
The Unrealistic Economy of Islam
ইসলামের ধারণা অবাস্তব, অদূরদর্শী, অমানবিক – অমুসলিমদের অস্তিত্ব ছাড়া ইসলামী অর্থনীতি জিরো
মুহাম্মদের ইসলামের ধারণা অবাস্তব, অদূরদর্শী, অমানবিক – অমুসলিমদের অস্তিত্ব ছাড়া ইসলামী অর্থনীতিতে আফহানিস্তানের হতভাগ্য মানুষদের মতো সন্তান বিক্রির মতো হৃদয়বিদারক কাজ ছাড়া কোন গতি নেই।
ইসলামকে তার অনুসারীরা একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করেন — এমন একটি বিধান যা সর্বকাল ও সর্বদেশের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু সপ্তম শতাব্দীর আরবের ভৌগোলিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত এই ব্যবস্থাটি যখন সার্বজনীনতার দাবি করে, তখন কিছু মৌলিক দ্বন্দ্ব সামনে আসে। ইসলামের সমালোচকরা — ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ, দার্শনিক এবং প্রাক্তন মুসলিমসহ — এই দ্বন্দ্বগুলো দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত করে আসছেন।
ইসলামের সর্বজনীনতার দাবি অন্যদিকে অমুসলিম-নির্ভরতা ছাড়া ইসলাম অচল
ইসলামের কেন্দ্রীয় ধর্মতাত্ত্বিক লক্ষ্য হলো গোটা পৃথিবীকে দারুল ইসলামে পরিণত করা — অর্থাৎ এমন একটি বিশ্ব যেখানে সবাই ইসলামের শাসনের অধীনে থাকবে। সেই লক্ষ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জিহাদ ও কিতাল বা কতল করে যাওয়ার নির্দেশনা দেয় ইসলাম। কিন্তু সমালোচকরা লক্ষ্য করেন, ইসলামের ক্লাসিক্যাল অর্থনৈতিক কাঠামো টিকে থাকার জন্য অমুসলিমদের অস্তিত্বের উপর গভীরভাবে নির্ভরশীল ছিল। এই দ্বন্দ্বটি কেবল তাত্ত্বিক নয়, বাস্তব ও কাঠামোগত। বাংলাদেশের একজন সাধারণ ইসলামপন্থী যিনি ইসলামকে সব কিছুর সমাধানদাতা হিসাবে যুক্তি দেন তিনি এই বিষয়গুলো বুঝবেন – এই চিন্তা অমূলক।
ইসলামি রাষ্ট্রের আয়ের প্রধান উৎসগুলো ছিল:
গনিমত — যুদ্ধে অমুসলিমদের সম্পদ লুট
জিজিয়া — অমুসলিম নাগরিকদের উপর বিশেষ কর
খারাজ — বিজিত ভূমির উপর কর
দাস ব্যবসা — যুদ্ধবন্দী অমুসলিমদের দাস হিসেবে বিক্রি
এর বাইরেও সিরিয়া বা ইয়েমেন থেকে মক্কাগামী বাণিজ্য কাফেলা লুটের অনেক ঘটনা ইসলামের বিভিন্ন সোর্স থেকে জানা যায়। এটা যদি হিসাবের বাইরেও রাখি, তাহলে উপরের চারটি ছাড়া ইসলামের ক্লাসিক আয়ের আর কি সোর্স আছে?
