
Harun Yahya
বদমাশগুলো ইসলামের বেশ ধরে নাকি ইসলামের কারনেই বদমাশ হয়?
এই ভদ্রলোকের নাম হারুন ইয়াহিয়া, বিরাট বড় ইসলামিক স্কলার।
তার আরো কিছু নাম আছে – Adnan Oktar/Adnan Hoca/Harun Yahya
উনি ছিলেন (হয়তো এখনো আছেন) ইসলামিস্টদের বড়লোকের জাকির নায়েক। বলা হয় জাকির নায়েক এবং উনি সমান প্রভাবশালী। কোন কিছু হলেই অনেকে রেফারেন্স দেন হারুন ইয়াহিয়া এই বলেছেন, এই লিখেছেন। অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত মহলে জাকির নায়েক হলেন শেষ কথা, আর একটু শিক্ষিত সমাজে হারুন সাহেবই সবজান্তা, তার যুক্তিই শেষ কথা।
ইসলামিস্টরা যে গত দুই দশক ধরে ইসলাম ও কোরআনকে বিজ্ঞানময় দেখানোর চেষ্টা করেন, কিছু যুক্তি বা কুযুক্তি দেন, সেগুলোর অনেকটাই এই ভদ্রলোকের মাথা থেকে বেরোনো। উনি প্রচুর বই লিখেছেন, ১৫০–১৭০টিরও বেশি, মূলত ইসলাম, কুরআন, সৃষ্টিতত্ত্ব (creationism), অ্যান্টি-ডারউইনিজম, রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়েই সেসব বই। এমনকি শিশুদের নিয়েও লিখেছেন।
Miracles of the Qur’an, Allah’s Miracles in the Qur’an, The Basic Concepts in the Qur’an, Faith: The Way to Happiness , The Evolution Deceit, The Atlas of Creation, The Collapse of the Theory of Evolution, The Disasters Darwinism Brought to Humanity, Judaism and Freemasonry, Global Freemasonry, Behind the Scenes of Terrorism – এসব তার অগনিত বই থেকে সামান্য কয়েকটা।
বাংলা ভাষায়ও যারা ইসলামিক সাইন্স নামক ঘোড়ার ডিম জাতীয় জিনিসপত্র নিয়ে লেখেন, বলেন – যেমন প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ লেখক আরিফ আজাদ, বিশিষ্ট ইলুমিনাতি গবেষক মুফতি ইব্রাহিম এমন অনেকে এই হারুন ইহাহিয়া থেকে গভীরভাবে অনুপ্রানিত। বলতে পারেন, এই বিজ্ঞান ও প্রযিক্তির বিপুল উৎকর্ষতার যুগে মুমিন ভাইয়েরা যে কিছু ত্যানা প্যাঁচানোর রসদ পায় তার প্রায় সবটার মূল উৎস এই লেখক ভদ্রলোক। বাংলা ভাষায় নাস্তিকদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া যত বইপত্র আছে, সবগুলোই হারুন ইয়াহিয়ার বইগুলো থেকে এদিক সেদিক করে লেখা। বলা চলে, তিনি বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান আস্তিকদের অন্যতম আধুনিক নবী, অনেকে হয়তো তার নাম জানে না, কিন্তু তার লেখা চোথা মারা আরিফ আজাদদের চেনে। ইসলামী তালগাছবাদীদের প্রধান অস্ত্র উনার লেখা।
যেহেতু ইসলামিক স্কলার, ইসলাম নিয়েই তার চর্চা, ইসলামকে দুনিয়ার সেরা বিজ্ঞানময় ও মানবিক বিষয় হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি – সেহেতু শিশুদের প্রতি তার আকর্ষণ থাকবে না তা কি হয়? এই আকর্ষণ কী সেটা বুঝছেন তো? ঐ আর কি, বাংলাদেশের প্রায় সব কওমী মাদ্রাসায় শিশুদের প্রতি যে আকর্ষণ কাজ করে ইসলাম ও কোরআনের সৈনিকদের, সেই আকর্ষণ।
