
বাংলাদেশের মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই কর দেয়, এখানে কর দেয়ার পক্ষে মটিভেশন খুব কম। টিন করা মানে জীবনে অযথা হয়রানি টেনে আনা মনে করে অনেকে। সরকারের প্রায় সব সিস্টেম ভয়াবহ রকমের দূর্নীতিবাজ দিয়ে ভরপুর এবং মানুষ বিভিন্ন সেবা সংস্থায় যেভাবে হয়রানি, প্রতারনা ও দূর্নীতির শিকার হয় তাতে করের অর্থের যৌক্তিকতা নিয়ে তার প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। বিশ্বাস করি দেশের বেশীরভাগ মানুষই একই প্রশ্ন করবে। আমার নিজের যে কোন সরকারী অফিসে কোন কাজ থাকলে এক সপ্তাহ আগে থেকে টেনশান শুরু হয়, বাই ডিফল্ট অবচেতন মন সংকেত দেয় টাকা লাগবে না হয় হয়রানির শিকার হতে হবে, না হলে মামা-খালুর প্রভাব লাগবে। একদম নিয়মতান্ত্রিক পথে কোন সরকারী অফিসে কাজ সমাধান করে আসতে পারাটা একটা বিরাট সফলতা এই দেশে। অথচ আপনার আমার করের অধিকাংশ অর্থই চলে যায় এই বিরাট সরকারী কর্মীবাহিনী পুষতে।
সরকার জনগনের করের টাকায় তার কর্মী বাহিনীর বেতন দিবে, এটা একটা প্রকৃত কল্যান রাষ্ট্র ও তার কর্মী বাহিনীর জন্য স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু বিষয়। তবে আমাদের দেশে সরকারী সংস্থাগুলোকে জনসাধারনের আস্থা অর্জন করতে হলে অনেক পথ এখনো মাড়াতে হবে। এখানে কোন অফিসার কারো সঙ্গে ভাল ব্যবহার করলে সেটা সংবাদ হয়। একটা প্রকৃত কল্যান রাষ্ট্রে হওয়া উচিৎ উল্টোটা, কেউ খারাপ ব্যবহার করলে সেটা হবে সংবাদ। মানুষ বাই ডিফল্ট ভাল হবে, ২/৪ জন বাদে সব সরকারী কর্মীরা বাই ডিফল্ট সৎ, দক্ষ, কল্যানমুখী হবে এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু এখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া নাকি সিস্টেম, কোথাও গলদ আছে, এই প্রত্যাশার মান সম্পূর্ণ উল্টো। ২০ জন সাধারন মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন, তাদের জীবনে সরকারী সার্ভিসে কতটা ভাল ও কতটা খারাপ অভিজ্ঞতা আছে তা জানতে পারবেন।
বালিশ, পর্দা কান্ড তো একটা দুইটা নয়। হাজার হাজার। এলাকার রাস্তা মাস যেতে না যেতেই খানা-খন্দ, গর্তে ভরে যায়। মানুষ তো এগুলো দেখে। কয়জন মানুষ আপনি পাবেন যারা বিশ্বাস করবে এই দেশে সরকারী কেনাকাটা ও উন্নয়ন কাজে হরিলুট হয়না ?
আমি নিজেও একসময় স্বপ্ন দেখতাম পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন আর দেখি না। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই জানি কিছু কিছু সরকারী অফিস, তাদের কর্মীরা কতটা জঘন্য হতে পারে। দুঃখের বিষয় তাদের কিছুই হয়না সাধারনত। কারন তাদের কুকর্মের বেনিফিশিয়ারি অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি ‘ক’ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলাম ‘খ’ এর কাছে। ক তখন খ এর জীবনের অপকর্মের ফিরিস্তি দিলেন। এটা বিরল না, বরং এর ব্যতিক্রম হওয়াটাই বিরল। উদাহরন দিলে এই মন্তব্য অনেক লম্বা হয়ে যাবে।
সবাই যে খারাপ কিংমা সবখানে যে খারাপ অভিজ্ঞতা, সেটাও না। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সরকারী সংস্থার সেবা, ব্যবহার, শিষ্ঠাচার, সময়জ্ঞানের উন্নতি করা আবশ্যক। আপনি, আপনারা ও আপনার প্রতিষ্ঠান এবং এমন আরো অনেকে হয়তো বিরল ব্যতিক্রম। তবে এমন উদাহরন খুব বেশী নেই।
Related Posts

Threats of being burned to ashes in public: The shrinking of Bangladesh’s cultural sphere and the frightening spread of extremism
19 August 2026. That afternoon, a concert by popular rock bands Ashes and Nobelman wasRead More

প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়ার হুমকিঃ বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পরিসরের সংকোচন ও উগ্রবাদের ভয়াল বিস্তার
১৯ আগস্ট, ২০২৬। কিশোরগঞ্জের ওল্ড স্টেডিয়ামে সেদিন বিকেলে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড অ্যাশেজ ও নোবেলম্যানের কনসার্টRead More

Bangladesh will continue to suffer – and suffer greatly – from the consequences of nurturing these extremist fundamentalist groups
In Bangladesh, there has always been an extremist, religiously fanatical group that fears music, dance,Read More

Comments are Closed