
Religion and Freethinking
আয়িশা ও অর্পিতা – মুসলিম ও হিন্দু দুই বোনের মুক্তবাক ও সততার গল্প
আয়িশা ও অর্পিতার বাবা-মা কয়েক বছর প্রেম করে বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে করেছিলেন। কেউ ধর্ম বদলাননি, দুজনেই দুই ধর্ম পালন করেন, একজন মুসলিম, অন্যজন হিন্দু। সন্তানদের বেলায়ও তাঁদের সিদ্ধান্ত ছিল একজন হিন্দু, একজন মুসলিম। তাই আয়িশা মুসলিম, অর্পিতা হিন্দু। দুই বোনের ঘরে ঈদে সেমাই আর পূজায় নাড়ু দুটোই হয়, সঙ্গে হয় তর্ক, আড্ডা। তবে দুজনের কেউই ধর্মান্ধ নয়। আজ বিকেলে ছাদে চায়ের কাপ হাতে সেই তর্ক শুরু হয়েছে।
অর্পিতা: আপা, দেখ, আমি শাড়ি পরে মন্দিরে যাই, তুই বোরকা পরে মসজিদে যাস। কাল রাস্তায় একজন বলল, “ওই যে যাচ্ছে দুই বোন, একজন রঙিন, আরেকজন কালো। পুরো বিপরীত টিম!”
আয়িশা: হা হা! আমরা ধর্মীয় ড্রেস কোডের জন্য দুই সেট ওয়ার্ডরোব রাখি। বাবা-মা আসলে একটা দোকানের দুটো ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলে গেছেন।
অর্পিতা: আর ছুটির দিক থেকে আমরা সুপার রিচ। ঈদের ছুটি, পূজার ছুটি, দুটোই আমাদের ঘরে। আমাদের ক্যালেন্ডারে সাদা পাতা খুঁজে পাওয়াই কঠিন।
আয়িশা: ঠিক! ওই সময় আমাদের বাসায় ঈদের পরদিন পূজার প্রসাদ, আবার পূজার পরদিন ঈদের সেমাই। হজমের সমস্যাটাও আন্তঃধর্মীয়!
অর্পিতা: তবে আমার এবারের শাড়িটা তুই একদিন ধার নিতে পারিস, তোকে অনেক মানাবে, একদিন কালো পোশাক ছেড়ে রঙিন হকয়ে দেখ। পোশাক কিন্তু ধর্মের সম্পত্তি না, পরিবেশ ও সংস্কৃতির। পোশাকের ইতিহাস নিয়ে আমি যা পড়েছি, ধর্ম আসার আগেই বেশিরভাগ পোশাক আঞ্চলিক আবহাওয়া আর সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে চালু ছিল। পরে ধর্ম সেটাকে নিজের ঘরে ঢুকিয়ে নিয়েছে। আরবের তপ্ত মরুতে সারা শরীর ঢাকা কাপড় রোদ আর বালু থেকে বাঁচায়, সেটা বুদ্ধিমানের কাজ ছিল।
আয়িশা: কিন্তু কুরআনে তো সরাসরি নির্দেশ আছে। সূরা নূরের ৩১ আর সূরা আহযাবের ৫৯ আয়াতে ওড়না আর জিলবাবের কথা আছে।
অর্পিতা: আছে, আর ব্যাখ্যা নিয়ে আলেমদের মধ্যেও মতভেদ আছে, তাও জানি। কেউ বলেন মুখ ঢাকা ফরজ, কেউ বলেন শালীন পোশাকই যথেষ্ট। আমার আপত্তি অন্য জায়গায়। মরুভূমির জন্য ডিজাইন করা পোশাক ইউরোপের শীত বা বাংলাদেশের ঘামের মধ্যে কীভাবে কাজ করবে? সৌদি আরব, আমিরাত, ইরানের মতো রোদেলা দেশে নারীদের মধ্যে ভিটামিন ডি-র ঘাটতির হার চমকে ওঠার মতো বেশি। আরবের সূর্যটা তো ফ্রি, কিন্তু গায়ে লাগানোর সুযোগ নেই।
আয়িশা: (হাসতে হাসতে) অর্থাৎ সূর্যদেব ডিস্কাউন্ট অফার দিচ্ছেন আর আমরা কুপন দেখিয়েই ফিরে যাচ্ছি! কিন্তু একটা কথা, শুধু বোরকা দায়ী না। ঘরে থাকা, রোদ এড়ানো আর খাদ্যাভ্যাসও অনেক কিছু। আমার ডাক্তার বান্ধবী বলে, অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা ছেলেদেরও এই সমস্যা।
