
Islam Called Microphones Haram
ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম প্রায় সময়ই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের বিরোধীতা করেছে, তারা মাইক ব্যবহারকেও হারাম বলেছিল!
আমি যখন ক্লাস সিক্স-সেভেনে পড়ি তখন আব্বা বাংলা ব্যাকরণের জ্ঞান বাড়ানোর জন্য উচ্চ ক্লাসের একটা বই কিনে দিয়েছিলেন। ডক্টর আনিসুজ্জামান ও অজিত কুমার গুহ রচিত ‘নতুন বাংলা রচনা’ নামক সেই বইয়ে একটি প্রবন্ধ আছে ‘বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব’ বা এমন শিরোনামে, এতোদিন পরে শিরোনাম ভুল হতে পারে। সেখানে একটা লাইন ছিল এমন – “শ্যাওড়া গাছের ভূতে যার অগাধ আস্থা তিনি মানুষের চাঁদে গমনকে দেখবেন খোদার উপরে খোদাকারি হিসাবে।” জীন-ভূত-প্রেতে যাদের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস, তারা বিজ্ঞানের সব আবিষ্কারেই প্রথমে বিরোধিতা করে। ক্যামেরা আবিষ্কারের পরেও এর ব্যবহার মুসলমানদের জন্য হারাম ঘোষনা করেছিল। কিন্তু এখন মুসলিম স্কলার নামের ধর্ম ব্যবসায়ী আহমাদুল্লাহ, আজহারিদের সেই ক্যামেরার ব্যবহার, প্রতিদিন নিত্য নতুন ভিডিও, ছবি দেয়া ছাড়া চলে না। সোস্যাল মিডিয়ায় তাদের ইনকাম বাড়ানোর জন্য আজহারিরা তাদের স্ট্যাটাস শেয়ার দেয়াকেও এখন ইবাদতের অংশ বলে প্রচার চালান। অথচ ভিডিও অনেকগুলো ছবির সমষ্টি যা ইসলামে হারাম।
তুমি প্রানীর ছবি তুলেছো, ছবি এঁকেছো, ভাস্কর্য, মুর্তি বানিয়েছো – এখন জীবন দাও! কতো মন গাঞ্জা খেলে এমন যুক্তি দেয়া যায়? এই যুক্তি দেয় ইসলাম। যাক বাদ দেন, প্রসঙ্গে আসি, এখন ভোর রাতে সবার ঘুম নষ্ট করে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করা আজান না দিলে বা ওয়াজ মাহফিলের ‘চিল্লায়ে বলেন ঠিক কিনা’ তিন কিলোমিটার দূরের আপনার ঘরের দূয়ার পর্যন্ত পৌঁছে না দিলে যাদের চলে না তারা একসময় এই অতি প্রয়োজনীয় ‘মাইক’ বা মাইক্রোফোনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল, একে হারাম ঘোষনা করেছিল। উন্নত বিশ্বে এখন মাইকের ব্যবহার খুব রেয়ার, শব্দ দুষণকে তারা অপরাধ হিসাবে নেয়, অন্যদিকে মুসলমানদের কাছে একদা হারাম মাইক এখন ইসলাম রক্ষার হাতিয়ার।
আধুনিক সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো মাইক্রোফোন বা মাইক – এমন একটি যন্ত্র যা মানুষের কণ্ঠস্বরকে বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আজ বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো মসজিদে ফজরের আজান থেকে শুরু করে রাতের ওয়াজ মাহফিল – সবখানেই মাইকের উপস্থিতি এতটাই স্বাভাবিক যে, এটি ছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠান কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু এই ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানুদের মাইক ব্যবহারের ইতিহাস বেশ জটিল এবং কৌতূহলোদ্দীপক। একসময় মুসলিম আলেম সমাজ এই যন্ত্রটিকে হারাম বলে ঘোষণা করেছিলেন, আর কয়েক দশকের মধ্যেই সেই একই সমাজ এটিকে ধর্মীয় জীবনের অপরিহার্য অংশ করে নিলেন। এই প্রবন্ধে সেই আকর্ষণীয় ইতিহাসের সন্ধান করা হবে।
মাইক্রোফোনের আবিষ্কার
মাইক্রোফোনের আবিষ্কারের ইতিহাস একক কোনো ব্যক্তির গল্প নয়, বরং এটি একাধিক উদ্ভাবকের সমান্তরাল প্রচেষ্টার ফসল। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে টেলিফোনের উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গেই মাইক্রোফোনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।
