
Woman's breasts and hips
নারীর বড় বক্ষ ও নিতম্বের প্রতি আল্লাহর এতো পক্ষপাত কেন? পুরুষেরও কি তাই? এটা কি নারীকে সুবিধা দেয়?
আপনারা যদি পাতায়ার ওয়াকিং স্ট্রীটে ও বীচ রোডে সন্ধ্যার পর আলো আঁধারিতে নবী মুহাম্মদকে ছেড়ে দেন তবে উনি বুমবুম শব্দ শুনে নিশ্চিত লেডিদের বাদ দিয়ে লেডিবয়দের পছন্দ করবেন। কারন তাদের বক্ষ বেশি বড়, চুল সুন্দর, গঠনে আকর্ষণীয়, ত্বক মসৃণ, জান্নাতি হুরদের মতো – শুধু ফাইনাল রাউন্ডে মাদ্রাসার ট্রেনিংপ্রাপ্ত করো পরামর্শ লাগতে পারে। আমরা দেখি যে আল্লাহ তথা নবী মুহাম্মদের কাছে বড় বক্ষের নারীরা অধিক প্রিয়। নবী কুমারী ও অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে করার জন্য পুরুষদের উৎসাহিত করেছেন। সৌন্দর্য, বংশ মর্যাদা, সম্পদ ও ধর্মভীরু তথা স্বামীর কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবে এমন মেয়েদের বিয়ে করার কথা বলেছেন উনি। তার ধারণা অল্প বয়সী কুমারী মেয়েরা মিষ্টিমুখী, নির্মল জরায়ুধারী, অল্পতেই তুষ্ট হয় এবং তাদের যোনীপথ অধিক উষ্ণ। এগুলো হাদিসের কথা। জান্নাতে বড় বক্ষ, বড় চোখ ও সৌন্দর্যের খনি ৭২ হুর নারী দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উনি। নারীদের বড় বক্ষ ও বড় নিতম্বের প্রতি কি পুরুষের আকর্ষণ কাজ করে? করলে কেন?
মানুষের শরীরের কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিজ্ঞানী, দার্শনিক, শিল্পী ও ধর্মগুরুরা বহু শতাব্দী ধরে ভেবেছেন। নারীর বক্ষ ও নিতম্ব তার মধ্যে অন্যতম। প্রশ্নগুলো মোটামুটি এই: এগুলো বড় হলে কি পুরুষের কাছে বেশি আকর্ষণীয় লাগে? এর কি কোনো প্রজনন-সুবিধা আছে? আকার ভিন্ন হয় কেন? কেন কিছু নারীরা সার্জারি, প্যাড বা বিশেষ পোশাকের আশ্রয় নেন? এসব নিয়ে মানুষের ধারণার পেছনে কি বিবর্তনীয় কারণ আছে? আর ধর্মীয় বর্ণনা, বিশেষ করে জান্নাতের হুরদের বর্ণনা, কি কোনো ধরনের শরীরকে বাড়তি মর্যাদা দেয়?
এই বিষয়ে সহজ উত্তর প্রায় নেই। বিজ্ঞান এখানে অনেক জায়গায় অনুমান ও বিতর্কের মধ্যে আছে, আর সংস্কৃতি ও সময়ের সঙ্গে রুচিও বদলায়। তাই প্রবন্ধে আমি যা প্রতিষ্ঠিত, যা অনুমান-নির্ভর এবং যা বিতর্কিত, তা আলাদা করে দেখাব।
আকার কেন ভিন্ন হয়ঃ জীববিজ্ঞান কী বলে?
