
Free Windows 10 Upgrade
অবশেষে আপনি চোর অপবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন
আপনি আমি আমরা বেশীরভাগই এক ক্ষেত্রে চোর। কারন আমরা প্রায় সবাই উইন্ডোজ এক্স পি, সেভেন, এইট চুরি করে ব্যবহার করি আমাদের ডেস্কটপ, ল্যাপটপে। একটা ৪০-৮০ টাকা দামের ডিভিডি কিনে আমরা নিজেরা ইন্সটল দিয়ে নেই বা দোকান থেকেই ইন্সটল করে দেয়। আমরা অনেকেই জানি না এগুলো সব পাইরেটেড বা চুরি করা সফটওয়্যার। যার ব্যবহারের কারনে আপনার জেল জরিমানাও হতে পারে। তবে ৭০০০-১২০০০ টাকার অপারেটিং সিস্টেম, ২০০০০-৩০০০০ টাকার অফিস প্যাকেজ ( মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ইত্যাদি ), লক্ষ টাকার এডোবি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর জেনুইন লাইসেন্স সহ ব্যবহার করতে গেলে আমাদের কম্পিউটার চালানোর সাধ মিটে যেত। পাইরেটেড কপি যে শুধু আমরা চালাই তাই নয়। বেশীরভাগ স্বল্পোন্নত দেশই এটা করে। চীন সবচেয়ে বেশী পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে।
লিনাক্স সহ অন্যান্য অনেক ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার থাকলেও আমরা নানা সীমাবদ্ধতার কারনে সেগুলো ব্যবহারের জ্ঞান লাভ করতে পারি না। তবে আশার কথা হল মাইক্রোসফট ঘোষনা দিয়েছে যারা বর্তমানে উইন্ডোজ সেভেন, এইট ব্যবহার করছেন – জেনুইন, পাইরেটেড সবাই বিনামূল্যে উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করতে পারবেন এবং লাইফটাইম আপডেট পাবেন। এ অফারটি এ বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। সুতরাং কয়েক মাস পর থেকে আপনি হবেন জেনুইন উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারী। তবে একটি কথা হল সার্ভিস প্যাক ১ ইন্সটল না করা থাকলে অটোমেটিক আপডেট হবে না।
এখন ভাবছেন, কেন মাইক্রোসফট বিনামূল্যে তাদের প্রায় ১০০০০ টাকার প্রোডাক্ট বিতরন করবে? আপনি হয়ত জানেন বিল গেটস এই মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার বিক্রি করেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েছিলেন। তাহলে ফ্রি দিয়ে লাভ কি? একবার ভাবুন তো ফেসবুকের কথা। ফেসবুকের আসলে প্রোডাক্ট কি? হয়ত কিছুই আপনি খুঁজে পাবেন না। ফেসবুকের মার্কেট ভ্যালু কত জানেন? ২২০ বিলিওন ডলার বা ১৭১৬০০০ কোটি টাকা যা বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ০৯ বছরের বাজেটের সমান। এখন সফটওয়্যারের ব্যবসা বা প্রোডাক্টগুলো পন্য না হয়ে সেবা হয়ে যাচ্ছে, মানুষ সেবা কিনছে। উইন্ডোজ কনজিউমার লাইসেন্সিং বন্ধ করে দিয়ে যে টাকা লস করবে, ইউজার সংখ্যা বড়িয়ে অন্য খাতে (যেমন Online Services Division, Entertainment and Devices Division) ঐ রেভিনিওর কয়েকগুন উঠে আসবে।
বাস্তবতা হল উইন্ডোজ কিন্তু মোটেই ফ্রি করা হয়নি। যারা আগেই চুরি করেছে তাদের বলা হচ্ছে পাক পবিত্র হয়ে ফ্রি তে জেনুইন হতে। চোর অপবাদটা দূর করতে। এটাই বা কম কি আমাদের জন্য?
নেটে পাওয়া একটা গল্প বলিঃ কদিন আগে নেভাডার ভ্যালি অব ফায়ার স্টেট পার্কে গেলাম, এরিয়ায় ঢোকার মুখে প্রায় জনমানব বিহীন জায়গায় ছোট্ট একটা যাত্রী ছাউনি। পাশে মেইল বক্সের মত একটা খুঁটি এবং সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘এরিয়ায় ঢুকতে বাধ্যতামুলক ফি দশ ডলার। ইনস্ট্রাকশনে লেখা আছে ওখান থেকে একটা এনভেলপ নিয়ে ভেতরে দশটাকা ভরে, নাম ঠিকানা এবং গাড়ির ইনফো লিখে মেইল বক্সে ফেলে দিতে। আর এনভেলপের উপরের অংশটা ছিড়ে নিজের কাছে রশিদ হিসেবে রাখতে। আমার বন্ধু বলল টাকা ভর্তি এনভেলপটা মেইল বক্সে না ফেলে নিজের কাছে রাখলেই তো পরি। রশিদতো আছেই। হুমম… যা হোক এলাকাটা ভাল ছিল মনমেজাজও ভাল ছিল এনভেলপটা বক্সেই ফেললাম। দিনশেষে ফেরার সময় ওখান আবার একটু বসেছিলাম। দেখলাম এক পার্ক কর্মী এসে বক্স থেকে এনভেলপ কালেক্ট করছে। অবাক হয়ে দেখলাম ছোট বক্স প্রায়পুরোটাই ভর্তি। এখানদিয়ে যত জন গেছে আমার মনে হয়না কেউ পয়সা না দিয়ে গেছে! যদিও কেউ চাইলেই পয়সা না দিয়ে যেতে পারে, তবুও পার্কটা ফ্রি নয় কারন বাধ্যতামুলক ফি দশ টাকা লেখা আছে।
