Islam
Prophet Muhammad or Allah?

Prophet Muhammad or Allah?

আল্লাহ সামান্য কাপড়ের বিষয় নিয়ে আয়াত নাজিল করে, কিন্তু মহাবিশ্বের মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয় না

যে সত্তাকে বিশাল মহাবিশ্বের স্রষ্টা বলে দাবি করা হয় – যার ব্যাপ্তি আমাদের ধারণার সীমানা অতিক্রম করে – সেই সত্তা কেন হাজার বছর আগে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন ঝগড়া, যৌন কামনা, সম্মান রক্ষা এবং সামাজিক দ্বন্দ্ব নিয়ে আয়াত নাজিল করে? লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত বলে যে গ্রন্থকে চিরন্তন ও সর্বজ্ঞ জ্ঞানের উৎস বলে দাবি করা হয়, সেই গ্রন্থে কেন সামান্য একটি লাল ভেলভেটের বস্ত্র নিয়ে আলোচনা স্থান পায়, অথচ মহাবিশ্বের মৌলিক কাঠামো, জীবনের উৎপত্তি, বা ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা নিয়ে কোনো স্পষ্ট, পরীক্ষণযোগ্য বক্তব্য নেই?

যে জ্ঞান সেই সময়ের আরব উপদ্বীপের মানুষ এবং একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নবী মুহাম্মদের অভিজ্ঞতার সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তার বাইরে কিছুই সেই গ্রন্থে নেই। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সেই ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রয়োজন, তার কর্তৃত্ব রক্ষা এবং তার সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্যই বক্তব্যগুলো সাজানো। এ থেকে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তই বেরিয়ে আসেঃ যে সত্তাকে “আল্লাহ” বলা হয়, তা বাস্তবে ওই ব্যক্তির নিজস্ব কর্তৃত্বের একটি কাল্পনিক সম্প্রসারণ মাত্র। অন্যথায়, বিশ্বের মহাগ্রন্থ দাবিদার কোনো পাঠ্যে সামান্য কাপড়ের তর্কের মতো তুচ্ছ বিষয় স্থান পেত না, যখন হাজার হাজার মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনো উত্তরই সেখানে নেই।

এবার মহাবিশ্বের প্রসঙ্গে আসা যাক। দাবি করা হয়, সবকিছুই মানুষের জন্য তৈরি। প্রথমে পৃথিবী, তারপর আকাশ, সূর্য, চাঁদ, তারকা। স্রষ্টাকে মানুষের মতো হাত-পাবিশিষ্ট, আরশে বসা এক সত্তা হিসেবে চিত্রিত করা হয়, এবং মানুষকে তার নিজের অবয়বে তৈরি করা হয়েছে বলে বলা হয়। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পূর্ণ অসঙ্গত এবং পূর্বধারণাপ্রসূত। তবু ধরে নিই যে দাবি সত্য।

দৃশ্যমান মহাবিশ্বের ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। এটি শুধু সেই অংশ যা থেকে আলো আমাদের কাছে পৌঁছেছে। সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব এর চেয়ে অনেক বড়, সম্ভবত অসীম, এবং প্রতি মুহূর্তে প্রসারিত হচ্ছে। এর মধ্যে শত শত বিলিয়ন থেকে এক ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি থাকতে পারে। প্রতিটি গ্যালাক্সিতে শত বিলিয়ন নক্ষত্র, এবং সেই নক্ষত্রগুলোর চারপাশে অগণিত গ্রহ। গ্রহের মোট সংখ্যা সেপ্টিলিয়ন (১০²⁴-এরও বেশি) পর্যায়ে হতে পারে। এর মধ্যে কতগুলোতে জীবন বা বুদ্ধিমত্তা আছে, তা অজানা; কিন্তু সংখ্যার বিশালতা দেখে ধরে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত যে মানুষ একমাত্র বুদ্ধিমান প্রজাতি নয়।

