
Islamic Science
ইসলামিক সায়েন্স নিয়ে বিদেশী প্রফেসর ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের কথোপকথন
ইউরোপের এক স্বনামধন্য প্রফেসর একবার বাংলাদেশের নামকরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স ফ্যাকাল্টির এক ক্লাসে গেলেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু বিষয়ে শেয়ার করার জন্য। উনি প্রথমে খুঁজে পেলেন ছাত্রদের অনেকের মুখেই খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি, অনেকের মাথায় টুপি, ছাত্রীদের বড় অংশ হিজাবে আবৃত, কয়েকজনের চোখ ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। উনি এক ছাত্রকে দিয়ে শুরু করলেন তার প্রশ্নোত্তর পর্ব।
প্রফেসরঃ এই যে আমাদের চারিদিকে জীবের এতো বৈচিত্র, এতো প্রজাতি, এগুলো কিভাবে সম্ভব হয়েছে?
ছাত্রঃ সব আল্লাপাকের ইশারায় দুনিয়ায় এসেছে, সবকিছুই মানুষের কল্যানের জন্য।
প্রফেসরঃ ইন্টারেস্টিং তো!
ছাত্রঃ তবে আপনি হয়তো জানেন, এক মহাপ্লাবনে আল্লাহপাক সব প্রানী ধবংস করে দিয়েছিলেন, শুধু সেগুলোই টিকে ছিল যা নূহ(আঃ) এর নৌকায় উঠেছিল।
প্রফেসরঃ মানে, দুনিয়ার যতো প্রানী দেখছি, লক্ষ লক্ষ, সবই সেই নৌকায় উঠেছিল, পেঙ্গুইন, নীল তিমি, ইল, বাঘ, সিংহ সব? সে কত বড় নৌকা?
ছাত্রঃ সে নৌকা তো তুরস্কের পাহাড়ে গেলে আপনি দেখতে পাবেন। প্রত্যেক প্রানীকে এক জোড়া করে উঠানো হয়েছিল। তারাই আবার বংশ বিস্তার করে দুনিয়া ভরে ফেলেছে।
প্রফেসরঃ আচ্ছা, নতুন অনেক কিছুই জানার সৌভাগ্য হবে আজ আমার। পৃথিবীতে এখন প্রায় ৮৭ লক্ষ প্রজাতি আছে। প্রতিটির এক জোড়া করে একটা নৌকায় রাখা — পরিসরের দিক থেকে সম্ভব নয়। তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো জেনেটিক্সে। মাত্র একটি জোড়া থেকে বংশ বিস্তার হলে ইনব্রিডিং-এর কারণে জিনগত বৈচিত্র্য থাকার কথা নয় — প্রজাতিগুলো টিকতে পারত না।
ছাত্রঃ এগুলো সব ভুয়া কথা, আপনি মনে হয় বিবর্তন নিয়ে পড়ে আছেন, জানেন না পশ্চিমা বিশ্বে অনেক বিজ্ঞানী বিবর্তনকে নাকচ করে দিয়েছে? সবই আল্লার ইচ্ছা। আপনি কি দেখেন যে এখন বানর থেকে মানুষ হচ্ছে? সব বানর যদি মানুষ হতো তাহলে এতো বানর আসলো কোথা থেকে? আল্লাহ আদম (আঃ)’কে মাটি দিয়ে বানালেন, তার বুকের হাঁড় দিয়ে বানালেন হাওয়া (আঃ) কে। এরপর তাদের ভুলের কারনে তাদের দুনিয়াতে পাঠালেন, সেখান থেকেই আজকের ৮০০ কোটি মানুষ।
প্রফেসরঃ আসলে জানার কোন শেষ নেই। আমার কিছু কলিগ আছে এ্যাভালুশনারি বায়োলজিস্ট, আমি দেশে ফিরে তাদের সঙ্গে তোমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান শেয়ার করবো। তবে আমি যতোটুকু জানি, এটা আসলে বিবর্তন তত্ত্বের একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি। বিবর্তন বলে না যে বানর থেকে মানুষ হয়েছে — বলে যে মানুষ ও বানরের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিল, লক্ষ লক্ষ বছর আগে। দুটি আলাদা শাখা আলাদা দিকে বিকশিত হয়েছে। এটা জেনেটিক প্রমাণ, ফসিল রেকর্ড, এবং ডিএনএ বিশ্লেষণ দিয়ে বারবার যাচাই করা হয়েছে।
ছাত্রঃ কিন্তু স্যার, কোরআনে বলা আছে আল্লাহ আদমকে মাটি থেকে সরাসরি সৃষ্টি করেছেন।
প্রফেসরঃ হয়তো তুমি ঠিক। কিন্তু আমি এতোদিন জানতাম বিজ্ঞান প্রমাণের ভিত্তিতে চলে। আমাদের কাছে জেনেটিক প্রমাণ আছে যে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির ডিএনএ ৯৮.৭% একই। এটা কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?
