Sura Alo
A surah like the Qur’an

A surah like the Qur’an

কোরআনের মতো করে সূরা লেখার স্টুপিড চ্যালেঞ্জ কেন দেয়া হয়?

সূরাঃ আলো

١. وَاللَّيْلِ إِذَا هَدَأَتِ الْقُلُوبُ فِي السَّكِينَةِ. ٢. وَالنُّورِ إِذَا انْبَسَطَ عَلَى طَرِيقِ الْحَائِرِينَ. ٣. إِنَّ الرَّاحَةَ لِمَنْ صَبَرَ، وَالْفَوْزَ لِمَنْ سَعَى بِالْحَقِّ. ٤. وَلَا يَضِلُّ مَنْ جَعَلَ الصِّدْقَ دَلِيلَهُ وَالْعَدْلَ رَفِيقَهُ. ٥. فَاذْكُرُوا الْخَيْرَ يَثْبُتْ فِي قُلُوبِكُمْ، وَيَرْتَفِعْ بِهِ قَدَرُكُمْ.

রাত্রি যখন নেমে আসে, তখন হৃদয় শান্তির গভীরে স্থির হয়।
আলো যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন পথহারা মানুষও দিশা খুঁজে পায়।
ধৈর্যশীলের জন্য আছে প্রশান্তি, আর সত্যের পথে চলার জন্য আছে সাফল্য।
যে সত্যকে পথপ্রদর্শক করে এবং ন্যায়কে সঙ্গী করে, সে কখনো বিভ্রান্ত হয় না।
সৎকর্ম স্মরণ করো—তা তোমার হৃদয়কে দৃঢ় করবে এবং তোমার মর্যাদা বাড়াবে।

মুসলিমদের দাবী কোরআন একটা ঐশ্বরিক গ্রন্থ, এ গ্রন্থে কোন ভুল নেই। অথচ আমরা কোরআনে – অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক, চরম মানবাধিকার পরিপন্থী, খুবই অমানবিক, নৃশংস, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ইতিহাস বিকৃতি, অপতথ্য – এমন অনেক কিছুই খুঁজে পাই। এখন অনেক ইসলামিস্ট এসে দাবী করবে প্রামান দেন। এক প্রবন্ধে তো সব প্রামান দেয়া কঠিন, কোরআন যেহেতু ঐশ্বরিক বলে দাবী করা হয় সেহেতু সেখানে মাত্র একটা অসঙ্গতি থাকলেও পুরো কোরআন ইনভ্যালিড হয়ে যায়।

অনেক মুমিন দাবী করেন, তুমি যদি পারো কোরআনের মতো করে একটা সূরা লিখে দেখাও। তাদের দাবী অনুযায়ী ১৪০০ বছর ধরে কত মানুষ চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। স্বয়ং কোরআনেই এই দাবী করা হয়েছে একাধিকবার যে কোরআনের মতো করে কেউ সূরা লিখতে পারবে না। নিজেই দাবী করে, আবার নিজেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়। এর চেয়ে ননসেন্স দাবী কিছু হয়? মানুষের কি খেয়েদেয়ে কাজ নেই এই সমস্ত উদ্ভট ননসেন্স দাবীর বিপক্ষে কোরআনের মতো একটা গার্বেজ বইয়ের মতো করে কিছু লিখতে যাবে? এখনকার মানুষের শিক্ষা, জ্ঞানের স্তর ও মান কি ১৪০০ বছর আগের মানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে যখন কোরানের স্রষ্টা নিজেই জানতো না পৃথিবী প্রযুক্তিতে আজ কোথায় পৌঁছাবে!

