Evolution
Evolution occurs through mutation

Evolution occurs through mutation!

মিউটেশনের মাধ্যমেই বিবর্তন: প্রকৃতির নিখুঁত কৌশল

বিবর্তন (Evolution) হলো জীবজগতের ধাপে ধাপে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রজাতিগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিযোজিত হয়। এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হলো মিউটেশন – জিনগত উপাদানে ঘটে যাওয়া ক্ষুদ্র, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। যদিও মিউটেশন শব্দটি অনেক সময় নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়, প্রকৃতপক্ষে এটি জীববৈচিত্র্য এবং অভিযোজনের জন্য অপরিহার্য।

🔍 মিউটেশন কী?

মিউটেশন হলো ডিএনএ-র গঠন বা ক্রমে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন। এটি হতে পারে একটি একক নিউক্লিওটাইডের পরিবর্তন, অথবা বড় আকারের জিনের পুনর্বিন্যাস। এই পরিবর্তনগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটতে পারে, যেমন কোষ বিভাজনের সময় ভুল কপি হওয়া, অথবা বাইরের পরিবেশগত প্রভাব – যেমন বিকিরণ, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদির কারণে।

🌱 বিবর্তনের ইঞ্জিন

প্রতিটি জীবের জিনে মিউটেশন ঘটার সম্ভাবনা থাকে। বেশিরভাগ মিউটেশন হয়তো কোনো দৃশ্যমান প্রভাব ফেলে না, কিন্তু কিছু কিছু মিউটেশন জীবের গঠন, আচরণ বা অভিযোজন ক্ষমতায় পরিবর্তন আনে। যদি এই পরিবর্তনটি পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খায়, তাহলে সেই জীবটি টিকে থাকার এবং প্রজননের ক্ষেত্রে সুবিধা পায়। এর ফলে সেই পরিবর্তিত জিনটি পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।

🐦 বাস্তব উদাহরণ

এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াই বিবর্তনের মূল। চার্লস ডারউইনের “প্রাকৃতিক নির্বাচন” তত্ত্বের সঙ্গে মিউটেশন সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। প্রকৃতি সেই জীবদের বেছে নেয়, যাদের মিউটেশন তাদের টিকে থাকার জন্য সহায়ক। বা অন্য কথায় বলতে পারেন যেসব মিউটেশান প্রকৃতিতে টিকে থাকতে সাহায্য করে সেগুলোই স্থায়ী হয়, কারন অন্যরা প্রকৃতিতে টিকতে না পেরে মারা যায় এবং তাদের বংশধারা আর থাকে না।

১. ডারউইনের ফিঞ্চ পাখি

গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে ডারউইন যে ফিঞ্চ পাখিদের পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, তাদের ঠোঁটের গঠনে পার্থক্য ছিল। এই পার্থক্য মূলত মিউটেশনের ফল, যা বিভিন্ন দ্বীপের খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী অভিযোজিত হয়েছিল। শক্ত ঠোঁটযুক্ত ফিঞ্চরা শক্ত বীজ ভাঙতে পারত, আর সরু ঠোঁটযুক্তরা পোকামাকড় ধরতে পারত। এই বৈচিত্র্য তাদের টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আমি যে শহরে থাকি এখানে প্রচুর ঘুঘু পাখি ও কাঠবিড়ালি দেখা যায় যা বাংলাদেশেও আছে। কিন্তু এখানেরগুলো সাইজে বড়, দেশেরগুলো আকারে আনেক ছোট। কারন এখানে প্রচুর খাদ্য পায় তারা। বাংলাদেশেরগুলো ঠিকমতো খদ্য পায় না বলে তাদের যেসব প্রজন্ম সাইজে ছোট ছিল সেগুলোই মূলত টিকে ছিল বা থাকে।

