
International Women’s Day
নারীঃ সভ্যতার ভিত্তি, মানবতার আলো
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের সকল নারীর প্রতি শ্রদ্ধা।
শত হাজার বছর ধরে নারীরাই কিন্তু ছিল পরিবারপ্রধান। পুরুষের আধিপত্য -সে তো মাত্র কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস। মানুষের টিকে থাকা ও সভ্যতার বিকাশে নারীর অবদান অনেক বেশি।
কখনও একসাথে কয়েকটি কাজ করার চেষ্টা করে দেখেছেন? কেমন লাগে এভাবে কয়েকটা কাজ একসাথে করতে? গোলমাল লাগে? নাকি লাগে না? একসাথে কয়েকটা কাজ করাকে বলা হয় “মাল্টিটাস্কিং”, আর কাজ করতে গিয়ে যে গোলমাল লাগে, গবেষকগণ তাকে বলছেন “ইন্টারফিয়ারেন্স”। একাধিক কাজ করার ক্ষেত্রে কাজগুলোর মধ্যে যে ইন্টারফিয়ারেন্স তৈরি হয়, তা পুরুষের তুলনায় নারীদের কম প্রভাবিত করে। অর্থাৎ একজন নারীর পক্ষে মাল্টিটাস্কিং করা সহজ, কিন্তু পুরুষকে এটা করতে গেলে প্রায়ই আটকে যেতে হয়। এখানে কিন্তু নারীর শ্রেষ্ঠত্ব পুরুষের তুলনায়।
মানুষ যখন শিকারী-সংগ্রাহক যুগে ছিল, তখন পুরুষকে মাল্টিটাস্কিং করতে হত না। তাদেরকে সময় দিতে হত শিকারের কাজে, যা নিঃসন্দেহেই একটি একরৈখিক বা লিনিয়ার টাস্ক। শিকারের কাজে বারবার কাজ সুইচিং করলে চলে না; বরং একটি নির্দিষ্ট কাজেই ধৈর্যের সাথে গভীর মনোযোগ দিতে হয়। শিকার করার জন্য যে ধাওয়া করা ও হত্যা করায় পারদর্শিতা দরকার হয়, তার জন্য দ্রুত টাস্ক সুইচিং-এর দক্ষতা নয়, বরং একই কাজে মনোযোগী থাকার দক্ষতার প্রয়োজন হয়। এটা না থাকলে আর যাই হোক, এনিমেল প্রোটিন জুটবে না।
অন্যদিকে তখন নারীর ভূমিকা ছিল ঘর সামলানো, বাচ্চাকাচ্চা দেখা, ফলমূল সংগ্রহ, রান্না করা ইত্যাদি। শিকারী-সংগ্রাহক যুগে নারীদের একদিকে নিবিষ্ট চিত্তে মনোযোগ রাখলে চলত না। যখন তখন সন্তানের প্রাণ সংকটের মুখে পড়তে পারে, আবাসস্থলে হিংস্র কোনো প্রাণী হানা দিতে পারে। তাই নারীদের সবসময় সবদিকে কান খাড়া রাখতে হত, সবকিছু নিয়েই সজাগ থাকতে হত – যেটা একরকম মাল্টিটাস্কিং ক্ষমতা। এখন বিবর্তনের ন্যাচারাল সিলেকশনের কথায় যদি আসি, তাহলে বলুন তো নারী ও পুরুষ কোন বৈশিষ্ট্যটি অর্জন করবে? নারীরা মাল্টিটাস্কিং-এ আর পুরুষেরা লিনিয়ার কাজে বেশি মনোযোগ দেওয়ার দক্ষতা অর্জন করবে। নারীর সেই একসঙ্গে অনেক কাজ করার ক্ষমতা কিন্তু আজও রয়ে গেছে।
[দুঃখিত, চমৎকার আবৃত্তিটা একটু এডিট করে দিচ্ছি বলে। আবৃত্তির সব ক্রেডিট ভিডিওতে দেওয়া আছে।]
হেনরিক গিবসনের বিখ্যাত নাটক ‘ডলস হাউজ’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা – যিনি স্বামী, সন্তান ও সংসারের জন্য সর্বোচ্চটুকু করার পরও স্বামীর কাছ থেকে উপহাস আর তিরস্কার পান। শেষে পান নিষেধের বেড়াজাল না ডিঙ্গানোর পরামর্শ। তাকে দেখানো হয় সমাজের ভয়, মনে করিয়ে দেওয়া হয় মা হিসেবে তার দায়িত্ব। অথচ ততক্ষণে নোরা জেনে গেছে – “প্রেম নয়, ভালোবাসা নয়, অধিকার নয়, নারী শুধু প্রয়োজনের।” নোরা অপেক্ষা করে ভোরের আলো ফোটার, যে সূর্যকে আজ সে দেবে তার মুক্তির বারতা। এবং যাবার আগে বলে যায় – ঠিক প্রায় সমান পবিত্র একটি দায়িত্ব আমার নিজের প্রতিও রয়েছে।
