Sex Slaves
Islam and Sex Slaves

Islam and Sex Slaves

ইসলাম কেন দাস-দাসী ও যৌনদাসী প্রথা সমর্থন করে? কেন ইসলামের নামে এই ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ চলমান?

ইসলামে দাস-দাসী ও যৌনদাসীর ব্যবস্থা রাখার অমানবিক ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হওয়া বিধানের উল্লেখ করলে অনেক মুমিন ভাই প্রশ্ন করেন – আমেরিকায় দাস ব্যবসা হতো, সেটা চোখে দেখিস না?

মুমিন ভাইদের বলি, আপনাদের তুলনায় আমি অনেক কম জানি, আপনাদের জাহাজ সমতূল্য জ্ঞান-গরিমার কাছে আমি নাদান শিশু, কিন্তু কিছুটা জানি। আগে থেকেই কিছু জানতাম, এর পরেও আমার একটা ম্যান্ডেটরি কোর্স পড়া লেগেছিল এক সময় – “আফ্রিকান-আমেরিকান স্টাডিজ” নামে। সেখানে ‘Four Hundreds Souls’, ‘The 1619 Project’ এমন অনেক বই পড়ে ভাঁজা ভাঁজা করে প্রতিটি অধ্যায়ের উপর রিভিউ, প্রোজেক্ট পেপার, প্রেজেন্টেশান করা লাগতো। আপনাদের দোয়ার বরকতে ও আল্লাহপাকের অশেষ কৃপায় আমি ইংলিশ স্পিকিং দেশের মানুষদের টপকিয়ে হাইয়েস্ট স্কোরও করেছিলাম, আমার পেপারগুলো প্রফেসর এখনো রেফারেন্স হিসাবে পরবর্তী ছাত্রদের দেখান। সেজন্য বলি, আমার কিঞ্চিৎ জানাশোনা আছে এসবে। ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসা (Trans-Atlantic Slave Trade) মানব ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার, নিষ্ঠুর এবং দীর্ঘতম একটি অধ্যায়। কিন্তু সেই কালো অধ্যায় এখন ইতিহাস, কেউ তাকে আর পুনরুজ্জীবিত করতে চায় না।

ঘানার উপকূলে এক আফ্রিকান কালো লোক কাজে বের হয়েছে, বা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই দেশের কিছু দালাল রাজাকার ও কিছু শ্বেতাঙ্গ মিলে তাকে জোর করে ধরে জাহাজে উঠালো। জাহাজে উঠে দেখলো সেখানে আরো শত শত কালো। সবাইকে জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে নতুন এক দেশে। আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে নতুন জনপদ আমেরিকায়। সেখানে তাদেরকে কৃষি, শিল্প, সড়ক নির্মান বিভিন্ন কাজের শ্রমিক হিসাবে বিক্রি করা হবে। তাদের নিজস্ব বলতে কিছু থাকবে না, মালিকের ইচ্ছাই তাদের কর্ম। কিন্তু সেখানে ইসলামের মতো শিশু ও নারীদের যৌনদাসী করার ব্যাপার ছিল না, সেটা ছিল স্রেফ জোর করে শ্রমে নিয়োজিত করা, তাদের দিয়ে অমানবিক পরিশ্রম করানো। এই সমস্ত নির্দয় নিষ্ঠুরতা থেকে পৃথিবী মুক্ত হয়েছে। বিশ্বের কোন সভ্য দেশের সংবিধানে, আইনে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আর এই দাস-দাসী প্রথা নেই। কিন্তু ইসলামে আছে, এখনো আছে, তার পক্ষে সাফাই গাওয়া ছাড়া ইসলামের হুজুরদের কিছু করারও থাকে না।

সুপ্রাচীন কাল থেকেই দাস-দাসী প্রথা ছিল। এমনকি এরিস্টটলও ‘প্রাকৃতিক’ বলে এটার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তবে সেই প্রথা ধীরে ধীরে বিলোপ হয়েছে বিশ্ব থেকে। চলুন দেখি, উল্লেখযোগ্য কোন দেশ কখন সেগুলো বিলোপ করেছে –

বিলোপের উল্লেখযোগ্য সময়রেখাঃ
১৭৯৪ — ফ্রান্স (প্রথম দফা)
১৮০৭ — ব্রিটেন (দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ)
১৮৬৩ — যুক্তরাষ্ট্র (Emancipation Proclamation)
১৯৬২ — সৌদি আরব
১৯৭০ — ওমান
১৯৮১ — মৌরিতানিয়া (আইনগতভাবে, যদিও বাস্তবে অব্যাহত)

