Islam
Anti‑Jewish and Anti‑Women Views in Islam

Anti‑Jewish and Anti‑Women Views in Islam

আল্লাহ ও নবী মুহাম্মদ জানতো না মাছ, মাংস কেন পচে – কথায় কথায় ইসলামের ইহুদী ও নারী বিদ্বেষ

আমরা যারা বিদেশে বাঙালি দোকানের খুবই উচ্চমূল্যের মিষ্টি কিনে খেতে পারি না তাদের জন্য ইন্ডিয়ান এই সমস্ত ক্যানড মিষ্টিই ভরসা। একটু কম দাম। ক্যানে এসব খাবার কয়েক বছর ভাল থাকে। বাংলাদেশে থাকতেও কিনেছিলাম গোলাপ জাম – আড়ং বানায়।

এখানে ক্যানড ফুড খুব জনপ্রিয়। রান্না করা মাছ, মাংসও ক্যানে ভরে বিক্রি করে অনেক কোম্পানি। বাংলাদেশের কিছু উদ্যোক্তা কিন্তু চাইলে প্রবাসীদের টার্গেট করে ক্যানড ফুড প্রসেস করে রপ্তানি করতে পারেন। সরিষা ইলিশ, ভাঁপা পিঠা, পাটশাক, মাংসের কালা ভুনা, মেজবান – এসব ক্যানে পাওয়া গেলে মন্দ হতো না।

আপনারা জানেন, মাছ, মাংস বা অন্য পচনশীল বস্তুর পচার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া। যদি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে না আসে তবে অনন্তকাল রেখে দিলেও পচবে না, হয়তো কেমিক্যাল রিয়্যাকশনের কারণে কিছু বা অনেক পরিবর্তন হবে সময়ের সাপেক্ষে।

ক্যানড ফুড প্রসেসের সময় সাধারণত প্রথমে ফুড ও ক্যান থেকে ব্যাকটেরিয়া দূর করা হয়, এরপর ক্যানে ভরে সীল করে ফেলে, খেল খতম। এখন কয়েক বছর এর গুণমান মোটামুটি একই থাকে। যদিও ২/৩ বছরের মেয়াদ দিয়ে দেয়, কারন কেমিক্যাল ।

এখানেই শেষ নয়। খাবার পচনের পেছনের বিজ্ঞান আজ সুস্পষ্ট। মাংস, মাছ বা অন্যান্য জৈব পদার্থ পচে যায় কারণ সেখানে ব্যাকটেরিয়া (প্রধানত Clostridium, Pseudomonas, Salmonella, Listeria ইত্যাদি) এবং ছত্রাক কাজ করে। এই অণুজীবগুলো প্রোটিন, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট ভেঙে অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড, জৈব অ্যাসিড ও অন্যান্য পদার্থ তৈরি করে – যার ফলে দুর্গন্ধ, রঙ পরিবর্তন ও বিষাক্ততা আসে। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, অক্সিজেন ও পিএইচ এই প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। হিমায়িত বা শুকনো অবস্থায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়; ক্যানিংয়ে তাপ ও চাপ দিয়ে (অটোক্লেভ বা রেটর্ট প্রক্রিয়ায়) ব্যাকটেরিয়া ও তাদের স্পোর মেরে ফেলা হয়, তারপর বায়ুরোধী সীল করা হয়। ফলে ক্যানের ভিতরে নতুন ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে না। এই প্রযুক্তি ১৯শ শতকের গোড়ার দিকে নিকোলাস আপের্ট-এর কাজ থেকে শুরু হয়ে আজ শিল্পমানে পৌঁছেছে।

কোনো জাতির “অভ্যাস” বা কোনো নারীর “স্বভাব” এখানে ভূমিকা রাখে না – শুধু জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানই এখানের সবকিছু। ভাবছেন এখানে আবার জাতি বা নারীর কথা কেন? এই মহাবিশ্বের মহাপরাক্রমশালী সৃষ্টিকর্তা নামধারী আল্লাপাক যাকে স্বীকৃতি না দিলে আপনাকে অনন্তকাল আগুনে পোড়াবে ও বিশ্বের সর্বকালের কথিত শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী গুণি, জ্ঞানী, পবিত্রতম মানুষ রাসূলে পাক মুহাম্মদ জানতো না খাবার, বিশেষ করে মাংসে কেন পচন ধরে। তারা দুজনে মিলে মাংসে পচন ধরার জন্য দায় দিয়ে দিলো ইহুদীদের। বনী ঈসরাইল বা ইহুদীরা না থাকলে নাকি মাংসে কখনো পচন ধরতো না। সঙ্গে তারা নারীদেরও একটু চিকন করে বাঁশ দিয়ে দিল – স্বামীর অবাধ্য হওয়া নারীদের স্বভাব।

এখন হাদিসের দিকে তাকাই। সহীহ বুখারী (৩৩৯৯/৩৩৩০) ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিতঃ
“বনী ইসরাঈল না হলে মাংস পচত না; আর হাওয়া না হলে কোনো নারী কখনো স্বামীর সাথে খিয়ানত করত না।” (আরবি: لَوْلَا بَنُو إِسْرَائِيلَ لَمْ يَخْنَزِ اللَّحْمُ، وَلَوْلَا حَوَّاءُ لَمْ تَخُنْ أُنْثَى زَوْجَهَا الدَّهْرَ)।

এই বক্তব্য দুই অংশে বিভক্ত এবং উভয়ই আধুনিক জ্ঞানের সাথে সরাসরি সংঘাতপূর্ণ। পুরোপুরি অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিদ্বেষে ভরা জঘন্য বক্তব্য।