বক্ষঃ নারীর স্তনের ভেতরে থাকে দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থিকলা (glandular tissue), সংযোগকারী কলা এবং চর্বি। আকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখে:
- জিনঃ পরিবার ও জাতিগত বৈচিত্র্যের বড় অংশ বংশগত।
- হরমোনঃ বয়ঃসন্ধিকালে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের প্রভাবে স্তন বিকশিত হয়। চক্র, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় আকার বদলায়।
- শরীরের মোট চর্বিঃ ওজন বাড়লে বা কমলে স্তনের আকারও সাধারণত বদলায়, কারণ স্তনের বড় অংশই চর্বি।
- বয়স ও মেনোপজঃ ইস্ট্রোজেন কমলে গ্রন্থিকলা কমে, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও কমে, ফলে আকার ও আকৃতি বদলায়।
একটি জরুরি তথ্য হলো, স্তনের আকার দুধ উৎপাদনের ক্ষমতার নির্ভরযোগ্য সূচক নয়। ছোট স্তনেও পর্যাপ্ত গ্রন্থিকলা থাকতে পারে, বড় স্তনের বড় অংশ হতে পারে শুধু চর্বি।
নিতম্ব: নিতম্বের আকার নির্ভর করে দুটি জিনিসের ওপর, পেলভিক হাড়ের গঠন এবং গ্লুটিয়াল পেশি ও তার ওপরের চর্বির পরিমাণ। বয়ঃসন্ধিতে ইস্ট্রোজেন নারীদেহে নিতম্ব ও ঊরুতে চর্বি জমার প্যাটার্ন তৈরি করে, যাকে বলা হয় গাইনয়েড (gynoid) বা গ্লুটিওফিমোরাল চর্বি বণ্টন। পুরুষদেহে একই হরমোনগত কারণে চর্বি বেশি জমে পেটের দিকে। এ ছাড়া জিন, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, গর্ভাবস্থা ও বয়স এখানেও প্রভাব ফেলে।z and
পুরুষের চোখে কি এগুলো আকর্ষণীয়?
সংক্ষেপে: কিছু মাত্রায় হ্যাঁ, কিন্তু সার্বজনীনভাবে নয়, আর “যত বড় তত ভালো” এমনও নয়।
নিতম্ব ও কোমর-নিতম্ব অনুপাত (WHR): ১৯৯০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী দেবেন্দ্র সিং দেখান যে অনেক পুরুষ কোমর-নিতম্ব অনুপাত প্রায় ০.৭ (কোমর নিতম্বের তুলনায় সরু) এমন নারীকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন। পরবর্তী গবেষণায় ভিন্নতা পাওয়া গেছে। কিছু সমাজে, বিশেষ করে খাদ্যসংকটের পরিবেশে বা শিকারি-সংগ্রাহক গোষ্ঠীতে, তুলনায় বেশি ওজনের বা ভিন্ন অনুপাতের শরীরকে পছন্দ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা সর্বজনীন “সৌন্দর্যের ফর্মুলা” নয়।
বক্ষঃ এ ক্ষেত্রে গবেষণার ফল আরও মিশ্র। পশ্চিমা দেশের কিছু গবেষণায় মাঝারি আকার সবচেয়ে বেশি পছন্দ পেয়েছে। কিছু সংস্কৃতিতে বড় আকারের প্রতি ঝোঁক দেখা গেছে, আবার কোথাও ছোট ও দৃঢ় গড়নকে আদর্শ ধরা হয়েছে। ব্যক্তিগত পছন্দে বিপুল ভিন্নতা আছে, এবং মিডিয়া, পর্নোগ্রাফি, সামাজিক মাধ্যম ও বিজ্ঞাপনের প্রভাবে “আদর্শ” কী তা দশকে দশকে বদলায়।
আরেকটি কথা, আকর্ষণ কেবল শরীরের মাপের ব্যাপার নয়। মুখাবয়ব, চলন, কণ্ঠস্বর, ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধি, রসবোধ ও আর্থ-সামাজিক অবস্থান মিলিয়ে মানুষ সঙ্গী নির্বাচন করে।
বিবর্তনীয় ব্যাখ্যাঃ কী বলা হয়, কতটা নির্ভরযোগ্য
বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানীরা কয়েকটি অনুমান (hypothesis) দিয়েছেন। এগুলোর কোনোটিই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।
