Muhammad
Muhammad Married His Daughter‑in‑Law

Muhammad Married His Daughter‑in‑Law

নবী মুহাম্মদ পুত্রবধূ জয়নবকে বিয়ে করেছিল কেন? স্রেফ যৌনতার আকর্ষনে নাকি মহৎ উদ্দেশ্যে?

আমরা যখন বলি নবী মুহাম্মদ তার পুত্রবধূকে বিয়ে করার জন্য খায়েশ করেন তখন সেটা ছিল স্রেফ তার উন্মাদ যৌন তাড়নার ইচ্ছাপূরণ – তখন মুমিন ভাইরা যুক্তি দেন যে পালক পুত্র যে নিজের পুত্র হয় না আল্লাপাক সেটা দেখানোর জন্য এই ঘটনা ঘটান। ইসলামী প্রতারণাপূর্ণ বয়ানে যাকে জাহেলিয়া যুগ বলা হয়, তখন আরবে দত্তক পুত্রদের নিজের পুত্র হিসাবেই দেখা হতো, এবং পুত্রবধূদের বিয়ে করা ছিল নিষিদ্ধ। এখন বলেন, কোনটা বেশি মানবিক? তথাকথিত জাহেলিয়া যুগের দত্তক পুত্র কন্যাদের আপন পুত্র কন্যার চোখে দেখার প্রথা নাকি ইসলাম প্রবর্তিত নোংরামি যেখানে পালিত কন্যাকেও বিয়ে করা যায়?

আল্লাহ কি চাইলেই এক আয়াত পাঠিয়ে তার প্রবর্তিত কুপ্রথা চাপিয়ে দিতে পারতেন না? তার জন্য মুহাম্মদের যৌনতার খায়েশ পূরণের এতো নাটক করতে হলো কেন? জায়েদকে মুহাম্মদ নিজের ছেলে বলেই পরিচয় দিতো। জয়নব ছিলেন মুহাম্মদের আপন ফুফু উমাইমা বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা। তার বিধবা ফুফাতো বোন জয়নবের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই আল্লাহর আয়াত ডাউনলোড করে জোর করেই জায়েদের সঙ্গে জয়নবের বিয়ে দেয় মুহাম্মদ। বোঝা যায় তখনো জয়নবের প্রতি মুহাম্মদের যৌন খায়েশ ছিল না, থাকলে নিজেই বিয়ে করতো। এর আগে জায়েদকে মুহাম্মদ উম্মে আয়মান নামক এক নারীর সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন, যিনি ছিলেন মুহাম্মদের পিতা আবদুল্লাহর যৌনদাসী ও তিনি মুহাম্মাদকে মাতৃস্নেহে মানুষ করেছিলেন। মুহাম্মদ ও তার সাহাবীদের বিয়ে ও যৌনতার সম্পর্কগুলো খুবই জটিল! সহজে কেউ বুঝবে না।

