Threats
Threats from extremist Islamists

Threats from extremist Islamists

না পড়ে, না জেনেই সবাই ইসলামের পন্ডিত! আবার আমাদের হুমকি দেয়, হত্যা করতে চায়

সম্প্রতি বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনেক উগ্র মুমিন ভাই গালিগালাজ, হুমকি-ধামকি এমনকি হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। তারা সবাই নিজেদের “মুসলিম জাতি” হিসেবে এক করে দেখেন। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমরা তাদের মিসকিন গণ্য করলেও তাদের সেই জাতির মধ্যে তারাও আছেন।

আমার জানা নেই, ইসলাম ছাড়া বর্তমান সময়ে পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্মমত তাদের মতাদর্শের সমালোচনার জন্য এভাবে হত্যার হুমকি দেয় কি না। মুসলিম জঙ্গিরা হুমকিতে থেমে থাকে না, তারা কাজও করে।

এই মূর্খ মুমিন ভাইরা কোনো তথ্য বা সোর্স যাচাই করার প্রয়োজন বোধ করেন না। ইসলামের বিধান অনুসরণ করে ইরাকে শিশু কন্যাদের বুড়ো আরবদের সঙ্গে বিয়ে, আফগানিস্তানে নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ, সৌদিতে পারিবারিক সিদ্ধান্ত না মানলে নারীদের অমানবিক ডিটেনশন, ইয়েমেনে ৮ বছরের মেয়ের বুড়ো পুরুষের সঙ্গে বিয়ের রাতে ইউটেরাস ফেটে মৃত্যু, ইরানে ১৩ বছর বয়সী পালিত কন্যাদের পিতার সঙ্গে বিয়ে – এসব বাস্তব ঘটনা উল্লেখ করলে তারা প্রথমেই অস্বীকার করে।

২০১৪ সালে আইএস (ISIS) ইরাকের সিনজারে ইয়াজিদিদের উপর গণহত্যা চালায়। হাজার হাজার পুরুষ ও বৃদ্ধ নারীকে হত্যা করে ৮০টিরও বেশি ম্যাস গ্রেভ (গণকবর) তৈরি করে। যৌনদাসী হওয়ার উপযুক্ত নয় ও বাজারে চাহিদা নেই বলে জীবিত অবস্থায় কবর দেয়া হয় শিশু ও বয়স্ক নারীদের । ৫,০০০+ ইয়াজিদি নিহত, ৬,৮০০+ নারী-শিশু অপহৃত ও যৌনদাসত্বে বাধ্য করা হয়, নারীদের যৌনদাসী বানিয়ে তারা বিক্রিও করতো। এটি জাতিসংঘসহ একাধিক দেশ কর্তৃক জেনোসাইড হিসেবে স্বীকৃত। কত শত রিপোর্ট, নিউজ লিংক আছে, এটা একটা ফ্যাক্ট। কিন্তু দুইদিন আগে স্ট্যাটাস দিলে মুমিন ভাইয়েরা আমার বাপ মা তুলে গালি দিয়ে এই ফ্যাক্টকে অস্বীকার গেল। আইএস কে কেউ নিন্দা জানায়নি।

সৌদি, ইরান, পাকিস্তানের মতো দেশে দিয়াত (রক্তমূল্য) আইনে নারীর জীবনের মূল্য পুরুষের অর্ধেক (শরিয়াহ অনুসারে)। ইরানে পরে কিছু সংশোধন হলেও মৌলিক বৈষম্য রয়েছে। এসিড আক্রমণে চোখ হারানো আমানাহর ঘটনা তুলে ধরে ইসলামের এই বৈষম্য দেখালে তারা এই সমস্ত ঘটনা ও ফ্যাক্টকে অস্বীকার যায়।

এসব ফ্যাক্ট, সংবাদ, রিপোর্ট উল্লেখ করলে মুমিন ভাইরা অস্বীকার করে প্রত্যেকবার রেফারেন্স চান। অথচ নিজেরা গুগল করে দেখতে পারেন। এখন এগুলো যাচাই করা কোন সমস্যাই না। কিন্তু শিক্ষা ও দক্ষতায় পিছিয়ে থাকার কারণে মুমিন ভাইরা এগুলো পারে না।

দুইদিন আগে আইএসের ইয়াজিদি গণহত্যার কথা শেয়ার করলে প্রথমে অস্বীকার, তারপর “আইএস ইসরায়েল-আমেরিকার সৃষ্টি” বলা শুরু করে তারা যদিও এর স্বপক্ষে কোন রেফারেন্স তারা হাজির করতে পারে না। তারা আবার জঙ্গি গোষ্ঠীর কৃতকর্মের নিন্দাও করেন না। বরং অনেকে এসব কর্মকাণ্ডে খুশি হন বলে মনে হয়। তাই জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন না তাদের কেউ। অথচ তৌহিদী জনতা কত ফালতু ইস্যুতে হাঙ্গামা করে, খুনোখুনি করে।

