
Honor Killing in Islamic Society!
অন্ধ ধর্মাশ্রিত সমাজে নারীরা পণ্য, তাদের হত্যা করাও অনেকে সঠিক বলে মনে করেন!
ইরাকের বাগদাদের আল-নাহরাওয়ান এলাকায় কাওসার বাশার আল-হুসায়জাউই নামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার পরিবার জোরপূর্বক এক মাদকাসক্ত কাজিনের সাথে বিয়ে দিতে চাইলে সে অস্বীকৃতি জানায়; এর জের ধরে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাস করে সেই হত্যাকাণ্ড উদযাপন করে, যা ২০২৬ সালের জুনের শুরুতে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশ পায়।
অনেক ইসলাম প্রধান দেশগুলোতে এমন অনার কিলিং এর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। পরিবারের অমতে কোন নারী তার পছন্দের কাউকে বিয়ে করলে বা পরিবারের পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করতে অসম্মতি জানালে এই কিলিং করে পরিবার। এটা তাদের অধিকার বলেই তারা মনে করে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক এমন কিছু দেশে এগুলো প্রায়ই ঘটে। যেখানে নারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ, ইচ্ছা, মতামত, অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয় না সেই সব সমাজে এগুলো ঘটে।
দুঃখজনক হলেও সত্য বড় প্রভাবশালী ধর্ম ইসলাম নারীদের পূর্ণাঙ্গ মানুষই মনে করে না। কোরআন, হাদিস অনুযায়ী নারীদের সাক্ষ পুরুষের অর্ধেক মানের, কিছু ক্ষেত্রে নারীদের সাক্ষ গ্রহন করা হয় না। আল্লাহ ও নবী মুহাম্মদ বলেছেন নারীদের জ্ঞান ও বুদ্ধি পুরুষের তুলনায় কম। অন্য অনেক কোরআনের আয়াত ও হাদিস থেকে এমন অসংখ্য নজির দেখানো যায় যেখানে ইসলাম নারীদের অসম্মানিত, অপমানিত, অবজ্ঞা, অবহেলা, পুরুষের অধীনন্ত, পুরুষের সম্পদ দেখানো হয়েছে। নারীদের গণিমতের মাল, পুরুষের জন্য উপভোগ্য উপকরণ দেখানো হয়েছে, নারীকে গাঁধা, ঘোড়া, কালো কুকুর সমতূল্য, পুরুষের জন্য অকল্যানকর, নারীর কাজ শুধুই সন্তান উৎপাদন ও স্বামীর সেবা করা, নারীর কোন স্বাধীন সত্ত্বা নেই বলা হয়েছে।
এই যেখানে ইসলামী সমাজে নারীদের অবস্থান, সেখানে ইসলামের সংস্কার না করে সমাজ বদলাবেন কিভাবে?
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও জেনেটিক গবেষণার তথ্যমতে, নিকটাত্মীয় বা কাজিনদের মধ্যে বিয়ে (Consanguineous marriage) বংশগত রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাবা-মা পরস্পরের রক্তসম্পর্কীয় হলে তাদের জিনগত মিল থাকার কারণে সন্তানদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, অন্ধত্ব, বধিরতা এবং গুরুতর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার মতো ক্ষতিকর সুপ্ত জিনগত রোগ (Recessive genetic disorders) প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়। বৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দীর্ঘকাল ধরে কাজিনদের মধ্যে বিয়ের হার অত্যন্ত বেশি হওয়ার কারণে সেখানে জন্মগত ত্রুটি এবং বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এই স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে আধুনিক বিশ্বের বহু দেশে কাজিনদের মধ্যে বিয়ে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে ফার্স্ট-কাজিন বা আপন চাচাতো-মামাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং অনেক সমাজেই একে এক ধরণের অজাচার বা ‘ইনসেস্ট’ (Incest) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অধিকাংশ আধুনিক ও সুশীল সমাজে পারিবারিক সুস্থতা, সামাজিক বৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রক্তসম্পর্কীয় বিয়ের প্রথাকে পরিহার করে দূরবর্তী বা ভিন্ন বংশে বিয়ে করাকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য ও স্বাস্থ্যকর নিয়ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
অথচ ইসলামের নবী নিজে কাজিন বিয়ে করেছেন ও ইসলামে এটি বহুল চর্চিত একটি বিষয়। যার কারণে অনেক পরিবারের মেয়েরা বাধ্য হয়ে, অনেক সময় অনার কিলিং বা পারিবারিক নিপীড়নের ভয়ে কাউকে ভাই হিসাবে জেনে আসা কাজিনকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। ইসলাম এভাবেই মানুষের বিশেষ করে নারীদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
Related Posts

Reading the Qur’an, its translations, tafsir, sirah and hadith – no person with common sense can remain in Islam
Will you continue to remain a blind believer? Blind faith prevents a person from seeingRead More

কুরআন, তার অনুবাদ, তাফসির, সিরাত ও হাদিসসমূহ পাঠ করে কোন কমনসেন্সওয়ালা মানুষ ইসলামে থাকতে পারে না
অন্ধ বিশ্বাসী হয়েই থাকবেন?অন্ধ বিশ্বাস মানুষকে সত্য দর্শনে বাধা দেয়। পক্ষপাতহীন এবং বস্তুনিষ্ঠ মন নিয়েRead More

Women in societies bound by blind religious norms are treated as objects, and many even consider their killing to be justified
In the Al‑Nahrawan area of Baghdad, Iraq, a 15‑year‑old girl named Kawthar Bashar Al‑Husaynzawi wasRead More

Comments are Closed