
Sex Slaves in Islam
ইসলামে বিধর্মী নারীদের গণিমতের মাল বানিয়ে যৌনদাসী হিসাবে ধর্ষণ করা, বিক্রি করা সম্পূর্ণ বৈধ!
“আমি ৭৪টি গণহত্যার ক্ষত এবং ১০ লক্ষ বছরের কান্নার আজন্ম ভার বয়ে বেড়াচ্ছি… আমি অন্য কারও জান্নাতে যাওয়ার সহজ পাকা রাস্তা। যে আমাকে হত্যা করেছে, তার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী – যদি সে (আমাকে মেরেও) জান্নাতে পৌঁছাতে না পারে!”
– হাজি মেরশাবি, এজিদি আই অ্যাম” (Ezidi I Am)
২০১৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইসিসের (ISIS) উত্থানের পর সিরিয়া ও ইরাকের কুর্দি জনগোষ্ঠীর ওপর ইতিহাসের অন্যতম বর্বর ও পরিকল্পিত জাতিগত নিধনযজ্ঞ বা গণহত্যা চালানো হয়েছিল। কুর্দিদের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক আদর্শ, নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ইসলামী জিহাদিদের চরমপন্থী মতবাদের বিরুদ্ধে তাদের শক্ত প্রতিরোধী অবস্থানের কারণে জিহাদিরা কুর্দিদের নিজেদের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে। এবং ইসলামের নির্দেশ অনুসারে তারা ছিল ঐ এলাকার কাফের! এদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে জিহাদী জঙ্গিরা একের পর এক কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালায় এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মধ্যযুগীয় উপায়ে নৃশংসতা শুরু করে।
ইসলামের জঙ্গিপনা এই বর্বরতার সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছিল ইরাকের সিনজার অঞ্চলের ইয়াজিদিরা, যারা জাতিগতভাবে কুর্দি এবং একটি প্রাচীন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। ২০১৪ সালের আগস্টে সিনজারে আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে ইসলামের সৈনিকরা কয়েক হাজার নিরীহ ইয়াজিদি পুরুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে গণকবর দেয়। একই সাথে তারা প্রায় সাত হাজার ইয়াজিদি নারী ও শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যায়, যাদেরকে পরবর্তীতে ইসলামী জিহাদিরা নিজেদের মধ্যে “গণিমতের মাল” হিসেবে বন্টন করে, ইসলামে যেমনটা বলা আছে। তারা নারী ও শিশুদের দিনের পর দিন খেতে না দিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরে খোলা বাজারে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে চরম নির্যাতন চালায়। যে সমস্ত শিশু ও বৃদ্ধাদের যৌন আকর্ষণ ছিল না, বাজারে বিক্রি করা যাবে না, তাদের জীবন্ত গনকবর দেয়া হয়।
ইরাকের পাশাপাশি সিরিয়ার কুর্দিদের ওপরেও ইসলামের জিহাদি বাহিনী সমভাবে চড়াও হয়েছিল, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত কোবানি শহর অবরোধ। ভারী অস্ত্র ও কামানের গোলার আঘাতে জিহাদিরা পুরো শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল এবং আশেপাশের গ্রামে ঢুকে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে বন্দি করে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করেছিল। জিহাদিদের এই পৈশাচিক গণহত্যার হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে তৎকালীন সময়ে কোবানি ও তার আশেপাশের এলাকা থেকে প্রায় দুই লাখের বেশি সিরিয়ান কুর্দি নাগরিক রাতারাতি সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
জিহাদিরা কেবল কুর্দিদের হত্যাই করেনি, বরং তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে কুর্দি সংস্কৃতি, ভাষা ও পোশাকের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে এক ধরনের সাংস্কৃতিক নিধনযজ্ঞ চালায়। ইসলাম বরাবরই যেটা করে থাকে সবখানে। কুর্দিদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিদেশি জিহাদি যোদ্ধাদের মাঝে বিতরণ করে দেয়। এছাড়া, যে সমস্ত সাধারণ কুর্দি নাগরিক ইসলামের চরমপন্থী খেলাফতের নিয়মকানুন ও বায়াত গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাত, তাদেরকে সরাসরি কাফের, ইসলামের দুশমন, মুরতাদ বা ধর্মত্যাগী আখ্যা দিয়ে শহরের চত্বরগুলোতে প্রকাশ্যে ফাঁসি কিংবা জবাই করে ঝুলিয়ে রাখা হতো।
এই রক্তক্ষয়ী সংকটের মাঝে কুর্দিদের সশস্ত্র নারী বাহিনী (YPJ) সম্মুখ সমরে ইসলামের জিহাদি বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই শুরু করলে জিহাদিরা কুর্দি নারীদের প্রতি আরো বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে। কোনো কুর্দি নারী যোদ্ধা যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দি হলে তার ওপর চালানো হতো চরম বিকৃত ও পাশবিক নির্যাতন। তবে এই ভয়াবহ অত্যাচার ও অস্তিত্বের সংকটের মুখে দাঁড়িয়েই কুর্দি পেশমার্গা এবং প্রতিরোধ বাহিনীগুলো দমে না গিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সহায়তায় স্থলপথে ইসলামী সৈন্যদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন লড়াইটি লড়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সিরিয়া ও ইরাক থেকে ইসলামের নামে জবরদখল করা ভৌগোলিক খেলাফতের সম্পূর্ণ পতন ঘটাতে মূল ভূমিকা পালন করেছিল।
ছবিতে দেখছেন ২০১৪ সালে লন্ডনে কুর্দি অ্যাক্টিভিস্ট বা কর্মীদের দ্বারা আয়োজিত একটি মঞ্চস্থ পারফরম্যান্স বা পথনাটকের প্রদর্শন, যেখানে তারা নারীদের সঙ্গে ইসলামের আচরন তুলে ধরেছিল। এই বিক্ষোভটি ইসলামী জিহাদিদের দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘কম্প্যাশন ৪ কুর্দিস্তান’ (Compassion 4 Kurdistan) নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল। ছবিতে যাদের দেখা যাচ্ছে তারা মূলত এই পথনাটকেরই অংশ নেওয়া অভিনয়শিল্পী বা অংশগ্রহণকারী।
Related Posts

Islam is said to permit treating non‑Muslim women as war captives and using or selling them as sex slaves
“I carry the wounds of 74 genocides and the lifelong burden of a million yearsRead More

When someone within Islam talks about love for animals and nature, assume it is mere posturing
Whenever there is a festival in the country or the world, Islamic religious scholars startRead More

ইসলামের কেউ পশু ও প্রকৃতি প্রেমের কথা বললে ধরে নিবেন সেটা তাকিয়াবাজি!
দেশে বা বিশ্বে কোন উৎসব হলে ইসলাম ধর্মীয় পন্ডিতদের শরীরে জ্বালা শুরু হয়, কারন ইসলামেRead More

Comments are Closed