তুরস্ক যেহেতু একটা সেক্যুলার কান্ট্রি সেহেতু সেখানে তো আর শিশুদের প্রতি তার এই দূর্বার আকর্ষণ তারা মেনে নিবে না। ২০২২ সাল থেকে তাকে জেলে ভরে রেখেছে, বাকী জীবন তাকে জেলেই কাটাতে হবে। আদনান অকতার (হারুন ইয়াহিয়া) ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যৌন নিপীড়ন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বা শিশুদের যৌন নির্যাতন, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক ও সামরিক গুপ্তচরবৃত্তির চেষ্টা, ইত্যাদি।
প্রথমে একটি রায় দেয় আদালত, ১,০৭৫ বছরের সাজা হয়েছিল, পরে উচ্চ আদালত তার অপরাধের তুলনায় সে সাজা যথেষ্ট মনে করেনি, তা বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে ইস্তাম্বুলের উচ্চ অপরাধ আদালত তাকে ৮,৬৫৮ বছরের সাজা দেয়। তার সংগঠনের আরও ১৩ জন সহযোগীকেও একই মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। তুরস্কে এই ধরনের সাজা ধারাবাহিকভাবে (consecutively) গণনা করা হয়, তাই তিনি বাস্তবে আর কখনো মুক্ত হবেন না — আদালতের ভাষায়, এটি “জীবনব্যাপী কারাবাসের চেয়েও কঠোর”।
আল্লাহ বলেছেন, তোমরা তোমাদের মুসলমান ভাইদের অপরাধ গোপন করবে, তাহলে অনেক পুরষ্কার পাবে। আর তাকিয়াবাজি তো আছেই। সেজন্য দেখবেন আমাদের মুমিন ভাইয়েরা জেফরি এপস্টিনের অপকর্ম নিয়ে তুলনা করলেও ইসলামের এসব এপস্টিনদের নাম মুখে আনে না। এটাই তাকিয়াবাজি, এটাই ইসলামের নামে ভন্ডামি। একটা মানুষের অপরাধ কত বেশি হলে তাকে ৮,৬৫৮ বছরের সাজা হয়! অথচ তার দেখানো যুক্তি, দর্শন, বক্তব্য বেঁচে এখনো আমাদের মুমিন স্কলাররা করে-কেটে খাচ্ছে! বাজারে ইসলাম ও কোরআনকে বিজ্ঞানময় দেখানোর যতো কুযুক্তি, এভ্যুলুশানের মতো একটা প্রামানিত জিনিসের জ্ঞান অর্জন থেকে মুসলমানদের বঞ্চিত রাখার যতো কুযুক্তি তার প্রায় সবই এই অনেক নামের লোকটির অবদান।
এরা সবাই আবার পরকালে হুর, বাড়ি, ঘোড়া, বাগানের শত লোভ দেখালেও দুনিয়াতেই সেগুলো ভোগে মত্ত থাকে। আমার ব্যক্তিগত ধারনা এরা ইসলামের জাল-জালিয়াতি-জারি-জুরি-চুরি-দারি-ভুগি-যুগি আরো ভাল করে জানে। কিন্তু শত কোটি মানুষের মাথা বেঁচে নিজের বিলাসী জীবন নিশ্চিত রাখতেই ইসলামকে একটি সাইকোলজিক্যাল মাইন্ড কন্ট্রোলিং গেইম হিসাবে নেয়। বাংলা ভাষার প্রভাবশালী অনেক রাজনীতিবিদ, ইউটিউবার, লেখক এমনকি ইসলাম প্রচারকেরাও আছে এই তালিকায়। নাম না বললেও সবাই প্রথম ধাক্কাতেই এক প্রভাবশালী ইউটিউবারকে চিনে ফেলবেন।
Related Posts

Ayatollah Ali Khamenei was laid to rest after carrying out repression in the name of a child who disappeared 1,200 years ago
Around Ayatollah Ali Khamenei’s funeral, the world is now witnessing a grand display of stateRead More

১২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক শিশুর নামে দমন পীড়ন চালিয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শায়িত হলেন!
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন-অনুষ্ঠান ঘিরে যে রাষ্ট্রীয় জাঁকজমক এখন বিশ্ব দেখছে, তার আড়ালে লুকিয়ে আছেRead More

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today
The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

Comments are Closed