
Humanitarian Education is Needed
ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে মানুষের নৈতিক চরিত্রের কোন টেকসই পরিবর্তন হয় না
আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম স্কুল ডিস্ট্রিক্ট LAUSD. আমেরিকায় কিন্ডারগার্টেন টু টুয়েলভ ক্লাস পর্যন্ত সবার জন্য শিক্ষা ফ্রি, বাচ্চা হলেই হয়, বাংলাদেশের মতো বাপ-মায়ের ডিজিটাল জন্মসনদ লাগে না, সেই সূত্রে কোন সিঙ্গেল মাদার যারা শিশুর বাবার সনদ সংগ্রহ করতে পারে না তাদের শিশুর ভর্তিতে কোন সমস্যা হয় না বা যাদের জন্মসনদে ত্রুটি আছে তাদের কাউন্সিলর অফিসে ধর্না দিয়ে ঘুষ দিতে হয় না।
আমেরিকার একটা শহরের একটা অংশের এই সব স্কুল ড্রিস্ট্রিক্ট এর এক বছরে যে বাজেট সেটা বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষা বাজেটের চেয়ে বেশি। যেমন, LAUSD এর এবার বাজেট প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭০০ কোটি বাংলাদেশি টাকা! বাংলাদেশের এক বছরের সমগ্র বাজেটের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ। এই বাজেটের বেশিরভাগ অংশের যোগান দেয় স্থানীয় জণগন। কীভাবে? বাড়িঘর, জমিজায়গা থেকে যে বাৎসরিক ট্যাক্স নেয়া হয় সেটার বড় অংশ এই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এর জন্য বরাদ্দ হয়। কোন কোন জায়গায় এই ট্যাক্স বাড়ি-ঘর, জমি জায়গার বর্তমান দামের ২-৩% পর্যন্তও হয়, যা ২-২০/৩০ লক্ষ বাংলাদেশী টাকাও হয়। যে এলাকার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট যতো ভাল সেই এলাকার হাউস ট্যাক্স ততো বেশি। যাদের বাসায় স্কুলগামী কোন শিশু নেই তাদেরও এই ট্যাক্স দিতে হয়, তার মানে শিশুদের শিক্ষা ও উন্নয়নের দায় সার্বজনীন, শুধুমাত্র জন্ম দেয়া বাবা-মায়ের ঘাড়ে নয়।
কথা সেটা না, এই প্রসঙ্গের অবতারনা তাদের সিলেবাস দেখানোর জন্য। তাদের শিক্ষার সঙ্গে নৃত্য, সঙ্গীত, শিল্প, থিয়েটার এসব অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু তাদের ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ টাইপের কোন বই নেই। ধর্ম দিয়ে যে মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা গঠন করা যায় সেই কনসেপ্ট তাদের দীর্ঘ দিনের গবেষণায় তারা পায়নি। ইনফ্যাক্ট তাদের কোন ক্লাসেই ধর্মীয় বিষয়ে একটা টু-শব্দও নেই। তাদের বইয়ের সংখ্যাও কম। বই থাকে ক্লাসে, কোন শিশুকে পিঠে একগাদা বইয়ের ভার নিয়ে মাজা বাঁকা করে চলতে হয় না, ছোট থেকে মেরুদন্ড বাঁকা হওয়ার পথ করা হয় না।
এই যে ইসলাম, ১৪০০ বছর ধরে শত কোটি মানুষের দৈনন্দিন অনুসরনীয় হলেও কেউ বলতে পারবে যে ইসলাম মানুষের নৈতিক চরিত্র উন্নত করতে পেরেছে? বরং বাংলাদেশের মতো দেশে যারা বড় বড় দুর্নীতিবাজ, বাটপাড়, ঘুষখোর, ভেজালকারী, জবরদখলকারী, ভূমিদস্যু, ছিঁচকে চোর, মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণকারী প্রায় সবাই কঠিন ধর্মাশ্রয়ী মানুষ। খুঁজে দেখুন, যতোগুলো অপকর্মের নিউজ হয় প্রায় সব ক্ষেত্রেই সবার মুখে থাকে দাঁড়ি, মাথায় টুপি। ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে কোথাও কোন জাতি, দেশের, এলাকার মানুষের নৈতিক চরিত্রের কোন টেকসই পরিবর্তন হয় না। বরং বিশ্বের সেই সব দেশের মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবনতা, দুর্নীতি, লুটপাট, বাটপাড়ি, ঠকানোর ইচ্ছা কম যেখানে কেউ তেমন ধর্ম-কর্ম করে না। ইউরোপের যেসব দেশে আসামীর অভাবে জেলখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে – তাদের দেশগুলোতে ধর্মহীন মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
আমি জানি, আপনারা কেউ কেউ গাড়ল আসিফ মাহাতাব উৎসের মতো যুক্তি দিতে আসবেন, সৌদি আরবে ধর্ষণ কম, তাদের বলি – আসলেই তাদের পরিসংখ্যানে রেকর্ড কম! কারন এমন হাজার হাজার কেইস সেখানে ধর্ষণ হিসাবেই গণ্য হয় না, নারীরাও অভিযোগ দিতে সাহস করেন না। সেখানে শরীয়া ব্যবস্থাটাই এমন যে উল্টো ধর্ষিতাকে শাস্তি পাওয়ার অনেক অভিযোগ আছে। কিছুই না, ধর্ষক স্রেফ বলবে, উক্ত নারী খোলামেলা পোশাক পরে তাকে প্রোভোক করেছে, ব্যাস, এরপর যিনার দায়ে নারীর কপালে জুটবে ভয়াবহ শাস্তি। এই হচ্ছে ইসলামী শরীয়া, যেখানে ধর্ষণের কোন সংজ্ঞাই নেই, নির্দিষ্ট কোন শাস্তি নেই, সবই যিনা, ব্যাভিচার! অফিসিয়ালি বিশ্বে সবার