Universe

Did a Creator Make the Universe?

পৃথিবী ও মহাবিশ্ব কি সুশৃঙ্খল? সব কিছু কী মানুষের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে?

অনেক মুসলিম লোকেরা যুক্তি দিয়ে বলেন, দেখ, পৃথিবী ও মহাবিশ্ব কত সুশৃঙ্খল, কি নিখুঁতভাবে সব চলছে, পৃথিবীতে মানুষের জন্য এতো এতো নেয়ামত – আল্লাহ ছাড়া কি এটা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে একটা গল্প দিয়ে শুরু করি –

রানওয়ের ডোবা

২০০৭ সালের এক ঝড়ের রাত, একটি মালবাহী বিমান ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রত্যন্ত দ্বীপের ছোট্ট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে গিয়ে রানওয়েতে বিধ্বস্ত হলো। বিস্ফোরণে রানওয়ের মাঝখানে একটি বড় গর্ত তৈরি হলো – প্রায় পাঁচ মিটার গভীর, দশ মিটার চওড়া। বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে গেল। সরকারের মেরামতের বরাদ্দ আসতে আসতে বছর পেরিয়ে গেল। ইতিমধ্যে বর্ষার পানি গর্তটি ভরিয়ে দিল। কাছের জঙ্গল থেকে মাটি ও বীজ ভেসে এলো। শ্যাওলা জন্মাল। ছোট ছোট পোকামাকড় এলো জলের গন্ধে। তাদের পেছনে এলো ব্যাঙ।

কয়েক বছর পরে সেই ডোবায় একটি সবুজ অজগর পরিবার বাসা বাঁধল। শীতল পানির পাশে থাকার সুবিধা, প্রচুর ব্যাঙ ও ইঁদুর – সব মিলিয়ে এ যেন তাদের জন্য এক স্বর্গ।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাটল। একসময় সাপের বংশধরেরা – যদি তারা কথা বলতে পারত – হয়তো বলতঃ

“দেখো, আমাদের জন্য কী নিখুঁত ব্যবস্থা! পানি আছে, ছায়া আছে, খাবার আছে। এত সুশৃঙ্খল পরিবেশ কি কোনো মহাজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সম্ভব? নিশ্চয়ই কোনো মহান শক্তি আমাদের কথা ভেবে এই ডোবাটি বানিয়েছেন।”

অথচ সত্যটা হলো – একটা পুরনো বিমানের হাইড্রোলিক সিস্টেম ফেইল করেছিল। পাইলট ঘুমের ওষুধ খেয়ে ডিউটিতে এসেছিলেন। এক মুহূর্তের অসাবধানতা, একটা দুর্ঘটনা – এবং তার ফলেই জন্ম নিয়েছিল সেই “নিখুঁত আবাস”।

নকশা ছিল না। ছিল কেবল দুর্ঘটনা, এবং তার পরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একটি বাস্তুতন্ত্র। কিন্তু সাপের বংশধরেরা সেটাকে সৃষ্টিকর্তার অসীম নেয়ামত ভেবে প্রার্থনা করতে লাগলো।

“নকশার যুক্তি” এবং তার দার্শনিক সমস্যা

ধর্মীয় দর্শনে “টেলিওলজিক্যাল আর্গুমেন্ট” বা নকশার যুক্তি একটি পুরনো ও প্রভাবশালী ধারণা। অষ্টাদশ শতকে উইলিয়াম পেলি এটিকে বিখ্যাত ঘড়ির উপমায় সাজিয়েছিলেনঃ যদি মাঠে একটি ঘড়ি পাও, তুমি বুঝবে কেউ এটা বানিয়েছে; তেমনি মহাবিশ্বের জটিল কাঠামো দেখে বুঝতে হবে কেউ এটাও বানিয়েছে।

যুক্তিটি আপাতদৃষ্টিতে বেশ শক্তিশালী। পৃথিবী থেকে সূর্যের ঠিক এতটুকু দূরত্ব যে জীবন সম্ভব। পানির অণুর বিশেষ গঠন যে এটি বরফ হলে ভাসে, ডোবে না – ফলে শীতকালে সমুদ্রের নিচে জীবন বাঁচে। কার্বন পরমাণুর অনন্য বৈশিষ্ট্য যা জৈব অণু তৈরি করতে পারে। এগুলো কি নিছক কাকতালীয়?