ক) যৌন নির্বাচন ও “সংকেত” তত্ত্বঃ মানুষই একমাত্র প্রাইমেট যার স্তন গর্ভাবস্থা-বহির্ভূতভাবেও স্থায়ীভাবে স্ফীত থাকে। ডারউইন-ধারার ব্যাখ্যা হলো, এটি পুরুষের কাছে যৌবন ও স্বাস্থ্যের সংকেত হয়ে উঠেছে।
খ) চর্বি-সঞ্চয় তত্ত্বঃ আরেকটি ব্যাখ্যা বলে, স্তন ও নিতম্বের চর্বি মূলত শক্তি-সঞ্চয়। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান অত্যন্ত শক্তিনির্ভর, তাই যেসব নারীর শরীরে পর্যাপ্ত সঞ্চিত শক্তি ছিল, তাদের সন্তান বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি ছিল। পুরুষেরা সেই সংকেত পড়তে শিখেছে, এমন যুক্তি দেওয়া হয়।
গ) গ্লুটিওফিমোরাল চর্বি ও সন্তানের মস্তিষ্কঃ গবেষক লাসেক ও গোলিনের মতে, নিতম্ব ও ঊরুর চর্বিতে ডিএইচএ-জাতীয় দীর্ঘ-শৃঙ্খল ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি থাকে, যা ভ্রূণ ও শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এমন চর্বি-বণ্টনের মায়েদের সন্তানের জ্ঞানীয় পরীক্ষার ফল তুলনামূলক ভালো। তবে এই তত্ত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ আছে এবং ফলাফল অন্যান্য কারণে (যেমন পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা) প্রভাবিত হতে পারে।
ঘ) হরমোন-সংকেতঃ পোল্যান্ডের এক গবেষণায় (ইয়াসিয়েনস্কা ও সহকর্মীরা, ২০০৪) দেখা গেছে, নিচু কোমর-নিতম্ব অনুপাত এবং তুলনামূলক বড় স্তনের নারীদের চক্রের মাঝামাঝি সময়ে ইস্ট্রাডিওল (ইস্ট্রোজেনের একটি রূপ) বেশি ছিল, যা গর্ভধারণের সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু প্রভাবের মাত্রা সামান্য, এবং এ থেকে প্রমাণ হয় না যে এই বৈশিষ্ট্যের কারণে বিবর্তনে ব্যাপক সুবিধা ঘটেছিল।
সমালোচনাঃ সমালোচকরা বলেন, এই ব্যাখ্যাগুলোর অনেকটাই “গল্প বলা”, অর্থাৎ ফলাফল জানার পর তার পেছনে কারণ বসানো। কোনো সমাজে বা যুগে একটি গড়ন পছন্দ করা হয় বলেই তা বিবর্তনীয় অভিযোজন বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সংস্কৃতিভেদে ব্যাপক ভিন্নতা ইঙ্গিত করে যে শেখা ও সামাজিক প্রভাবের ভূমিকাও বিশাল।
প্রজনন-সুবিধা কি সত্যিই আছে?
যা বলা যায়ঃ
- স্তনের আকারের সঙ্গে গর্ভধারণের ক্ষমতা বা দুধ উৎপাদনের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত নয়। ছোট স্তনের নারী সন্তানকে পুরোপুরি বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন।
- খুব কম চর্বি (যেমন অ্যাথলেট বা অপুষ্টির শিকার নারীদের ক্ষেত্রে) ঋতুচক্র ব্যাহত করে প্রজননক্ষমতা কমাতে পারে। অর্থাৎ শরীরে পর্যাপ্ত শক্তিসঞ্চয় প্রজননের পূর্বশর্ত। কিন্তু এখান থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে স্তন বা নিতম্ব যত বড়, প্রজননক্ষমতা তত বেশি।
- প্রশস্ত নিতম্বের হাড় নিয়ে “প্রসবের সুবিধা” যুক্তি অনেকে দেন, কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রসবের জটিলতা আরও বহু কারণে ঘটে। নিতম্বের ওপরের চর্বি ও পেশির আকার সরাসরি প্রসবের সহজতা নির্ধারণ করে না।
অতএব ব্যক্তিগত স্তরে কোনো “প্রজনন-সুবিধা” নিশ্চিতভাবে দাবি করা যায় না। বড়জোর বলা যায়, ইতিহাসের কোনো কোনো পরিবেশে স্বাস্থ্য ও পুষ্টির পরোক্ষ সংকেত হিসেবে এসব বৈশিষ্ট্য প্রভাব ফেলে থাকতে পারে।
সার্জারি, প্যাড ও বিশেষ পোশাক কেন?
