
Are humans the best of creation?
পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সুন্দর জিনিসের ১% সৌন্দর্যের রঙও মানুষ দেখতে পায় না! মানুষ কি সৃষ্টির সেরা?
মানুষের চোখ সাধারণত ৩৮০ থেকে ৭৪০ ন্যানোমিটার (nm) তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (wavelength) দৃশ্যমান আলো বা রঙের রেঞ্জ ডিটেক্ট করতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই সীমার মধ্যে মানুষের চোখ প্রায় ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ভিন্ন ভিন্ন রঙের শেড আলাদা করে চিনতে সক্ষম।
মানুষের চোখ এবং মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতার কারণে মহাবিশ্বের বিশাল কালার বা আলোর বর্ণালীর (Electromagnetic Spectrum) প্রায় সম্পূর্ণ অংশই আমাদের কাছে অদৃশ্য। বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, পুরো মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এই তরঙ্গমালার মাত্র ০.০০৩৫% অংশ মানুষ দেখতে পায়। অর্থাৎ, বাকি ৯৯.৯৯৬৫% “রং” বা আলোই মানুষের চোখের বাইরে থেকে যায়। ভাবতে পারেন, আপনার চারপাশে আপনি যা কিছু সুন্দর দেখেন তার প্রকৃত সৌন্দর্যের রঙ ১% দেখার ক্ষমতাও মানুষের নেই? শব্দের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেকটা এমনই, মহাবিশ্বের বেশিরভাগ শব্দই মানুষ শুনতে পায় না।
ইউনিভার্সিটিতে ‘রিমোট সেন্সিং এন্ড এরিয়্যাল ফটো ইন্টারপ্রিটেশান’ পড়ার সময় সফটওয়্যারের সাহায্যে মানুষ চোখে দেখে না এমন অনেক রঙকে মানুষের দৃষ্টিসীমার রঙ্গে কনভার্ট করার কিছু পদ্ধতি শিখেছিলাম আমরা। একে বলা হয় ফলস কালার কম্পোজিট (False Color Composite – FCC)। রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট বা বিমানগুলো মানুষের চোখের দেখার সীমার বাইরেও অনেক তরঙ্গদৈর্ঘ্য বা ব্যান্ড (যেমনঃ ইনফ্রারেড, শর্ট-ওয়েভ ইনফ্রারেড বা থার্মাল ব্যান্ড) ক্যাপচার করতে পারে। যেহেতু মানুষের চোখ শুধু RGB বা লাল (Red), সবুজ (Green) এবং নীল (Blue) রঙ দেখতে পায়, তাই অদৃশ্য সেই ব্যান্ডগুলোকে সফটওয়্যারের (যেমন: ArcGIS, ERDAS Imagine, বা QGIS) সাহায্যে এই তিনটি প্রাথমিক রঙের ওপর অ্যাসাইন বা ওভারলে (Overlay) করে আমাদের দেখার উপযোগী করা হয়।
প্রকৃতিতে এমন অনেক প্রাণী আছে যাদের চোখের গঠন মানুষের চেয়ে উন্নত এবং তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি রং ও আলোর শেড দেখতে পায়। মানুষের চোখে যেখানে ৩ ধরনের কোণ কোষ (Cone cells) থাকে, নিচে উল্লেখ করা প্রাণীগুলোর চোখে তার চেয়ে বেশি কোণ কোষ থাকায় তারা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি রঙিন জগৎ দেখেঃ
১. ম্যান্টিস শ্রিম্প (Mantis Shrimp)
রং দেখার ক্ষেত্রে এরা পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা প্রাণী। এদের চোখে ১২ থেকে ১৬টি ভিন্ন ধরনের কোণ কোষ থাকে। মানুষ যে আলো কল্পনাও করতে পারে না, যেমন – আল্ট্রাভায়োলেট (UV), ইনফ্রারেড (IR) এবং পোলারাইজড লাইট (Polarized light), এরা তাও নিখুঁতভাবে দেখতে পায়।