কিন্তু এই যুক্তিতে একটি মৌলিক দার্শনিক ভুল আছে, যাকে বলে “সারভাইভরশিপ বায়াস” বা “অ্যান্থ্রপিক ফ্যালাসি”

বেঁচে থাকার পক্ষপাত – আমরা কেন ভুল দেখি

১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বিমানবাহিনী একটি সমস্যায় পড়ল। যুদ্ধ থেকে ফেরা বিমানগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেল, ডানায় ও লেজে সবচেয়ে বেশি গুলির চিহ্ন। সামরিক প্রকৌশলীরা বললেন, এই জায়গাগুলোতে বর্ম লাগাও।

তখন পরিসংখ্যানবিদ আব্রাহাম ওয়াল্ড বললেন – না, উল্টো করো। যে জায়গাগুলোতে গুলির চিহ্ন নেই, সেখানে বর্ম লাগাও।

কেন? কারণ যে বিমানগুলো ফিরে এসেছে, সেগুলো ডানায় গুলি খেয়েও বেঁচেছে। কিন্তু যে বিমানগুলো ইঞ্জিনে বা কক্পিটে গুলি খেয়েছে – সেগুলো আর ফেরেনি। তারা ডেটার বাইরে।

এটাই সারভাইভরশিপ বায়াস

আমরা যে মহাবিশ্বে আছি, সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি কারণ আমরা এখানে আছি। যদি এই মহাবিশ্বের নিয়মগুলো একটু আলাদা হতো – কার্বন যদি এত বহুমুখী না হতো, মাধ্যাকর্ষণ যদি একটু বেশি বা কম হতো – তাহলে আমরা থাকতাম না। এবং তখন কেউ প্রশ্ন করতও না।

প্রশ্নটা তাই উল্টো হওয়া উচিতঃ “আমরা যদি না থাকতাম, তাহলে কী হতো?”

উত্তরঃ কেউ জানত না। কেউ জিজ্ঞেস করত না।

মাল্টিভার্স – অসংখ্য দুর্ঘটনার মধ্যে একটি সফল দুর্ঘটনা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে “মাল্টিভার্স” বা বহুবিশ্বের ধারণা এখন কেবল কল্পকাহিনী নয়, গুরুতর বৈজ্ঞানিক অনুকল্প।

কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং স্ট্রিং থিওরির ভিত্তিতে অনেক পদার্থবিজ্ঞানী বলেন, সম্ভবত অসংখ্য মহাবিশ্ব আছে বা ছিল – প্রতিটিতে ভিন্ন ভিন্ন ভৌত ধ্রুবক। বেশিরভাগ মহাবিশ্বে জীবন তৈরি হওয়ার শর্ত নেই। সেসব মহাবিশ্বে কেউ নেই প্রশ্ন করতে। আমাদের মহাবিশ্বে সেই বিরল সংমিশ্রণ মিলে গেছে – তাই আমরা আছি।

এটা অনেকটা এরকমঃ

একটি ক্যাসিনোতে লক্ষ মানুষ একসাথে জুয়া খেলছে। একজন পরপর বিশবার জিতল। সে ভাবল, “এটা নিশ্চয়ই ভাগ্যের নয়, আমার জন্য কেউ এই মুহূর্তটা তৈরি করেছে।”

কিন্তু লক্ষ মানুষের মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে কেউ না কেউ এটা করবেই। সে কেবল সেই লোক হয়েছে। এবং সে যদি না জিততে পারত, তাহলে তার কাছে এই প্রশ্নটা আসতই না।

বিবর্তন – নকশা ছাড়া জটিলতার জন্ম

ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব হলো মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিপ্লবী চিন্তাগুলোর একটি। কারণ এটি প্রথমবারের মতো ব্যাখ্যা করল – কোনো নকশাকার ছাড়াই কীভাবে অবিশ্বাস্য জটিলতা জন্ম নিতে পারে।

প্রক্রিয়াটি তিনটি সহজ নীতির উপর দাঁড়িয়েঃ

প্রথমত, বৈচিত্র্যঃ প্রতিটি প্রজন্মে সামান্য এলোমেলো পরিবর্তন হয় (মিউটেশন)।

দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক নির্বাচনঃ যে পরিবর্তন পরিবেশের সাথে মেলে, সেটি টিকে থাকে। যা মেলে না, সেটি বিলুপ্ত হয়।

তৃতীয়ত, সময়ঃ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চললে ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া থেকে জন্ম হয় মানুষের মতো জটিল প্রাণীর।