ছাত্রঃ আল্লাহ একই উপাদান দিয়ে বানিয়েছেন, তাই হয়তো মিলে যায়, সবই আল্লাহর কুদরত।
প্রফেসরঃ সেটা একটা ব্যাখ্যা হতে পারে কিন্তু বিজ্ঞানে আমরা দেখি, একই ডিএনএ মিউটেশনের ইতিহাসও একই — অর্থাৎ দুটি প্রজাতি একই জায়গা থেকে আলাদা হয়েছে, এটার প্রমাণ শুধু মিলের মধ্যে নয়, ভুলের মধ্যেও — উভয়ের ডিএনএতে একই ধরনের নিষ্ক্রিয় জিন আছে।
ছাত্রঃ ঐ যে দেখেন, জানালা দিয়ে একটা তালগাছ দেখা যায়, ঐটা আমাদের, অর্থাৎ আমাদের হলের ছাত্রদের। এখন ঐ তালগাছ কি পরদিন আমগাছে পরিনত হবে?
প্রফেসরঃ না তা হবে না, আমি বুঝতে পারছি, তোমার শানিত যুক্তির কাছে আমি ধরাশায়ী হয়ে যাচ্ছি বার বার। আচ্ছা, শোনো তোমার তালগাছ তোমার থাক, একটু দূর্যোগ মোকাবিলা সম্পর্কে কথা বলি। বাংলাদেশে দেখি ঘূর্নিঝড় হয়, শহরাঞ্চলে প্রায় প্রায় আগুণ লাগে…
ছাত্রঃ স্যার, এখন কিন্তু তাল পাকার সময়, আপনি কী তালের পিঠা ট্রাই করে দেখবেন? খুবই টেস্টি। দূর্যোগের কথা বলছেন? হ্যাঁ ঠিক, মানুষের ইমান কমে গেছে, নারীরা অশ্লীল পোশাক পরে চলে। অনেক কারন আছে। তবে ঈমানদার ব্যক্তির কোন সমস্যা হয় না, দেখেননা আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়, শত শত মানুষ মারা যায় কিন্তু কোরআন শরীফ পোড়ে না কখনো!
প্রফেসরঃ তোমরা তালগাছের কেয়ার নাও, আরো ফলন দিবে, তোমাদের অন্য হলের ছাত্রদেরও নিশ্চয় এমন অনেক তালগাছ আছে? আমি আপাতত তোমাদের থেকে শিখছি, মনে হচ্ছে আমার এবারের বাংলাদেশ সফরটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা সফর হতে যাচ্ছে।
ছাত্রঃ আল্লাহর উপর আস্থা ও ঈমান থাকলে মানুষ আগুণের ভিতর থেকেও সুস্থ বের হয়ে আসতে পারে। ইব্রাহিম নবীকে নমরুদ আগুনে নিক্ষেপ করেছিল। ইব্রাহিম নবীকে নমরুদ আগুনে নিক্ষেপ করেছিল। সেখানে ব্যাঙ, গরু, খরগোস, কুমির, পেঙ্গুইন – দুনিয়ার সব প্রানী এসেছিল তাকে বাঁচাতে, শুধু একটি টিকটিকি ফু দিয়ে আগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
প্রফেসরঃ ও রিয়েলি? তারপর কী হলো? টিকটিকি তো তাহলে খুবই জঘন্য কাজ করেছিল।
ছাত্রঃ ঠিকই ধরেছেন। এজন্য আমরা যদি এক আঘাতেই টিকটিকি মেরে ফেলতে পারি অনেক ছওয়াব, দুই বাড়িতে একটু কম…
প্রফেসরঃ বুঝতে পারছি, যতো সময় বেশি লাগবে ততো ছওয়াব কম। টিকটিকি একটা ছোট্ট প্রানী, এক আঘাতেই মারা সম্ভব, তবে আমি একটা নিরীহ প্রাণী হত্যা করতে চাই না। টিকটিকির ফু’য়ে কি আগুণ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল? ইব্রাহিম আগুন থেকে বের হতে পেরেছিল?