২. প্রজাপতি (Butterflies)
বেশিরভাগ প্রজাপতির চোখে ৫ থেকে ৬টি কোণ কোষ থাকে, তবে কিছু প্রজাতির প্রজাপতির চোখে ১৫টি পর্যন্ত কোণ কোষ পাওয়া গেছে। এরা আল্ট্রাভায়োলেট আলো দেখতে পায়, যা তাদের ফুলের মধু (Nectar) এবং দূর থেকে সঙ্গী খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
৩. পাখি (Birds)
অধিকাংশ পাখির চোখে ৪টি কোণ কোষ থাকে (Tetrachromats)। তারা লাল, সবুজ ও নীলের পাশাপাশি আল্ট্রাভায়োলেট (UV) আলোও দেখতে পায়। চাতক, হামিংবার্ড, তোতাপাখি এবং ময়ূরের মতো পাখিরা মানুষের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রঙের শেড আলাদা করতে পারে। পাখির পালকের যে রং আমরা দেখি, অন্য পাখিরা তার চেয়ে অনেক উজ্জ্বল ও ভিন্ন রং দেখতে পায়।
৪. মৌমাছি (Bees)
মৌমাছিদের চোখেও আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি শণাক্ত করার ক্ষমতা রয়েছে। তারা মানুষের মতো লাল রং ভালোভাবে দেখতে না পেলেও নীল, সবুজ এবং আল্ট্রাভায়োলেট আলোর সমন্বয়ে ফুলকে এমন এক রূপে দেখে যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। ফুলের পাপড়িতে থাকা বিশেষ ইউভি প্যাটার্ন দেখে তারা মধুর সন্ধান পায়।
৫. গোল্ডফিশ ও অন্যান্য কিছু মাছ (Goldfish)
গোল্ডফিশের চোখেও ৪ ধরনের কোণ কোষ থাকে। এরা পানির নিচে ইনফ্রারেড এবং আল্ট্রাভায়োলেট দুই ধরনের আলোই দেখতে পায়। শিকার ধরা এবং পানিতে দিক নির্ণয়ের জন্য এদের এই বিশেষ দৃষ্টিশক্তি কাজ করে।
মানুষ পৃথিবী ও মহাবিশ্বের অনেক কিছুই দেখে না, শোনে না, জানে না যা অন্য অনেক প্রানী দেখে, শোনে, জানে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, এবং অন্য সব প্রানী মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে, তারা মানুষের সেবার জন্য নিবেদিত – এই মিথ্যা অহংকারগুলো বাদ দিন! মানুষ খুবই সাধারন এক জীব, অনেক অনেক অক্ষমতা তার, র্যান্ডম মিউটেশানের এক পর্যায়ে মস্তিষ্কে হঠাৎ করে কিছু গাণিতিক ও চেতনাগত দক্ষতা পেয়ে গিয়েছিল – এই যা! তাও নাকি আবার ভাইরাসের অবদান, এ নিয়ে আমার অন্য এক আর্টিকেল আছে!
Related Posts

Humans cannot even see 1% of the beauty and colors of Earth and the universe! Are humans really the best of creation?
The human eye can generally detect visible light or color in the wavelength range ofRead More

Why does Allah show such preference for women with large breasts and large buttocks? Do men feel the same way? Does this give women any advantage?
If you leave Prophet Muhammad in Pattaya’s Walking Street and Beach Road after evening, inRead More

নারীর বড় বক্ষ ও নিতম্বের প্রতি আল্লাহর এতো পক্ষপাত কেন? পুরুষেরও কি তাই? এটা কি নারীকে সুবিধা দেয়?
আপনারা যদি পাতায়ার ওয়াকিং স্ট্রীটে ও বীচ রোডে সন্ধ্যার পর আলো আঁধারিতে নবী মুহাম্মদকে ছেড়েRead More

Comments are Closed