
Is Zamzam Water Pure?
জমজমের পানি কিন্তু অন্য সাধারন পানির মতোই দূষিত! বিধর্মীদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা বিশুদ্ধ করা হয়!
জমজম কূপের পানি মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত পবিত্র ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এই পানি নিয়ে একটি প্রচলিত দাবি হলো – এতে কোনো জীবাণু, দূষণ বা ক্ষতিকর উপাদান নেই এবং এটি চিরকালীনভাবে বিশুদ্ধ। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বাস্তবতা এতটা সরল নয়। এই পানি পৃথিবীর সবচেয়ে সুপেয় পানিও নয়। অথচ এই কথা বললে বাংলাদেশের অনেক ইসলামিস্ট মারার জন্য তেড়ে আসবে। ফ্যাক্ট হলো, সৌদি আরব জমজমের পানি মক্কা শহরে ও হাজিদের সরবরাহ করার আগে বিধর্মীদের টেকনোলজি ব্যবহার করে পরিশোধন করে। বিশ্বের অনেক দেশ জমজমের পানিতে দুষণ পেয়ে সেখানে তা নিষিদ্ধও করেছে – এমন রেকর্ডও আছে।
আপনারা যারা বিদেশে থাকেন, তারা জানেন – ফিজি দ্বীপ তাদের ‘ফিজি আর্টিসান ওয়াটার’ ও ফ্রান্স তাদের ‘ইভিয়ান’ পানি রপ্তানি করে প্রচুর আয় করে। বিদেশে এই দুই ব্র্যান্ডের পানি খুব জনপ্রিয়। ধরেন, যদি কোনরকম পরিশোধন না করেই প্রাকৃতিক উৎসের পানি পান করা হয় তবে মানুষের জন্য উপযোগীতার বিচারে ফিজি, ইভিয়ান ও জমজমের রেটিং কেমন হবে? দুঃখজনক হলেও সত্য আল্লাহর মিরাকল জমজমের পানির অবস্থান হবে তৃতীয়। ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র ফিজির জনগণ দাবী করেন, তাদের পানি সবচেয়ে বিশুদ্ধতম, তারা সেটা সায়েন্টিফিক্যালি প্রামানও করতে পারবে। অন্যদিকে শত কোটি মুসলিম জমজমের পানিকে বিশুদ্ধতম দাবী করলেও সৌদি আরবের সরকার সে দাবী কখনো করবে না, কারন তারা তো জানে আল্লাহর কুদরতি জমজমের পানির আসল মান, তারাই তো সেটা পরিশোধন করে!
ফিজি ওয়াটার (Fiji Water) – রেটিংঃ ৯.৫/১০
ফিজির ভিটি লেভু দ্বীপের একটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ও সুরক্ষিত পাতাল অ্যাকুইফার (Artesian Aquifer) এই পানির উৎস। এই পানি প্রাকৃতিকভাবে আগ্নেয়গিরির পাথরের স্তরের মধ্য দিয়ে শত শত বছর ধরে ফিল্টার হয়ে নিচে জমা হয়। মাটির গভীরের এই চেম্বারটি বাইরের বাতাস, এসিড বৃষ্টি কিংবা কোনো মানবসৃষ্ট দূষণ থেকে পুরোপুরি মুক্ত। বোতলজাত করার আগে এর প্রাকৃতিকভাবেই শতভাগ জীবাণুমুক্ত এবং পানের উপযোগী থাকে। এতে থাকা প্রাকৃতিক সিলিকা (Silica) পানিটিকে অত্যন্ত সুস্বাদু ও মৃদু করে তোলে।
ইভিয়ান (Evian) – রেটিং: ৮.৫/১০
এই পানির উৎস ফ্রান্সের আল্পস পর্বতের ‘কাসাত স্প্রিং’ (Cachat Spring) নামক প্রাকৃতিক ঝরনা। আল্পস পর্বতের বরফ গলা পানি প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে হিমবাহের বালু ও পাথরের স্তরে ফিল্টার হয়ে ঝরনা দিয়ে বেরিয়ে আসে। এটিও প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত বিশুদ্ধ এবং কোনো ট্রিটমেন্ট ছাড়াই সরাসরি পানের উপযোগী।
ঝরনার পানি ভূপৃষ্ঠের উন্মুক্ত সংস্পর্শে আসায় ভূগর্ভস্থ অবরুদ্ধ অ্যাকুইফারের (যেমন ফিজি) তুলনায় পরিবেশগত সামান্য ঝুঁকি থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল্পসের ওই অঞ্চলে অতিসামান্য মাত্রায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের উপস্থিতি গবেষকদের নজরে এসেছে। তাও এই কীটনাশকজনিত সমস্যা মানব সৃষ্ট, বুঝতেই পারছেন।
জমজমের পানি (Zamzam Water) – রেটিং: ৭.৫/১০
