Covid
Take this actions during Covid Pandemic

Take this actions during Covid Pandemic

কোভিড করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে যা করতে হবে –

কোভিড-১৯ রোগের অনেক কিছুই এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটিও সময়, পরিবেশ, ও স্থানভেদে নিজেকে পরিবর্তন করছে৷ রোগটির সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হচ্ছে সুপারস্প্রেডিং ক্যাপাসিটি বা অতিসংক্রমন প্রবনতা। বিভিন্ন ধরনের রিসার্চ চলছে এর চিকিৎসা ও টিকা নিয়ে। তবে এখনো এই চিকিৎসা ব্যবস্থাসমুহ বা টিকাসমুহের কোনটিকেই এককভাবে বা সমষ্টিগতভাবে পুরোপুরি কার্যকর বলার সময় আসেনি। বিভিন্ন দেশের সরকার বিভিন্নভাবে কোভিডের সংক্রমণ কমাতে ও চিকিৎসার সাধ্য বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। ব্যাক্তিগত পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজে যতটা পারা যায় কোভিড থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা পাসাপাসি নিজের বডি ইমিউনিটি বাড়িয়ে ফেলা।

কোভিড-১৯ থেকে দূরে থাকতে নিয়মিত আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাময় স্থানে হাত দেওয়ার পর ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, জনসমাগম স্থানে সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান ও এয়ার টাইট গগলস পরিধান করা অন্যতম। যদিও বাহির থেকে এসে সাবান দিয়ে গোসল করতে পারলে সেটা অধিকতর সুরক্ষা দিতে পারে। মনে রাখবেন কোভিড-১৯ এর জীবানু এখন পর্যন্ত রিসার্স অনুসারে আপনার শরীরে মুখ, নাক ও চোখের মাধ্যমে ঢুকে থাকে। এই অংগগুলোর ব্যাপারে খুবই সাবধান হতে পারেন।

এর পাসাপাসি মূল যে কাজটা করতে হবে সেটি হলো বডি ইমিউনিটি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। বডি ইমিউনিটির হলো শরীরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার যেমন সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী ছাড়াও, সাইবার সিকিউরিটি, অর্থনৈতিক, খাদ্য নিরাপত্তা সহ অনেক জিনিসের উপর নির্ভর করে তেমন শরীরের নিরাপত্তারও অনেকগুলো দিক রয়েছে। কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে আমরা যেহেতু এখনো সব কিছু জানিনা তাই এখন পর্যন্ত জানা সকল দিক ছাড়াও অজানা দিকের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। এটি করার জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, হালকা হলেও ব্যায়াম করা, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অন্যতম। যেহেতু এখন পর্যন্ত জানা বিষয়সমুহের মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রমনের পর ফুসফুসের সংক্রমণ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমান ক্ষতি সাধন করে তাই, ধুলাবালি সহ অন্যান্য ডাস্ট থেকে দূরে থাকা, ফুসফুসের কিছু ব্যায়াম বিশেষ করে বড় করে শ্বাস নিয়ে সম্পুর্ন ছেড়ে দেওয়ার প্রাকটিস অন্যতম। এছাড়াও সর্বপরি ফুসফুসের ক্ষতি হতে না দেওয়া ও এর উন্নতির জন্য চেষ্টা করা উচিৎ।

নানাবিধ কারনেই আমাদের শরীর নিজের অজান্তে অনেক রকম ভিটামিন ও মিনারেল এর ঘাটতিতে পড়ে যেতে পারে। এর জন্য বিভিন্নধরনের খাবার খাওয়া সহ এখনকার সময়ের প্রেক্ষিতে প্রতি তিনমাসের মধ্যে একমাস মাল্টিভিটামিন+মিনারেল ট্যাবলেট প্রতিদিন একটি করে খাওয়া যেতে পারে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ডি কভিড-১৯ এর সাথে যুদ্ধে আপনাকে অনেক বেশী সহায়তা করবে। ভিটামিন-সি শরীরে জমা থাকেনা তাই প্রতিদিন ভিটামিন-সি যুক্ত কিছুনা কিছু খাওয়া ভালো। আমাদের দেশে সাধারনভাবে পাওয়া প্রায় সব ধরনের ফলেই কমবেশি ভিটামিন-সি রয়েছে। তবে লেবু, মাল্টা, পেয়ারা, কমলা, জাম্বুরা ইত্যাদিতে বেশী পরিমানে ভিটামিন-সি পাওয়া যাবে। ভিটামিন-ডি সূর্যের কিরনের স্পর্শে আমাদের শরীরে তৈরি হয়। তবে অনেকের শরীরেই কম তৈরি হয়, এছাড়াও শহরে সূর্যালোক কম পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ভিটামিন-ডি এর সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন অতিরিক্ত মাত্রার ভিটামিন-ডি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আপনার শরীরে কতটুকু ভিটামিন-ডি আছে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই তারপর খাওয়া ভালো হবে।

এবার আসা যাক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে কি করবেন। প্রথমত আগে থেকেই ডাব্লিউএইসও এর লেটেস্ট গাইডলাইন দেখে রাখবেন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলবেন। নিচে কিছু কমন বিষয় লিখলাম যেগুলো আপনাকে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে বলে জানাচ্ছেন এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞগন-