চোখের মতো জটিল অঙ্গ “হঠাৎ” তৈরি হয়নি। আলোর প্রতি সংবেদনশীল একটি কোষ থেকে শুরু হয়েছে – সেটি পরিবেশে সুবিধা দিয়েছে, তাই টিকেছে। ধীরে ধীরে লক্ষ প্রজন্মে সেটি পরিণত হয়েছে জটিল চোখে।

নকশা নেই। নকশাকার নেই। আছে কেবল পরিবেশের চাপ, সময়, এবং অন্ধ সুযোগ।

প্রখ্যাত বিবর্তন জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স এ প্রক্রিয়াকে বলেছেন “অন্ধ ঘড়িওয়ালা” – যে ঘড়ি বানায়, কিন্তু দেখতে পায় না, পরিকল্পনা করে না।

পৃথিবী মানুষের “জন্য” নয় – মানুষ পৃথিবীর “সাথে” মানিয়েছে

এখানে আরেকটি মৌলিক চিন্তার ভুল আছে।

আমরা ভাবি পৃথিবী মানুষের জন্য তৈরি। কিন্তু বিজ্ঞান বলে উল্টো কথা: মানুষ পৃথিবীর জন্য তৈরি হয়েছে — অর্থাৎ পৃথিবীর পরিবেশের সাথে বিবর্তনের মাধ্যমে মানিয়ে নিয়েছে।

পানি আছে বলে প্রাণ এসেছে, প্রাণের জন্য পানি আসেনি। অক্সিজেন আছে বলে অক্সিজেন-নির্ভর প্রাণী বিকশিত হয়েছে, প্রাণীর জন্য অক্সিজেন আসেনি। সূর্যের আলো আছে বলে সেই আলো ব্যবহার করতে পারা প্রাণ টিকে গেছে, প্রাণের জন্য সূর্যের আলো আসেনি।

এটাই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিন্দুঃ

নদীর পাড়ে গঞ্জ বসে যাতায়াতের সুবিধায় – গঞ্জ বসবে বলে নদী বয়নি।

নদী বয়েছে ভূগর্ভস্থ পানিচাপ, মাধ্যাকর্ষণ ও ভূমির ঢাল অনুসারে – এসব নিয়ম অন্ধভাবে কাজ করেছে। তারপর মানুষ এসেছে, দেখেছে নদীর পাশে সুবিধা আছে, থেকে গেছে।

পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মনে হয়েছে – কী সুন্দর ব্যবস্থা, নদীটা ঠিক এখানে কেন? আমাদের জন্যই যেন!

না। নদী তোমার কথা জানে না। তুমি নদীর কথা জেনেছ।

পৃথিবী কি সত্যিই “নিখুঁত”? বা আমরা কি শুধু ভালোটুকু দেখছি?

পৃথিবী যদি সত্যিই মানুষের জন্য “তৈরি” হতো, তাহলে কিছু প্রশ্ন করা দরকারঃ

পৃথিবীতে প্রতি বছর ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, আগ্নেয়গিরি – এগুলো কি “নকশার” অংশ? সন্তান জন্মাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু, শিশুর জন্মগত ত্রুটি, ক্যান্সার – এগুলো কি পরিকল্পনার মধ্যে ছিল?

পৃথিবীর ৯৯% প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে বিবর্তনের ইতিহাসে। তাদের জন্য “নকশা” কাজ করেনি? ডায়নোসর ৬৬ মিলিয়ন বছর পৃথিবী শাসন করে বিলুপ্ত হলো একটি গ্রহাণুর আঘাতে। তারাও কি তাদের আগের ১৬৫ মিলিয়ন বছর ধরে ভেবেছিল, এই পৃথিবী তাদের জন্য তৈরি?

মানুষের শরীরেই রয়েছে বিবর্তনের অগণিত “ত্রুটি” – অ্যাপেন্ডিক্স যেটি কোনো কাজ করে না কিন্তু ফেটে মানুষ মারা যায়, মেরুদণ্ড যা খাড়া হাঁটার জন্য আসলে সুবিধাজনক নয়, অন্ধবিন্দু যেটি চোখের মাঝখানে একটি দৃষ্টিহীন জায়গা।

কোনো দক্ষ প্রকৌশলী এই নকশা করতেন না। এটা বিবর্তনের পথে পথে জড়ো হওয়া আপোসের ফল।

মানবজাতির ক্ষুদ্রতা – মহাবিশ্বের স্কেলে আমরা কোথায়?

মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। পৃথিবীর বয়স ৪.৫ বিলিয়ন। আধুনিক মানুষের বয়স মাত্র ৩ লক্ষ বছর।

মহাবিশ্বে দৃশ্যমান গ্যালাক্সির সংখ্যা প্রায় ২ ট্রিলিয়ন। প্রতিটি গ্যালাক্সিতে গড়ে ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্র। মিল্কিওয়েতেই পৃথিবীর মতো সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহ আছে কোটি কোটি।

এই বিশাল মহাবিশ্বের একটি গ্যালাক্সির এক প্রান্তের একটি মাঝারি নক্ষত্রের (সূর্য) তৃতীয় গ্রহে (পৃথিবী) ১৩.৮ বিলিয়ন বছরের মধ্যে মাত্র শেষ ৩ লক্ষ বছরে একটি প্রজাতি জন্মেছে – এবং সে ভাবছে, এই পুরো মহাবিশ্বটা তার জন্য তৈরি!

জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী নিল ডিগ্র্যাস টাইসন এক বক্তৃতায় বলেছিলেনঃ যদি মহাবিশ্ব সত্যিই মানুষের জন্য তৈরি হতো, তাহলে এটা এত বড় হওয়ার দরকার কী ছিল? আর মানুষ আসতে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর লাগল কেন?

শৃঙ্খলা কি সত্যিই আছে, নাকি আমরা শৃঙ্খলা খুঁজে নিই?

মানুষের মস্তিষ্ক বিবর্তনের কারণে “প্যাটার্ন” খুঁজতে অভ্যস্ত। এমনকি যেখানে প্যাটার্ন নেই, সেখানেও মানুষ প্যাটার্ন দেখতে পায়।

মেঘের মধ্যে মুখ দেখা, তারার বিন্যাসে রাশিচক্র কল্পনা করা, দুর্ঘটনার মধ্যে উদ্দেশ্য খোঁজা – এটা মানুষের স্বাভাবিক মানসিক প্রবণতা। বিজ্ঞানীরা এটাকে বলেন “অ্যাপোফেনিয়া” – এলোমেলো জিনিসের মধ্যে অর্থপূর্ণ সংযোগ খোঁজার প্রবণতা।

মহাবিশ্বের “শৃঙ্খলা” সম্পর্কেও একই কথা। প্রকৃতির নিয়মগুলো – মাধ্যাকর্ষণ, তড়িৎচুম্বকত্ব, নিউক্লিয়ার বল – এগুলো আমাদের কাছে সুশৃঙ্খল মনে হয় কারণ এগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু এই সামঞ্জস্যতা কি কাউকে দিয়ে বানানো, নাকি এটাই প্রকৃতির স্বভাব?

পদার্থবিজ্ঞানে একটি গভীর প্রশ্ন আছেঃ প্রকৃতির নিয়মগুলো কেন গণিত মেনে চলে? সম্ভাব্য উত্তর হলো – আমরা গণিতের মাধ্যমে প্রকৃতিকে বোঝার চেষ্টা করি, তাই গণিতে যা ধরা পড়ে না, তা আমাদের বর্ণনায় আসে না। এটা নকশার প্রমাণ নয়, এটা আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার প্রকাশ।

“কারণ” ও “উদ্দেশ্য” – দুটি ভিন্ন জিনিস

দার্শনিকরা বহু আগে থেকেই “কারণ” (cause) আর “উদ্দেশ্য” (purpose) এর পার্থক্য করেছেন।

বৃষ্টি হওয়ার কারণ আছে – তাপমাত্রা, বাষ্পীভবন, মেঘ। কিন্তু বৃষ্টির কোনো “উদ্দেশ্য” নেই। বৃষ্টি জানে না সে ধানক্ষেত বাঁচাচ্ছে বা বন্যা ঘটাচ্ছে।

চোখ দিয়ে দেখার কারণ আছে – বিবর্তনের ধাপে ধাপে আলোক-সংবেদনশীল কোষের বিকাশ। কিন্তু “দেখার জন্যই চোখ তৈরি হয়েছে” এই বাক্যটি বিপরীত কারণ-ক্রম। সঠিক বাক্য হলোঃ যারা বেশি দেখতে পেরেছিল তারা বেঁচে ছিল, তাই দেখার ক্ষমতা বিকশিত হয়েছে।

