Quran
10 Criticisms of the Quran

10 Criticisms of the Quran

পাশ্চাত্য গবেষকদের দৃষ্টিতে কোরআনের প্রধান ১০ টি সমালোচনা

পাশ্চাত্যে কোরআন গবেষণা করেই সবকিছু আবিষ্কার করা হয় – মুমিন ভাইদের এই দাবী একই সঙ্গে হাস্যকর ও অমূলক। কোরআনে এমন কিছুই নেই যা দিয়ে বিজ্ঞান উপকৃত হবে বা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হবে। যে বইকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না, যার ভুল দেখালেও সেটা সংশোধন করার সুযোগ নেই সেটা আদতে কোন জ্ঞানের বইই না। তবে পাশ্চাত্যে তুলনামূলক ধর্ম চর্চা, ইসলামের নবী মুহাম্মদের প্রভাব – যার কারনে আজ ২০০ কোটি মুসলমান, বা কোরআনের নানান অসংঙ্গতি নিয়ে গবেষণা হয়। গবেষণা হয় কারন ২০০ কোটি মানুষ তো সহজ হিসাব না, তাদের মনস্তত্ত্ব জানাটা জরুরী, তার উপর বিশ্বের বর্তমান সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের প্রায় সবগুলোর সঙ্গেই ইসলাম ও কোরআনের নাম আসে। সেজন্য গবেষকেরা জানার চেষ্টা করেন – কোরআনে কি এমন দিকনির্দেশনা আছে যার কারনে মানুষ আত্মঘাতী হয়ে অন্যদের হত্যা করে, লক্ষ লক্ষ মানুষ জ্ঞানের অন্বেষণ বাদ দিয়ে মূর্খতাকে শ্রেয় মনে করে।

পাশ্চাত্যের কোন গবেষক বা বিজ্ঞানীকে কোন মুমিন ভাই যদি বলেন, তারা তো কোরআন গবেষনা করেই সব পান, তবে উক্ত গবেষক বা বিজ্ঞানী তার প্রতিবাদ করবেন না, শুধুই একটু মুচকি হাসি দিবেন। মুমিন ভাই মনে করবেন, উনিই তাহলে সঠিক। মুমিন ভাই এটা বুঝবে না যে উনি যে এই দাবী করেছেন, এমন একজন মানুষের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাওয়াটাকেই যে তারা সময়ের অপচয় মনে করেন। আমরা সামান্য মানুষ হলেও আমরাও যেমন মুমিন ভাইদের কমেন্টের অনেক টেক্সট জবাব দেই না, কারন তাদের সঙ্গে আলচনা চালিয়ে যাওয়াটাই অর্থহীন।

পাশ্চাত্য একাডেমিয়া বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষকদের সামনে কোরআনের যে অসংখ্য সমালোচনা সামনে আসে তার প্রধান ১০টি প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনা এমন –

১. ঐতিহাসিক-সমালোচনামূলক পদ্ধতি (Historical-Critical Method)

সমালোচনাঃ কোরআনকে একটি অপরিবর্তনীয় ঐশী গ্রন্থ হিসেবে না দেখে, এটিকে ৭ম শতাব্দীর আরবের একটি ঐতিহাসিক ও মানবীয় দলিল হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।

গবেষকদের যুক্তিঃ জন ওয়ানসব্রো (John Wansbrough) এবং তাঁর অনুসারীদের মতে, যেকোনো প্রাচীন গ্রন্থের মতোই কোরআনের পাঠ্যও সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হয়েছে। তাঁরা যুক্তি দেন যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগের কোনো সমসাময়িক অমুসলিম সূত্রে (যেমন সিরিয়াক বা বাইজেন্টাইন নথিতে) এত বড় একটি গ্রন্থ বা নতুন শরীয়তের তাৎক্ষণিক উল্লেখ পাওয়া যায় না। তাই তাঁদের দাবি, কোরআন বর্তমান রূপ পেতে প্রায় ২০০ বছর সময় লেগেছে এবং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফসল।