অর্পিতা: ঠিক, একমাত্র কারণ বলছি না। কিন্তু আমার আপত্তি বাধ্য করায়। তুই নিজে পরলে, সাপ্লিমেন্ট খেয়ে ম্যানেজ করলে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইরান আর আফগানিস্তানে কী হচ্ছে দেখ। বাংলাদেশেও যেভাবে সোস্যাল মিডিয়ায় সবাই জ্ঞান দিতে আসে, অপমান করে, লাঞ্চনা করে তা রিতীমতো বিরক্তিকর।
আয়িশা: ওখানে যা হচ্ছে সেটা অন্যায়। হিজাবের কারণে মাহসা আমিনির মতো মেয়েকে প্রাণ দিতে হওয়া ইসলামের নামে নির্যাতন। আমি হিজাব পরি কারণ আমি চাই। অন্যকে বাধ্য করার অধিকার আমার নেই।
অর্পিতা: এই তো! এখানে আমরা এক। যে যা খুশি পরুক, শাড়ি, বোরকা, জিন্স, ধুতি, লুঙ্গি বা প্যান্ট, টি-শার্ট। কিন্তু পোশাক দেখে কাউকে ভালো মানুষ ভাবলে ঠকতে হয়।
আয়িশা: আমাদের পাড়ার সেই লম্বা দাড়িওয়ালা চাচার কথা মনে আছে? সবাই বলে “কী নেককার মানুষ!” অথচ উনি ভেজাল সরিষার তেল বেচেন। তেলে সরিষা কম, ধর্ম বেশি! জিয়াউল অংকেল ধর্মীয় কথা ছাড়া বলেনই না, তার শত কোটি টাকার সম্পদ কিভাবে আসলো? ছিল তো সামান্য ট্যাক্স অফিসার!
অর্পিতা: আর আমাদের মন্দিরের পাশের তিলক-ধারী দাদা? সকালে ঘণ্টা বাজান, দুপুরে জমির দলিল ঘাঁটেন, রাতে প্রতিবেশীর জমির সীমানা সরান। ভগবান ওনাকে ক্ষমা করুন, সীমানা ফেরত না দিলে হয়তো ক্ষমা পাবেন না।
আয়িশা: হা হা! পোশাকটা যত ধার্মিক, ফাইলটা তত দাগি।
অর্পিতা: এক নারীর পোশাক পরা নিয়ে কি এক মব হয়ে গেল সেদিন! মব সন্ত্রাসের ব্যাপারটা ভাব। মাজার ভাঙা, কথিত অবমাননার অভিযোগে মানুষকে পিটিয়ে মারা, এসব আমরা সবাই দেখেছি। যারা করে, তাদের অনেকেই নিজেকে ধার্মিক ভাবে।
আয়িশা: আর ওদের দিয়ে পুরো ধর্মকে বিচার করা অন্যায়। আমাদের নামাজি ফুফু সারা জীবন গরিব প্রতিবেশীদের খাবার পাঠান, কাউকে কখনো ঠকাননি, কোন মানুষকে কষ্ট দেন না, কখনো ঢাক পেটাননি। যাঁর কাছে ধর্ম সৎ থাকার ভিত্তি, তিনি সমাজের সম্পদ।
অর্পিতা: মানি। আমাদের ঠাকুমাও তাই, তার সমস্ত অন্তরজুড়ে মানুষের মঙ্গল কামনা, পারলে নিজের খাবারটাও দিয়ে দেন অন্যকে। কিন্তু এমন বিবেকবান মানুষ আর কয়জন? ধর্ম না থাকলেও এরা এমনই হতো। কিন্তু একটা পরিসংখ্যান দেখ। নেদারল্যান্ডসে অর্ধেকের বেশি মানুষ নিজেকে কোনো ধর্মের অনুসারী বলে না। অথচ দেশটা নিরাপদ, গোছানো আর সমৃদ্ধ। শুনেছি ওদের জেলখানা নাকি কয়েদির অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জেলের ম্যানেজাররা বলছে, “গ্রাহক নেই, দোকান বন্ধ!”
আয়িশা: দাঁড়া, দাঁড়া। আমি শুনেছি ওরা শান্তি সূচকে এক নম্বরে। এটা কি সত্যি?