এরিস্টটলের “টেলোস” বা চূড়ান্ত উদ্দেশ্যের ধারণাটি দার্শনিকভাবে আকর্ষণীয়, কিন্তু প্রকৃতি সেই ধারণা মানে না। পাথর গড়িয়ে পড়ে নিচে মাধ্যাকর্ষণের কারণে, “নিচে যাওয়ার উদ্দেশ্যে” নয়।

গল্পের শেষে – আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি

রানওয়ের ডোবার সাপেরা যদি কথা বলতে পারত, তারা হয়তো বলত – এই ডোবা “নিখুঁত”, এটি “নকশাকৃত”। কিন্তু যে পাইলট ঘুমের ওষুধ খেয়ে বিমান উড়িয়েছিলেন, তিনি সাপের কথা ভাবেননি। বিমানটিও সাপের কথা ভেবে বিধ্বস্ত হয়নি। গর্তে পানি জমেছিল কারণ বৃষ্টি হয়েছিল। পোকা এসেছিল কারণ পানির কাছে থাকা তাদের জন্য সহজাত সুবিধা। ব্যাঙ এসেছিল কারণ পোকা ছিল। সাপ এসেছিল কারণ ব্যাঙ ছিল।

প্রতিটি ধাপে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ছিল কেবল পরিস্থিতি এবং তার সাথে সাড়া দেওয়ার সহজাত প্রবণতা।

মানুষের গল্প এর চেয়ে জটিল হলেও কাঠামোতে ভিন্ন নয়। বিগ ব্যাং থেকে শুরু – শক্তি, পদার্থ, তারা, গ্রহ, রাসায়নিক বিক্রিয়া, প্রথম জীবন, বিবর্তন, মানুষ। প্রতিটি ধাপে ছিল পূর্ববর্তী কারণ, এবং সুযোগ।

এই দৃষ্টিভঙ্গিতে মহাবিশ্ব কম বিস্ময়কর নয় – বরং বেশি। কারণ কেউ পরিকল্পনা করেনি, তবু প্রাণ জন্মেছে। কেউ নির্দেশ দেয়নি, তবু মহাবিশ্ব বিকশিত হয়েছে। এবং সেই বিকাশের একটি অকল্পনীয় শাখায় এমন একটি প্রজাতি জন্মেছে, যে নিজের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে।

হয়তো সেটাই আসল বিস্ময়।

বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গির কথা

ন্যায়ের খাতিরে উল্লেখ করা দরকার – উপরের যুক্তিগুলো বিজ্ঞান ও দর্শনের ধারাবাহিক চিন্তার ফল হলেও এগুলো চূড়ান্ত নয়। মাল্টিভার্স তত্ত্ব এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাইরে। বিগ ব্যাং-এর “আগে” কী ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানের কাছে নেই।

কিছু বিজ্ঞানী ও দার্শনিক (যেমন ফ্রান্সিস কলিন্স, আলভিন প্ল্যান্টিঙ্গা) মনে করেন বিজ্ঞান ও ধর্মবিশ্বাস পরস্পর-বিরোধী নয়। তারা যুক্তি দেন, প্রকৃতির নিয়মগুলো এতটাই সুনির্দিষ্ট যে সেগুলোর উৎস একটি গভীর প্রশ্ন হিসেবে থেকে যায়।

এই প্রবন্ধের লক্ষ্য সেই বিতর্ক মীমাংসা করা নয়। লক্ষ্য হলো দেখানো যে – “সবকিছু এত সুন্দর, অতএব কেউ বানিয়েছে” – এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেলে যুক্তিটি সম্পূর্ণ হয় না।

রানওয়ের সাপের দর্শন সুন্দর হতে পারে – কিন্তু সে জানে না তার ডোবার ইতিহাস কী।

Related Posts

200 Years of Photography!

Two hundred years of the camera have passed, and although we all enjoy its priceless benefits, how many of us actually know this?

In 2012 I bought a DSLR camera. Of course, long before that, around 2000, IRead More

200 Years of Photography!

ক্যামেরার ২০০ বছর চলে এখন, আমরা সবাই এর অমূল্য উপকার ভোগ করলেও ক’জন জানি এটা?

২০১২ সালে আমি একটা ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনেছিলাম। অবশ্য তার অনেক আগে ২০০০ সালের দিকে আমারRead More

Saltan City – The Dead Dream

The fate of Salton City teaches that trying to control nature can lead to the opposite of what is intended

Salton Sea: The Story of a Haunted Dream After almost a 300‑kilometer drive in threeRead More

Comments are Closed