পৃথিবীর সব নারী একটা জায়গায় গিয়ে এক – তারা নারী। নারীকে নারী বলে নয়, অন্তত একজন মানুষ হিসেবে প্রাপ্য সম্মানটুকু করবেন। আমার দৃষ্টিতে আমাদের দেশে নারীদের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাঁধা হলো – তারা নিজেরাই নিজেদের ‘নারী’ মনে করে। সমাজই তাদের এমন শিখিয়েছে। নারীরা যদি নিজেদের ‘নারী’ মনে না করে একজন মানুষ ভাবার ধারণা তৈরি করতে পারে, তবে নারীরা আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই – কিছু বায়োলজিক্যাল কারণে নারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছু সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। এই নারীরাই কিন্তু মানুষ প্রজাতির বংশ রক্ষা করে চলেছে। মানুষের নিজের স্বার্থেই, মানবিকতাকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থেই নারীদের জন্য একটু বেশি সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।
কিছু কিছু নারী আবার নিজেদের উপরে উঠার সিঁড়ি হিসেবে নিজের সবকিছু বিসর্জন দেয়। এরা নারী উন্নয়নের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর। লোভী পুরুষেরা সে সমস্ত নারীদের যোগ্যতা বা দক্ষতার মূল্যায়ন না করে মূল্যায়ন করে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে। অন্য যোগ্য ও অভিজ্ঞ নারী-পুরুষ সবাই বঞ্চিত হয়। এই সমস্ত অলংকার-সর্বস্ব নারী ও লোভী পুরুষদের বর্জন করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত চিত্রপরিচালক ছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। তার একাধিক সিনেমা ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। তার একটি সিনেমার নাম ‘দহন’। এই সিনেমাটি দেখতে পারেন একটু মন দিয়ে – বিশেষ করে পুরুষেরা। অনেক কিছু বুঝবেন, আমাদের সমাজের মানসিকতা থেকে নারীদের কীভাবে দেখা হয় সেটা জানবেন।
বিশ্ব নারী দিবস। কেন ঐ একটি দিনের জন্য নারীদের মূল্যায়ন করতে হবে? আজ, কাল, পরশু বা প্রতিদিন নয় কেন? দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে – মানুষের মানসিকতার উন্নয়নের চেয়ে কর্পোরেট বেনিয়ারা এই দিনটিকেও বাণিজ্যিকীকরণ করে ফেলছে। আর ৫/৬ বছর পরে দেখবেন ফ্যাশন হাউজগুলোও প্রতিযোগিতায় নামবে নারী দিবসের জন্য স্পেশাল গিফট তৈরিতে। সবার আগে প্রয়োজন মানসিকতার উন্নয়ন!
Related Posts

From Somnath to Joypurhat – The Shadow of a Thousand‑Year‑Old Destruction Still Exists Today
The first blow On the Saurashtra coast of Gujarat, where the waves of the ArabianRead More

সোমনাথ থেকে জয়পুরহাট – এক সহস্রাব্দের পুরনো ধ্বংসের ছায়া আজও বিদ্যমান
প্রথম আঘাত গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে, যেখানে আরব সাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পাথুরে তটে, সেখানেRead More

For 125 years, the Islamic world has been spinning on the basis of a single false key!
Once I was listening to a sermon by Professor Mufti Kazi Ibrahim Huzur where heRead More

Comments are Closed