পুত্রবধূর সঙ্গে সংসারের ঘটনা শুরু হয় – মুহাম্মদ যখন আগে থেকে না জানিয়ে হঠাৎ একদিন দিনের বেলা ছেলের বাসায় যান, ছেলে বাড়িতে ছিল না। বাবা হিসাবে যেতেই পারেন। কিন্তু তিনি গিয়ে দেখেন পুত্রবধূ অর্ধনগ্ন বা পাতলা কাপড় পরিহিত। এ দেখে সুস্থ, ভদ্র শ্বশুরের উচিৎ না দেখার ভান করে অন্যদিকে ফেরা ও এমন ভাব করা যেনো কিছুই দেখেননি। কিন্তু মুহাম্মদ তথাকথিত যৌনকাতর লম্পটের মতো বলতে থাকে – সুবানাল্লাহ, জানতামই না তোমার ফিগার এতো সুন্দর! মাশাআল্লাহ আল্লাহ তোমাকে কী সুন্দর করে বানিয়েছে! যেমনটি বলে ফেসবুক লম্পটগুলো নারীদের পটানোর চেষ্টা করে! এগুলো তাবারী তার সিরাত ও তাফসির গ্রন্থে লিখেছেন, আমাদের কথা না। ঠিক এই ভাষায় লেখেননি, তবে এমনই লিখেছেন। আমরা ‘লাগানো’ শব্দ ব্যবহার করলেও ধর্মীয় বইতে তো একটু রেখে ঢেকে ভদ্র শব্দ ব্যবহার করবে, তাই না? আমি তো কোন ঐতিহাসিক বই লিখছি না যে ধর্ষণকে বলবো নবীর উপর সমার্পন করা! তাবারী বলেছেন মুহাম্মদ শরীর দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন, আংশিক অনাবৃত বা হালকা/পাতলা পোশাক পরে ছিলেন জয়নব, এতে কী বোঝায়? তখন তো নারীদের পর্দা করার বিধান চালু হয়নি। হাত, মুখ, গলা, পেট দেখা গেলে কি আংশিক অনাবৃত বা হালকা পোশাক বলে কেউ? ধরেন বাঙালি নারীরা শাড়ি পরা থাকলে কেউ বলবে অনাবৃত পোশাক? আলাদা করে পোশাকের বর্ণনা কেউ কখন দেয়? বলতে পারতো আকর্ষণীয় পোশাক বা ঘরের পোশাক, তা কিন্তু বলেননি তাবারী।

আল-তাবারী (মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী, মৃত্যু ৯২৩ খ্রি.) তার বিখ্যাত তারিখ আল-রুসুল ওয়াল মুলুক (History of the Prophets and Kings) এবং তাফসীরে এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাবারী ইসলামী ঐতিহাসিকদের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য এবং বিস্তৃত সূত্রসমৃদ্ধ লেখক। সমালোচকদের দৃষ্টিতে তাবারীর বর্ণনাগুলো ইসলামের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও নবীর ব্যক্তিগত জীবনের “মানবীয়” (বা সমালোচকদের ভাষায় লোভী/সুবিধাবাদী) দিকগুলো উন্মোচিত করে।

তাবারী বর্ণনা করেন যে, নবী মুহাম্মদ জয়নবকে (তাঁর ফুফাতো বোন) জায়েদের (তাঁর মুক্ত দাস ও দত্তক পুত্র) সাথে বিয়ে দেন। জয়নব প্রথমে আপত্তি করেন বংশগত পার্থক্যের কারণে (জায়েদ ছিলেন দাস বংশোদ্ভূত)। কিন্তু কুরআনের আয়াত (সূরা আহজাব ৩৬) নাজিল হওয়ার পর তিনি রাজি হন। বিয়ে হয় মদিনায়।

তাবারী ( Volume 8 ) এর একটি বিখ্যাত বর্ণনায় বলা হয়েছে: নবী একদিন জায়েদের বাড়িতে গিয়ে জয়নবকে (আংশিক অনাবৃত বা হালকা পোশাকে) দেখেন। তিনি মুগ্ধ হয়ে বলেন, “সুবহানাল্লাহ, যিনি হৃদয় পরিবর্তন করেন!” জয়নব এটি জায়েদকে জানালে জায়েদ ডিভোর্স দিতে চান। নবী প্রথমে তাকে বারণ করেন (“তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রেখে দাও”), কিন্তু পরে জয়নবকে নিজে বিয়ে করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা আহজাব ৩৭ নাজিল হয়, যাতে দত্তক পুত্রের স্ত্রী বিয়ে করার বাধা দূর করা হয়।

মদিনার মহা পরাক্রমশালী শাসক যার কথা, কাজ ও ইচ্ছা আল্লাহর কথা, কাজ ও ইচ্ছা – তিনি একটা খায়েশ করলে তার বিপক্ষে কথা বলার সাধ্য কার ছিল? জয়নব বুঝে গেছিলেন কী ঘটতে যাচ্ছে, জয়েদও বুঝতে পেরেছিলেন। মুহাম্মদ নামকাওয়াস্তে নিজের সৃষ্ট সমস্যাকে তাদের দাম্পত্য সমস্যা হিসাবে দেখিয়ে কাউন্সেলিং করতে গিয়ে নিজেই তার বউকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে নিয়ে নেন। এই ঘটনাটিকে অনেকে এই সময়ের এক ইসলাম প্রচারকের কাহিনী দিয়ে বর্ণনা করেন।