সৌদি আরবের মক্কার একটি ধর্মীয়ভাবে ঐতিহাসিক ভূগর্ভস্থ কূপ থেকে এই পানি আসে। র্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে এটি মুসলিমদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বরকতময় ও সর্বশ্রেষ্ঠ পানি। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং প্রাকৃতিকভাবেই অ্যালকালাইন (ক্ষারীয়)। জমজমের পানিতে টিডিএস (Total Dissolved Solids) বা খনিজ উপাদানের মাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৭৫০-৮০০ মিলিগ্রাম/লিটার), যা সাধারণ খাবার পানির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ। এতে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং নাইট্রেটের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পানের উপযোগী নির্দেশিকার মধ্যে এটি নিরাপদ হলেও, নিয়মিত সাধারণ তৃষ্ণা মেটানোর পানি হিসেবে এটি বেশ ভারী এবং কিছুটা নোনতা স্বাদের হয়।
যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির সতর্কতা
যুক্তরাজ্যের সরকারি সংস্থা Food Standards Agency (FSA) একাধিকবার – বিশেষত রমজান মাস সামনে রেখে – নাগরিকদের “জমজম” নামে বিক্রি হওয়া বোতলজাত পানি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া বা ব্যক্তিগতভাবে দেশে আনা এই পানির নমুনায় আইনি সীমার প্রায় তিনগুণ বেশি আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এজেন্সি সরাসরি বলেছে, আর্সেনিক-দূষিত “জমজম” পানি পান করলে মানুষের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। Green Prophet, BD News 24
বিবিসির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তীর্থযাত্রীদের (হাজিদের) মাধ্যমে জমজম কূপ-সংশ্লিষ্ট কল ও মক্কায় বিক্রি হওয়া বোতল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাতে উচ্চমাত্রার নাইট্রেট, সম্ভাব্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং অনুমোদিত সীমার তিনগুণ বেশি আর্সেনিক পাওয়া যায় – অর্থাৎ অবৈধভাবে বিক্রি হওয়া পানিতে যা পাওয়া গিয়েছিল, একই মাত্রার দূষণ কিছু ক্ষেত্রে “মূল উৎস”-এর নমুনাতেও ধরা পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। CBHUK
শুধু যুক্তরাজ্য নয় – অন্যান্য দেশেও নিষেধাজ্ঞা
এই উদ্বেগ শুধু ব্রিটেনেই সীমাবদ্ধ ছিল না:
- মালয়েশিয়া: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১২ সাল থেকে জমজম পানি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে, কারণ ভুয়া ও ভেজাল পানি বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। ২০১২ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মন্ত্রণালয় প্রায় ৫৮ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের জমজম পানি জব্দ করে এবং মালাক্কার একটি গবেষণাগারে বাজারে বিক্রি হওয়া অন্তত তিনটি ব্র্যান্ডের নমুনায় দূষণ পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়। pressreadermalaymail
- সংযুক্ত আরব আমিরাত (শারজাহ): সম্প্রতি একজন ব্যক্তি একটি আবাসিক ভবনকে অবৈধ বোতলজাতকরণ কারখানায় পরিণত করে সাধারণ ট্যাপের পানি জমজম বলে বিক্রি করছিলেন বলে ধরা পড়ার পর, শারজাহ পৌরসভা বাণিজ্যিক দোকানে জমজম পানি বিক্রি নিষিদ্ধ করে। gulfnews
এই ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট, সমস্যাটির একটি বড় অংশ ভেজাল/নকল বোতলজাতকরণ ও অনিয়ন্ত্রিত রপ্তানি-বিক্রয়ের সাথে সম্পর্কিত—অর্থাৎ সৌদি আরবের বাইরে “জমজম” নামে যা বিক্রি হয়, তার উৎস ও গুণমান নিশ্চিত করা কঠিন।
মক্কায় বর্তমানে পানি পরিশোধন করা হয় – এটি সত্য
