
Is Islam a religion of peace?
সব ধর্মই শান্তির কথা বলে – এটা একটা মিথ, এর স্বপক্ষে প্রমান খুব বেশি নেই
ইসলামী শরিয়তের মূল গ্রন্থসমূহে ধর্ষণের জন্য কোনো স্বতন্ত্র বা সরাসরি শাস্তি নির্ধারিত নেই; বরং ধর্ষণকে ব্যাভিচার বা জিনা–এর কাঠামোর মধ্যেই বিচার করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগী নারীকে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি জোরপূর্বক জিনার শিকার হয়েছেন – এবং সেই প্রমাণের মানদণ্ড হলো চারজন প্রাপ্তবয়স্ক, ন্যায়পরায়ণ পুরুষ সাক্ষী, যারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে। বাস্তবে এটি প্রায় অসম্ভব হওয়ায় প্রমাণ দিতে না পারলে অভিযোগকারী নারীই উল্টো ব্যাভিচারের অভিযুক্ত হন, যার শাস্তি দোররা মারা থেকে শুরু করে বিবাহিত হলে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে পাথর ছুঁড়ে হত্যা পর্যন্ত হতে পারে। এই কারণেই বহু ইসলামী দেশে ধর্ষিত নারীরা ন্যায়বিচারের আশায় এগোতেই ভয় পান।
মুমিন ভাইদের জন্যঃ আপনারা যে ত্যানা দেখাতে চাইবেন, দুইটা হাসান হাদিস – সেটা আমি জানি। সেখানেও জিনার ফ্রেমে ধর্ষণের শাস্তি হয়েছে এবং একটায় ধর্ষক নিজে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, অন্যটায় চারজন সাক্ষীই সরাসরি অভিযোগ দিয়েছে। নবী মুহাম্মদ আবার সেখানে প্রত্যাশা করেছিল পুরুষটি অস্বীকার গিয়ে রক্ষা পাক, নারীকে বলেছিল আল্লাহ তার জিনার পাপ ক্ষমা করুক।
২০০৬ সালে ১৯ বছর বয়সী এক শিয়া কিশোরী তার এক পুরুষ বন্ধুর সাথে গাড়িতে থাকা অবস্থায় সাতজন ব্যক্তি কর্তৃক অপহৃত এবং গণধর্ষণের শিকার হন। উনি তার স্বামী বা নিকটাত্মীয় (মাহরাম) ছাড়া বের হয়েছেন ও ইসলামী বিধান মতে ৪ জন চাক্ষুস পুরুষ সাক্ষীর মাধ্যোমে ধর্ষণ প্রমান করতে না পারায় প্রথমে ওই কিশোরীকে ৯০টি দোররা মারার আদেশ দেয়। পরে তিনি যখন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন বিচারকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার শাস্তি বাড়িয়ে ২০০ দোররা এবং ৬ মাসের জেল ঘোষণা করেন।
দুবাইয়ে ২০১২ সালে এক ব্রিটিশ নারী ধর্ষণের অভিযোগ করতে গিয়ে উল্টো ‘অবৈধ যৌন সম্পর্কের’ দায়ে কারাদণ্ডের সম্মুখীন হয়েছিলেন।
সৌদিতে ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ার অনেক নারী গৃহকর্মী তাদের মালিকদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করার পর উল্টো মালিককে ‘প্ররোচিত’ করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ইন্দোনেশীয় নারী তুতিল তুসিলওয়াতী এবং ফিলিপিনো নারী রোজিলিয়া আজমহুলের ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল! মালিককে তারা নাকি ধর্ষণে প্ররোচিত করেছিল!
ধর্ষণের অভিযোগ করে ৪ জন পুরুষ সাক্ষী দিয়ে প্রমান করতে না পারায় উল্টো ধর্ষিতাকে শাস্তি পাওয়ার মতো অসংখ্য নজির আছে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে যেসব নারী গৃহকর্মী যায় তাদের ৩০% পেটে বাচ্চা নিয়ে দেশে ফেরে। কতজনকে গর্ভপাতে বাধ্য করা হয়, কতজনকে ভয় দেখিয়ে চুপ করে রাখা হয়। গৃহকর্তা বলে – তাদের কিনে নিয়েছে, তাদের স্বামীদের সঙ্গে তাদের তালাক হয়ে গেছে। যৌনতায় রাজি না হলে দিনের পর দিন খেতে দেয় না, প্রচন্ড নির্যাতন দেয়। ১৯৬০ এর দশকে তারা দাস-দাসী প্রথা বিলুপ্ত করেছে। কিন্তু মনে প্রাণে এখনো যৌনদাসী রাখার প্রবনতা থেকে মুক্ত হয়নি।