ছাত্রঃ অবশ্যই। কোথায় আল্লাহ আর কোথায় সামান্য টিকটিকি! আগুন ইব্রাহিম (আঃ) এর কাছে ছিল শান্তির বাগান। উনি হাসতে হাসতে সেখান থেকে বের হয়েছিলেন।
প্রফেসরঃ আল্লাহ টিকটিকি না সৃষ্টি করলেই মনে হয় ভাল করতেন।
ছাত্রঃ সবই পরীক্ষা স্যার, মানুষের চোখের সামনে ঘরে টিকটিকি ঘুরে বেড়াবে, মানুষ যদি আল্লাহ ও তার রাসূল (সাঃ) কে ভালবাসে তাহলে সেটকে হত্যা করবে।
প্রফেসরঃ নবী মুহাম্মদই কি তাহলে টিকটিকি হত্যা করতে বলেছেন?
[এমন সময় ক্লাসের প্রায় সকল ছাত্র-ছাত্রী চিৎকার করতে করতে দাঁড়িয়ে গেল]
প্রফেসরঃ কী হয়েছে ওদের? এতো বিশৃঙ্খলা করছে কেন?
ছাত্রঃ স্যার, আপনি রাসূল (সাঃ) কে অসম্মান করছেন, আমাদের ধর্মানুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। পুলিশ জানতে পারলে আপনাকে ধরে নিয়ে যাবে এখনি।
প্রফেসরঃ বুঝলাম না আমি নবী মুহাম্মদকে কিভাবে অসম্মান করলাম?
ছাত্রঃ স্যার, আপনি আবারো একই কাজ করছেন। আপনাকে মুহাম্মদ বলার পরে বাধ্যতামূলকভাবে সাল্লালাহুআলাইহিওয়া সাল্লাম বলতে হবে।
প্রফেসরঃ আমি দুঃখিত, জানতাম না বিষয়টা, এখন থেকে বলবো। এর অর্থ কী?
ছাত্রঃ আমি জানি না, তবে এটা বলতেই হবে, না হলে কেউ শাতিম হয়ে যাবে, যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
প্রফেসরঃ আচ্ছা, এ বিষয়ে আর কথা না বলি।
[এমন সময় প্রফেসরের মোবাইলে একটা ম্যাসেজ এলো]
প্রফেসরঃ আমাকে এইমাত্র এক কলিগ জানালো মঙ্গলের উদ্দেশ্যে ভয়েজার রকেট রওয়ানা দিয়েছে।
ছাত্রঃ স্যার, আপনি আছেন ভয়েজার নিয়ে। আপনি কী জানেন, নবী রাসূলরা এসব পাত্তাই দিতো না। তাদের এতো ক্ষমতা ছিল যে তারা চাইলেই আকাশ, মহাকাশ ঘুরে আসতে পারতো।
প্রফেসরঃ কী বলো?