অর্পিতা: এই জায়গায় তুই ধরে ফেললি। গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬-এ নেদারল্যান্ডস ১৭তম, গত বছরের চেয়ে তিন ধাপ নিচে। সবার ওপরে আইসল্যান্ড, আইসল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ৪০% থেকে ৪৪% মানুষ নিজেদের ধর্মহীন বা নাস্তিক মনে করেন। নেদারল্যান্ডস এর ১৭ নম্বরও কম না, ১৬৩টা দেশের মধ্যে। আর জেল বন্ধের ব্যাপারটা সত্যি। গত কয়েক বছরে সেখানে ১৯টা জেল বন্ধ হয়েছে।
আয়িশা: তাহলে “ধর্ম না থাকলে অপরাধ বাড়ে” প্রমাণ হলো না – এই জিনসটাই ধর্মান্ধরা বুঝতে চায় না, তারা গায়ের জোরে পরিসংখ্যান, বাস্তবতা সব ঠেলে সরায়।
অর্পিতা: আমার বক্তব্যও একই দিকে। “ধর্ম না থাকলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে” এই ভয় দেখানোটাও টেকে না। শান্তি আসে ন্যায্য আইন, শিক্ষা, সমতা আর কম দুর্নীতি থেকে। ধর্ম থাকুক বা না থাকুক, এই প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক না থাকলে সব বৃথা।
আয়িশা: মানলাম। এবার আমার প্রিয় অংশে আসি। আমাদের এক আত্মীয় বলছিলেন, মেয়েদের পোশাক ছোট হওয়ায় নাকি আল্লাহ রেগে ভূমিকম্প দেন।
অর্পিতা: তাহলে তো জাপান আর চিলিতে ঘন ঘন ভূমিকম্প হয় কারণ ওখানকার মেয়েরা সবাই ফ্যাশন-পাপী? আর ওদিকে ভূমিকম্পের “অ্যালার্ম” শুধু ছোট পোশাকেই বাজে? বাজার কম্পনমাপক যন্ত্র তাহলে ফ্যাশন ম্যাগাজিন পড়ে চলে!
আয়িশা: আর যুক্তিটা উল্টে দেখ। তুরস্ক-সিরিয়ায় ২০২৩ সালের ভূমিকম্পে পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। একই বছর আফগানিস্তানের হেরাতেও ভূমিকম্প হয়েছে, যেখানে তালেবানের কঠোর পোশাকবিধি আছে। পাকিস্তানে ২০২২ সালের বন্যায় সতেরো শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
অর্পিতা: তাহলে “পোশাকের কারণে গজব” তত্ত্ব মানলে ধরতে হয়, কঠোর পোশাকবিধির দেশেও গজব আসে। মানে গজব মনে হচ্ছে ইসলামী, সেক্যুলার, ধর্মনিরপেক্ষভাবে সবার কাছেই যায়!
আয়িশা: আসল কথা হলো মৃত্যুর সংখ্যা নির্ভর করে বিল্ডিং কোড, আগাম সতর্কতা আর প্রস্তুতির ওপর। ফিতা মেপে নয়। জাপানে বড় ভূমিকম্পেও মৃত্যু তুলনামূলক কম, কারণ ওদের ভবন নিয়ম মেনে বানানো। মানব ইতিহাসে রেকর্ড করা সবথেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প চিলির ৯.৫ মাত্রার ১৯৬০ সালের ভালদিভিয়া ভূমিকম্প, মারা গেছিল ১৭০০ মানুষ, ২০১০ সালে ৮.৮ মাত্রায় মারা যায় ৫২৫ জন। আবার আল্লার আইনে চলা, কঠোর নারী পোশাকের দেশ আফগানিস্তানের মাত্র ৬.৫ মাত্রার ১৯৯৮ সালের তাখার ভূমিকম্পে মারা যায় ৪৫০০ মানুষ। তুরস্কে ২০২৩ সালে ৭.৮ মাত্রার কম্পনে মারা গেছেন ৫৩,৫৩৭ জনের বেশি মানুষ।
অর্পিতা: আর আমাদের বাংলাদেশই সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে তিন লাখের মতো মানুষ মারা গিয়েছিলেন, তখন তো দেশ ছিল কট্টর ইসলাম মেনে চলা পাকিস্তানের হাতে। বাংলাদেশ হওয়ার পরে এখন সাইক্লোন শেল্টার আর আগাম সতর্কবার্তায় সেই সংখ্যা অনেক গুণ কমেছে। কারও পোশাক বদলাতে হয়নি, বদলাতে হয়েছে প্রস্তুতি।
আয়িশা: ঝড় আসার আগে সাইরেন শুনে শেল্টারে যাওয়া যায়, কিন্তু আলনা ঘেঁটে “ঝড় থামানোর পোশাক” খুঁজে পাওয়া যায় না!