২. সিরো-অ্যারামাইক বা সুরিয়ানি ভাষার প্রভাব (Luxenberg’s Thesis)

সমালোচনাঃ কোরআনের একটি বড় অংশের মূল অর্থ বুঝতে হলে একে আরবি নয়, বরং তৎকালীন সিরো-অ্যারামাইক (Syro-Aramaic) ভাষার আলোতে পড়তে হবে।

গবেষকদের যুক্তিঃ জার্মান গবেষক ক্রিস্টোফ লাক্সেনবার্গ (Christoph Luxenberg) যুক্তি দেন যে, ইসলামের আবির্ভাবের সময় সিরো-অ্যারামাইক ছিল ওই অঞ্চলের প্রধান সাহিত্যিক ভাষা। তিনি দাবি করেন, কোরআনের অনেক অস্পষ্ট শব্দ (যেমন: ‘হুর’ বা জান্নাতের কুমারী) আসলে সুরিয়ানি ভাষার শব্দ। লাক্সেনবার্গের মতে, সুরিয়ানি ভাষায় ‘হুর’ শব্দের অর্থ “সাদা আঙুর” বা স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ ফল, যা পরবর্তীকালের আরবী অনুবাদকরা ভুল বুঝে ‘কুমারী নারী’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

৩. ইহুদি ও খ্রিস্টান অ্যাপোক্রিফা (Apocrypha) গ্রন্থের পুনরাবৃত্তি

সমালোচনাঃ কোরআনের গল্পগুলো হুবহু বাইবেলের নয়, বরং বাইবেলের মূল ধারার বাইরে থাকা ‘অ্যাপোক্রিফা’ বা লোককথার বই থেকে নেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের যুক্তিঃ আব্রাহাম গাইগার (Abraham Geiger) এবং রিচার্ড বেল (Richard Bell) দেখিয়েছেন যে, কোরআনে হযরত ঈসা-এর শৈশবে মাটির পাখি বানিয়ে ফুঁ দিয়ে জ্যান্ত করা (সূরা মায়েদা: ১১০) বা দোলনায় থাকা অবস্থায় কথা বলার যে বিবরণ আছে, তা মূল বাইবেলে নেই। কিন্তু এগুলো ২য় ও ৩য় শতাব্দীর খ্রিস্টানদের অবৈজ্ঞানিক গ্রন্থ ‘ইনফ্যান্সি গসপেল অব থমাস’ (Infancy Gospel of Thomas)-এ হুবহু পাওয়া যায়। তাঁদের যুক্তি, এগুলো ঐশী বাণী নয়, বরং সমকালীন আরবে প্রচলিত লোককথা।

৪. কালানুক্রমিক ও কাঠামোগত বিশৃঙ্খলা (Chronological Disorder)

সমালোচনাঃ কোরআনের বর্তমান বিন্যাস বা সূরাগুলোর ক্রম কোনো যৌক্তিক বা ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা মেনে চলে না, যা বইটিকে দুর্বোধ্য করে তোলে।

গবেষকদের যুক্তিঃ থিওডোর নলডেক (Theodor Nöldeke) এবং অন্যান্য গবেষকদের মতে, কোরআনের সূরাগুলো কেবল দীর্ঘ থেকে ছোট—এই কৃত্রিম নিয়মে সাজানো হয়েছে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)। এর ফলে মক্কী (যা শুরুতে নাজিল হয়েছিল) এবং মাদানী (যা পরে নাজিল হয়েছিল) আয়াতগুলো ওলটপালট হয়ে গেছে। তাঁদের যুক্তি, একটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপট না জানলে শুধু কোরআন পড়ে এর অর্থ উদ্ধার করা অসম্ভব, যা একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থের দুর্বলতা।

৫. পাঠ্যগত বৈচিত্র্য এবং প্রাক-উসমানীয় পাণ্ডুলিপি (Textual Variants)