পৃথিবীর সব সভ্য আইনে ধর্ষণ থেকে বাঁচতে প্রয়োজনে ধর্ষককে হত্যা করা বৈধ। কিন্তু সৌদি আরবের আইনে সেটা আবার মৃত্যুদন্ড পাওয়ার আপরাধ। বাংলাদেশের নারীরা তো নিরীহ, তারা তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারে না। ওদিকে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু গৃহকর্মী দিনের পর দিন ধর্ষিত হতে হতে এক পর্যায়ে ধর্ষণ থেকে মুক্তি পেতে গৃহকর্তাকে খুন করে। মহান সৌদি সেই সকল নারীকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে কার্যকরও করেছে কারন উক্ত নারীরা ধর্ষণের কোন প্রমান উপস্থাপন করতে পারেনি, ৪ জন করে পুরুষ সাক্ষী ছিল না। এর প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সে দেশগুলোর সরকার আর সেখানে নারী গৃহকর্মী পাঠায় না।
সৌদি আরবে মৃত্যুদন্ড পাওয়া এমন কিছু সাহসী কিন্তু হতভাগ্য নারী গৃহকর্মী হলো –
রুয়াতি বিন্তি সাপুবিঃ ২০১১ সালের জুনে শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
সিতি জয়নাবঃ ২০১৫ সালের এপ্রিলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কার্নি বিন্তি মেদি তারসিমঃ সিতি জয়নাবের মৃত্যুর মাত্র দুই দিন পর ২০১৫ সালের এপ্রিলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তুতিল তুসিলওয়াতীঃ ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
আপনি ইসলামকে যতোই শাশ্বত, মানবিক বা ন্যায়পরায়ণ মনে করুন না কেন, ইসলাম কোরআন ও হাদিসের বাইরে কোনো নৈতিকতা, মানবিকতা বা যুক্তিকে স্বীকৃতি দেয় না; আপনার ব্যক্তিগত বিবেক কোনো কিছুকে মানবিক মনে করলেও, সেটি যদি ইসলামী বিধানের সঙ্গে না মেলে, তবে একজন মুসলিম হিসেবে তার বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার আপনার নেই। বিরুদ্ধে কথা বললেই আপনি মুরতাদ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হয়ে পড়বেন। ইসলামের কাঠামোতে প্রশ্ন, সংশয় বা ভিন্নমত গ্রহণযোগ্য নয়; সবকিছুই বিনা প্রশ্নে মেনে নিলেই কেবল একজন মানুষ মুসলিম পরিচয়ে টিকে থাকতে পারে।
মানুষ প্রায়ই বলে, “সব ধর্মই শান্তির কথা বলে” – কিন্তু ইতিহাস ও বাস্তবতা এই দাবিকে বারবার মিথ্যা প্রমাণ করেছে। মানবসভ্যতার দীর্ঘ সময়জুড়ে যখনই ধর্ম রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে মিশে গেছে, তখনই সমাজে এসেছে দমন-পীড়ন, সহিংসতা, বিভাজন ও রক্তপাত; ধর্মীয় শাসন কখনোই স্থায়ী শান্তি আনতে পারেনি। ইসলামের মতোই প্রায় সব ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে বর্বরতা, নারী বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা, ভিন্নমত দমন এবং ‘পবিত্রতার’ নামে সহিংসতার বৈধতা। ইউরোপও যতদিন চার্চের নিয়ন্ত্রণে ছিল, ততদিন সেখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, মানবিকতা – কোনো কিছুরই আলো পৌঁছায়নি; অন্ধকার যুগের দীর্ঘস্থায়ী দুঃস্বপ্ন ছিল সেই ধর্মীয় শাসন। আজকের পৃথিবীতে যে দেশগুলো সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সমতাভিত্তিক – সেগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মের প্রতি মানুষের অনাগ্রহ, ধর্মীয় কর্তৃত্বের দুর্বলতা, এবং মানবিক মূল্যবোধকে ধর্মীয় বিধানের ওপরে স্থান দেওয়া। অর্থাৎ যেখানে ধর্মের প্রভাব কম, সেখানেই মানুষ বেশি স্বাধীন, নিরাপদ ও শান্তিতে থাকে – এটাই ইতিহাসের নির্মম কিন্তু স্পষ্ট শিক্ষা।
Related Posts

Spending the night in Umm Hani’s house and then meeting Allah in the heavens – he named it Mi’raj
Mi’raj is a central event in Islamic belief. On the night of Mi’raj, the ProphetRead More

উম্মে হানির ঘরে রাত কাটিয়ে মহাকাশে আল্লার সঙ্গে সাক্ষাত – নাম দিয়েছেন মিরাজ
মিরাজ ইসলামি বিশ্বাসের একটি কেন্দ্রীয় ঘটনা। মিরাজের রাতে নবী মুহাম্মদকে পাওয়া যাচ্ছিল না। সাহাবীরা চিন্তায়Read More

The 72 full‑breasted, personality‑less houris of Paradise vs. the personality‑rich cherished women of the world! What do you want?
It is said that in Paradise a believing servant will receive 72 exquisitely beautiful houris;Read More

Comments are Closed