এই চারটি উৎসের প্রতিটিই অমুসলিমদের অস্তিত্বের উপর নির্ভরশীল। যদি ইসলামের ঘোষিত লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে পূরণ হতো এবং পৃথিবীর সবাই মুসলমান হয়ে যেত, তাহলে এই পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোটি ভেঙে পড়ত।
ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ এডওয়ার্ড গিবন তাঁর The History of the Decline and Fall of the Roman Empire-এ মন্তব্য করেছিলেন যে প্রাথমিক ইসলামি বিজয়ের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ছিল মূলত লুণ্ঠন ও করারোপ — উৎপাদনশীল অর্থনীতি নয়।
প্রাথমিক ইসলামি অর্থনীতি — উৎপাদন নয়, আহরণ
সমালোচকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো: প্রাথমিক ইসলামি সমাজে উৎপাদনশীল অর্থনীতির পরিবর্তে আহরণমূলক অর্থনীতির প্রাধান্য ছিল।
ইসলাম কৃষির মতো একটা অতি প্রয়োজনীয় ও সম্মানজনক পেশাকে তাচ্ছিল্য করে
বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যেখানে কৃষিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত একটি হাদিসে আলী বলেছেন যে নবী বলেছেন কৃষিকাজে নিমগ্ন হলে মানুষ জিহাদ থেকে বিচ্যুত হয়। যদিও মুসলিম পণ্ডিতরা এই হাদিসের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন, সমালোচকরা মনে করেন এটি প্রাথমিক ইসলামি সমাজে একটি নির্দিষ্ট মানসিকতার প্রতিফলন। নবী মুহাম্মদ নিজে ও সাহাবীরা কেউ কোন উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত ছিল না।
মরুভূমির যাযাবর বেদুঈন সংস্কৃতিতে কৃষি কখনো কেন্দ্রীয় পেশা ছিল না। কিন্তু একটি টেকসই সভ্যতা গড়তে হলে কৃষি অপরিহার্য। প্রাথমিক মুসলিম বাহিনীর অনেক সাহাবি পেশাদার যোদ্ধা ছিলেন, যাদের জীবিকা নির্ভর করত জিহাদি অভিযানের উপর। আগেই বলেছি, তাদের কোনো স্থায়ী উৎপাদনশীল পেশা ছিল না। সেখানকার ইহুদিরা ছিল মূলত কৃষি প্রধান, তারাই প্রকৃতি থেকে সম্পদ আহরণ করতো। আর ইসলামী জিহাদি বাহিনী সেই সম্পদ লুট করতো।
লুণ্ঠন-নির্ভর অর্থনীতির সীমাবদ্ধতা
আমেরিকান ইতিহাসবিদ ও ইসলাম বিশেষজ্ঞ রবার্ট স্পেন্সার তাঁর The History of Jihad-এ দেখিয়েছেন যে প্রাথমিক ইসলামি বিজয়ের অর্থনৈতিক কাঠামো ছিল মূলত একটি চেইন — একটি অঞ্চল জয় করলে সেখানের সম্পদ দিয়ে পরের অভিযানের অর্থায়ন হতো। এই চক্র কোনো কারণে থেমে গেলে পুরো ব্যবস্থা সংকটে পড়ত।
জানেন তো, যুদ্ধ জয়ের পরে পরাজিত গোত্রের নারী ও শিশুদের দাস-দাসী বানিয়ে কিছু দাসীকে বাজারে পাঠানো হতো বিক্রি করার জন্য, ধনী মানুষেরা যৌনদাসী হিসেবে তাদের কিনে নিতো। সেই টাকা দিয়ে পরবর্তী যুদ্ধের রসদ কিনতো মুহাম্মদ। প্রেগন্যান্ট হলে দাসীদের কেউ আর কিনবে না যুক্তিতে কোরআনের নির্দেশ – দুনিয়ায় যতো মানুষ আসবে সব আগেই নির্ধারিত – অমান্য করে মুহাম্মদ অজল করতে নির্দেশনা দেয়। যৌনকাতর উন্মাদ জিহাদিরা সেক্স করার পরে যৌনদাসীদের বাজারে বিক্রিও করে দিতো, সেজন্য ইজাকুলেশনের ঠিক আগ মুহুর্তে তাদের ইমানদণ্ড ভ্যাজাইনা থেকে প্রত্যাহার করে বাইরে ফেলতো জিহাদি সিমেন, যাতে যৌনদাসীরা প্রেগন্যান্ট হয়ে তাদের বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়।