সমালোচনাঃ খলিফা উসমান-এর প্রমিতকরণের আগে কোরআনের পাঠ্যে শব্দ ও অর্থের ব্যাপক বৈচিত্র্য বা ভিন্নতা ছিল।

গবেষকদের যুক্তিঃ গের্ড আর. পুইন (Gerd R. Puin), যিনি সানা পাণ্ডুলিপি নিয়ে গবেষণা করেছেন, তিনি দেখিয়েছেন যে প্রাচীন হিজাজী লিপিতে লেখা চামড়াগুলোর নিচের স্তরে (Palimpsest) শব্দের বিন্যাস এবং সূরার ক্রমে ভিন্নতা ছিল। এছাড়া ইবনে মাসউদ বা উবাই ইবনে কাব -এর ব্যক্তিগত মুসহাফে (সংকলনে) সূরার সংখ্যা কম-বেশি ছিল বলে ইসলামিক ঐতিহ্যাদিই স্বীকার করে। গবেষকদের যুক্তি হলো, কোরআন শুরু থেকেই একক বা অভিন্ন টেক্সট ছিল না।

৬. ওহীর ধারণায় মৃগী রোগ বা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা (Epilepsy Hypothesis)

সমালোচনাঃ নবী মুহাম্মদ যে ওহী বা দেবদূতের আগমন অনুভব করতেন, তা আসলে এক ধরনের মানসিক বা স্নায়বিক অবস্থা (যেমনঃ Temporal Lobe Epilepsy)।

গবেষকদের যুক্তিঃ উইলিয়াম ম্যুর (William Muir) এবং কতিপয় প্রাচ্যবিদ ইসলামের ঐতিহাসিক বিবরণগুলো থেকেই যুক্তি ধার করেন। হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী, ওহী নাজিলের সময় নবীর প্রচণ্ড ঠাণ্ডাতেও ঘাম হতো, তিনি ভারী হয়ে যেতেন, বা ঘণ্টার আওয়াজ শুনতেন। পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের আলোতে তাঁরা যুক্তি দেন যে, এগুলো মৃগী রোগ বা গভীর ধ্যানের ফলে সৃষ্ট হ্যালুসিনেশন (Hallucination), যা নবী নিজে ওহী মনে করেছিলেন।

৭. মক্কার ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন (The Revisionist School)

সমালোচনাঃ কোরআনে যে ভৌগোলিক পরিবেশ, উদ্ভিদ ও বাণিজ্যের বর্ণনা রয়েছে, তা বর্তমান সৌদি আরবের মক্কার সাথে মেলে না, বরং তা উত্তর আরবের (সিরিয়া/জর্ডান সীমান্ত) কোনো অঞ্চলের।

গবেষকদের যুক্তিঃ প্যাট্রিসিয়া ক্রোন (Patricia Crone) এবং মাইকেল কুক (Michael Cook) তাঁদের ‘হাগারিজম’ (Hagarism) তত্ত্বে যুক্তি দেন যে, প্রাচীন কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মানচিত্রে মক্কার উল্লেখ নেই। তাছাড়া কোরআনে জলপাই (Olive) এবং শস্যক্ষেত্রের কথা বলা হয়েছে (যেমন সূরা আন-আম), যা মক্কার শুষ্ক মরুভূমিতে জন্মায় না, কিন্তু ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বা উত্তর আরবে প্রচুর জন্মায়। তাঁদের দাবি, কোরআনের জন্ম মক্কায় হয়নি।

৮. নাসখ বা আয়াত রহিতকরণ প্রথা (Abrogation)

সমালোচনাঃ কোরআনের ‘নাসখ’ বা একটি আয়াত দ্বারা পূর্বের আয়াত বাতিল করার নীতি প্রমাণ করে যে এটি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনশীল মানুষের চিন্তাপ্রসূত।