উসমান ইবনে ফারুক (Uthman Ibn Farooq)। তিনি বর্তমান সময়ের একজন জনপ্রিয় আমেরিকান ইসলামিক বক্তা, দাঈ (ইসলামের দাওয়াত প্রদানকারী) এবং গবেষক। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ওয়ান মেসেজ ফাউন্ডেশন’ (One Message Foundation)-এর প্রতিষ্ঠাতা, যেখানে তিনি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে ইসলাম নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক (Debate) করে থাকেন। একবার এক দম্পতির পারিবারিক বিরোধের সমাধানের জন্য কাউন্সেলিং করতে গিয়ে উনি সেই নারীকে ফুসলিয়ে বিয়ে করে বসেন। সেই থেকে এটা বহুল প্রচলিত একটা উদাহরণ পশ্চিমা দুনিয়ায়।

নবী মুহাম্মদ জয়নবের শরীরের অংশ দেখে এতোই উত্তেজিত ছিলেন যে সেই বিয়েতে উনি সবচেয়ে বড় আয়োজন করে সবাইকে খাইয়েছিলেন। ক্ষণে ক্ষণে ইনস্ট্যান্ট কোরআনের আয়াত ডাউনলোড হচ্ছিলো। এতো দ্রুত আয়াত অন্য সময় ডাউনলোড হয়েছে বলে মনে হয় না। মুহাম্মদের শিশু স্ত্রী আয়েশা ও তরুণ সাফওয়ান মরুভূমিতে এক রাত কাটিয়ে ফিরে আসার পরে সবাই যখন পরকীয়ার কথা বলাবলি করছিল তখন দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় কোন আয়াত আসেনি, কারণ মুহাম্মদ সে সময় বিষন্ন থাকতো। মুহাম্মদের মর্জির উপর নির্ভর করতো কখন আয়াত ডাউনলোড হবে।

বিয়ের দিন সবাইকে দাওয়াত খাওয়ানো হলো। খাওয়ার পর কিছু সাহাবী চলে না গিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো। সম্ভবত পান জাতীয় কিছু খাচ্ছিলো আর খোশগল্প করছিল। ওদিকে কামাসক্ত নবী মুহাম্মদ সাবেক পুত্রবধূ ও নতুন বউয়ের সঙ্গে শোয়ার জন্য অস্থির হয়ে আছে। এমন সময় এক সাহাবী আড্ডার ছলে অন্য একজনের সঙ্গে বলছিল নবী মারা গেলে উনি আয়েশাকে বিয়ে করবেন। এই কথাও নবীর কানে যায়। নবী ভীষণ বেজার হন। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ আয়াত পাঠিয়ে দিলেন, একেবারে ইনস্ট্যান্ট – ৩৩:৫৩! বউয়ের সঙ্গে শোয়া ও তার বউদের যেনো কেউ বিয়ে বা করতে পারে – আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিলেন। সাহাবীরা বিদায় হলো, নবী মুহাম্মদ সাবেক পুত্রবধূর সঙ্গে শুয়ে পড়লেন।

হাদিসের বর্ণনায় ঠিক এভাবেই আছে। নবী তার নতুন স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটাতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু সাহাবীদের দীর্ঘ সময় বসে থাকা সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত লজ্জাশীল হওয়ায় সরাসরি মুখ ফুটে তাদের চলে যেতে বলতে পারছিলেন না। তিনি ঘর থেকে বের হয়ে অন্য স্ত্রীদের হুজরা বা ঘরগুলো ঘুরে আবার ফিরে আসেন, কিন্তু এসে দেখেন তারা তখনও গল্প করছেন। তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাজিল করেন, যেখানে সরাসরি বলা হয় যে এভাবে দীর্ঘ সময় অযথা বসে গল্প করা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বিরক্ত করে।