বাঘ সাধারনত সবচেয়ে বড় বিড়াল প্রজাতি, সিংহের চেয়ে বাঘ বড় হয়। তাই বলে সুন্দরবনের বাঘ নয়। সুন্দরবনের বাঘ আকারে খুব ছোট। কারন সুন্দরবনে বাঘের খাদ্যের অপ্রতুলতা ও পরিবেশ, প্রতিবেশ খুব কঠিন। তাহলে কী এই কারনে সুন্দরবনের বাঘের আকার ছোট? না, বরং হাজার হাজার বছর ধরে বাঘের যে সমস্ত প্রজন্ম কোন মিউটেশনের কারনে আকারে ছোট হয়েছিল কম খাবার ও কঠিন পরিবেশে তাদের টিকে থাকা সম্ভব হয়েছিল, যারা আকারে বড় ছিল তারা হয় মারা পড়েছিল বা অন্য কোথাও চলে গিয়েছিল।

২. ল্যাকটোজ টলারেন্স (দুধ হজম করার ক্ষমতা)

প্রাচীনকালে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দুধ হজম করতে পারত না। কিন্তু ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু জনগোষ্ঠীতে একটি মিউটেশন ঘটে, যা ল্যাকটোজ এনজাইমকে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও সক্রিয় রাখে। এই পরিবর্তন দুধকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণের সুযোগ করে দেয়, এবং যারা এটি হজম করতে পারত, তারা পুষ্টির অতিরিক্ত উৎস পেয়ে টিকে থাকার সুবিধা পায়। (আমি যদিও এখন দুধ জাতীয় জিনিস সহজে হজম করতে পারি না)

৩. সিকল সেল অ্যানিমিয়া ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ

সিকল সেল মিউটেশন একটি রক্তের রোগ সৃষ্টি করে, কিন্তু যাদের এই জিনের একটি কপি থাকে, তারা ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়। আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে এই মিউটেশন বেশি দেখা যায়, কারণ সেখানে ম্যালেরিয়া বেশি প্রচলিত। এটি একটি ক্লাসিক উদাহরণ, যেখানে ক্ষতিকর মিউটেশনও পরিবেশগত পরিস্থিতিতে উপকারী হয়ে উঠতে পারে।

🔚 শেষ কথা

মিউটেশনকে যদি বিবর্তনের বীজ বলা হয়, তাহলে প্রাকৃতিক নির্বাচন হলো সেই বাগানের মালী। এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রয়াসেই জীবজগতে বৈচিত্র্য এসেছে, এবং জীবেরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। বাস্তব উদাহরণগুলো প্রমাণ করে যে মিউটেশনের মাধ্যমেই বিবর্তন হয়েছে – এটি প্রকৃতির এক অনবদ্য কৌশল, যা আজও চলমান।

*******************

এসব বিষয়ে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ খুব চমৎকার আর্টিকেল লিখতেন। অনলাইনে সার্চ করলে তার অনেক লেখা পাবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা এতোটাই অপছন্দের বিষয় যে তাকে মৌলবাদী, জঙ্গিরা খুন করে, সাধারন মানুষের বড় একটি অংশও আবার সেসব খুনকে বৈধতা দেয়। কারন, বিবর্তন তাদের ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে মেলে না, বিবর্তন শিক্ষা প্রচার করলে ধর্মের অসারতা, জারি-জুরি, ভুগিজগি ফাঁস হয়ে যাবে যে!

Related Posts

Religious Barriers on the Path of Science

Even in this era, religious fanaticism stands as a barrier to the spread of science!

For being ahead of his time, Socrates had to drink the cup of poison 2,400Read More

Religious Barriers on the Path of Science

এই যুগেও বিজ্ঞান প্রসারের পথে ধর্মীয় উন্মাদনা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়!

তার সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকার জন্য ২৪০০ বছর আগে সক্রেটিসকে বিষের পেয়ালা পান করতে হয়েছিল।Read More

WordPress and the Dreams of Bangladeshis

In the light of open‑source, a new horizon: How WordPress is showing Bangladesh’s young generation the path to self‑reliance

If you walk along the roads of villages and small towns in Bangladesh, you willRead More

Comments are Closed