১৮৭৬ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল প্রথম মাইক্রোফোনের পেটেন্ট করেন, যেখানে একটি চলমান ধাতব আর্মেচার ব্যবহার করে শব্দতরঙ্গকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করা হত। ওই একই বছর জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান উদ্ভাবক এমিল বার্লিনার একটি কার্বন-বাটন মাইক্রোফোন তৈরি করেন, যা ছিল প্রথম সত্যিকারের ব্যবহারযোগ্য মাইক্রোফোন। ইংল্যান্ডে ডেভিড এডওয়ার্ড হিউজ স্বাধীনভাবে প্রায় একই সময়ে কার্বন মাইক্রোফোন আবিষ্কার করেন এবং “মাইক্রোফোন” শব্দটি তিনিই প্রথম প্রচলন করেন।
থমাস এডিসন ১৮৭৮ সালে কার্বন গ্রানিউল ব্যবহার করে মাইক্রোফোনের মান আরও উন্নত করেন। পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ১৮৯১ সালে বার্লিনারকে এবং পরের বছর এডিসনকে মাইক্রোফোনের মূল উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় – যদিও এই বিতর্ক পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।
১৯২০-এর দশকে রেডিও সম্প্রচারের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোফোন প্রযুক্তিতে বিপ্লব আসে। ১৯২৪ সালে প্রথম বাণিজ্যিক লাউডস্পিকার বাজারে আসে এবং ১৯৩১ সালে ওয়েস্টার্ন ইলেকট্রিক উচ্চমানের মুভিং-কয়েল মাইক্রোফোন তৈরি করে। এর পর থেকেই জনসভায় মাইকের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়।
ভারতীয় উপমহাদেশে মাইকের আগমন
ভারতীয় উপমহাদেশে মাইক ও লাউডস্পিকারের আগমন ঘটে মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের মধ্য দিয়ে, বিশেষত রেডিও সম্প্রচারের হাত ধরে। ১৯২০-এর দশকে বোম্বে প্রেসিডেন্সি রেডিও ক্লাবের মতো সংগঠনগুলো রেডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। ব্রিটিশ সরকার ১৯৩০-এর দশকে অল ইন্ডিয়া রেডিও স্থাপন করলে সারা উপমহাদেশে মাইক্রোফোন ও লাউডস্পিকারের প্রচার ঘটে।
এই সময়ে লাউডস্পিকার মূলত রাজনৈতিক সভা, চলচ্চিত্র হল এবং বিনোদন অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হত। মসজিদে লাউডস্পিকারের প্রথম পরিচিত ব্যবহারের নথি পাওয়া যায় ১৯৩৬ সালে – সিঙ্গাপুরের সুলতান মসজিদে মাইক্রোফোন-লাউডস্পিকার স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে আজানের শব্দ এক মাইলেরও বেশি দূরে পৌঁছাত বলে জানা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশেও ১৯৩০-৪০ এর দশকে ধীরে ধীরে মসজিদে লাউডস্পিকারের ব্যবহার শুরু হতে থাকে।
মুসলিম আলেমদের প্রথম বিরোধিতা
মাইক্রোফোন ও লাউডস্পিকার যখন উপমহাদেশে পরিচিত হতে শুরু করে, তখন মুসলিম আলেম সমাজের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সূচনা হয়। এই বিরোধিতার কেন্দ্রে ছিলেন তৎকালীন বিখ্যাত দেওবন্দি আলেম মাওলানা আশরাফ আলী থানভি – যিনি “হাকিমুল উম্মত” নামে পরিচিত ছিলেন।
১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে (রমজান ১৩৪৬ হিজরি) থানভি প্রথমবার লাউডস্পিকার ব্যবহার সম্পর্কে একটি ফতোয়া দেন, যেখানে তিনি এর ব্যবহারকে সম্পূর্ণরূপে হারাম বলেন। কয়েক মাস পরে জিলহজ ১৩৪৬ হিজরিতে (মে ১৯২৮) একই মত পুনরাবৃত্তি করেন।
বিরোধিতার যুক্তি
আলেমদের বিরোধিতা কোনো অন্ধ প্রযুক্তি-বিদ্বেষ থেকে আসেনি, বরং এর পেছনে সুনির্দিষ্ট শরিয়া-ভিত্তিক যুক্তি ছিলঃ
১. গ্রামোফোনের সঙ্গে বিভ্রান্তিঃ সেই সময়ে লাউডস্পিকার সম্পর্কে যথেষ্ট প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছিল না। অনেক আলেম মনে করতেন, এই যন্ত্র গ্রামোফোনের মতো – অর্থাৎ এটি প্রথমে কণ্ঠ রেকর্ড করে, পরে সেই রেকর্ডকৃত আওয়াজ বাজায়। আর রেকর্ডকৃত আওয়াজ দিয়ে নামাজ পড়া বৈধ কিনা, সেটি ছিল মূল প্রশ্ন।