এই আচরণের পেছনে একাধিক স্তর আছে:
ক) সামাজিক প্রত্যাশা ও আদর্শ শরীরের চাপঃ বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক নির্দিষ্ট আকৃতিকে বারবার “স্বাভাবিক ও কাঙ্ক্ষিত” হিসেবে দেখায়। ফিল্টার ও এডিটিং এমন আদর্শ তৈরি করে যা বাস্তবে বেশির ভাগ নারীর শরীরে নেই।
খ) আত্মবিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ঃ অনেক নারী নিজের জন্যই সার্জারি বা শেপওয়্যার বেছে নেন। শরীরের কোনো অংশ নিয়ে অস্বস্তি দূর করা তাঁদের কাছে মানসিক স্বস্তির বিষয়। এটিকে শুধু পুরুষের মনোরঞ্জনের চেষ্টা ভাবা ভুল হবে।
গ) যৌন বাজারে প্রতিযোগিতাঃ বিবর্তনীয় দৃষ্টিতে কেউ কেউ বলেন, সংকেত বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা পুরনো। ইতিহাসে এর নজির প্রচুর, যেমন ইউরোপের কর্সেট, ১৯শ শতকের বাসল (নিতম্ব বড় দেখানোর কাঠামো), আধুনিক পুশ-আপ ব্রা ও শেপওয়্যার। একে বলা হয় “সুপারনরমাল স্টিমুলাস”, অর্থাৎ স্বাভাবিক সংকেতকে অতিরঞ্জিত করা।
ঘ) ঝুঁকিঃ ইমপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে ক্যাপসুলার কন্ট্র্যাকচার, ফেটে যাওয়া, সংক্রমণ ও পুনঃঅস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট (BBL) কসমেটিক সার্জারির মধ্যে তুলনামূলক বেশি মৃত্যুঝুঁকির একটি হিসেবে পরিচিত, মূলত ফ্যাট এম্বোলিজমের আশঙ্কায়। নিরাপত্তা-পদ্ধতি পরে উন্নত হয়েছে, কিন্তু ঝুঁকি শূন্য নয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য, প্রশিক্ষিত সার্জনের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা জরুরি।
নারী ও পুরুষের যৌনজীবনে কি এর প্রভাব পড়ে?
নারীর দিকঃ গবেষণায় বারবার দেখা গেছে, নিজের শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা যৌন-আগ্রহ, উত্তেজনা ও তৃপ্তি কমাতে পারে। অনেক নারী সঙ্গমের সময়ও নিজের শরীর নিয়ে সচেতন ও উদ্বিগ্ন থাকেন (মনোবিজ্ঞানে একে “স্পেক্টেটরিং” বলা হয়)। কিছু গবেষণায় স্তন বৃদ্ধি সার্জারির পর আত্মসম্মান ও যৌন-আত্মবিশ্বাসে স্বল্পমেয়াদি উন্নতি দেখা গেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল মিশ্র এবং সব ক্ষেত্রে একই নয়।
পুরুষের দিকঃ পুরুষের ক্ষেত্রেও পর্নোগ্রাফি ও মিডিয়ার অতিরঞ্জিত ছবি বাস্তব সঙ্গীর শরীর সম্পর্কে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে। এতে সঙ্গীর প্রতি অসন্তোষ, তুলনা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।
মূল কথাঃ যৌন-তৃপ্তি মূলত নির্ভর করে পারস্পরিক আস্থা, যোগাযোগ, আবেগীয় ঘনিষ্ঠতা, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং একে অপরের চাহিদা বোঝার ওপর। শরীরের মাপ এখানে প্রধান নির্ধারক নয়।
এবং ধর্ম ও জান্নাতের হুর