ছাত্রঃ মুহাম্মদ (সাঃ) ডানাওয়ালা ঘোড়ায় চেপে সপ্ত আসমান পাড়ি দিয়ে, আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। আস্ত সিংহাসনসহ বাতাসে ভেসে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করার ক্ষমতা ছিল হজরত সোলায়মান (আঃ)-এর। তাঁর সিংহাসনটি কাঠ বা সাধারণ উপাদানে তৈরি ছিল না; এতে সোনা, রূপা ও রত্নালঙ্কারের বিশাল সমাহার ছিল। যখন তাঁর আদেশে বাতাস সিংহাসনটিকে আকাশে তুলে নিত, তখন তাঁর বিশাল দরবারের সৈন্য, মন্ত্রী, পশুপাখি এবং জিনেরা যার যার নির্দিষ্ট প্রকোষ্ঠে অবস্থান করত। এরপর বাতাস প্রবাহিত হয়ে সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে তাঁদের পৌঁছে দিত।
প্রফেসরঃ মাই গড, কী বলো? অভিকর্ষ বলে তো একটা কথা আছে … আচ্ছা থাক, আজ আমি আর কিছু বলবো না, আমি বরং তোমাদের থেকে শিখি।
ছাত্রঃ সত্যি বলছি স্যার, এগুলো ফ্যাক্ট।
[এমন সময় এক ছাত্রের মোবাইলে রিং টোন বেজে উঠলো – “যখন ইউনুছ নবীরে, খাইলো মাছেতে গিলিয়া, ফেরেশতা পাঠাইলে তখন, এছমে আজম দিয়া” সব ছাত্র চুপ হয়ে সেদিকে তাকালো]
ছাত্রঃ সবাইকে অনুরোধ করছি, মোবাইল সাইল্যান্ট রাখতে। এই যে স্যার শুনলেন, ইউনুস (আঃ) নবীরে তিমি মাছে গিলে ফেললো, উনি ৪০ দিন মাছের পেটে থেকেও দিব্যি সুস্থ শরীরে বেঁচে ফিরলেন।
প্রফেসরঃ এটা কীভাবে সম্ভব? বায়োলজিক্যালি, একজন মানুষ তিমির পাকস্থলীতে বেঁচে থাকতে পারেন না। অক্সিজেন নেই, গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড আছে, তাপমাত্রা ও চাপ মারাত্মক। তুমি বায়োলজি পড়েছ, তুমিও জানো।
ছাত্রঃ স্যার, আপনি আল্লাহপাকের মুজিজা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
[পাশ থেকে এক ছাত্র কিছু বলার চেষ্টা করলো]
ছাত্রঃ স্যার, নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে আজান শুনেছিলেন এবং মুসলিম হয়েছিলেন – এটাই ও বলতে চেয়েছে। উনি সেখানে গিয়ে চাঁদের এ মাথা থেকে ওমাথা দীর্ঘ ফাঁটল দেখেছিলেন। আপনি জানেন, মুহাম্মদ (সাঃ) হাতের ইশারায় চাঁদ দুই খন্ড করেছিলেন। অনেক চাক্ষুস সাহাবী সেই চাঁদের দুই টুকরা এক পাহাড়ের দুই পাশে পড়তে দেখেছেন। কোরআনেও আল্লাহপাক বলেছেন – “কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।”
প্রফেসরঃ নীল আর্মস্ট্রং নিজে এটা অস্বীকার করেছেন। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত মুসলিম হননি। NASA-ও এটা নিশ্চিত করেছে। চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই শব্দও সেখানে যায় না।
ছাত্রঃ স্যার, কী বলেন? প্রমান চান? আমি সাঈদী, আজহারী হুজুরের ওয়াজ দেখাতে পারবো, আর কী প্রমান দরকার?
