
Men’s sexual rights in Islam
ইসলাম ধর্মে পুরুষের যৌন অধিকার ও বিবাহ ব্যবস্থার বিস্তৃত সুযোগঃ অন্য ধর্মে এমন সুযোগ কী আছে?
ইসলাম এমন এক ব্যবস্থা দিয়েছে যেখানে পুরুষের জন্য যৌনতার দ্বার অবারিত। যেকোনো বয়সের নারীকে বিয়ে করা যায়, একসঙ্গে চারজন স্ত্রী রাখা যায়, তালাক দিয়ে নতুন করে কোটা পূরণ করা যায়। মুতা বিবাহের মতো সাময়িক ব্যবস্থাও আছে, যেখানে সকালে বিয়ে করে বিকালেই শেষ করা যায়। মরার পরে ৭২ হুর ও হাজার হাজার গেলমান তো আছেই। দুনিয়া-আখিরাতে পুরুষের শুধু লাভ আর লাভ।
আরো আছে জিহাদীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জিহাদ আল-নিকাহ – যা একটা সাময়িক বিয়ে এবং একজন চরমপন্থী নারী একাধিক জিহাদীকে পর্যায়ক্রমে বিয়ে করতে পারেন। মামুনুল হক, নজরুল ইসলাম হুজুরদের ভ্রমণকালীন ক্লান্তি দূর করে শ্রান্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আরো একটা বিয়ে আছে নিকাহ আল-মিসইয়ার। জিহাদী চরমপন্থীরা এটার ব্যবহার করে। এই বিয়েতে দীর্ঘমেয়াদী কোনো চুক্তি বা দাবি থাকে না। সফরকালীন সময়ে পুরুষের ইমানদণ্ডের ক্ষুধা মেটানোই যার উদ্দেশ্য।
দত্তক নেওয়া কন্যাকেও বিয়ে করা যায়, পুত্রবধূকে তালাকের পর গ্রহণ করা যায়, ফার্স্ট কাজিন থেকে শুরু করে প্রায় সব আত্মীয়কেই বিয়ে করা যায়। বিয়ে নিজেই খুব সাধারণ – দুইজনের উপস্থিতি আর সাক্ষী হলেই হয়ে যায়। এত সহজ আর বিস্তৃত সুযোগ আর কোনো মতাদর্শে নেই।
আরো আছে, লোকের বউ, মেয়েকে হোটেল বা রিসোর্টে নিয়ে ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক বা একটু পরে বউ বলে ঘোষণা দেওয়া যায়। পরে লোকজন চাপাচাপি করলে কসমের চ্যালেঞ্জ দেওয়া যায়, যদি তিনি মিথ্যাবাদী হন তাহলে আল্লাহপাক তার ইন্সট্যান্ট শাস্তি দিবেন। তবে মুমিন বান্দারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, আল্লাহপাক আপনাদের শাস্তি দিবেন না। মামুনুল হক রিসোর্টে ঝর্ণা দিয়ে তার ইমানদণ্ডের মালিশ শেষে ধরা খেয়ে বেকায়দায় পড়ে এই “মুবাহালা” (مباهلة) চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন।
এতসব সুবিধা আর নিয়ামতের পরও কেউ যদি ইসলামের কোনো নিয়ামতকে অস্বীকার করে, তাহলে সে আসলে আল্লাহপাককেও অস্বীকার করছে! পুরুষদের জন্য এতো এতো সুযোগ রাখার পরেও আমাদের মতো যারা ইসলামের দোষ খুঁজে পাই তারা আসলে আল্লাহপাকের লানতপ্রাপ্ত বান্দা, আল্লাহপাক আমাদের হেদায়েত দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
উপরের বক্তব্যগুলোকে কেন্দ্র করে ইসলামী শরিয়তের পুরুষকেন্দ্রিক যৌন ও বিবাহ বিধানের একটি বিস্তৃত বিশ্লেষণ করা যাক। কুরআন, হাদিস ও বিভিন্ন মাজহাবের ফিকহ অনুসারে পুরুষের জন্য যেসব সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে “নিয়ামত” হিসেবে উপস্থাপিত হয়। আধুনিক সমালোচকরা এগুলোকে লিঙ্গবৈষম্য ও যৌন অধিকারের অসাম্যের উদাহরণ হিসেবে দেখেন। নিচে এসব বিধানের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