দেখুন, সবার শেষে যারা বিলোপ করেছে প্রায় সবাই মুসলিম দেশ। এখনো সেখানে গৃহকর্মীদের সঙ্গে যৌনদাসীর মতো আচরনের অনেক অভিযোগ আছে, দাসী কেনাবেচার বাজার আছে। কারন মুসলিম দেশগুলো যে আইন, বিধান, সংবিধান মেনে চলে সেই কোরআনে দাস-দাসী প্রথা বহাল তবিয়তে আছে। যদি বলেন কোরআন সর্বকালের জন্য মানুষের সংবিধান, সেটা স্রষ্ঠা প্রদত্ত, তাহলে তো সেই দাস-দাসী, যৌনদাসী প্রথা এখনো পৃথিবীতে প্রাসঙ্গিক, যা আধুনিক আইনে খুবই গুরতর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। কোরআন দাস মুক্তিকে পুণ্যের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে, কিছু আয়াতে দাসদের সাথে মানবিক আচরণের নির্দেশ আছে বটে, কিন্তু বিলোপ করেনি। দাস-দাসী, যৌনদাসী অত্যাচার, নির্যাতনের মুখে ও তাদের মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে পালিয়ে গেলেও আল্লাহ খুবই নাখোশ হন, দাস মালিকের কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার নামাজ কবুল করেন না আল্লাহপাক, ইসলামী রাষ্ট্র তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় না । আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, নবী মুহাম্মদ যা বলেছেন, যা করেছেন তা আল্লাহ তাকে দিয়ে বলিয়ে নিয়েছেন, করিয়ে নিয়েছেন। তার মানে তার কথা, কর্মও আল্লাহর কথা ও কর্ম বা ওহি। তার দাস ছিল, একাধিক যৌনদাসী ছিল, উনি দাস-দাসী ক্রয় বিক্রয়ও করেছেন – আর যেহেতু মুসলিমরা দাবী করেন নবী মুহাম্মদ সর্বকালের, সবার জন্য আদর্শ, সেহেতু তার এই দাস-দাসী, যৌনদাসী রাখাকে সেই সময়ের প্রথা বলে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই।

Mauritanian Women

মৌরিতানিয়ার প্রায় ১০০% (৯৯.৯%) মানুষই মুসলমান এবং এটি একটি অফিশিয়াল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র (Islamic Republic of Mauritania)। একটি শরীয়া-ভিত্তিক দেশ ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় শরীয়া বা ইসলামী আইনকে “আইনের একমাত্র উৎস” (Sole source of law) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে এখনো দাসপ্রথা টিকে রয়েছে, যেখানে প্রভাবশালী সাদা আরব মুর (Beidane) গোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ‘হারাতিন’ (Haratin) মানুষদের দাস হিসেবে খাটিয়ে আসছে। দাস-দাসী, যৌনদাসী কেনাবেচা এবং মালিকানা বদলের মতো ঘটনা সেখানে খুবই নৈমিত্তিক। যদিও সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৮১ সালে দাসত্ব নিষিদ্ধ এবং ২০০৭ ও ২০১৫ সালে একে চরম অপরাধ ঘোষণা করে আইন করেছে, কিন্তু বাস্তবে প্রশাসন, পুলিশ এবং বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিজেরাই এই দাস-মালিক শ্রেণীর অংশ হওয়ায় আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে বংশানুক্রমিক দাসত্বের (Hereditary Slavery) নিয়মে আজও গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলগুলোতে লাখ লাখ হারাতিন কোনো বেতন ছাড়া পশুর মতো জমিতে বা গৃহস্থালির কাজে শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছেন, কারণ জন্মের সময়ই মায়ের সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী সন্তানও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকের “সম্পত্তি” হিসেবে গণ্য হয়। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৌরিতানিয়ায় অনানুষ্ঠানিক ও গোপন উপায়ে ইসলামের যৌনদাসী প্রথাও এখনো বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা (যেমন Amnesty International, Minority Rights Group এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদন) অনুযায়ী, দাসত্বের শিকার মানুষদের মধ্যে প্রায় ৯০%-ই হলো নারী ও শিশু, যারা সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত। হারাতিন সম্প্রদায়ের দাসী এবং তরুণীদের ওপর তাদের শ্বেতাঙ্গ মালিকদের সম্পূর্ণ শারীরিক নিয়ন্ত্রণ থাকে। যেহেতু তারা আইনি বা সামাজিকভাবে কোনো স্বাধীন নাগরিক নন, তাই খামারে বা ঘরের কাজের পাশাপাশি মালিক বা তাদের পরিবারের পুরুষদের দ্বারা তারা নিয়মিত পদ্ধতিগত ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের (Sexual Violence) শিকার হন।