প্রফেসরঃ নীল আর্মস্ট্রং নিজেই অস্বীকার করেছেন — এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে? তবে উনারা বলে থাকলে ঠিক আছে। বাংলাদেশের অনেকে দেখি বলে বাংলাদেশের হুজুরেরা ধর্ম ব্যবসায়ী।
ছাত্রঃ এগুলো নাস্তিকদের কথা। নাস্তিকরা জারজ সন্তান, ওদের মা-বাবার ঠিক নেই। ওরা সবাই হিজড়া এক একটা। ওরা সবাই পশ্চিমাদের মতো ওদের মা-বাবা-ভাই-বোন মিলে…
প্রফেসরঃ বুঝতে পারছি তুমি কী বলতে চাচ্ছো। আমি তো এক পশ্চিমা দেশের মানুষ, আমি যদিও এমন কিছু দেখিনা, তবুও তোমরা যখন বলছো – দেখি দেশে ফিরে যাচাই করে দেখবো তোমাদের দাবী ঠিক কিনা। কিন্তু হিজড়া ব্যাপারটা বুঝলাম না।
ছাত্রঃ হিজড়া? স্যার, জানেন না? হিজড়া সন্তান জন্ম নিয়ে ইসলামে বলা আছে জীনের সাথে শারীরিক সম্পর্কের কারণে এটা হয়।
প্রফেসরঃ ইন্টারেস্টিং তো! নারীর সঙ্গে জীন সঙ্গম করে? কিন্তু আমি তো জানি ইন্টারসেক্স বা হিজড়া শিশুর জন্ম হয় ক্রোমোজোমের বৈচিত্র্য, হরমোনাল পার্থক্য বা জিনগত কারণে — যা পুরোপুরি জৈবিক। এটা মেডিকেল সায়েন্সে বহু আগে থেকেই প্রমাণিত। এই ভুল বিশ্বাসের কারণে হিজড়া মানুষেরা সামাজিকভাবে চরম বৈষম্যের শিকার হতে পারে। যদিও আমি ইসলামিক সায়েন্সের মতো এতো সমৃদ্ধ না।
ছাত্রঃ স্যার, তাহলে আপনি কি বলছেন ইসলাম ধর্মে সব ভুল? জীনদের অনেক ক্ষমতা, তারেক মনোয়ার হুজুর প্রমান দিয়েছেন – আমেরিকার বিজ্ঞানীরা জীন পালতো, জীনকে দিয়ে তারা বিশাল বিশাল লোহার ব্রীজ বানিয়ে নিয়েছে। পাকিস্তানের এ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের প্রধান জীন দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নিয়েছিল। যারা প্রকৃত মুসলমান তাদেরকে জীন কোন ক্ষতি করতে পারে না। জীনদের মতো করোনা ভাইরাসও ছিল আল্লাহর সৈনিক। মুসলমানদের কোভিড-১৯ সবচেয়ে কম হয়েছিল? কেন হয়েছিল? ইসলাম ভুল হলে সেটা কিভাবে সম্ভব?
প্রফেসরঃ এর কি কোন ডেটা আছে? ভাইরাস কি ধর্ম দেখে সংক্রমন করে?
ছাত্রঃ তা জানি না, তবে আমাদের ওয়াজী হুজুররা প্রমান দিয়েছেন। ইসলাম বলে সংক্রামক রোগ যেমন কোভিড, হাম, প্লেগ এমন কিছু নেই, এগুলো টীকা ব্যবসার জন্য বিজ্ঞানের ষড়যন্ত্র। হামজা হুজুর বলে দিয়েছেন মুসলমানদের করোনা হলে কোরআন শরীফ মিথ্যা হয়ে যাবে। এমনকি আমাদের আব্বাসী হুজুর ইসটেরেঞ্জ, অত্যাশ্চার্য তথ্য দিয়ে প্রমান দিয়েছেন কোভিডের পর ২০২০ থেকে ২৩ তিন বছরে ইতালিতে একজনও নতুন শিশু জন্ম নেয়নি। উনিও কিন্তু আপনার মতো পিএইচডি হোল্ডার।
প্রফেসরঃ মুসলমান অনেকের হয়েছে তো কোভিড।