দুনিয়ায় এখন ৮২৯ কোটি মানুষ। সবার চেহারা, সিগনেচার, লেখার স্টাইল সবই আলাদা। মানুষ বৈচিত্রময়, এটাই মানুষের সৌন্দর্য। একজনের লেখার স্টাইলের সঙ্গে অন্যজনের লেখার স্টাইল মিলতে হবে কেন? বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথের লেখার স্টাইল এক রকম, সেটা কি অন্যের সঙ্গে মিলবে? আবার যে কবি আল্লার আরশের নীচ দিয়ে শূল ঢুকিয়ে পশ্চাতদেশ ভেদ করে মাথা দিয়ে বের করতে চেয়েছেন (“‘”খোদার আসন আরশ ছেদিয়া …” সেই কবি নজরুলের লেখার ঢংয়ে অন্য কেউ হুবুহু লিখতে পারবে? কিংবা মুফতি ইব্রাহিম যাকে শেখ জুবায়ের নামে মুসলমান দাবী করে সেই সেক্সপিয়ারের লেখার মানে অন্য কেউ লিখতে পারবে? না লিখতে পারলে ধরে নিতে হবে সেক্সপিয়ার কোন ঐশ্বরিক কেউ? এই দাবী কোন সেন্স মেক করে?

নবী মুহাম্মদের কোরআনের অনেক কিছুই তো সেই সময়ের আরবের কবিদের ঢং ফলো করে লেখা – এটা সমালোচক মহলে বহুল চর্চিত একটা টপিক। তাই বলে কেউ বলে না হুবুহু মিল। কোরআনের অনেক কিছু সেই সময়ের প্রচলিত মিথ, লোককথা, জ্ঞান, কিছু জায়োনিজম, কিছু খ্রিস্টিয়ানিটি, কিছু জরথুরুস্ট্রিয়াজম থেকে কপি করা। এখন এই সময়ে এসে কেন সেই কোরআনের মতো করে কিছু লিখে মানুষ ফালতু সময় নষ্ট করবে? কেউ এখন সূরা ত্বীন এর মতো করে ত্বীন বা ডুমুরের নামে শপথ করবে? সিনাই, তুর পাহাড়, নিরাপদ নগরীর নামে কসম খেয়ে বলবে যে সে যা বলছে তাই সত্য? কোন কমনসেন্সওয়ালা মানুষের পক্ষে এমন গাঁজাখোরী বাক্য প্রসব করা সহজ? হতে পারে, তবে আগে তাকে ৯ মন গাঞ্জার সঙ্গে ৫ বছরের বাসি ভং, চরস, তাড়ি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।

তার পরেও অনেকে লিখে দেখিয়েছে অনেক সূরা। এই লেখার জন্য অনেকের সঙ্গে সহিংস আচরন করা হয়েছে। এখন এই এআই এর যুগে কোন এআই মডিউলকে প্রম্পট দিলে সে হাজার হাজার এমন সূরা লিখে দিতে পারে। সো হোয়াট? এতে কোরআনের ঐশ্বরিক দাবী পূরন বা অপূরন হওয়ার কি আছে? এই যে আমি একটা দিলাম সূরা আলো, এটা দিয়ে কি প্রমান হয়? এটা তো কোরআনের সূরার চেয়ে বেশি মানবিক ও আলোর দিশা দেয়, এখানে শেষ লাইনে আল্লাহর মতো করে আলোকে শ্রেষ্ঠ দাবীও করা হয়নি। সূরা লিখে দেখানোর এই ধরনের প্রমান চাওয়া স্রেফ বুলশীট! অথচ কোরআন সেই বুলশীট প্রমান চেয়েছে, ১৪০০ বছর আগে চাইলে তাও না হয় কথা ছিল, সর্বকালের আদর্শ ও মানুষের পথ প্রদর্শক দাবী করে এখনো সেই একই দাবী করে তার অনুসারীরা। ডাজ ইট মেক এনি সেন্স, ম্যান? দিস ইজ ২০২৬!