এখন বলেন, অপনাদের কী মনে হয় – একটা প্রায় ৬০ বছরের বুইড়া, যার ৯-১৩ বউ আছে, ৪+ যৌনদাসী আছে – সে কি রোমান্টিক প্রেমে মশগুল হয়ে জয়নবের জন্য অস্থির হচ্ছিলো? বিয়ের জন্য কী এক উত্তাল উন্মাদনাময় শারীরিক আকর্ষণ কাজ করছিলো যার জন্য সন্তান দত্তক নেয়ার মতো একটা মানবিক ও সুন্দর বিষয় ও সেই সময়ের প্রথাকে রেড কার্ড দেখালো আল্লাহ!

সমালোচকরা (যেমন আধুনিক পশ্চিমা ইতিহাসবিদ, আনসারিং-ইসলাম ট্র্যাডিশন বা সেক্যুলার বিশ্লেষকরা) এই ঘটনাকে নবীর ব্যক্তিগত লালসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখেন। জায়েদকে “পুত্র” বলে ডাকা হতো। জয়নবকে মুহাম্মদের স্ত্রী বানানো সমাজে বড় কেলেঙ্কারি ছিল। তাবারীসহ সূত্রে যে “দেখে ফেলা”র গল্প আছে, তা সমালোচকদের কাছে প্রমাণ করে যে নবী নিজের যৌন আকর্ষণ গোপন করতে পারেননি এবং ঐশী আয়াত নাজিল করে নিজের জন্য সুবিধা করে নিয়েছেন। “আল্লাহ তোমার জন্য যা গোপন রেখেছিলেন তা প্রকাশ করলেন” – এই আয়াতকে অনেকে সুবিধাবাদী বলে মনে করেন।

নবী জায়েদকে “স্ত্রীকে রেখে দাও” বললেও শেষ পর্যন্ত জয়নবকে তারই ঘরে নিয়ে আসেন। সমালোচকদের ভাষায়, এটি মধ্যস্থতার নামে স্ত্রী হরণের মতো। তাবারীর বর্ণনায় নবীর “হৃদয় পরিবর্তন” এবং পরবর্তী আয়াত নাজিল – এগুলোকে মানুষকে ভয় করে গোপন করা কামনার প্রকাশ বলা। মুসলিমরা বলেন দত্তক প্রথা বাতিল করার জন্য। সমালোচকরা বলেন, এটি নিজের বিয়ে বৈধ করার অজুহাত। জয়নব ছিলেন সুন্দরী এবং নবীর আত্মীয়া – এতে বংশীয় ও যৌন উভয় সুবিধাই ছিল।

তাবারীর মতো প্রাথমিক সূত্রগুলোতে এই ঘটনা যেভাবে বর্ণিত, তা ইসলামের সমালোচকদের জন্য শক্তিশালী অস্ত্র। পাঠক নিজে সূত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। ইতিহাস বিতর্কিত, এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয়, নিজে খুঁজে সঠিকটা জানুন। নিজের কমন সেন্স, বিবেক, শিক্ষা, জ্ঞান দিয়ে যাচাই করুন – যদি সেসব থাকে!

Related Posts

Nonsense Terms in Islam

Islam contains many nonsense terms, and even those are not its own; they are borrowed from neighboring civilizations and mythologies

In English there are many nonsense rhymes, like “Humpty Dumpty sat on a wall.” InRead More

Nonsense Terms in Islam

ইসলামে অনেক ননসেন্স টার্মস আছে, সেগুলোও আবার নিজের না; পার্শ্ববর্তী সভ্যতা, মিথলজি থেকে ধার করা

ইংরেজিতে অনেক ননসেন্স রাইমস আছে, যেমন হামটি ডামটি স্যাট অন এ ওয়াল। বাংলায়ও আছে অনেক,Read More

Except for Muhammad’s sexual life, almost everything in the Qur’an is borrowed! Nobody knew that Muhammad was such a great kutub

1400 years ago, in the harsh, famine‑stricken Arabia, scattered Bedouin people lived there. Because theRead More

Comments are Closed