এই অসীম কাঠামোর তুলনায় মানুষ একটি ক্ষুদ্র গ্রহের একটি ক্ষুদ্র প্রজাতি মাত্র – একটি সাধারণ নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরছে, একটি সাধারণ গ্যালাক্সির কোণে। মহাবিশ্বের স্কেলে মানুষের অস্তিত্ব ধূলিকণার চেয়েও নগণ্য।

এখন প্রশ্নঃ যে সত্তা এত বিশাল কিছু তৈরি করেছে, তার এই নগণ্য প্রজাতির স্তুতি ও স্বীকৃতির প্রতি এত তীব্র আকুলতা কেন? কেন নির্দিষ্ট কিছু রাতে সে “নীচ আসমানে” নেমে এসে মানুষের কান্না শোনার অপেক্ষায় থাকে? কেন পাপ মাফের শর্ত শুধু একটি – তাকে স্বীকৃতি দেওয়া? মানুষের দেওয়া স্বীকৃতি ছাড়া সে অচল কেন?

যদি বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহে মানুষের মতো বা তার চেয়ে উন্নত বুদ্ধিমত্তা থাকে, তাহলে মহাবিশ্ব কি শুধু এই ক্ষুদ্র প্রজাতির জন্য তৈরি? দাবি অনুযায়ী উত্তর হ্যাঁ। একমাত্র উদ্দেশ্য: মানুষ দিনরাত তার প্রশংসা করবে, ক্ষণে ক্ষণে মনে করিয়ে দেবে যে তার বাইরে কোনো ইলাহ নেই।

এই দাবির ভিত্তি পরীক্ষা করলে দেখা যায়, এটি মহাবিশ্বের স্কেলের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গত। একটি সত্তা যদি সত্যিই এত বিশাল কিছু তৈরি করে থাকে, তাহলে তার নিজস্ব অস্তিত্বের স্বীকৃতির জন্য একটি ক্ষুদ্র প্রজাতির স্তুতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বরং এই নির্ভরশীলতাই ইঙ্গিত দেয় যে “স্রষ্টা” ধারণাটি মানুষের নিজস্ব মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রয়োজন থেকে উদ্ভূত – কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, ভয় নিয়ন্ত্রণ, এবং অস্তিত্বের অর্থ খোঁজার একটি মানবসৃষ্ট কাঠামো যা ১৪০০ বছর আগের আরব উপদ্বীপের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী, জিহাদী সেনাপতি তৈরি করেছিলেন।

সংক্ষেপেঃ যে গ্রন্থ সামান্য কাপড়ের বিষয় নিয়ে আয়াত নাজিল করে, সে রেড ভ্যালভেট অন্তর্বাস হোক বা চাদর, যাই হোক, এমন শত শত ননসেন্স আয়াত পাঠাতে পারে আল্লাহ, কিন্তু মহাবিশ্বের মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয় না, যে সত্তা অসীম সৃষ্টি করেও ক্ষুদ্র মানুষের স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল, সেই শ্রেষ্ঠত্ব ও সত্য হওয়ার দাবিগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ অসঙ্গতিতেই ভেঙে পড়ে।

Related Posts

Prophet Muhammad or Allah?

Allah reveals verses about something as trivial as a piece of clothing, yet does not answer the fundamental questions of the universe

A being who is claimed to be the creator of the vast universe, whose scopeRead More

Prophet Muhammad and OCD

Did Prophet Muhammad have OCD along with other mental issues, which is why he used to do and say everything three times?

In Islamic rituals and practices, a clear pattern of three or odd numbers can beRead More

Prophet Muhammad and OCD

নবী মুহাম্মদের কি অন্যান্য মানসিক সমস্যার পাশাপাশি OCD-ও ছিল যার কারনে উনি সবই তিনবার করতেন, বলতেন?

ইসলামি আচার-অনুষ্ঠানে তিন বা বিজোড় সংখ্যার একটি স্পষ্ট প্যাটার্ন লক্ষ করা যায়। ওযুর সময় প্রতিটিRead More

Comments are Closed