
Ayesha and Safwan
নবী মুহাম্মদের শিশু স্ত্রী আয়েশার পরকীয়া প্রেমের কাহিনী কী সত্য?
আয়েশা (১২-১৩) এবং সাফওয়ান (২১) মরুভূমিতে পুরো রাত কাটানোর পর ফিরে আসেন।
কিছু ইসলামের সৈনিক প্রচার চালান যে তারা শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। তারা একসঙ্গে ছিলেন নাকি আলাদা ছিলেন সে ব্যাপারে জানার কোন উপায় নেই। যেহেতু আয়েশা বা সাফওয়ান নিজ থেকে জানায়নি সেহেতু সেগুলো তাদের ব্যক্তিগত বিষয় হিসাবেই থেকে গেছে। আয়েশা তো একজন ভিকটিম, তাকে কোন মিথ্যা অপবাদ দেয়াটা আসলে একজন ভিকটিমের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়ে যায়। বরং আয়েশা বিভিন্ন সময়ে ইসলামের অনেক অমানবিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে যতটুকু তার পক্ষে সম্ভব ছিল।
আমি দীর্ঘ হাদিস – সহিহ বুখারী ৪১৪১ এবং সহিহ মুসলিম ১৬১২ কয়েকবার করে পড়লাম। বোঝার চেষ্টা করলাম আসলে কী ঘটেছিল। আমি কিছু ক্লু দিলাম, কোন সিদ্ধান্ত নয়। আপনারা বুঝে নিবেন কী ঘটতে পারে!
তারা সারারাত জেহাদী বাহিনী থেকে আলাদা অবস্থান করে (মাঝরাত থেকে পরদিন দুপুর) পরদিন ফিরে আসেন। হতে পারে তারা আলাদা আলাদা ছিলেন, হতে পারে তারা একসঙ্গে ছিলেন, হতে পারে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়নি বা হয়েছিল। জানার কোন উপায় নেই।
পর্দার বিধান চালু হওয়ার আগেই তাদের দেখা সাক্ষাত হয়েছিল, তারা একে অপরকে আগে থেকেই চিনতেন। তাদের দুজনের বয়স খেয়াল করুন – ১২ বা ১৩ ও ২১। নবী মুহাম্মদের বয়স তখন ৫৭-৫৮। সুনানে আবু দাউদ – ২৪৫৯ হাদিস অনুযায়ী জানা যায় সাফওয়ান তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনে সুখী ছিলেন না।
মাঝরাতে জিহাদী বাহিনী ফেরৎ রওনা দেয়ার সময় আয়েশা প্রকৃতির ডাকে বাইরে যায়, ফিরে এসে দেখে তার গলায় নেকলেস নেই। তিনি নেকলেস খুঁজতে পিছনে পড়ে যান এবং তিনি দীর্ঘদিন ঠিকমতো না খেতে পেয়ে কংকালসার ও ক্লান্ত ছিলেন। কাফেলার পেছনে থাকা সাহাবী সাফওয়ান ইবনে আল-মুয়াত্তাল তাঁকে সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় খুঁজে পান। তিনি আয়েশাকে তাঁর উটের ওপর বসিয়ে নিয়ে পরদিন দুপুরে মূল সেনাবাহিনীর সাথে গিয়ে মিলিত হন।
জিহাদী দল মদিনায় ফিরে যওয়ার পরে ইসলামিক সেনাবাহিনীর একদল মুসলিম ইসলামের নবী মুহাম্মদকে বলেছিলেন যে, মুহাম্মদের শিশু স্ত্রী আয়েশা এবং সাফওয়ান শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। সেই দলের নেতৃত্বে ছিল নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই। ঘটনা মদিনায় অনেকের কাছেই জানাজানি হয়ে যায়। ইসলামের সোর্স এটাকে অপবাদ হিসাবে দেখায়।
নবীর সবচেয়ে প্রিয় শিশুস্ত্রীর এই ঘটনা বা অপবাদ মুহাম্মদকে গভীরভাবে ব্যথিত ও চিন্তিত করে তোলে। ওহী আসা বন্ধ হয়ে যায়, ওহী না আসায় প্রায় এক মাস তিনি গভীর উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। সহীহ বুখারী ৪১৪১ অনুযায়ী তিনি আয়েশাকে তালাক দেয়ার ব্যাপারেও চিন্তা ভবনা করা শুরু করেন, আলীও তাকে এই পরামর্শ দেয়। এই সময়ে তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেন এবং আয়েশার কাছে গিয়ে বলেন যে তিনি যদি কোনো পাপ করে থাকেন তবে যেন আল্লাহর কাছে তওবা করেন। হাদিসে আছে, অন্য স্ত্রীদের ঘরে থাকলে কোন ওহী আসতো না, আয়েশার বিছানায় থাকলেই আসতো কেবল। আবার পুত্রবধু জয়নবের সঙ্গে নবীর বিয়ের অনুষ্ঠানে তার মৃত্যুর পরে এক সাহাবী আয়েশাকে বিয়ে করতে চাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ওহী চলে এসেছিল। স্ত্রীদের খুশি করতে যৌনদাসীদের নিজের জন্য হারাম ঘোষনা করার পরেই ওহী চলে এসে জানিয়ে দিয়েছিল যে যৌনদাসীরা তার জন্য হালাল। সেখানে এতো দীর্ঘ সময় ওহী না আসা কী এটা বোঝায় যে ওহী আসা মূলত মুহাম্মদের ব্যক্তিগত মুড ও প্রয়োজনের উপর নির্ভর করতো? – সেটা আপনারা ভেবে দেখবেন।