ঐতিহাসিক প্রমাণ বলে, বিজয় অভিযান থেমে যাওয়ার পরে বা বিজিত অঞ্চলগুলোতে অমুসলিম জনসংখ্যা কমে যাওয়ার সাথে সাথে ইসলামি রাষ্ট্রগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। এটা ইসলামী অর্থনীতির অবাস্তব ও অদূরদর্শী কনসেপ্টকেই প্রমান হিসাবে দেখায়। একজন ইসলামিস্ট কী বললো তার চেয়ে বড় কথা দুনিয়ার কোথাও ইসলামী শাসন, অর্থনীতি সফল হয়নি। যার সর্বশেষ প্রমাণ ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তানের দূরাবস্থা।
জিজিয়া কর — ইসলামের আয়ের একটি প্রধান খাত কিন্তু নিকৃষ্ট ও বৈষম্যমূলক
জিজিয়া কর ইসলামি আইনশাস্ত্রের একটি মৌলিক উপাদান, যা কুরআনের ৯ম সূরার ২৯তম আয়াতে নির্দেশিত। এটি ছিল এমন একটি কর যা কেবল অমুসলিম নাগরিকরা — আহলে কিতাব বা ধর্মগ্রন্থের অনুসারীরা — দিতে বাধ্য ছিলেন।
জিজিয়ার হার ও প্রকৃতি
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, খাইবারের ইহুদিদের কাছ থেকে নবী মুহাম্মদ তাদের উৎপাদনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর আদায় করতেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন ইসলামি শাসনে এই হার ভিন্ন হলেও মূল নীতিটি একই থেকেছে — অমুসলিমরা কেবল তাদের ধর্মের কারণে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করবে।
সমালোচকরা এটিকে একটি কাঠামোগত বৈষম্য হিসেবে দেখেন। এটি কেবল করের প্রশ্ন নয় — জিজিয়া প্রদানের সাথে সংযুক্ত ছিল একটি সামাজিক অবমাননার আচার, যেখানে অমুসলিমরা স্বীকার করত যে তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক।
আফগানিস্তানের উদাহরণ — নির্দয় আল্লাহর একটি অমানবিক পরীক্ষাকেন্দ্র
আফগানিস্তান আজ পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র দেশ। তালেবান শাসনে দেশটি আন্তর্জাতিক সাহায্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশ্বের পরিচিত সফল অর্থনৈতিক মডেলগুলোর বদলে তারা আল্লাহর মডেল দাবী করে ১৪০০ বছরের পুরানো অবাস্তব মডেল নিয়ে চর্চা করছে। সেখানে পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিজেদের সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে – এমন সংবাদ এখন প্রতিদিন দেখা যায় — এটি একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা। আমরা মানবিক মানুষ এই পরিস্থিতি দেখে সহানুভূতিশীল হই, ঐ সমস্ত বাবা মা ও শিশুদের জন্য আমাদের হৃদয় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় কিন্তু ইসলাম এমনই এক অমানবিক মতাদর্শ যে হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে হলেও সে তার নির্মমতা চালিয়ে যায়।
সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন: যে দেশে কোনো উল্লেখযোগ্য অমুসলিম সংখ্যালঘু নেই, সেই দেশে ইসলামি অর্থনৈতিক মডেলের বাইরে টেকসই আয়ের উৎস কোথায়? একটি খাঁটি ইসলামি রাষ্ট্রে যখন জিজিয়া, গনিমত ও দাস ব্যবসা নেই বা প্রযোজ্য নয়, তখন জনগণের জীবনমান নিশ্চিত করার কাঠামো কী? আফগানিস্তানেও যদি কোটি কোটি অমুসলিম থাকতো তাহলে হয়তো মুসলিম পরিবারের এই শিশুগুলোর আর বিক্রি হওয়া লাগতো না। কারণ তখন অমুসলিমদের আয়ের ৫০% ইসলামিক সরকার জিজিয়া হিসাবে নিতে পারতো। আমি নিশ্চিত, তখন ইসলামিক সরকার অর্থনীতির বাস্তবতায় এটাই চাইতো যে তারা অমুসলিম হয়েই থাক। যেমনটা ভারতের মুসলিম শাসকেরাও এই জিজিয়ার জন্য ধর্ম পরিবর্তনে খুব বেশি জোর খাটায়নি।
প্রাক-ইসলামি আরব ও বৈশ্বিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা
এখন প্রশ্ন হলো, নবী মুহাম্মদ এমন সব অদ্ভুত, উদ্ভট কনসেপ্ট কেন দিয়ে গেছে যা বাস্তবতার নিরিখে কোথাও এখন গ্রহণযোগ্য নয়? এটা ছিল মূলত তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা। তার সময়ের অনেক আগের গ্রীক দার্শনিকদের অনেক কনসেপ্ট এখনো গ্রহনযোগ্যতা পেলেও ইসলাম ও নবী মুহাম্মদ সেগুলো জানতোই না।
সপ্তম শতাব্দীর আরব উপদ্বীপ ছিল বিশ্বের মূলধারার সভ্যতা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। যাযাবর বেদুঈনরা রাষ্ট্র নামক চিন্তা করতে পারতো না সম্ভবত। পারস্যের সাসানিদ সাম্রাজ্য, বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য, ভারতের গুপ্ত সাম্রাজ্য বা চীনের তাং রাজবংশের মতো সমৃদ্ধ সভ্যতাগুলোর সাথে সাধারণ আরব বেদুঈনদের পরিচয় ছিল অত্যন্ত সীমিত। সেই সূত্রে নবী মুহাম্মদ তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পারেননি।
স্থানীয় প্রেক্ষাপটের সার্বজনীনতার দাবি
সমালোচকরা মনে করেন যে ইসলামের অনেক বিধান স্পষ্টতই সপ্তম শতাব্দীর আরবীয় সমস্যার সমাধান, কিন্তু এগুলোকে চিরন্তন ও সার্বজনীন বলে দাবি করা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপঃ
পোশাকবিধি — আরবের উত্তপ্ত মরুভূমির জন্য উপযোগী পোশাক স্ক্যান্ডিনেভিয়ার শীতল আবহাওয়ায় প্রয়োগ
খাদ্যবিধি — শূকর নিষেধের পেছনে গরম মরুভূমিতে সংরক্ষণের সমস্যা থাকলেও এটি বৈশ্বিক নিষেধ হিসেবে আরোপিত
যুদ্ধের নিয়ম — গোত্রীয় আরব সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে তৈরি আইন আধুনিক আন্তর্জাতিক সংঘাতে প্রয়োগের চেষ্টা
কেয়ামতের নৈকট্যবোধ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অনুপস্থিতি
বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে — বিশেষত সহিহ মুসলিম ও সহিহ বুখারিতে — এমন বর্ণনা আছে যেখানে নবী মুহাম্মদ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কেয়ামত অত্যন্ত নিকটবর্তী। একটি বিখ্যাত হাদিসে বলা হয়েছে যে উপস্থিত এক বালকের বৃদ্ধ হওয়ার আগেই কেয়ামত ঘটবে।
সমালোচকরা বলেন, এই বিশ্বাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তৈরি হয়:
যদি বিশ্বাস করা হয় যে পৃথিবী কয়েক দশকের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বা টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজন অনুভব করা হয় না।
এই মানসিকতা থেকে হয়তো ব্যাখ্যা করা যায় কেন ইসলামি আইনে কৃষি, শিল্প বা উদ্ভাবনের জন্য পরিকল্পিত কোনো দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো নেই, কিন্তু যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও হতভাগ্য নারী ও শিশুদের দাস-দাসী হিসাবে বণ্টনের বিস্তারিত নির্দেশনা আছে।
ঔপনিবেশিক ও আধুনিক প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থীদের স্বপ্ন
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের একাংশ ইসলামপন্থী আজও স্বপ্ন দেখেন — একদিন ভারত বিজিত হবে, কোটি কোটি হিন্দুর উপর জিজিয়া কর বসবে এবং ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে। ভারতের সুন্দরী ও স্মার্ট নারীদের ইসলামী জিহাদিরা যৌনদাসী বানাবে। এই স্বপ্ন অমূলক ও অবাস্তব হলেও সেটা অনেক ইসলামিস্টকে অর্গাজমের সুখ দেয়। এই স্বপ্নকে সমালোচকরা কয়েকটি কারণে অবাস্তব মনে করেন:
বাস্তবিক কারণঃ আধুনিক পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক বিজয় অর্জন করা অসম্ভব।
নৈতিক কারণঃ জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং আধুনিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে ধর্মের ভিত্তিতে কর আরোপ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