গবেষকদের যুক্তিঃ ডেভিড পাওয়ারস (David Powers)-এর মতো গবেষকরা যুক্তি দেন যে, যদি কোরআন আল্লাহর চিরন্তন জ্ঞানই হবে, তবে সময়ের ব্যবধানে আগের নির্দেশ পরিবর্তন বা বাতিল করার প্রয়োজন কেন হবে? যেমন, প্রথমে মদ্যপানকে আংশিক নিষেধ করে পরে সম্পূর্ণ হারাম করা, বা প্রথমে শান্তির কথা বলে পরে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া। তাঁদের মতে, এটি সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনের সাথে তাল মেলানোর একটি মানবীয় কৌশল।

৯. জেন্ডার বৈষম্য ও সমকালীন সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন

সমালোচনাঃ কোরআনের আইনগুলো সার্বজনীন বা চিরন্তন নয়, বরং এটি ৭ম শতাব্দীর আরবের পুরুষতান্ত্রিক ও দাসপ্রথা নির্ভর সমাজকে বৈধতা দেয়।

গবেষকদের যুক্তিঃ আধুনিক নারীবাদী এবং পাশ্চাত্য সমাজবিজ্ঞানীদের যুক্তি, কোরআনে দাস-দাসীদের সাথে শারীরিক সম্পর্কের বৈধতা (মা মালাকাত আইমানুকুম) এবং পুরুষকে নারীর ওপর কর্তৃত্ব দেওয়া (সূরা নিসা: ৩৪) হয়েছে। তাঁদের মতে, একটি আদর্শ ঐশী গ্রন্থে দাসপ্রথা উচ্ছেদ এবং নারী-পুরুষের নিরঙ্কুশ সমতা থাকা উচিত ছিল, যা কোরআনে নেই কারণ এটি তৎকালীন আরবের সংস্কৃতির বাইরে বের হতে পারেনি।

১০. অস্পষ্টতা এবং রহস্যময় অক্ষরসমূহ (Muqatta’at)

সমালোচনাঃ কোরআনের বহু আয়াত এবং সূরার শুরুতে থাকা রহস্যময় অক্ষরগুলোর (যেমন: আলিফ-লাম-মীম) কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ নেই, যা ঐশী বার্তার স্পষ্টতার দাবির পরিপন্থী।

গবেষকদের যুক্তিঃ হান্স বাউয়ার (Hans Bauer) বা এডুয়ার্ড গ্ল্যাসার যুক্তি দেন যে, কোরআন নিজেকে “স্পষ্ট কিতাব” (কিতাবুম মুবীন) বলে দাবি করলেও এর অনেক আয়াতের অর্থ স্বয়ং মুসলিম মুফাসসিরদের কাছেও অস্পষ্ট। সূরার শুরুতে থাকা বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলোর (হুরুফে মুকাত্তা’আত) কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা ইসলাম দিতে পারে না। তাঁদের মতে, এগুলো হয়তো প্রাচীন পাণ্ডুলিপির সংগ্রাহকদের সংক্ষিপ্ত নাম বা কোনো হারিয়ে যাওয়া কোড, যা পরবর্তীকালে অলৌকিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

Related Posts

Prophet Muhammad or Allah?

Allah reveals verses about something as trivial as a piece of clothing, yet does not answer the fundamental questions of the universe

A being who is claimed to be the creator of the vast universe, whose scopeRead More

Prophet Muhammad or Allah?

আল্লাহ সামান্য কাপড়ের বিষয় নিয়ে আয়াত নাজিল করে, কিন্তু মহাবিশ্বের মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয় না

যে সত্তাকে বিশাল মহাবিশ্বের স্রষ্টা বলে দাবি করা হয় – যার ব্যাপ্তি আমাদের ধারণার সীমানাRead More

Prophet Muhammad and OCD

Did Prophet Muhammad have OCD along with other mental issues, which is why he used to do and say everything three times?

In Islamic rituals and practices, a clear pattern of three or odd numbers can beRead More

Comments are Closed