প্রায় ৩০ দিন পর মুহাম্মদ এর ওপর সূরা আন-নূরের ১১-২১ নম্বর আয়াত অবতীর্ণ হয়। এই আয়াতগুলোতে স্পষ্টভাবে আয়েশার পবিত্রতা ঘোষণা করা হয় এবং এই অপবাদকে একটি “মহাপাপ” ও “মিথ্যা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এরপর মুহাম্মদ চারজন সাক্ষী ছাড়া ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়ার অপরাধে তিনজন ব্যক্তি – মিস্তাহ, হামমানাহ বিনতে জাহশ এবং হাসসান ইবনে সাবিতকে ৮০টি করে কোড়া (বেত্রাঘাত) মারার নির্দেশ দেন। মূল অভিযুক্ত ও নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-কে কোন শাস্তি দেয়া হয়নি। আলীও আয়েশাকে সন্দেহ করে নবীকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন তিনি যেনো আয়েশাকে তালাক দেন। আলীকেও কোন শাস্তি দেয়া হয়নি। এমনকি অপবাদ রটনো যাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল তাদের একজনকে পরবর্তীতে এক যৌনদাসী দিয়ে পুরষ্কৃতও করা হয়েছিল। ঘটনা বেশ রহস্যজনক!
সমালোচকরা বলেন – চারজনকে বা তার বেশি জনকে শাস্তি দেয়া হলে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতো যে আয়েশা ও সাফওয়ানের ভিতরে শারীরিক সম্পর্ক বা জিনা হয়েছে। কারন তখন চারজন সাক্ষীর শর্ত পূরন হয়ে যেতো, নবী মুহাম্মদ আয়েশাকে হারাতেন! সেটা তিনি চাননি যে আয়েশা তার জীবন থেকে হারিয়ে যাক।
সে সময় পরকীয়া খুব অপ্রচলিত ছিল না। বিশেষ করে জেহাদীরা দীর্ঘদিন ঘরের বাইরে থাকায় তাদের স্ত্রীরা অন্য পুরুষদের নিজ ঘরে রাখতেন – এমন নজির আছে। দেখুন – সুনান আত তিরমিজী ২৭১২। যুদ্ধযাত্রায় আয়েশাই যে সবসময় নবীর সঙ্গী হতেন, তাও না। লটারিতে নবীর যে স্ত্রীর নাম উঠতো তিনিই সঙ্গে যেতেন। সেক্ষেত্রে আয়েশাও অনেক যুদ্ধযাত্রায় না গিয়ে মদিনায় থেকে যেতো। এটা ভাবা কি অবাস্তব যে সাফওয়ানও মদিনায় থাকতো সে সময়?
আমি তো ঘটনাপ্রবাহ বললাম। আপনারাই নিজ দায়িত্বে যা ভাবার ভেবে নিন। ইসলামী ত্যানায় সব কিছুর আলাদা আলাদা জাস্টিফিকেশান আছে। ত্যানাবাজ তালগাছবাদীদের নিজস্ব কোন আলো নেই, তারা ত্যানার আলো ছাড়া পথ চলতে পারে না। সেজন্য তাদের কথা পাত্তা না দিয়ে নিজের যুক্তি দিয়ে ভাবেন।
Related Posts

Operation Entebbe – the story of one night, and the Islamic execution suffered by Nazrul Islam and Sweety Akter
What can a state do to save the lives of its citizens abroad? Are thereRead More

অপারেশান এন্টেবে – এক রাতের গল্প এবং নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের ইসলামি হত্যার শিকার হওয়া!
একটি রাষ্ট্র বিদেশে তার নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে কী করতে পারে? এর কোন টেক্সটবুক উদাহরণ আছে?Read More

A random page from Muhammad’s self‑made book Qur’an and its unscientific statements
Sometimes I flip through random pages of Muhammad’s self‑made book Qur’an, and today this pageRead More

Comments are Closed