প্রথমত, বিবাহের বয়সসীমা। ইসলামী আইনে নারীর বিবাহের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়নি। কুরআনের ৬৫:৪ আয়াতে ঋতুস্রাব না হওয়া মেয়েদের তালাকের ইদ্দতের বিধান আছে, যা ইঙ্গিত করে যে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই বিয়ে সম্ভব। হাদিসে আয়েশা (রা.)-এর বয়স নিয়ে বিতর্ক আছে – কিছু সূত্রে ছয় বছরে বিয়ে এবং নয় বছরে সহবাস সম্পন্ন হয়। অনেক ফকিহ বলেন, পিতা বা অভিভাবক নাবালিকা কন্যাকে বিয়ে দিতে পারেন। ফলে “যেকোনো বয়সের নারী” বিয়ের অধিকার পুরুষের হাতে থাকে। আধুনিক মুসলিম দেশগুলোতে আইন করে বয়সসীমা বাড়ানো হলেও শরিয়তের মূল বিধান অপরিবর্তিত।
দ্বিতীয়ত, বহুবিবাহ। কুরআন ৪:৩ আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “যদি তোমরা ইয়াতিমদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে না পারো, তাহলে যে নারীদের পছন্দ করো তাদের মধ্যে থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে করো।” শর্ত হলো ন্যায়বিচার, কিন্তু বাস্তবে এই শর্তকে সহজেই উপেক্ষা করা যায়। চারজন স্ত্রী একসঙ্গে রাখার অধিকার শুধু পুরুষের। নারী একজনের বেশি স্বামী রাখতে পারে না। তালাক দিয়ে নতুন স্ত্রী গ্রহণের সুযোগও পুরুষের হাতে। তালাক দেওয়ার ক্ষমতা মূলত স্বামীর; স্ত্রীকে খুলা বা ফাসখের মতো জটিল প্রক্রিয়ায় যেতে হয়। ফলে পুরুষ সহজেই “কোটা” পূরণ করে নতুন নারী গ্রহণ করতে পারে।
তৃতীয়ত, সাময়িক বিবাহ বা মুতা। শিয়া ইসলামে মুতা বৈধ। এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ বিয়ে, যেখানে সময় শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিয়ে শেষ হয়ে যায়। সকালে বিয়ে করে বিকালে শেষ করা সম্ভব। সুন্নি মাজহাবগুলো একে নিষিদ্ধ বলে, কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে প্রথম যুগে এটি প্রচলিত ছিল। আধুনিক যুগে কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী “জিহাদ আল-নিকাহ” নামে এর একটি রূপ ব্যবহার করেছে, যেখানে নারীরা জিহাদীদের মনোবল বাড়াতে সাময়িকভাবে নিজেদের সমর্পণ করে। এটি ক্লাসিক্যাল শরিয়তের অংশ নয়, কিন্তু বাস্তবে ব্যবহৃত হয়েছে।
চতুর্থত, নিকাহ আল-মিসইয়ার। এটি মূলত সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রচলিত এক ধরনের বিয়ে, যেখানে স্ত্রী স্বামীর সাথে স্থায়ীভাবে বসবাস না করার এবং ভরণপোষণ দাবি না করার শর্তে রাজি হয়। পুরুষ সফরকালে বা প্রয়োজনমতো স্ত্রীর কাছে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব নেই। অনেক আলেম একে বৈধ বলেছেন, কারণ মূল বিবাহের শর্ত (ইজাব-কবুল, সাক্ষী) পূরণ হয়। সমালোচকরা একে যৌনসুখের জন্য তৈরি “হালাল” ব্যবস্থা বলে অভিহিত করেন।
পঞ্চমত, আত্মীয়দের সাথে বিবাহ। কুরআন ৪:২৩-এ নিষিদ্ধ আত্মীয়দের তালিকা আছে (মা, বোন, কন্যা ইত্যাদি), কিন্তু ফার্স্ট কাজিন, দূরবর্তী আত্মীয়, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে দত্তক কন্যা (যদি প্রকৃত দুগ্ধসম্পর্ক না থাকে) বিয়ে করা যায়। পুত্রবধূকে ছেলে তালাক দিলে বা মারা গেলে বিয়ে করা যায় – এটিও অনুমোদিত। দত্তক প্রথা ইসলামে দুর্বল, কারণ কুরআন ৩৩:৪-৫ আয়াতে দত্তক পুত্রকে প্রকৃত পুত্র বলে গণ্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে দত্তক কন্যাকে বিয়ে করার পথে শরিয়তগত বাধা দেয় না।