কমেন্টে এদের আর একটি জনপ্রিয় বিষয় হলো – তারা হিন্দুদের বহু দেবতার বহুবিবাহ নিয়ে কমেন্ট করেন। আমরা যে বিষয়েই স্ট্যাটাস দেই তারা অপ্রাসাঙ্গিকভাবে সেই কমেন্টগুলো করবেনই। তাদের ধারণা কেউ ইসলামের সমালোচনা করছে মানে সে হিন্দু। ধর্ম ছাড়াও যে মানুষ থাকতে পারে সে কাণ্ডজ্ঞান তাদের নেই। বাস্তবে হিন্দুরা সতীদাহ রদ, বিধবা বিবাহ, বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণসহ অসংখ্য সংস্কার গ্রহণ করেছে। হিন্দু সমাজে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ (ভারতে), মুসলিমদের মধ্যে এখনো অনুমোদিত। হিন্দুরা বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা গ্রহণ করেছে, মাদ্রাসা-জাতীয় পশ্চাৎপদ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এই বহুবিবাহ বিষয়টা শুনে অনেকে হাসে যে এমনও লোক আছে দুনিয়ায় যারা বহু বিবাহ করার জন্য হাউকাউ বাঁধিয়ে দেয়!

মুমিন ভাইয়েরা এমনভাবে কথা বলবে মনে হবে – আপনি, আমি কোথাকার কে! বিদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টপর হন বা ডিনস অনার পান আপনি কোন এক গ্রামের কোন এক চা দোকানদার মোখলেসের কাছে মূর্খ! এদের ভিতরে একটা ইলিউশন কাজ করে, যার কারণে তারা ধরে নেয় দুনিয়ার সকল জ্ঞান তাদের। ওয়াজীরাও এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করে যে দুনিয়ার সকল জ্ঞান বিজ্ঞান সব কোরআন থেকে আসে। এজন্য দেখবেন আলোচ্য মোখলেস নির্দ্বিধায় বলে দিবে নাসার বিজ্ঞানীরা কোরআন গবেষণা করেই সব পান। এরা ঢাকা শহরে জীবনে না গেলেও ইউরোপ, আমেরিকার জীবনধারা নিয়ে জ্ঞান দেয়।

ইসলামী শিক্ষায় (কোরআন-হাদিস) ইসলামকে একমাত্র সত্য ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। “যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম চায়, তা গ্রহণ করা হবে না” (সূরা আলে ইমরান ৩:৮৫) – এ ধরনের আয়াত থেকে ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা আসে। আরবি ভাষা, কুরআনের আরবি, নবীর আরব হওয়া — এসব থেকে আরব-কেন্দ্রিক শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতিও কাজ করে। “ইসলাম বিজয়ী, পরাজিত নয়” ধরনের হাদিস ও ধারণা এই সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সকে জাগিয়ে রাখে। মূর্খ মুমিনরা শিক্ষা-জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে থাকলেও এই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে নিজেদের “সবার শ্রেষ্ঠ” মনে করেন। ড. শহীদুল্লাহর মতো উক্তি (“কুরআন-হাদিস না জানলে মূর্খ”) এই মনোভাবকে আরো শক্তিশালী করে।

এই শ্রেষ্ঠত্ববোধ আত্মসমালোচনাকে বাধা দেয়। ফলে নিজেদের সমস্যার (বাল্যবিবাহ, নারী অধিকার, জঙ্গিবাদ, মাদ্রাসা শিক্ষা, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, সহনশীলতার অভাব, বহুবিবাহ) উৎসগুলো সংস্কার করা কঠিন হয়। এটি অন্য ধর্ম ও ভিন্নমতের মানুষদের সঙ্গে সুস্থ সহাবস্থানকে বাধাগ্রস্ত করে, সহিষ্ণুতা কমায়। ফলে ইউরোপ-আমেরিকায় ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে, জনমত বিপক্ষে যাচ্ছে। নিজেদের দেশগুলোতে জ্ঞান-বিজ্ঞান-মানবাধিকারের অভাবে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। খিলাফতের স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবে নিজেদের দেশগুলোই ঠিকমতো চালাতে পারেন না – এটাই কঠিন বাস্তবতা। ইসলামের এই ফালতু গ্লোরি ড্রিভেন ইল্যুশন থেকে বেরিয়ে না এলে এদের মুক্তি অসম্ভব।

নিজেদের আত্মসমালোচনা করে শুদ্ধ হোন। অন্য ধর্মের পৌরাণিক কাহিনী দেখিয়ে নিজেদের নাঙ্গা শরীর ঢাকবেন না। কুরআন-হাদিসের রূপকথা-পৌরাণিক উপাদানগুলো নিয়ে নিজেরাই চিন্তা করুন। সেনসিবল হোন, শিক্ষা-বিজ্ঞান-মানবিকতা গ্রহণ করুন।

Related Posts

The Ongoing Aggression of Islam

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today

The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

The Ongoing Aggression of Islam

সোমনাথ থেকে জয়পুরহাট – এক সহস্রাব্দের পুরনো ধ্বংসের ছায়া আজও বিদ্যমান

প্রথম আঘাত গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে, যেখানে আরব সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পাথুরে তটে, সেখানেRead More

For 125 years, the Islamic world has been spinning on the basis of a single false key!

Once I was listening to a sermon by Professor Mufti Kazi Ibrahim Huzur where heRead More

Comments are Closed