শেষদিকে দাস-দাসী, যৌনদাসী প্রথা বিলোপ করলেও তাদের মনে, মগজে এখনো সেই সুপ্ত কামনা, বাসনা, উন্মাদনা রয়ে গেছে, গৃহকর্মীদের তারা ইসলাম অনুমোদিত যৌনদাসীই মনে করে। সেখানে এখনো অনলাইনে দাসী কেনা-বেঁচা হয়। এই রকম কয়টি কেইসের বিচার করে তারা? উদাহরণ আছে? শুধু ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে এক ফ্লাইটে ১১১ জন বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী গৃহকর্তা, তার ছেলে, ভাই, বন্ধুদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছিলেন – যাদের ৩৮ জন জানান তারা গৃহকর্তার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সৌদি থেকে যারা নির্যাতিত হয়ে ফেরেন তাদের ৩০% ফেরেন গর্ভে সন্তান নিয়ে, ইসলাম আবার যার নাম দিয়েছে জারজ সন্তান। এক মাসের এই সংখ্যা দিয়ে বছরের হিসাব এবং অন্য দেশের শ্রমিক যোগ করলে প্রকৃত ধর্ষণের হার অকল্পনীয়। অথচ ২০১৯ সালে সারা বছরে সৌদি আরবে ধর্ষণের অপরাধে মাত্র ৮ জনের বিচার হয়েছিল। পরিসংখ্যানে আছে মাত্র ৮ টা ধর্ষণ!
উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে ধর্মকে প্রাতিষ্ঠানিক কারিকুলাম থেকে দূরে রাখা হয়, যাতে বহুসংস্কৃতি ও বহুধর্মের এই যুগে সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। একই সাথে, বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখায় যে কেবল নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুশাসন মানুষের নৈতিকতার টেকসই বা স্থায়ী উন্নয়ন ঘটাতে সব সময় যথেষ্ট হয় না; কারণ প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম অনেক সময় মানুষকে অন্ধ অনুকরণ ও সংকীর্ণতার দিকে ঠেলে দেয়, যা ভিন্নমতের প্রতি পরমতসহিষ্ণুতা বা সহানুভূতির মতো সার্বজনীন নৈতিক গুণগুলো গড়ে তুলতে বাধা দেয়। তাছাড়া, শাস্তির ভয় বা পুরস্কারের আশায় তৈরি হওয়া নৈতিকতা সাময়িক হতে পারে, কিন্তু তা মানুষের ভেতর থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসে না। এই কারণেই উন্নত বিশ্বের শিক্ষায় ধর্মীয় আচারের পরিবর্তে যুক্তি, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন এবং সার্বজনীন মানবিক মূল্যবোধের (Humanism) ওপর জোর দেওয়া হয় – যা মানুষকে ভয় বা লোভের ঊর্ধ্বে উঠে যেকোনো পরিস্থিতিতে বিবেক খাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখায় এবং নৈতিকতার একটি স্থায়ী ও টেকসই ভিত্তি তৈরি করে।
অন্যদিকে, উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় নৃত্য, সঙ্গীত, চারুকলা ও থিয়েটারকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রাখা হয়, কারণ এগুলো শিক্ষার্থীর কেবল বিনোদন নয়, বরং তার সার্বিক মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ (Holistic Development) ঘটায়। এই সৃজনশীল বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা (Critical Thinking), সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরিতে সাহায্য করে। একই সাথে এগুলো মানুষের আবেগ প্রকাশ ও মানসিক চাপ কমানোর দারুণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যা তাদের একাডেমিক পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করে। মূলত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন শিক্ষার্থীদের মাঝে সহানুভূতি, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং একটি বহুমাত্রিক উদার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে, যা তাদের ভবিষ্যতে একজন মানবিক ও সফল বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অত্যন্ত জরুরি।
Related Posts

Bengali Women and Their Love for Jewelry: History, Modern Trends, and the Culture of Excess
When the first gold bangle was put on Nalini Devi’s wrist, she was only seven.Read More

বাঙালি নারীর গহনা প্রীতি – ইতিহাস থেকে বর্তমান ও বাড়াবাড়ির সংস্কৃতি
নলিনী দেবীর হাতে যখন প্রথম সোনার বালা পরানো হয়েছিল, তখন তাঁর বয়স মাত্র সাত। বিয়েরRead More

From ‘Waiting… Nazir’, ‘Aijuddin is in pain’ to waiting on Facebook Messenger — the waiting of humans
About two and a half decades ago, one could see some emotional lines written onRead More

Comments are Closed