২. নামাজের বৈধতার প্রশ্নঃ ইসলামি ফিকহে ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার জন্য ইমামের সরাসরি কণ্ঠ শোনা জরুরি। যদি লাউডস্পিকার আওয়াজ রেকর্ড করে পুনরায় বাজায়, তাহলে সেটি ইমামের প্রত্যক্ষ কণ্ঠ নয় – ফলে পেছনের মুসল্লিদের নামাজ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
৩. সে যুগে লাউডস্পিকারের ব্যবহারঃ সেই সময়ে এই যন্ত্র প্রায় একচেটিয়াভাবে চলচ্চিত্রের গান ও ইসলামী ভাষায় অশ্লীল বিনোদনে ব্যবহৃত হত। ফলে অনেক আলেম একে “শয়তানের আওয়াজ” বলে মনে করতেন এবং মসজিদে এর ব্যবহারকে ধর্মীয় পরিবেশের জন্য অনুপযুক্ত ভাবতেন।
৪. নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে সতর্কতাঃ ইসলামি ফিকহের নীতি অনুযায়ী, উপাসনার বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যেহেতু এই যন্ত্রের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে অনিশ্চয়তা ছিল, তাই ইবাদতে এটি ব্যবহার না করাকে নিরাপদ মনে করা হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, থানভি নিজেই বিষয়টি সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ শাব্বির আলী, ভোপালের আলেকজান্ডার হাই স্কুলের বুর্জ নান্দার সহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েছিলেন – এমনকি একজন হিন্দু বিশেষজ্ঞের মতামতও গ্রহণ করেছিলেন।
মত পরিবর্তনের পথ
থানভি ধীরে ধীরে তার অবস্থান নমনীয় করতে থাকেন। ১৩৫৭ হিজরির মুহররম মাসে (মার্চ ১৯৩৮ সালে) তিনি মত দেন যে সাধারণ বক্তৃতা ও বয়ানে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা জায়েজ। তবে নামাজ ও জুমা-ঈদের খুতবায় তখনও তিনি এর ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখেন। তার এই শেষ ফতোয়ায় তিনি এও লিখেছিলেনঃ “যদি কেউ আরও বেশি জানেন বা ভিন্নমত রাখেন, তাহলে তার গবেষণা অনুযায়ী চলুন এবং আমাদের জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।”
থানভির মৃত্যুর পর তার শিষ্য মুফতি মুহাম্মদ শফি (পরবর্তীতে পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির প্রতিষ্ঠাতা) বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর তিনি রেডিও পাকিস্তানের প্রকৌশলীদের কাছে জিজ্ঞেস করেন যে লাউডস্পিকার আসলে কণ্ঠ রেকর্ড করে বাজায়, নাকি সরাসরি বিস্তৃত করে। প্রকৌশলীদের সর্বসম্মত জবাব ছিলঃ লাউডস্পিকার কণ্ঠকে শুধু বিবর্ধিত (amplify) করে, রেকর্ড করে না।
এই তথ্য পাওয়ার পর মুফতি শফি লিখলেন, এটিই তাদের পূর্ববর্তী সমস্ত ফতোয়ার ভিত্তিকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দেয়। শাবান ১৩৭২ হিজরিতে তিনি লাউডস্পিকারের বৈধতা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেন এবং পরবর্তীতে ১৩৮২ হিজরিতে তা সংশোধন করেন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লাউডস্পিকার ব্যবহারের বৈধতা স্বীকৃত হয়।
মসজিদ ও ওয়াজে মাইকের ব্যাপক ব্যবহার
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মসজিদে লাউডস্পিকারের ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আলেমরা একবার এর বৈধতা স্বীকার করে নেওয়ার পর এটি অপ্রতিরোধ্য গতিতে সমাজে প্রবেশ করে। প্রথমে মিনারে একটি করে লাউডস্পিকার বাঁধা হত শুধু আজানের জন্য। ধীরে ধীরে ভেতরেও স্পিকার বসানো হয়, যাতে বড় মসজিদের সব কোণে ইমামের আওয়াজ পৌঁছায়।
বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ও ভারতে ১৯৫০-৬০ এর দশক থেকে মসজিদে মাইকের ব্যবহার সাধারণ হয়ে ওঠে। ওয়াজ মাহফিলেও মাইকের ব্যবহার এই সময়ে ব্যাপকভাবে শুরু হয়। বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে ধর্মীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে এটি হয়ে উঠল অপরিহার্য।
এরপর ১৯৭০-৮০ এর দশকে উন্নত মানের অ্যাম্প্লিফায়ার ও একাধিক লাউডস্পিকার স্থাপনের প্রচলন হয়। মসজিদের মিনারে চার দিকমুখো একাধিক লাউডস্পিকার বসানো হতে থাকে। আজানের আওয়াজ পুরো মহল্লায় ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও এই প্রবণতা দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
মাইকের ব্যবহার নিয়ে পরবর্তী বিতর্ক
মজার বিষয় হলো, মাইকের বিরুদ্ধে প্রথম ফতোয়া দেওয়া আলেমদের উত্তরসূরিরাই পরবর্তীতে মাইকের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে নতুন ফতোয়া দিতে বাধ্য হন। মিনারের বাইরে লাউডস্পিকারে নামাজ প্রচারের বিষয়ে শায়খ ইবনে উসাইমিনসহ অনেক বড় আলেম মত দিয়েছেন যে, এটি নিকটবর্তী বাড়ি ও অন্য মসজিদের মানুষদের বিরক্তির কারণ হয় বলে অবাঞ্ছিত। ২০২১ সালে সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয় যে বাইরের লাউডস্পিকার শুধু আজান ও ইকামতের জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার এক-তৃতীয়াংশে সীমিত রাখতে হবে।
ভারতের আদালতও বলেছে যে লাউডস্পিকারে আজান দেওয়া ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ নয়, বরং এটি আধুনিককালে সৃষ্ট একটি প্রচলন।
শেষের কথা
একদা হুজুররা যেটার বিরোধিতা করেছিল এখন ভোরে সেটার ব্যবহার করে মানুষের ঘুম নষ্ট করার সমালোচনা করায় বিজ্ঞান শিক্ষককে মব তৈরি করে গ্রেফতার করায়।
প্রযুক্তির প্রতি মুসলিম ধর্মীয় সমাজের প্রতিক্রিয়া সবসময় সরলরেখায় চলে না। মাওলানা থানভির প্রথম ফতোয়া অজ্ঞতা বা হঠকারিতা থেকে আসেনি – এসেছিল ধর্মীয় বিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। যখন দেখলো সেটা তাদের ধর্ম ব্যাবসার প্রসার ঘটাবে তখন আলেমরা নিঃসংকোচে তাদের পূর্বের মত পরিত্যাগ করলেন।
যে মাইককে একসময় “শয়তানের আওয়াজ” বলা হয়েছিল, সেই মাইকই আজ কোটি মানুষের কাছে তাদের আল্লাহর ডাক পৌঁছে দিচ্ছে। এই বিবর্তনটি শুধু প্রযুক্তির ইতিহাস নয়, এটি একটি জীবন্ত ধর্মীয় সমাজের অন্ধত্ব ওবসুবিধাবাদের পথে যাত্রারও দলিল।
তথ্যসূত্রঃ Waqar Akbar Cheema, “Ulema’s Reception of the Loudspeaker” (2013); Wikipedia – Loudspeakers in Mosques; New Age Islam – The Chronology of the Issue of Azan on Loudspeaker; Sweetwater InSync – Who Invented the Microphone; Engineering and Technology History Wiki; Radio in Colonial India (Journalism University)
Related Posts

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today
The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

সোমনাথ থেকে জয়পুরহাট – এক সহস্রাব্দের পুরনো ধ্বংসের ছায়া আজও বিদ্যমান
প্রথম আঘাত গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে, যেখানে আরব সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পাথুরে তটে, সেখানেRead More

For 125 years, the Islamic world has been spinning on the basis of a single false key!
Once I was listening to a sermon by Professor Mufti Kazi Ibrahim Huzur where heRead More

Comments are Closed