Islam
Islam is a Cult

Islam is a Cult

শুধুমাত্র খ্রিস্টান হওয়ার কারনে ইরানের আদালত তাদের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছিল!

২০০৯ সাল। ইরানের দুই তরুণী মারজিয়েহ আমিরিজাদে ও মরিয়ম রোস্তামপুরের বিরুদ্ধে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়ার রায় হলো। অপরাধ একটাই: তাঁরা ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং সেটা অস্বীকার করতে রাজি হননি। দুজনেরই জন্ম মুসলিম পরিবারে। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাঁরা ধর্মতত্ত্ব পড়েন, তারপর দেশে ফিরে আসেন। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে তাঁরা গোপনে ঘরোয়া গির্জা (হাউস চার্চ) গড়তে সাহায্য করেন, বেশির ভাগই নারী ও তরুণদের নিয়ে।

ইরানে ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মপ্রচার অপরাধ। ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে আসা মানুষকে সেখানে খ্রিস্টান হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয় না, তার পরিচয় মুরতাদ, ধর্মত্যাগী – এবং শাস্তি মৃত্যুদন্ড। শুধু আর্মেনীয় ও আসিরীয়দের মতো জন্মসূত্রে স্বীকৃত সংখ্যালঘুরাই আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য ধর্মপালনের অনুমতি পান।

কেউ একজন খবর দিল বিদেশ ফেরৎ দুই তরুনী ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিস্টান হয়েছেন। ২০০৯ সালের মার্চে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাঁদের গ্রেপ্তার করে। কর্মকর্তারা জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কি খ্রিস্টান?” দুজনেই বললেন, “হ্যাঁ।” তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্মত্যাগ ও ধর্মপ্রচারের অভিযোগ আনা হলো। বিচারক রায় দিলেন, ইসলামে ফিরে না এলে ফাঁসি। তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে তাঁরা ২৫৯ দিন কাটান। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা হয়, ফাঁসির হুমকি দেওয়া হয়, থাকতে হয় অমানবিক পরিবেশে।

তাঁরা জানতেন না, বাইরে তাঁদের মুক্তির জন্য প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিভিন্ন চার্চ গোষ্ঠী চাপ দিচ্ছিল। পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টও ইরান সরকারকে চিঠি লিখে তাঁদের মুক্তি চান। শেষে নয় মাস পর নানামুখী আন্তর্জাতিক চাপের কাছে বাধ্য হয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ইরান ছাড়েন। তাঁদের কাহিনি লেখা আছে Captive in Iran বইয়ে।

শাসকেরা তাঁদের মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল, পারেনি, হত্যা করতে চেয়েছিল, তাও তারা তাদের ধর্মচর্চার স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ ধর্ম প্রচারের অধিকারের দাবি থেকে পিছু হটেনি। ইরানের আইন বদলায়নি, ইসলামী এই সমস্ত বর্বর আইন সেখানে বহাল তবিয়তে আছে এখনো। ইরানে আজও ঘরোয়া প্রার্থনা, বাপ্তিস্ম বা বাইবেল রাখার দায়ে ধর্মান্তরিতদের “জাতীয় নিরাপত্তা”র অভিযোগে জেলে পোরা হয়।


ধর্মত্যাগের শাস্তিঃ ইসলামী আইনের অবস্থান

সহিহ বুখারির একটি হাদিসে আছে, “যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো।” এই হাদিসের ভিত্তিতে ক্লাসিক্যাল ফিকহের চার মাযহাবের অধিকাংশ আলেম মুরতাদের (ধর্মত্যাগীর) শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বলে মত দিয়েছেন, সাধারণত তওবার সুযোগ দেওয়ার পর। ইসলাম ছেড়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করলেও কেউ মুরতাদ গণ্য হন। ইরান, সৌদি আরব ও তালেবান-শাসিত আফগানিস্তানের মতো রাষ্ট্র এই ব্যাখ্যাই প্রয়োগ করে কারন এটাই ইসলামের বিধান।

আল্লাহর সমালোচনা করলে বা তাঁর সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করলে তওবার মাধ্যমে ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নবী মুহাম্মদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ নেই। অর্থাৎ আল্লাহর সমালোচনার জন্য ক্ষমা পাওয়া সম্ভব হলেও নবীর সামান্য সমালোচনা, তুলনা, বা অন্য কাউকে তাঁর চেয়ে বেশি ভালোবাসা – এসবকেই শাতিমে রাসূলের আওতায় ফেলা হয়। এমনকি কেউ যদি নবীর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির তুলনা করে তাকে সমকক্ষ বা অধিক মর্যাদাসম্পন্ন বলে মনে করে, তাহলেও তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়, সে হয়ে যায় শাতিমে রাসূল।