এবার আমার একটা নিজের কথা বলি
আমার কাজ কারবারও ঠিক ঐ পার্কের মতই। আমার তৈরি প্রোডাক্টগুলো বিনামূল্যে চুরি করে ব্যবহার করার অনেক সহজ পদ্ধতি আছে । আমার মত যারা এই লাইনে জীবন চালায় তারা সবাই একই রকম পদ্ধতিতে কাজ করে। মানুষ যদি চুরি করে সহজ পন্থায় ব্যবহার করত আমার প্রোডাক্ট তাহলে আমাকে থালা হাতে এতদিন পথে নামতে হত। খুশির কথা হল ৯৯% মানুষই সেগুলো কিনে ব্যবহার করে। বাকী ১% এর কথা চিন্তাই করি না। কারন আমরাও চুরি করে অনেক কিছুই ব্যবহার করি কম্পিউটার চালাতে।
তো আর একটি কথা বলি
আচ্ছা ডেল কম্পিউটারের দাম বেশী নাকি এডোবি ফটোশপের? অবশ্যই ফটোশপের। তবে বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে লোভী নির্বাহীরা এই সহজ ব্যাপারটি বুঝতে চায় না। তারা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে হার্ডওয়্যার কেনে কিন্তু হাজার টাকা খরচ করে সফটওয়ার বা সার্ভিস বা অন্য কথায় কষ্ট করে অর্জিত জ্ঞান কিনতে চায় না। এই যেমন আমার পরিচিত একজন মানুষ, তাকে অনেক দিন ফ্রি ফ্রি অনেক সার্ভিস দিয়েছি। বার বার অনুরোধ করতে থাকায় যখন তাকে একটু স্মরন করিয়ে দিলাম আমি আসলে এক ঘন্টা সময়ের বিনিময়ে এত ডলার নেই, ঠিক তখনি তিনি আমাকে অন্যরকম ভাবা শুরু করলেন। তিনি ঠ্যাক খাইতে রাজী, অনভিজ্ঞ হাত দিয়ে নিজের ক্ষতি মেনে নিতে রাজী কিন্তু কষ্ট করে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কিনে দীর্ঘমেয়াদী লাভে রাজী নন। একেই বলে বাঙালী। যাক, গোনার সময়ই বা কোথায় এত? কষ্ট করে সৎ পথে খাই, অনেকের মত ঘুষ, দূর্ণীতি বা মানুষকে ঠকিয়ে, বঞ্চিত করে তো খাই না।
এখন উপসংহার টানার আগে বলি – তাহলে আপনি কি চোর? আপনি কি চুরি করতে চান?হ্যাঁ আপনিও চোর। অনলাইন থেকে এম পি থ্রি বা কোন মিউজিক ভিডিও ডাউনলোড – আপলোড করে আপনি নির্মাতাদের কপিরাইট ভাংছেন। কিন্তু বাস্তবতা হল এই ২০১৫ সালে এসেও দেশের মার্কেটিং ও পেমেন্ট সিস্টেমগুলো আধুনিক হয়নি। একটি পছন্দের গান ডাউনলোড করে নির্মাতাকে স্বেচ্ছায় ২০-১০০ টাকা দিতে আপনারও আপত্তি থাকত না। কিন্তু দিবেন কিভাবে? মোবাইলের মাধ্যমে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে এমন খুচরা টাকা দেয়ার সিস্টেম এখনো চালু হয়নি আমাদের দেশে।
যাইহোক উইন্ডোজ ফ্রি আপগ্রেড চালু করলেই দেরী না করে জেনুইন হয়ে যাবেন। সবার জন্য শুভকামনা।
Related Posts

The fate of Salton City teaches that trying to control nature can lead to the opposite of what is intended
Salton Sea: The Story of a Haunted Dream After almost a 300‑kilometer drive in threeRead More

স্যালটন সিটির পরিনতি শেখায় প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রন করতে চাইলে হিতে বিপরীত হতে পারে
স্যালটন সাগরঃ এক ভুতুড়ে স্বপ্নের গল্প তিন ঘন্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ড্রাইভ দিয়ে, সারি সারিRead More

Is the Earth and the universe orderly? Has everything been created only for humans?
Many Muslim people argue by saying, look, how orderly the earth and the universe are,Read More

Comments are Closed