার আরজ আলী। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনের ঝাউগাছটি এনে দিয়েছিলেন বদরুন্নেছা আহমেদের স্বামী নুরুদ্দিন আহমেদ। বাড়ির জানালার গ্রিল সরবরাহ করেছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা রংপুরের মতিউর রহমান।
কোনোমতে বাড়িটির নির্মাণকাজ শেষ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বঙ্গবন্ধু এ বাড়িতে ওঠেন ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর। একতলা এ বাড়িটিতে তখন ছিল দুইটি বেডরুম। এক রুমে থাকতেন বঙ্গবন্ধু ও বেগম মুজিব। অন্য রুমে থাকতেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তার পাশে ছিল আর একটি কক্ষ। সে কক্ষটি রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এই রান্নাঘরেরই এক পাশে থাকতেন শেখ কামাল ও শেখ জামাল। বাড়িতে ঢুকতেই ছিল একটি ছোট রুম—এ রুমটিকে ড্রয়িং রুম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এই রুমের আসবাব বলতে ছিল এক সেট বেতের সোফা মাত্র।
বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যে টেলিফোনটির প্রথম সংযোগ দেওয়া হয় সেটির নম্বর ছিল ২৫৬১। টেলিফোনটি নিয়ে বেশ মজার গল্প আছে। আইয়ুবের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রায়ই এ টেলিফোনটিতে আড়িপাততো। তাই শেখ ফজলুল হক মনি বঙ্গবন্ধুর সাথে কথা বলতে চাইলে নিজের নাম গোপন করে ‘বালিওয়ালা’ বলে পরিচয় দিতেন। আর সিরাজুল আলম খান নিজের পরিচয় দিতেন ‘ইটওয়ালা’ বলে। যেহেতু বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়িটি তখন তৈরি হচ্ছিল, সেহেতু পাকি সামরিক জান্তাকেও এ পরিচয়টি বিশ্বাস করতে হয়েছিল।
একজন স্বল্প আয়ের মানুষ যেভাবে তিলে তিলে নিজের জন্য একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করে থাকে, তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধু ও তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৩২ নম্বরের এ বাড়িটিকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এ বাড়িটি একটা সময়ে এসে হয়ে যায় সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা—স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখার বাড়ি। সেটিই ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে হয়ে দাঁড়ায় ইতিহাসের বাড়ি। এই বাড়ি থেকেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের বীজ রোপণ করে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সাড়ে সাত কোটি প্রাণে প্রাণে।
কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হলে এ বাড়িটি আবার চলে যায় তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে নির্বাসন থেকে ফিরে এলে এই বাড়িটি তিনি ফিরে পান। কিন্তু বছর খানেকের মধ্যে শেখ হাসিনা সংবাদপত্রে একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেখতে পান। হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের সে নিলাম বিজ্ঞপ্তির তালিকায় বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়িটিও ছিল। শেখ হাসিনা কালবিলম্ব না করে ছুটে যান হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের অফিসে। ১২ হাজার টাকা বকেয়া পরিশোধের পর বাড়িটির দখল শেখ হাসিনাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনা পরবর্তীতে তার পৈতৃক এ বাড়িটিকে নিজে বা তার পরিবারের অন্য কেউ ভোগদখল না করে বাড়িটিকে দান করে দেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের জন্য। ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট এ বাড়িটির মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়।
এই হলো বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়ির ইতিহাস। এটা এখন আর কোনো সাধারণ বাড়ি নয়, এটি এখন ইতিহাসের বাড়ি।
Related Posts

Did Prophet Muhammad Know the Future, or Were All These Stories Added Later to Glorify Him?
A well-wisher sent a message saying – ” I am leaving aside my exam studiesRead More

নবী মুহাম্মদ কি ভবিষ্যৎ জানতেন? নাকি সবগুলো তাকে গ্লোরিফাই করার জন্য পরে সংযোজন করা?
এক শুভাকাংখী ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়েছেন – ” Exam এর পড়া রেখে, আপনার নামের ইতিহাস পড়ছি।Read More

Allah reveals verses about something as trivial as a piece of clothing, yet does not answer the fundamental questions of the universe
A being who is claimed to be the creator of the vast universe, whose scopeRead More

Comments are Closed