এই ধারণার ভিত্তিতে বলা হয়, শাতিমে রাসূলকে হত্যা করা মুসলমানদের ওপর ফরজ – অর্থাৎ ধর্মীয় কর্তব্য, মুসলমান হয়ে থাকলে সেটা তাকে করতেই হবে, সাপোর্ট করতেই হবে। ইসলামী ঐতিহ্যের বিভিন্ন বর্ণনায় নবী মুহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীদের কর্মকাণ্ডকে এই বিধানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। ফলে এই বিষয়ে ইসলামের বিভিন্ন মাজহাব – হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি, হাম্বলি – এবং অধিকাংশ ইসলামী আলেমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য নেই; বরং তারা একমত যে নবী-অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তওবা গ্রহণযোগ্য নয়।

এই শাতিমে রাসূলের ধারনার কারনে দেখবেন, বাংলাদেশের অনেক ইসলামিস্ট আল্লাহর সমালোচনা করলেও তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় না। কিন্তু নবী মুহাম্মদের সামান্য সমালোচনা করলে, এমনকি তার জীবনের কলংকিত অধ্যায় ইসলামী সোর্স থেকে তুলে ধরলেও তাকে হত্যার হুমকি দেয়, কারন নবী মুহাম্মদও তার সমালচনাকারীদের লোক পাঠিয়ে হত্যা করিয়েছেন। এমনকি তাকে গালি দেয়ার জন্য এক গর্ভবতী নারীর গর্ভ চিরে সন্তান বের হয়ে পড়া ও তাদের মা-সন্তানের নির্মম মৃত্যুকেও অনুমোদন দিয়েছেন নবী মুহাম্মদ।

বিভিন্ন দেশের উদাহরণ

সুদান (২০১৪): মরিয়ম ইব্রাহিমকে আদালত ধর্মত্যাগের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি জন্মসূত্রে খ্রিস্টান, মা ইথিওপীয় অর্থোডক্স খ্রিস্টান, আর কখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। কিন্তু আদালত মুসলিম পিতার সূত্রে তাঁকে মুসলিম ধরে নেয়। তিনি তখন গর্ভবতী ছিলেন, আদলত রায় দেয় সন্তান জন্মদানের পরেই তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। কারাগারেই সন্তান জন্ম দেন। আন্তর্জাতিক চাপ ও আপিলের পর জুন ২০১৪-তে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সৌদি আরব: দেশটিতে লিখিত দণ্ডবিধিতে ধর্মত্যাগের আলাদা ধারা নেই, বিচারকেরা অসংকলিত শরিয়া প্রয়োগ করেন এবং ধর্মত্যাগে মৃত্যুদণ্ড সম্ভব। ২০১৪ সালে আহমদ আল-শামরিকে নাস্তিকতা ও ইসলাম ত্যাগের ঘোষণার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদন আছে। ২০১২ সালে নবীকে নিয়ে টুইট করায় হামজা কাশগারিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘ কারাভোগ করতে হয়।

পাকিস্তান: সেখানে ধর্মত্যাগের জন্য আলাদা আইন নেই, কিন্তু দণ্ডবিধির ২৯৫-সি ধারায় নবীর অবমাননার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আসিয়া বিবি ২০১০ সালে এই ধারায় মৃত্যুদণ্ড পান এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে খালাস হন। আহমদিয়াদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করাই আইনত অপরাধ। অভিযোগের জেরে গণপিটুনিতে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যেমন ২০১৭ সালে মাশাল খান। পাকিস্তানে ধর্ম ও নবী মুহাম্মদকে অবমাননার অভিযোগে মব করে পিটিয়ে মেরে ফেলার অনেক উদাহরণ আছে। এক মুমিন ব্যক্তি শুধু বলেছিলেন তিনি ইমরান খানকে নবী মুহাম্মদের মতোই ভালবাসেন, তিনি কেন নবী মুহাম্মদকে সবার উর্দ্ধে ভালবাসেন না, এই অভিযোগে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে উন্মত্ত তৌহিদী জনতা।