বিবাহের প্রক্রিয়াও অত্যন্ত সহজ। দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল হলেই বিয়ে সম্পন্ন। কোনো আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশন বা রাষ্ট্রীয় অনুমোদন শরিয়তে বাধ্যতামূলক নয়। ফলে গোপনে বিয়ে করা সহজ। ধরা পড়লে “এটি আমার স্ত্রী” বলে ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ থাকে। মুবাহালার মতো চ্যালেঞ্জ – যেখানে মিথ্যাবাদী হলে আল্লাহর শাস্তি কামনা করা হয় – ব্যবহার করে অস্বীকারকারীকে চাপ দেওয়া যায়। বাস্তবে আল্লাহর “ইন্সট্যান্ট শাস্তি” না আসায় মুমিনরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
আখিরাতের প্রতিশ্রুতি আরও বেশি। জান্নাতে মুমিন পুরুষদের জন্য ৭২ হুর এবং অসংখ্য গেলমান (যুবক সেবক) এর বর্ণনা হাদিসে আছে। কুরআনেও হুরের উল্লেখ রয়েছে (৪৪:৫৪, ৫২:২০ ইত্যাদি)। নারীদের জন্য সমতুল্য কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। দুনিয়ার বিবাহ ও আখিরাতের পুরস্কার – দুটোতেই পুরুষের পক্ষে ভারসাম্যহীন সুবিধা।
এসব বিধানের পেছনে ধর্মীয় যুক্তি হলো – পুরুষের যৌন চাহিদা বেশি, সমাজে নারীর সংখ্যা বেশি হতে পারে, ইয়াতিম ও বিধবাদের রক্ষা করা ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবে এগুলো পুরুষের যৌন অধিকারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নারীর সম্মতি, সমঅধিকার বা যৌন স্বাধীনতার ধারণা শরিয়তে দুর্বল। একজন পুরুষ চার স্ত্রী, মুতা, মিসইয়ার, কাজিন, দত্তক কন্যা – সবকিছু একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারে, আর নারী একজন স্বামীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
আধুনিক যুগে অনেক মুসলিম দেশে বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ, বয়সসীমা নির্ধারণ এবং অস্থায়ী বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবু শরিয়তের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত। যারা এই বিধানগুলোকে সমালোচনা করেন, তাদেরকে “আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকারকারী” বা “লানতপ্রাপ্ত” বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটি সমালোচনাকে দমন করার এক ধর্মীয় হাতিয়ার।
সব মিলিয়ে ইসলামী শরিয়ত পুরুষকে যৌনতার ক্ষেত্রে এমন বিস্তৃত ও সহজ সুযোগ দিয়েছে যা অন্য কোনো প্রধান ধর্মে সমতুল্য নয়। দুনিয়ার বিবাহ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আখিরাতের প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত – সবখানে পুরুষের প্রাধান্য স্পষ্ট। এই ব্যবস্থাকে “নিয়ামত” হিসেবে গ্রহণ করা বা না করা ব্যক্তির বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই নিয়ামতগুলো একপাক্ষিক এবং পুরুষকেন্দ্রিক।
Related Posts

Why do Islamist clerics consider Bengali cultural festivals their enemy?
This year, unlike many previous years, the major Hindu religious festival Durga Puja in BangladeshRead More

ইসলামিস্ট মোল্লারা কেন বাঙালিদের আনন্দ উৎসবকে তাদের শত্রু মনে করে?
এবার বাংলাদেশে অন্যবারের তুলনায় বেশ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু ধর্মের বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা হয়েRead More

Why do Islamist cyber‑jihadis insult, threaten, and file false reports against people with different opinions?
Maulana Azhari once advised Islamists that sharing his Facebook posts is also an Islamic act;Read More

Comments are Closed