বর্তমানে মক্কায় সরবরাহের আগে জমজম পানি আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিশোধন করা হয়। ২০১৩ সালে চালু হওয়া কিং আবদুল্লাহ জমজম ওয়াটার প্রজেক্ট (KPZW)-এর মাধ্যমে কূপ থেকে ভূগর্ভস্থ স্টেইনলেস স্টিল পাইপের মাধ্যমে কুদাই এলাকার প্ল্যান্টে পানি পাঠানো হয়, যেখানে ফিল্টার ও অতিবেগুনি (UV) আলো ব্যবহার করে এটি পরিশোধিত ও জীবাণুমুক্ত করা হয়, এবং পুরো প্রক্রিয়া একটি উচ্চ-প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে তদারকি করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৭০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (১৮৭ মিলিয়ন ডলার)। The Kashmir Monitor
সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করার জন্য অত্যাধুনিক স্টেরিলাইজেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, এবং পানি একটি নির্দিষ্ট স্টেশনে ফিল্ট্রেশন, পিউরিফিকেশন ও স্টেরিলাইজেশনের জন্য পাঠানো হয়, যেখানে নমুনা নিয়ে পিএইচ মিটার, ক্লোরিন পরীক্ষক যন্ত্র ও অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে জীবাণু শনাক্তের পরীক্ষা করা হয়। Arab News, Saudipedia
গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণঃ যদি জমজমের পানি স্বভাবতই ও চিরস্থায়ীভাবে সব ধরনের জীবাণু ও দূষণ থেকে মুক্ত হতো, তাহলে সৌদি আরবের কোটি কোটি ডলার ব্যয়ে ফিল্ট্রেশন, ইউভি স্টেরিলাইজেশন ও নিয়মিত মাইক্রোবায়োলজিক্যাল টেস্টিং-এর প্রয়োজন পড়ত না। এই অবকাঠামোর অস্তিত্বই ইঙ্গিত দেয় যে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজেরাও পানিকে “স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশুদ্ধ” ধরে না নিয়ে এটিকে একটি সাধারণ পানীয় জলের মতোই মানসম্মত প্রক্রিয়াকরণের মধ্য দিয়ে নিয়ে যায়। তারা জনসাধারনের কাছে বিতরনের আগে এই পানি বিদেশী, বিশেষ করে ফ্রেঞ্চ টেকনোলজি ব্যবহার করে জীবানুমুক্ত করে ও খনিজের ভারসাম্য করে।
সুতরাং “জমজম পানি বিশুদ্ধ ও এই পানিতে কখনোই কোনো জীবাণু থাকতে পারে না” বলে দাবি করাটা প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাহলে কী দাঁড়ালো?
প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ থেকে এটা স্পষ্ট যে জমজম পানি “স্বভাবতই ও নিঃশর্তভাবে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত, দূষণহীন” – এই সরল দাবিটি বাস্তবতার সাথে পুরোপুরি মেলে না। যুক্তরাজ্যের FSA, মালয়েশিয়া ও UAE-এর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিভিন্ন সময়ে আর্সেনিক, নাইট্রেট বা ব্যাকটেরিয়া দূষণ পাওয়া গেছে, এবং সৌদি আরব নিজেই কোটি ডলার ব্যয়ে অত্যাধুনিক ফিল্ট্রেশন ও স্টেরিলাইজেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে – যা প্রমাণ করে তারাও পানির গুণমান নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, স্রেফ ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না।
Related Posts

After Being Arrested on Child Rape Charges, Madrasa Teacher Says He “Does Not Like Women”
Recently in Bangladesh, after a madrasa teacher was arrested on allegations of child rape, aRead More

মাদ্রাসা শিক্ষক শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতারের পরে জানালেন – তার নারীদের ভাল লাগে না
সম্প্রতি বাংলাদেশে একজন মাদ্রাসা শিক্ষক শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আটক হওয়ার পর তিনি নিজের সম্পর্কে যেRead More

Everything is a Gift from Allah …
The day of bride-seeing in a Bengali household is like an unwritten stage play—where everyRead More

Comments are Closed