আফগানিস্তান: ২০০৬ সালে খ্রিস্টান হওয়ার অভিযোগে আবদুর রহমানের মৃত্যুদণ্ডের বিচার শুরু হয়। আন্তর্জাতিক চাপে তিনি ছাড়া পেয়ে ইতালিতে আশ্রয় নেন। তালেবান শাসনে ধর্মত্যাগ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবেই গণ্য। সেখানে কী হয় তা বাইরের দুনিয়ার জানার সুযোগ খুবই কম।

ইরান: ২০১০ সালে পাস্টর ইউসুফ নাদারখানির মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল, ২০১২ সালে তিনি খালাস পান।

শেষের কথা

এই সমস্ত প্রেক্ষাপটে বলা যায়, রাস্তাঘাট ও সোস্যাল মিডিয়ার ইসলামী ফ্যানাটিকদের সমালোচনা করার আগে ধর্মীয় উৎস – নবী মুহাম্মদ ও ধর্মীয় আইন বা কোরআন, হাদীসকে সমালোচনার আওতায় আনা জরুরি। কারণ ফ্যানাটিকরা যে কঠোরতা, অসহিষ্ণুতা বা সহিংসতার চর্চা করে, তার ভিত্তি তারা ধর্মীয় গ্রন্থ ও নবী মুহাম্মদ ও সাহাবীদের ঐতিহাসিক উদাহরণ থেকেই গ্রহণ করে। তাই ফ্যানাটিক অপরাধীর বিচারের পাশাপাশি সমস্যার মূল উৎসকে প্রশ্ন করা, তার অসঙ্গতি ও অমানবিক দিকগুলো তুলে ধরা – এটাই যুক্তিবাদী ও মানবিক অবস্থান।

অন্যদিকে আমরা যারা নিজেদের মানববাদী বা হিউম্যানিস্ট হিসেবে পরিচয় দেই, আমরা বিশ্বাস করি – এই পৃথিবীতে মানুষের জীবনই সর্বোচ্চ মূল্যবান। মানুষের অস্তিত্ব, তার স্বাধীন চিন্তা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনে যে কারও – হোক সে আল্লাহ, নবী, ধর্মীয় নেতা বা দেবত্বপ্রাপ্ত বলে বিবেচিত – অমানবিক আচরণ বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর জবাবদিহি দাবি করা যায়। মানবজীবনের মর্যাদা রক্ষাই এখানে মূল কথা।

ধর্ম যদি সত্যিই কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে কোনো সমস্যা হতো না। মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনে কী বিশ্বাস করবে, কোন আচার পালন করবে – এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ধর্মীয় মতবাদ বা ধর্মীয় কর্তৃত্ব অন্য মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, স্বাধীনতা, পছন্দ বা আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ব্যক্তিগত বিশ্বাস যখন সামাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখনই সংঘাত, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের জন্ম হয়। বর্তমান বাস্তবতায় একমাত্র ইসলাম নামক কাল্টকেই এই সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতি পদে পদে হস্তক্ষেপ করা ক্যান্সার হিসাবে দেখা যায়।

এই কারণেই ধর্মীয় মতবাদগুলোকে বিশেষ করে ইসলাম, আল্লাহ, নবী মুহাম্মদের সমালোচনা করা জরুরি। তাদের অসারতা, বৈপরীত্য, অমানবিক দিক এবং যুক্তিহীন দাবিগুলোকে বারবার সামনে আনতে হবে। কারণ সমালোচনার মাধ্যমেই মানুষ মুক্তচিন্তার পথে এগোয়, অন্ধবিশ্বাসের শৃঙ্খল ভাঙে, এবং মানবিক মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

Related Posts

Islam is a Cult

The Iranian court sentenced them to death solely because they became Christians!

2009. Two young Iranian women, Marziyeh Amirizadeh and Maryam Rostampour, were sentenced to death byRead More

What happened on the night of Miraj?

Spending the night in Umm Hani’s house and then meeting Allah in the heavens – he named it Mi’raj

Mi’raj is a central event in Islamic belief. On the night of Mi’raj, the ProphetRead More

What happened on the night of Miraj?

উম্মে হানির ঘরে রাত কাটিয়ে মহাকাশে আল্লার সঙ্গে সাক্ষাত – নাম দিয়েছেন মিরাজ

মিরাজ ইসলামি বিশ্বাসের একটি কেন্দ্রীয় ঘটনা। মিরাজের রাতে নবী মুহাম্মদকে পাওয়া যাচ্ছিল না। সাহাবীরা চিন্তায়Read More

Comments are Closed