এর পরেও আপনি যদি একটা সুরা লিখে দেন তখন উগ্রবাদীরা দাবী করবে, এটা তো কোরআনের নকল, তুমি তোমার মতো করে লিখে দাও। এবার অন্য একটি লিখে দিলে বলবে এটা তো কোরআনের মতো হয়নি। যিনি চ্যালঞ্জ দিবেন তিনিই আবার বিচারক, তিনি আবার আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন কোরআনের মতো সূরা কেউ লিখতে পারবে না। কোন নিরপেক্ষ বিজ্ঞজন দিয়ে যাচাই করুন, কোন সনাতনী, জিউস, খ্রিস্টান, মানববাদীকে দিয়ে যাচাই করে দেখুন কোরআনের মতো হয়েছে কিনা। আপনারা চ্যালেঞ্জ দিয়ে আবার আপনারা বিচার করতে বসলে হবে না। শেষে কী করবেন? ইসলাম বিদ্বেষী, আল্লা-রাসূলের দুষমন বলে চাপাতি নিয়ে কোপ দিবেন!

২০২০ সালে কোভিড, করোনার সময়ে আলজেরিয়ায় জিলু নামক একজন ‘সূরা করোনা’ লিখেছিলেন। ইউটিউবে তেলাওয়াতও পাবেন। সেটি আবার প্রচুর পরিমাণে শেয়ার হয়, আরববিশ্বের সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে, রক্ষণশীল মুসলিমরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে, জড়িতদের মৃত্যু হুমকি দেয়, গ্রেফতারের দাবী তোলে। ক্ষুব্ধ মুসলিমদের রিপোর্টের কারণে সূরা করোনার লেখক জিলুর ফেসবুক একাউন্ট ডিজেবল হয়ে যায়। সেই সূরা করোনা শেয়ার দেয়ার জন্য অনেককে সহিংসতার শিকার হতে হয়েছিল। আমনা আল-শার্কি নামে একজন তিউনিসিয়ান নারী হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন, সানা বেন্দিমেরাদ নামের একজন আলজেরিয়ান নারীর যোনিপথে এসিড ঢেলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল।

কোরআনের মতো সূরা লেখা দুঃসাধ্য কিছু না, এই চ্যালেঞ্জ যারা দেন তারা খুবই স্টুপিড, স্বয়ং কোরআনের রচয়িতাই সেই স্টুপিডিটির সূচনা করে গেছেন। এই ২০২৬ এ এসেও সেই স্টুপিডিটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে অনেক মানুষ।

শেষ করি চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলকেমি, পদার্থবিজ্ঞান এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ১৮৪টির বেশি বই লেখা পারসিক চিকিৎসক এবং দার্শনিক আবু বকর মোহাম্মাদ ইবন যাকারিয়া আল রাযি বা আল-রাযি’র একটি উক্তি দিয়ে – যা তিনি এই কোরআনের অনুরুপ সূরা লেখার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলেছিলেন –

তুমি এমন একটি গ্রন্থের কথা বলছো যা প্রাচীন পৌরাণিক কথা পুনরায় বর্ণনা করে, এবং যা একসাথে অসঙ্গতিতে পরিপূর্ণ এবং কোনো দরকারী তথ্য বা ব্যাখ্যা ধারণ করে না। আর তুমি বলোঃ ‘এটার মতো কিছু তৈরি করে আনো?
আবু বকর মোহাম্মাদ ইবন যাকারিয়া আল রাযি

Related Posts

Prophet Muhammad or Allah?

Allah reveals verses about something as trivial as a piece of clothing, yet does not answer the fundamental questions of the universe

A being who is claimed to be the creator of the vast universe, whose scopeRead More

Prophet Muhammad or Allah?

আল্লাহ সামান্য কাপড়ের বিষয় নিয়ে আয়াত নাজিল করে, কিন্তু মহাবিশ্বের মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয় না

যে সত্তাকে বিশাল মহাবিশ্বের স্রষ্টা বলে দাবি করা হয় – যার ব্যাপ্তি আমাদের ধারণার সীমানাRead More

Prophet Muhammad and OCD

Did Prophet Muhammad have OCD along with other mental issues, which is why he used to do and say everything three times?

In Islamic rituals and practices, a clear pattern of three or odd numbers can beRead More

Comments are Closed