অর্পিতা: (হাসতে হাসতে) প্রার্থনার সঙ্গে শেল্টারও বানাও। শুধু প্রার্থনা করে বসে থাকলে বাতাস শুনবে না।
আয়িশা: এবার আসল জায়গায় আয়। তুই যে ব্লগের রেফারেন্স পড়ছিলি, ইসলামে নারীর মর্যাদা নিয়ে, কি পেলি?
অর্পিতা: ব্লগটা মুক্তচিন্তার দৃষ্টিভঙ্গিতে লেখা, নিরপেক্ষ গবেষণা হিসাবে তুই হয়তো মানবি না, ইসলামিস্ট বলে কথা! তবু অনেক উদ্ধৃতি আসল গ্রন্থ থেকেই নেওয়া। যেমন সূরা নিসার ১১ নম্বর আয়াতে ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ উত্তরাধিকার পায়। সূরা বাকারার ২৮২-তে আর্থিক লেনদেনে দুজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান ধরা হয়েছে। সূরা নিসার ৩ নম্বরে পুরুষের একাধিক বিয়ের অনুমতি আছে। আর ৩৪ নম্বরে স্ত্রীকে প্রহারের একটা বিতর্কিত বিধান আছে।
আয়িশা: আমার কিছু জবাব আছে। শুনবি তো?
অর্পিতা: অবশ্যই। আমি তর্ক করতে চাই, জিততে চাই না। জিততে চাইলে তোকে ঘুষ দিতে হবে, আর আমার কাছে শুধু আধখানা ঝালমুড়ি আছে।
আয়িশা: ঝালমুড়িতে রাজি! প্রথমত, সপ্তম শতকের আরবে মেয়েরা সম্পত্তির অংশই পেত না, ইসলাম প্রথম অংশ দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, ছেলের ওপর পরিবারের ভরণপোষণের দায় থাকে, মেয়ের ওপর থাকে না। এই যুক্তিতে বিধানটা। তৃতীয়ত, ৩৪ নম্বর আয়াতের “দারাবা” শব্দের অর্থ নিয়ে অনেক আধুনিক স্কলার বলেন এর অর্থ আলাদা হয়ে যাওয়াও হতে পারে। আর নবীর প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.) ছিলেন সফল ব্যবসায়ী।
অর্পিতা: আমি মানি, সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এটা অগ্রগতি ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো একবিংশ শতাব্দীতে এই আইন কতটা মানানসই? আমাদের দুজনের মেধা, কাজ, দায়িত্ব সমান হলেও শুধু লিঙ্গ দেখে আমাকে বেশি আর তোকে কম দিতে হবে, এটা কি ন্যায্য মনে হয়?
আয়িশা: (একটু থেমে) এখানে আমি পুরোপুরি জবাব দিতে পারছি না। অনেক আলেম বলেন আইন বদলানো যাবে না। আবার অনেক আধুনিক চিন্তাবিদ বলেন কুরআনের মূল চেতনা ন্যায়বিচার, আক্ষরিক বিধান নয়। আমি দ্বিতীয় দলের দিকে ঝুঁকি।
অর্পিতা: হাদিসে আরও জটিলতা। বুখারীর একটি হাদিসে আছে, যে জাতি নারীকে শাসক বানায় তারা সফল হয় না। এটা নিয়ে এখনো অনেক গোঁড়া আলেম বলেন নারীর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া জায়েজ নয়। অথচ বাংলাদেশে দীর্ঘদিন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টো, তুরস্কে তানসু চিলার।
আয়িশা: তাহলে ওই হাদিস মানলে আমাদের দেশ কতবার “ব্যর্থ” হওয়ার কথা ছিল! অথচ দেশ চলছে, আবার সেই দেশেই আমরা তর্ক করছি। আরেকটা হাদিসে নারীর “বুদ্ধির ঘাটতি”র কথা আছে। ব্যাখ্যায় কেউ বলেন সেটা সাক্ষ্যের আইনি বিধান নিয়ে। আজকের দিনে শুনলে অনেক নারীর কষ্ট হয়, আমারও হয়, কোন ধর্মের স্রষ্ঠা নারীদের এভাবে দেখেন, সেটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় না।
অর্পিতা: আর আমি শুধু ইসলামকে নিশানা করছি না। মনুস্মৃতিতে নারীর স্বাধীনতা নিয়ে যেসব কথা আছে সেগুলোও সমান আপত্তিকর। সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, বিধবাদের বঞ্চনা, এগুলো আমাদের ঘরেরই ইতিহাস, যদিও এগুলো এখন অতীত, হিন্দুদের কেউ আর এই সমস্ত কুপ্রথাকে জায়িয়ে তোলে না বা ইসলামের মতো দাবী করে না সেগুলো সবসময়ের জন্য মানতেই হবে। তবে নিরপেক্ষতার স্বার্থে আয়িশাকে প্রশ্ন করলে অর্পিতাকেও করতে হবে। কিন্তু স্রষ্টার বিধানের থেকে মানুষের ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা!