প্রথম অংশ – মাংস পচনের দায় বনী ইসরাঈল/ইহুদীদের উপর চাপানো। ঐতিহ্যবাহী ব্যাখ্যায় বলা হয়, মূসার সময় মান্না-সালওয়া নাজিল হলে তাদের সংরক্ষণ নিষেধ করা হয়েছিল; তারা অমান্য করে জমা করলে শাস্তিস্বরূপ মাংস পচতে শুরু করে, অথবা তারাই প্রথম সংরক্ষণের অভ্যাস শুরু করে। এই ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। মাংস পচা একটি সার্বজনীন জৈবিক প্রক্রিয়া। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে ব্যাকটেরিয়ার আবির্ভাবের পর থেকে চলে আসছে – মানুষের আবির্ভাবের হাজার হাজার বছর আগে। প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম, প্রাচীন মিশরীয় ও অন্যান্য সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ, এমনকি আধুনিক পরীক্ষাগারে দেখা যায় যে কোনো নির্দিষ্ট জাতির “অবাধ্যতা” ছাড়াই মাংস পচে। ব্যাকটেরিয়া আল্লাহ বা যেকোনো স্রষ্টার সৃষ্টি বলে দাবি করলেও, সেই স্রষ্টা নিজেই যেন ভুলে গেছেন যে তিনিই এই অণুজীব তৈরি করেছেন – এবং পচনের দায় এক জাতির উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এটি বিজ্ঞানবিরোধী কল্পকাহিনি। আরও গুরুতর বিষয় হলো, এটি একটি সম্পূর্ণ জাতির (ইহুদী/বনী ইসরাঈল) বিরুদ্ধে স্থায়ী কলঙ্ক আরোপ করে। খাবার পচনের মতো সার্বজনীন প্রাকৃতিক ঘটনাকে তাদের “দোষ” বলে চিত্রিত করা ঘৃণাত্মক ও বিদ্বেষপূর্ণ। এ ধরনের বর্ণনা ইতিহাসে ইহুদী-বিদ্বেষের অন্যান্য রূপের সাথে মিলে যায় এবং আধুনিক নৈতিক মানদণ্ডে অগ্রহণযোগ্য।

দ্বিতীয় অংশ – নারীদের “স্বভাব” হিসেবে স্বামীর প্রতি খিয়ানতকে হাওয়ার (ঈভ) উপর চাপানো। ব্যাখ্যায় বলা হয়, হাওয়া আদমকে গাছের ফল খেতে প্ররোচিত করেছিলেন, তাই নারীরা সেই “খিয়ানত” উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এটি নারীদের সামগ্রিকভাবে নৈতিকভাবে দুর্বল, প্রবণতামূলক বিশ্বাসঘাতক ও স্বামীর প্রতি অবাধ্য হিসেবে চিত্রিত করে। আধুনিক মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও জেন্ডার স্টাডিজে দেখা যায় যে বিশ্বাসঘাতকতা বা অবাধ্যতা কোনো লিঙ্গ-নির্দিষ্ট “স্বভাব” নয় – এটি ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণের ফল। পুরুষ ও নারী উভয়ই সমানভাবে এ ধরনের আচরণ করতে পারে। হাদিসের এই অংশ নারীদের সমষ্টিগতভাবে অপমান করে এবং পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের যৌক্তিকতা সরবরাহ করে। এটি নারীর মর্যাদা ও সমতার বিরুদ্ধে।

মোটের উপর, এই হাদিস (যেটি সহীহ বলে স্বীকৃত) একটি দ্বৈত সমস্যা তৈরি করেঃ একদিকে এটি প্রাকৃতিক ঘটনাকে অলৌকিক শাস্তি বা জাতীয় দোষ বলে উপস্থাপন করে, যা ব্যাকটেরিয়া, ক্যানিং ও খাদ্য সংরক্ষণের আধুনিক জ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ; অন্যদিকে এটি ইহুদীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর সাধারণীকরণ ছড়ায়। “দুনিয়ার যত দোষ ইহুদী ও নারীদের” – এ ধরনের ধারণা কোনো জ্ঞানভিত্তিক বা ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বদৃষ্টির সাথে মেলানো যায় না।

ক্যানড ফুডের সাফল্যই প্রমাণ করে যে পচন নিয়ন্ত্রণযোগ্য – ব্যাকটেরিয়া দূর করে, সীল করে। কোনো জাতির অভ্যাস বা কোনো নারীর পূর্বপুরুষের “পাপ” এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। বিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলোকে বুঝে নিয়ন্ত্রণ করা যায়; ধর্মীয় গ্রন্থের এই ধরনের দাবি সেই বোঝাপড়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সামাজিক বিদ্বেষকে উস্কে দেয়। এই হাদিসের তথা ইসলাম, তার আল্লাহ ও নবী মুহাম্মদের সমালোচনা তাই শুধু বৈজ্ঞানিক সত্যের পক্ষে নয় – মানব মর্যাদা ও যুক্তির পক্ষেও।

Related Posts

Nonsense Terms in Islam

Islam contains many nonsense terms, and even those are not its own; they are borrowed from neighboring civilizations and mythologies

In English there are many nonsense rhymes, like “Humpty Dumpty sat on a wall.” InRead More

Nonsense Terms in Islam

ইসলামে অনেক ননসেন্স টার্মস আছে, সেগুলোও আবার নিজের না; পার্শ্ববর্তী সভ্যতা, মিথলজি থেকে ধার করা

ইংরেজিতে অনেক ননসেন্স রাইমস আছে, যেমন হামটি ডামটি স্যাট অন এ ওয়াল। বাংলায়ও আছে অনেক,Read More

Except for Muhammad’s sexual life, almost everything in the Qur’an is borrowed! Nobody knew that Muhammad was such a great kutub

1400 years ago, in the harsh, famine‑stricken Arabia, scattered Bedouin people lived there. Because theRead More

Comments are Closed