
Save the Endangered Animals
বনের পশু ধরবেন আর খাবেন, এতটা বণ্য কি এখনো আছেন আপনারা?
গহীন বনে পাথুরে নদীতে স্যামন মাছ পায়ের কাছ দিয়ে উপরে উঠছে। আপনি চাইলেই ১০/২০ টা ধরতে পারবেন কিন্তু আপনি ধরছেন না। কারন সেখানকার আইনে বাঁধা আপনি। আপনাকে কেউ দেখছে না, আপনিও কাউকে দেখছেন না। কিন্তু তাও আপনি ধরছেন না, কারন সেটা ধরার অধিকার আপনার নেই। এই সামাজিক, মানবিক বোধটুকু আপনার আছে, আপনি পরিবেশকে যত্নের সঙ্গে লালন করেন। এই দৃশ্যগুলো বাস্তব, ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন। কানাডায় এমন অনেক স্রোত আছে আপনি চাইলেই সেখান থেকে খালি হাতেই ঝাঁকে, ঝাঁকে স্যামন ধরতে পারবেন। কিন্তু কেউ ধরেন না, তারা কি সবাই সৃষ্টিকর্তার ভয়ে এটা থেকে বিরত থাকেন? দেশের আইনের শাস্তির ভয়ে? নাকি তাদের বেশি বাঁধা দেয় নিজেদের বিবেক?
এবার কল্পনা করুন, একটি ভীতসন্ত্রস্ত হরিন বা বুনো মুরগি, বা বুনো মহিষ আপনাদের লোকালয়ে ঢুকে পড়লো; বা একটি ডিমওয়ালা মাছ আপনার জালে ধরা পড়লো নদীতে; অথবা ধরেন একটি জলাশয়ে মাত্র দুইটি মাছ আছে, সেগুলো ডিম দিলে হাজার হাজার নতুন মাছ জন্ম নিবে, আপনার জালে ধরা পড়লো, কেউ দেখছে না আপনাকে – কি করবেন? বাংলাদেশ হলে অধিকাংশ মানুষ দল বেঁধে সেগুলো ধরে খাওয়ার প্রস্তুতি নিবেন। একটা জীবন্ত বুনো মহিষ আপনার সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়ালে সেটা ঠিক আপনাদের কাছে কোন প্রানী তো নয়, আল্লাহর দেয়া রিজিক, তথা মাংস এসে ধরা দিচ্ছে আপনাদের হাতে! ঠিক কিনা বলেন? সেটা পরিবেশে বিপন্ন কিনা, সেগুলো ধরে খাওয়ার অধিকার আপনার আছে কিনা, সেগুলো থেকে আরো শত শত বংশ বৃদ্ধি হয়ে সম্পদের বৃদ্ধি ঘটবে কিনা তা কিন্তু আপনারা কেউ ভাববেন না। খেতে হবে, আল্লাহ রিজিক হিসাবে দিয়েছে বা পাঠিয়েছে, আর মাংস হলে তো কথাই নেই।
কি ভয়ংকর মানুষ! একটি নীলগাই তার আশ্রয় থেকে পথ ভুলে এসে কি বিপদেই না পড়েছিল! মানুষ দলবেঁধে সেটিকে তাড়া করে আধমরা করে ফেলে প্রথমে, প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে শরীরে একাধিক জখমের শিকার হলো নিরীহ নীলগাই, ক্লান্ত হয়ে পড়লে মানুষ খপ করে ধরে ফেলে, এরপর সেটিকে জবাই করে মাংস খাওয়ার জন্য জিহ্বা লালায়িত হয়ে গেল। সোজা চলে গেল ধাঁরালো ছুরির নীচে, আবার আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই না দিলে তো হালাল হবে না! আল্লাহ কত শখ করে তার প্রিয় মুমিন বান্দাদের জন্য জীবন্ত মাংস পাঠিয়েছে, আল্লাহর বড় নেয়ামত!
কিছু মানবিক, শান্তিকামী, সুবোধ মানুষ সেখানেও ছিল। ছুরি অর্ধেক চালানোর পরে তারা বাঁধা দিলো। পুলিশ, বিজিবি ডাকা হলো, সেটি বেঁচে গেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তত্ত্বাবধানে। গলা অর্ধেক কাটা অবস্থায় এখন পশু চিকিৎসক ও বিজিবির সেবায় সে ক্রমে সুস্থ হয়ে উঠছে। এর আগে পঞ্চগড়ে ভারত থেকে পথভুলে চলে আসা আর একটি লীলগাই মাংসখেকো মানুষের তাড়া খেয়ে ক্লান্ত হয়ে মারাই গেছিল।
মানুষ তো খাওয়ার জন্য কত প্রাণীই পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্তি ঘটিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশেও এক সময় এই নীলগাই বিচরন করতো। মানুষের কারনে সেটি এখন বিলুপ্ত। আর কতো? নীলগাই খাওয়ার ইচ্ছা করলে খামার করে বা গৃহপালিত করে তার বংশ বাড়িয়ে খাওয়ার চিন্তা করুন। বনের পশু ধরবেন আর খাবেন, এতটা বণ্য কি এখনো আছেন আপনারা? আপনারা তো আবার মনে করেন দুনিয়া মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ, সকল প্রানী মানুষের জন্যই তিনি দিয়েছেন, সেজন্য খপাখপ যে কোন কিছু যেভাবে ইচ্ছা খাওয়ার অধিকার আপনাদের আছে। আপনারা কবে মানুষ হবেন?
Related Posts

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today
The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

সোমনাথ থেকে জয়পুরহাট – এক সহস্রাব্দের পুরনো ধ্বংসের ছায়া আজও বিদ্যমান
প্রথম আঘাত গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে, যেখানে আরব সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পাথুরে তটে, সেখানেRead More

For 125 years, the Islamic world has been spinning on the basis of a single false key!
Once I was listening to a sermon by Professor Mufti Kazi Ibrahim Huzur where heRead More

Comments are Closed