আয়িশা: (হাসতে হাসতে) মানে আমরা দুজনে একই ক্লাসে “ধর্মীয় বৈষম্য” নিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিচ্ছি!
অর্পিতা: হ্যাঁ, আর স্যারকে বলছি, “স্যার, দুই ধর্মের খাতাই আমরা কাটছি, দুই ধর্মের ভালো উত্তরের জন্য নম্বরও দিচ্ছি!”
আয়িশা: আমার বিরোধ ধর্মের সঙ্গে নয়, বরং “আমার ধর্ম নিখুঁত, প্রশ্ন করা যাবে না” মানসিকতার সঙ্গে।
অর্পিতা: আর যারা প্রশ্ন করে, তাদের জবাব যুক্তি দিয়েই দিতে হবে, হুমকি বা হামলা দিয়ে নয়, দুঃখজনক হলেও সত্য ইসলাম এখনো যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দেয়ার রেওয়াজ গড়ে তুলতে পারেনি। অভিজিৎ রায়ের মতো মানুষদের কথা মনে পড়ে, কত বড় একজন সম্পদ আমরা হারালাম।
আয়িশা: ঠিক। যুক্তির জবাব যুক্তি। ফেসবুকের কমেন্টে “জাহান্নামে যাবি” লিখে দিলে তর্ক জেতা যায় না, শুধু ফোন গরম হয়।
অর্পিতা: তাহলে আমাদের চুক্তি পাকা। তুই আল্লাহর কাছে যাবি, আমি ঠাকুরের কাছে। কিন্তু দুজনেই সৎ থাকব, আইন মানব, কাউকে ঠকাব না।
আয়িশা: আর কেউ কাউকে কী পরতে হবে বলব না। শাড়ি, বোরকা, জিন্স, যা খুশি। টিপ, শাখা, সিঁদুর যা ইচ্ছা পরতে পারবে।
অর্পিতা: আর অন্যকে বিচার করার আগে নিজের বিবেক ঠিক রাখব, কারণ বিবেক তো সবচেয়ে কড়া চেকপোস্ট। বিবেকবান মানুষের ধর্ম লাগে না।
আয়িশা: তাহলে চল, মায়ের হাতের পিঠা খেয়ে আসি। যে ধর্মেই বিশ্বাস করি, পিঠায় সবার সম্মতি আছে।
অর্পিতা: পিঠাই আমাদের একমাত্র সর্বজনীন ধর্ম! আর যে বেশি খাবে, সে বেশি পুণ্য পাবে… তবে হিসাবটা কীভাবে হবে, সেটা মা জানেন!
Related Posts

Ayisha and Arpita: A Story of Free Expression and Honesty Between Two Sisters, One Muslim and One Hindu
Ayisha and Arpita’s parents had dated for several years before marrying under Bangladesh’s Special MarriageRead More

Operation Entebbe – the story of one night, and the Islamic execution suffered by Nazrul Islam and Sweety Akter
What can a state do to save the lives of its citizens abroad? Are thereRead More

অপারেশান এন্টেবে – এক রাতের গল্প এবং নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের ইসলামি হত্যার শিকার হওয়া!
একটি রাষ্ট্র বিদেশে তার নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে কী করতে পারে? এর কোন টেক্সটবুক উদাহরণ আছে?Read More

Comments are Closed