আই*সিস জঙ্গিরা ইসলাম নির্দেশিত দাস-দাসী প্রথা বহাল তবিয়তে চালু করেছিল। তারা ইয়াজিদী নারী ও শিশুদের দাস-দাসী বানানো, যৌনদাসী বানিয়ে ধর্ষণ করা, তাদের বাজারে তুলে বিক্রি করা – সবই করেছে। আই*সিসের পতনের পর একাধিক হতভাগ্য নারী তাদের সেই অবর্ননীয় দূর্দশার কথা বর্ননা করেছেন। আবার বৃদ্ধা ও শিশুদের যৌন আকর্ষণ না থাকায় ও তাদের বাজারে বিক্রয় মূল্য না থাকায় জীবন্ত করব দিয়েছে, এমন একাধিক রেকর্ড আছে ও গণকবর আছে।

বাংলাদেশেও অনেক হুজুর বলেন, ইসলামী শাসন চালু হলে এখন যে সমস্ত নারীরা বোরখা, হিজাব পরেন না, যারা গান-বাজনা করেন, টিপ পরেন, সেক্যুলার মতাদর্শের নারী – তাদেরকে যৌনদাসী বানানো উগ্র মুমিনদের জন্য জায়েজ হয়ে যাবে। ইসলাম কেন এখনো দাস-দাসী প্রথা টিকিয়ে রেখেছে, এই প্রশ্ন করলে অনেক হুজুর বলেন – এখনো জিহাদ হবে, ইমাম মাহদী আসবে, তখন দাস-দাসী প্রথার প্রয়োগ হবে। অনেক জিহাদী জঙ্গি ইন্ডিয়ায় গজওয়াতুল হিন্দ করে সেখানকার সুন্দরী, স্মার্ট নারীদের যৌনদাসী করার কথা প্রকাশ্যে বলেন, স্বপ্ন দেখেন।

দাসপ্রথা একটি সর্বজনীন ঐতিহাসিক পাপ। যে সমস্ত সমাজ ও ধর্মীয় ব্যবস্থা এই প্রথা সবার আগে বিলোপ করেছে, তারা করেছে কারণ তারা মানবিক মর্যাদাকে ধর্মীয় বিধানের উপরে স্থান দিয়েছে। কোন হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদী, বৌদ্ধ, নাস্তিক, মানববাদী কি দাবী করবে তারা দাস-দাসী প্রথা সমর্থন করেন? করবে না। কিন্তু মুসলিমদের এই দাবী করার সুযোগ নেই, এই দাবী করলে তাদের কোরআন-হাদিস, নবী মুহাম্মদের বিরুদ্ধাচারন করা হয়ে যাবে, তখন তারা হয়ে যাবে মুশরিক, কাফের। যে ধর্মীয় ব্যবস্থা নিজেকে “সর্বকালীন ও অপরিবর্তনীয়” দাবি করে, সেই ব্যবস্থায় মানবতার বিরুদ্ধে বিধান থাকলে তা বিশেষভাবে বিপজ্জনক – কারণ এটি সংস্কারের পথ রুদ্ধ করে। কোনো সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে আসা বিধানে – যদি সেই সত্তা সত্যিই ন্যায়বিচারক হন = মানুষকে পণ্য হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় বা যৌন ব্যবহারের অনুমতি থাকার কথা নয়।

মানবাধিকারের ভিত্তি হলোঃ প্রতিটি মানুষ – লিঙ্গ, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে – জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং মর্যাদাসম্পন্ন। এই নীতির সাথে সাংঘর্ষিক যেকোনো বিধান – সে যে উৎস থেকেই আসুক – সমালোচনার যোগ্য এবং প্রত্যাখ্যানের দাবি রাখে। সেই যুক্তিতে ইসলাম, তার কোরআন, তার আল্লাহ, তার নবী মুহাম্মদ এখন প্রত্যাখ্যাত, অপ্রাসাঙ্গিক। দুইশো কোটি অনুসারী থাকলেই কোন কিছু সত্য বা মানুষের মেনে নেয়ার আবশ্যকতা তৈরি করে না। মানুষের সহজাত মর্যাদা ও স্বাধীনতার স্বীকৃতি না থাকলে ইসলাম এখন একটা ট্রাস যা ট্রাসবক্সে ফেলার সময় সমাগত। অথবা ইসলামকে অন্যদের মতো বড় সংস্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, কোরআন-হাদিসের অনেকে কিছুই ডিলিট করে দিতে হবে।

Related Posts

Free Sex Nation

Is Bangladesh, with 90% Muslims, better than the so‑called free‑sex countries?

Bangu male believers think — and even some women — that the Western world meansRead More

Free Sex Nation

তথাকথিত ফ্রি সেক্সের দেশের চেয়ে ৯০% মুসলমানের বাংলাদেশ কি ভাল?

বাঙ্গু পুরুষ মুমিনদের ধারনা, এমনকি কিছু নারীরও যে – পশ্চিমা দুনিয়া মানে ফ্রি সেক্স, সেখানেRead More

Is the name Muhammad owned

People’s Arabic names are not the property of Allah or Muhammad. Stop demanding that others change their names

One fine morning you log into Facebook and see that everyone—from Mokhles, the tea sellerRead More

Comments are Closed