
Is Allah the Most Merciful?
আল্লাহর ইহুদি-খ্রিস্টান বিদ্বেষ – নিষ্ঠুর গণহত্যাকারী আল্লাহ নাকি আবার রহমানুর রাহীম, পরম দয়ালু!
সাহিহ মুসলিম ২৭৬৭-এর হাদিসগুলো স্পষ্টভাবে বলে:
আবু মুসা (রা) থেকেঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ প্রত্যেক মুসলমানকে একজন ইহুদি বা খ্রিস্টান দিয়ে বলবেন, “এটা তোমার জাহান্নাম থেকে মুক্তির মুক্তিপণ (ফিকাক)।”
আরেক বর্ণনায়ঃ কোনো মুসলমান মারা গেলে আল্লাহ তার জায়গায় একজন ইহুদি বা খ্রিস্টানকে জাহান্নামে ঢোকাবেন।
তৃতীয় বর্ণনায়ঃ কিছু মুসলমান পাহাড়ের মতো পাপ নিয়ে আসবে, আল্লাহ সেগুলো ক্ষমা করে দিয়ে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ওপর চাপিয়ে দেবেন।
এগুলো সাহিহ মুসলিমের বইয়ে আছে (কিতাবুত তাওবা, অধ্যায়: হত্যাকারীর তাওবা কবুল)। ইসলামি উলামারা সাধারণত এটাকে “প্রতিটি মানুষের জন্য জান্নাত ও জাহান্নামে একটা করে স্থান নির্ধারিত, মুমিন জান্নাতে গেলে তার জাহান্নামের স্থান কাফের পায়” বলে ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, কাফের নিজের কুফরের কারণেই শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।
কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটি আল্লহা নামক এক নিষ্ঠুর সত্তার একটি মহাজাগতিক গণহত্যা তথা প্রতিস্থাপন বা “বিকল্প শিকার” ব্যবস্থা হিসেবেই দাঁড়ায়।
কেন এটি “মহাজাগতিক জেনোসাইড” বা প্রতিস্থাপন-গণহত্যার মতো দেখায়
- দোষারোপের স্থানান্তর
মুসলমানের পাপ (পাহাড়ের মতো হলেও) ক্ষমা হয়ে যায়। সেই পাপের বোঝা ও জাহান্নামের স্থান ইহুদি বা খ্রিস্টানের ওপর চাপানো হয়। ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার জায়গায় গোষ্ঠীগত বিনিময় চলে আসে। একদলের মুক্তি অন্যদলের স্থায়ী শাস্তির ওপর নির্ভর করে। - সৃষ্টিকর্তার নিজস্ব নকশা
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহই সব সৃষ্টি করেছেন, হেদায়েত ও গোমরাহি তার হাতে। তিনিই ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সৃষ্টি করেছেন, তাদের ঈমান না আনার ব্যবস্থা করেছেন (কুদরত ও কাদারের ধারণা অনুযায়ী)। তারপর সেই একই সত্তা তাদেরকে মুসলমানদের “মুক্তিপণ” হিসেবে ব্যবহার করেন। যারা দুনিয়ায় ন্যায়পরায়ণ জীবনযাপন করেছে, তারাও যদি “সঠিক ধর্মে” তথে ইসলামে না থাকে, তাহলে তাদের স্থান জাহান্নামে। এটি ন্যায়বিচারের পরিবর্তে নির্বাচিত গোষ্ঠীর পক্ষে একধরনের মহাজাগতিক পক্ষপাত। - নির্বিশেষে শাস্তি
হাদিসে কোনো শর্ত নেই যে শুধু খারাপ ইহুদি/খ্রিস্টানই যাবে। “একজন ইহুদি বা খ্রিস্টান” – সাধারণভাবে। দুনিয়ায় যত ভালো কাজই করুক, তাদের অস্তিত্বই যেন জাহান্নামের আগুনের “তাপ সহ্য করার” উপকরণ হিসেবে রাখা হয়েছে, যাতে মুসলমান (পাপী হলেও) রক্ষা পায়। এটি ব্যক্তিগত কর্মফলের পরিবর্তে ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে স্থায়ী শাস্তির ব্যবস্থা। - নৈতিক দ্বৈত মান
একই সত্তাকে “অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল” বলা হয়, অথচ ক্ষমা শুধু একদলের জন্য সংরক্ষিত। অন্যদলকে বিনিময় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি যদি মানবিক আইনে হতো, তাহলে একে অন্যায় প্রতিস্থাপন বা যৌথ শাস্তি বলা হতো। মহাজাগতিক স্তরে এটাকে “রহমত” বলা হলেও বাইরের দৃষ্টিতে এটি নির্বাচিত গোষ্ঠীর পক্ষে অন্য গোষ্ঠীর স্থায়ী ধ্বংস। - ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রভাব
এই ধরনের বর্ণনা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করেছে। তারা “জাহান্নামের বাসিন্দা” বা “মুসলমানের মুক্তিপণ” হিসেবে চিত্রিত। হিন্দুদের নাম নেই বলে যুক্তি দেওয়া যায় যে মুহাম্মদের পরিচিত বিশ্বে তারা ছিল না, কিন্তু মূল সমস্যা হলো নীতিটিই: অমুসলিমদের স্থায়ী শাস্তি মুসলমানদের মুক্তির শর্ত।
সারকথা
হাদিসটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাখ্যায় “কাফের নিজের কুফরের জন্য শাস্তি পায়” বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পাঠ্য অনুযায়ী এটি স্পষ্ট প্রতিস্থাপন: মুসলমানের স্থান খালি হয়, ইহুদি/খ্রিস্টান সেখানে যায়; মুসলমানের পাপ ক্ষমা হয়, অন্যদের ওপর চাপানো হয়। এটি ব্যক্তিগত ন্যায়বিচারের পরিবর্তে গোষ্ঠীগত বিনিময়। মানবিক দৃষ্টিতে এটি মহাজাগতিক স্তরে একধরনের জেনোসাইড বা প্রতিস্থাপন-গণহত্যা – যেখানে এক গোষ্ঠীর চিরন্তন সুখ অন্য গোষ্ঠীর চিরন্তন যন্ত্রণার ওপর নির্ভর করে, এবং সেই ব্যবস্থা ইসলামের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ নিজেই তৈরি করেছেন। এই আল্লাহ নাকি আবার রহমানুর রাহীম, পরম দয়ালু!
Related Posts

The Iranian court sentenced them to death solely because they became Christians!
2009. Two young Iranian women, Marziyeh Amirizadeh and Maryam Rostampour, were sentenced to death byRead More

শুধুমাত্র খ্রিস্টান হওয়ার কারনে ইরানের আদালত তাদের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছিল!
২০০৯ সাল। ইরানের দুই তরুণী মারজিয়েহ আমিরিজাদে ও মরিয়ম রোস্তামপুরের বিরুদ্ধে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়ার রায়Read More

Spending the night in Umm Hani’s house and then meeting Allah in the heavens – he named it Mi’raj
Mi’raj is a central event in Islamic belief. On the night of Mi’raj, the ProphetRead More

Comments are Closed