আল্লাহ তথা নবী মুহাম্মদের দেওয়া হুরদের বর্ণনা কিছু নারীকে একধরনের শরীরিক মর্যাদা দেয় এবং অন্যদের ছোট করে। বিষয়টি পাঠ্য, ব্যাখ্যা ও সামগ্রিক নৈতিক কাঠামো মিলিয়ে দেখা দরকার।
পাঠ্যে কী আছেঃ কুরআনে জান্নাতের সঙ্গীদের বর্ণনায় “হুর ঈন” (বড় ও সুন্দর চোখের), “কাসিরাতুত তারফ” (নম্র দৃষ্টির), “আতরাব” (সমবয়স্কা) ইত্যাদি শব্দ আছে। সুরা নাবার ৩৩ নম্বর আয়াতে “কাওয়াইব” শব্দটি এসেছে। ইবনে কাসীর ও তাবারির মতো ধ্রুপদী মুফাসসিরদের অনেকে এর অর্থ করেছেন গোলাকার ও স্ফীত বক্ষবিশিষ্টা, বাংলাদেশের বেশিরভাগ ওয়াজীরাও এটা রসালো ভাষায় বর্ণনা করেন।
সমালোচনার যৌক্তিকতাঃ নারীবাদী ও আধুনিকতাবাদী অনেক পণ্ডিত মনে করেন, এসব বর্ণনা সপ্তম শতকের আরব সমাজের পুরুষ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে এবং নারীকে ভোগ্য বস্তু হিসেবে উপস্থাপনের ঝুঁকি তৈরি করে। এই সমালোচনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, বরং তা নৈতিক দৃষ্টি থেকে নারীদের প্রতি অবমাননাকর। এভাবে একটি ধর্মগ্রন্থের পাঠ্য থেকে পৃথিবীর নারীদের শরীর-ভিত্তিক মর্যাদা-বিভাজন প্রত্যক্ষভাবে ঘোষনা করা সেই ধর্মের গ্রহনযোগ্যতাকেই প্রশ্ন করে।
শেষ কথা
নারীর বক্ষ ও নিতম্ব জীববিজ্ঞানগতভাবে হরমোন, জিন ও চর্বি বণ্টনের ফল। এগুলোর আকার পুরুষের আকর্ষণে কিছু ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু পছন্দ ব্যাপকভাবে সংস্কৃতি, সময় ও ব্যক্তিভেদে বদলায়। বিবর্তনীয় ব্যাখ্যাগুলো আকর্ষণীয় হলেও অনুমান-নির্ভর এবং ব্যক্তিগত স্তরে “প্রজনন-সুবিধা” প্রমাণ করা যায় না। সার্জারি, প্যাড ও শেপওয়্যারের ব্যবহার একই সঙ্গে সামাজিক চাপ, আত্মবিশ্বাস ও ঐতিহাসিক “সংকেত বাড়ানোর” প্রবণতার ফল। যৌনজীবনের তৃপ্তি নির্ভর করে মূলত সম্পর্কের মান, শরীর নিয়ে স্বস্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর। আর ধর্মীয় বর্ণনার প্রশ্নে পাঠ্য ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক চলমান, তবে মানুষের নৈতিক মর্যাদা তার শরীরের মাপে নির্ধারিত হয় না, এই নীতিটিই সবচেয়ে যৌক্তিক।
Related Posts

Why does Allah show such preference for women with large breasts and large buttocks? Do men feel the same way? Does this give women any advantage?
If you leave Prophet Muhammad in Pattaya’s Walking Street and Beach Road after evening, inRead More

Do women like the color pink? What is the psychology behind it?
Last winter my friend Lamia went to buy a birthday present for her niece. TheRead More

নারী কি গোলাপী বা পিংক রঙ পছন্দ করে? এর পিছনে মনস্তত্ত্ব কী?
গত শীতে আমার বন্ধু লামিয়া ভাগ্নির জন্মদিনের উপহার কিনতে গিয়েছিল। দোকানি জামাগুলো সামনে ছড়িয়ে দিয়েRead More

Comments are Closed