বিশ্রামে থাকুন-

বিশ্রাম আপনার শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা কমিয়ে দিবে। শক্ত কাজ করবেন না, শক্ত কাজ করলে অক্সিজেনের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, এবং আপনার আক্রান্ত ফুসফুসের সেই পরিমান সাপ্লাই দেওয়ার ক্ষমতা সেসময় নাও থাকতে পারে।

২ অল্প করে বারবার খাবেন-

একবারে বেশী খেলে অক্সিজেন সংক্রান্ত দুইটি ঘটনা ঘটে। খাবার পরিপাকের জন্য শরীরের বেশী ইফোর্ট দেওয়া লাগে আর সে কাজে লাগে অক্সিজেন। এটা আপনার অক্সিজেনের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও বুক ও পেটের অংশ একত্র হওয়ায় পাকস্থলী বড় হয়ে আপনার ফুসফুসের নিশ্বাস গ্রহন করে ফুলে ওঠার যায়গা কমিয়ে দেয়। এতে অক্সিজেনের সাপ্লাই এর ঘাটতি হতে পারে। ঠিক এই কারনেই সাধারন সময়েও অনেক বেশী খাওয়ার পর আমাদের অনেকসময় হাসফাস লাগে। আর অল্প করে খেলে আপনার খাবারের চাহিদা মেটাতে বারবার খাওয়া দরকার হবে।

৩ পানির অভাব হতে দেওয়া যাবে না-

পানি শরীরের প্রায় সকল কাজেই অপরিহার্য একটি উপাদান। সাধারণ সময়ে আমরা অন্যান্য সময় সহ পিপাসা লাগলে পানি পান করি৷ কিন্তু বিশ্রামে থাকার সময় পানির অভাব একটু কম অনুভব করা যায়। একারনেই অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থতার সময় আমরা ডিহাইড্রেশন বা পানি স্বল্পতায় ভুগে থাকি। অসুস্থতার সময় এর সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমসমুহের সঠিক সময় সঠিক স্থানে পৌছা ও তাদের নিরবিচ্ছিন্ন পরিভ্রমণের জন্য পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

৪ ডিপ-ব্রেথিং বা লম্বা শ্বাস নেওয়া

ডিপ-ব্রেথিং বা লম্বা শ্বাস নেওয়া ও সম্ভ্রাব্য পরিমান ছেড়ে দেওয়ার ব্যায়াম করুন। এটি আপনার শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধির পাসাপাসি ফুসফুসের বেশী অংশকে কার্যকর রাখার মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর ক্ষতির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে।

৫ ভিটামিন ও মিনারেল এর অভাব হতে না দেওয়া-

বিশেষ করে ভিটামিন-সি ও ডি এর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ব্যাপারে আগেই কিছুটা লিখেছি।

৬ শর্করা, চিনি ও লবন খাওয়া কমান-

এই খাবারগুলো আমাদের পরিশ্রমকে সাপোর্ট দেয়, যেহেতু এই সময়ে আমরা পরিশ্রম কমিয়ে দিচ্ছি তাই এই ধরনের খাবার এর পরিমানও কমিয়ে দেওয়া উচিৎ। এছাড়াও আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় এই খাবারগুলো বেশীই খেয়ে থাকে।

৭ ধুলা-বালি ও অন্যান্য ডাস্ট থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন-

ফুসফুসের সংক্রমণে আমাদের দেশের বাস্তবতায় এইটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঘর, বিছানা, ফার্নিচার ঝাড়ু না দিয়ে মুছে ফেলাই ভালো। পরনের কাপড় খোলার পর বা পরার আগে কাপড় ঝাড়া দেওয়ার অভ্যাস এসময়ের জন্য ত্যাগ করা উচিৎ।

৮ ব্লাড সুগার নিয়মিত মেপে যেতে হবে-

অক্সিজেন, ব্লাড প্রেশার, তাপমাত্রা, ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ব্লাড সুগার নিয়মিত মেপে যেতে হবে ও কোন অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, সরকার যেমন কভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে গ্রাফ ফ্লাটেনিং পদ্ধতি ও চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে৷ আপনিও আক্রান্ত হলে শরীরের অক্সিজেনের চাহিদা কমিয়ে, সাপ্লাই বাড়িয়ে, ভিটামিন মিনারেল সহ অন্যান্য সরবরাহ ঠিক রেখে কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি নিন।

[ লিখেছেনঃ Nayeem Al Mifthah ]

Related Posts

The Grip of Fundamentalism in Bangladesh

Bangladesh will continue to suffer – and suffer greatly – from the consequences of nurturing these extremist fundamentalist groups

In Bangladesh, there has always been an extremist, religiously fanatical group that fears music, dance,Read More

The Grip of Fundamentalism in Bangladesh

অন্ধকারের মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দেয়ার ফল বাংলাদেশ আরো পাবে, অনেক পাবে

বাংলাদেশে সবসময়ই একটা উগ্রবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠী আছে যারা গান, নাচ, সংস্কৃতি চর্চাকে ভয় পায় এবংRead More

Hijab is My Choice!

‘Hijab is my choice’ – the same people who make this claim in secular countries often force women to wear hijab in their own countries

Iranian singer Parastu Ahmadi has been sentenced to 74 lashes for the “crime” of performingRead More

Comments are Closed