ছাত্রঃ তারা প্রকৃত মুসলমান না, প্রকৃত মুসলমান হওয়া অনেক কঠিন। আল্লাহকে ভুলে গেলে প্রকৃত মুসলমান হয় কিভাবে? আপনারা তো বলেন সূর্যই এই সৌরজগতের প্রাণ। আপনি কী জানেন, সূর্য প্রতিদিন একটা পংকিল, কর্দমাক্ত জলাশয়ে অস্ত যায়। সূর্য রাতে আল্লাহর আরশের নিচে সেজদা দেয় এবং পরদিন উদয়ের অনুমতি চায়। সূর্য আল্লাহর প্রতি তার প্রতিদিনের ইবাদত বাদ দেয় না, অথচ মানুষ আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এজন্য তাদের রোগ ব্যাধি বেশি হয়।
প্রফেসরঃ জ্যোতির্বিজ্ঞান বলছে, সূর্য আসলে কোথাও যায় না। পৃথিবী নিজেই ঘুরছে — তাই আমাদের কাছে সূর্য অস্ত যায় বলে মনে হয়। সূর্য মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে, কিন্তু সেটা প্রতিদিনের দিনরাতের সাথে সম্পর্কিত নয়। এটা এখন স্যাটেলাইট ও মহাকাশ অভিযান দিয়ে প্রমাণিত। কিন্তু যেহেতু ইসলাম বলেছে, তার উপরে আর কোন কথা নেই, বাংলাদেশে বসে এটাই মানতে হবে।
ছাত্রঃ এইতো বুঝতে পারছেন স্যার, কোরআনে যা আছে তাই সত্য, বিজ্ঞান তো কাল পরিবর্তনও হয়ে যেতে পারে, কোরআন অপরিবর্তনীয়।
[এমন সময় প্রফেসরের চায়ের কাপে একটা মাছি এসে পড়েছে]
ছাত্রঃ স্যার, চা ফেলার দরকার নেই।
প্রফেসরঃ কেন? মাছি পড়েছে, রোগ জীবানুর আঁধার।
ছাত্রঃ স্যার, আপনি মাছিকে চুবিয়ে নিন, এরপরে খেয়ে নিন চা। মাছিকে যদি খাবারে ডুবিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সে উপকারী — কারণ এক ডানায় রোগ, অন্য ডানায় প্রতিষেধক।
প্রফেসরঃ কিন্তু মাইক্রোবায়োলজি বলছে, মাছি বহন করে Salmonella, E. coli, Vibrio cholerae-সহ অন্তত ৬৫ ধরনের রোগজীবাণু। মাছিকে খাবারে ডুবিয়ে দেওয়া আরো বেশি জীবাণু ছড়ায়। এটা পরীক্ষাগারে বারবার প্রমাণিত।
ছাত্রঃ হয়তো বিজ্ঞান এখনো সেই প্রতিষেধকটা আবিষ্কার করতে পারেনি।
প্রফেসরঃ এটা একটা যুক্তিসংগত প্রশ্ন। কিন্তু ১৪০০ বছর ধরে কি এই অনুসন্ধান হয়নি? কোনো প্রমাণ মিলেছে? আর মাছির শরীরের গঠনে দুই ডানায় আলাদা রাসায়নিক রাখার কোনো জৈবিক কাঠামোই নেই। যাই হোক, এক কাজ করো, আমি এই চায়ে এখনো চুমুক দেইনি, তুমি এটা খেয়ে ফেল।
ছাত্রঃ ধন্যবাদ স্যার, আমি খেয়ে নিবো। স্যার, মশা মাছি কিন্তু আল্লাহর সৈনিক হিসাবেও কাজ করে। প্রাচীন ব্যাবিলনের প্রতাপশালী রাজা নমরুদের কানের ভেতর দিয়ে মশা ঢুকে মস্তিষ্কে আঘাত করার কারণে মৃত্যু হয়েছিল। তার ঔদ্ধত্য ও অহংকার ভাঙতে আল্লাহ একটি দুর্বল মশা তার উপর পাঠিয়েছিলেন।
প্রফেসরঃ তুমি দেখি ইতিহাস সম্পর্কেও অনেক কিছু জানো। এতো কিছু কিভাবে জানলে তুমি?