অর্থনৈতিক কারণঃ আধুনিক অর্থনীতি উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল — লুণ্ঠন বা বৈষম্যমূলক করের উপর নয়।
ভারতের কোটি কোটি শিক্ষিত, সচেতন, মানবিক, বিজ্ঞানমুখী মানুষের কাছে এই সমস্ত মূর্খ ইসলামিস্টরা আসলে কিছুই না – কিন্তু সেই বোধটুকুও তাদের নেই। স্বপ্নেই যেহেতু খায়, ডালভাত কেন খাবে, কোর্মা-পোলাও খায়।
আওরঙ্গজেব থেকে তালেবান — জিজিয়ার আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৭৯ সালে ভারতে পুনরায় জিজিয়া কর আরোপ করেছিলেন, যা তাঁর পূর্বসূরি আকবর বহু আগে বাতিল করেছিলেন। ঐতিহাসিকরা মনে করেন এই সিদ্ধান্ত মুঘল সাম্রাজ্যের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল, কারণ এটি হিন্দু রাজপুত মিত্রদের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল এবং মারাঠা প্রতিরোধকে শক্তিশালী করেছিল।
এটি একটি ঐতিহাসিক শিক্ষাঃ ধর্মীয় বৈষম্যমূলক কর দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে এবং রাষ্ট্রকে দুর্বল করে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানে কোন অমুসলিম না থাকায় তাদের ইসলামী অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সম্ভবনাই নেই। তাদের দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে হলে তাদেরকে অবশ্যই আধুনিক অর্থনীতিতে ফিরতে হবে। একটা ল্যান্ড লকড দেশ অন্য দেশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে শুধু ইসলাম ইসলাম করে নিজেদের দেশ ও দেশের মানুষকে জাহান্নামের স্বাদ উপহার দিচ্ছে।
শেষের কথা
ইসলামের সমালোচকরা যে মূল যুক্তিটি উপস্থাপন করেন তা হলো: সপ্তম শতাব্দীর আরবের একটি বিশেষ ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত একটি ব্যবস্থা, যা মূলত আহরণমূলক অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল ছিল এবং কেয়ামতের নৈকট্যের বিশ্বাস থেকে তৈরি হয়েছিল — সেই ব্যবস্থাকে একবিংশ শতাব্দীর বহুসাংস্কৃতিক, গণতান্ত্রিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সার্বজনীন আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয়।
তারা মনে করেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অর্থনৈতিক পিছিয়ে পড়া, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনে দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা — এর একটি কারণ হলো একটি অকার্যকর অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হিসেবে আঁকড়ে ধরা।
Related Posts

The 72 full‑breasted, personality‑less houris of Paradise vs. the personality‑rich cherished women of the world! What do you want?
It is said that in Paradise a believing servant will receive 72 exquisitely beautiful houris;Read More

জান্নাতের ৭২ উন্নতবক্ষা ব্যক্তিত্বহীন হুর বনাম দুনিয়ার ব্যক্তিত্ববান শখের নারী! কী চান?
বলা হয় জান্নাতে মুমিন বান্দা ৭২ জন অপূর্ব সুন্দরী হুর পাবেন, তারা হবে চিরযৌবনা, চিরকুমারী।Read More

Islamic deception – the believer disguised as a close friend may actually be on a mission to kill you!
For the sake of Islam and establishing its supremacy, yesterday morning could have become aRead More

Comments are Closed