ছাত্রঃ ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। ইসলামের নবীদের ইশারায় সূর্যও থেমে যায়। এক নবীর ইচ্ছায় আল্লাপাক সূর্যকে কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে রেখেছিলেন।
প্রফেসরঃ নবী, রাসূলদের দেখি অনেক ক্ষমতা, সূর্যের উপরও তাদের অনেক নিয়ন্ত্রন।
ছাত্রঃ শুধু কি এই? আল্লাহ চাইলে কী না করতে পারেন। শীতকালে শীত পড়ে কারন জাহান্নাম নিশ্বাস টেনে নেয়, গ্রীষ্মে তীব্র গরম পড়ে কারন জাহান্নাম নিঃশ্বাস ছাড়ে, সবই মহান আল্লাহর সু-পরিকল্পনা।
প্রফেসরঃ বাংলাদেশে যখন গরম, অস্ট্রেলিয়ায় তখন শীত, আবার এ্যান্টার্কটিকায় সারাবছর শীত। জাহান্নাম কিভাবে তার শ্বাস-প্রশ্বাস ম্যানেজ করে?
ছাত্রঃ এগুলো বুঝতে হলে আপনাকে কোরআন, হাদিস পড়তে হবে। কোরআন না পড়লে, মানুষের অকৃতজ্ঞতার কারনে মানুষ বানরে পরিনত হতে পারে, ইদুরে পরিনত হতে পারে।
প্রফেসরঃ এগুলো কি সব ইসলামেরই কথা? তুমি তো জানালে বিবর্তনবাদ ঠিক নয়। তাহলে মানুষ কিভাবে বানর হয়ে যাবে?
ছাত্রঃ আল্লাহ শাস্তি স্বরুপ কত কিছুই করতে পারেন, বানরেরাও শরীয়া আইন মেনে চলে।
প্রফেসরঃ একদিনে যতো জানতে পারছি, সারা জীবনেও তা শিখতে পারিনি।
ছাত্রঃ স্যার, আপনি যতো বড় বড় ডিগ্রীই নেন না কেন, যদি আপনার ভিতরে কোরআন, হাদিসের জ্ঞান না থাকে তবে আপনি মূর্খ।
প্রফেসরঃ তাই তো দেখছি, আমার এতো দিনের জীবনটাই বৃথা।
[এমন সময় পাশের তালগাছ থাকে একটা তাল পড়ার শব্দ শোনা গেল]
প্রফেসরঃ তোমার তালগাছ থেকে তাল পড়েছে, সংগ্রহ করো।
ছাত্রঃ নিশ্চয় স্যার, আমার আরো অনেক কিছু বলার আছে, তবে আপাতত তালটা সংগ্রহ করি। আমার ইচ্ছা আছে ক্যাম্পাসের খালি জায়গায় তালের বাগান করবো যেনো আমাদের সবার একটা করে তালগাছের মালিকানা থাকে।
প্রফেসরঃ তোমার তালগাছ তোমরই থাকবে, দুঃশ্চিন্তা করোনা, তোমাদের বিশ্ব, মহাবিশ্ব, বিজ্ঞান, ইতিহাস সম্পর্কে এতো যে জানাশোনা তোমরা শুধু তালবাগান কেন, কাঁঠাল বাগানও ডিজার্ভ করো। কাঁঠাল পাতা ইদানিং খাবার হিসাবে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে শুনি।
ছাত্রঃ তা মন্দ বলেননি স্যার। অনেকেই এখন কাঁঠালপাতা সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করে। ধরেন, ফ্রান্স থেকে একজন সাপ্লাই দেয়, একজন দেয় নিউইয়র্ক থেকে।
প্রফেসরঃ বাহ! বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল, আর তোমরা বিদেশ থেকে আমদানি করো?
[এমন সময় ক্লাসরুমের বিদ্যুৎ চলে গেল। চারিদিকে অন্ধকার, প্রফেসর মনে মনে বললেন, এই সুযোগে আমি কেটে পড়ি, অনেক জ্ঞান অর্জন হয়েছে।]
Related Posts

Islam’s Circular‑Logic Fallacy
Place: Cabin of a Dhaka–Sylhet-bound trainCharacters: Maulana Abdur Rahman (a responsible member of Tabligh Jamaat)Read More

ইসলামের সার্কুলার লজিক ফ্যালাসি
স্থান: ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনের কেবিনচরিত্র: মাওলানা আব্দুর রহমান (তাবলিগ জামাতের একজন দায়িত্বশীল) ও অধ্যাপকRead More


Comments are Closed