
A 90‑foot Adam is Impossible
মানুষের উচ্চতার জৈবিক সীমা ও বিজ্ঞানের আলোয় ৯০ ফুট লম্বা “অতিমানব” আদম অবাস্তব
বিজ্ঞান বলে, মানুষের গড় উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তার অর্থ আগে মানুষের উচ্চতা কম ছিল। তাই বলে আমার উচ্চতা ৫ ফিট ১১ ইঞ্চ হওয়ায় আমার ৫ পুরুষ আগের কারো উচ্চতা ৫ ফিট বা ৪ ফিট ছিল বিষয়টা এমন নয়। মানুষের গড় উচ্চতা গত কয়েক প্রজন্মে বেড়েছে – এটা একটা প্রতিষ্ঠিত পর্যবেক্ষণ। কিন্তু এই বৃদ্ধির হার এবং কারণ বুঝলেই স্পষ্ট হয়ে যায়, কেন কিছু ধর্মীয় বর্ণনায় থাকা অতিকায় মানুষের (যেমন আদমের ৯০ ফুট উচ্চতা সংক্রান্ত হাদিসভিত্তিক বর্ণনা) দাবি আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক।
উচ্চতা বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ ও মাত্রা
গত ১৫০ বছরে বিশ্বব্যাপী গড় উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে মূলত পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শৈশবকালীন রোগমুক্তির কারণে – জিনগত পরিবর্তনের কারণে নয়। এই বৃদ্ধির হার নেহায়েতই সামান্য: গড়ে প্রতি শতাব্দীতে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার (সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত ক্ষেত্রেও ১০-১১ সেন্টিমিটারের মতো, যেমন দক্ষিণ কোরিয়া বা নেদারল্যান্ডসের ক্ষেত্রে)। এই হারে পেছনে গেলে কয়েক হাজার বছর আগেও মানুষ আজকের তুলনায় সামান্য খাটো ছিল – কিন্তু বর্তমান মানুষের মতোই আকৃতির, কোনোভাবেই কয়েকগুণ লম্বা নয়।
প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ – কঙ্কাল, হাড়ের গঠন, গুহাচিত্র – এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। প্রাচীন মানব প্রজাতি যেমন হোমো ইরেক্টাস, নিয়ান্ডারথাল, বা আধুনিক হোমো সেপিয়েন্সের প্রাচীনতম নমুনাগুলোর উচ্চতা ৪.৫ থেকে ৬ ফুটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখন পর্যন্ত পাওয়া কোনো জীবাশ্মই ৯০ ফুট দূরের কথা, ১০ ফুট উচ্চতার মানুষেরও অস্তিত্ব প্রমাণ করে না।
স্কেল ল বা বর্গ-ঘন সূত্র (Square-Cube Law)
এটি পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি, যা গ্যালিলিও গ্যালিলি সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রথম বিশ্লেষণ করেন। এই সূত্র অনুযায়ী:
- কোনো বস্তুর আয়তন ও ওজন বাড়ে তার দৈর্ঘ্যের ঘন (cube) অনুপাতে।
- কিন্তু হাড়, পেশি বা রক্তনালীর প্রস্থচ্ছেদ (cross-sectional area), যা শক্তি ও ভার বহনের ক্ষমতা নির্ধারণ করে, বাড়ে দৈর্ঘ্যের বর্গ (square) অনুপাতে।
অর্থাৎ কাউকে যদি উচ্চতায় ১৫ গুণ বড় করা হয় (৬ ফুট থেকে ৯০ ফুট), তার শরীরের ওজন বাড়বে প্রায় ১৫³ = ৩,৩৭৫ গুণ, কিন্তু হাড়ের ভার বহনের ক্ষমতা বাড়বে মাত্র ১৫² = ২২৫ গুণ। ফলে এই আকারের একজন মানুষের পায়ের হাড় নিজের শরীরের ওজনই বহন করতে পারবে না — দাঁড়ানোর মুহূর্তেই হাড় ভেঙে যাবে।
জীববিজ্ঞানগত ও শারীরবৃত্তীয় বাধা
কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে অতিকায় আকারের মানুষ শারীরবৃত্তীয়ভাবে টিকে থাকতে পারবে না:
হৃদযন্ত্র ও রক্তসংবহন: উচ্চতা বাড়লে মস্তিষ্কে রক্ত পাম্প করতে হৃদয়কে আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয়। জিরাফের মতো তুলনামূলক লম্বা প্রাণীর হৃদয় অস্বাভাবিক শক্তিশালী ও ভিন্ন গঠনের হতে হয় শুধু মাথায় রক্ত পৌঁছানোর জন্য। ৯০ ফুট উচ্চতার মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রক্তচাপ মানবদেহের রক্তনালীর গঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
হাড় ও অস্থিসন্ধি: মানুষের হাড়ের উপাদান (ক্যালসিয়াম ফসফেট ভিত্তিক) একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্তই ভার সহ্য করতে পারে। এই কারণেই বাস্তব জগতে গিগ্যান্টিজম (pituitary gigantism) আক্রান্ত ব্যক্তিরা — যাদের গ্রোথ হরমোনের আধিক্যে উচ্চতা ৮-৯ ফুট পর্যন্ত পৌঁছায় – সাধারণত অস্থিসন্ধির ব্যথা, মেরুদণ্ডের বক্রতা, হাঁটতে অসুবিধা এবং অকালমৃত্যুর শিকার হন। রবার্ট ওয়াডলো (Robert Wadlow), ইতিহাসের সর্বোচ্চ নথিভুক্ত উচ্চতার মানুষ (৮ ফুট ১১ ইঞ্চি), মাত্র ২২ বছর বয়সে পায়ের সংক্রমণ ও হাঁটাচলার সমস্যাজনিত জটিলতায় মারা যান। এটাই প্রমাণ করে যে মানবদেহের গঠন স্বাভাবিক সীমার সামান্য বাইরেও গেলেই মারাত্মক সমস্যায় পড়ে।
শ্বাসযন্ত্র: আকার বাড়ার সাথে সাথে ফুসফুসের পৃষ্ঠক্ষেত্র (surface area) বাড়ে বর্গ অনুপাতে, কিন্তু অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে আয়তন/ঘন অনুপাতে। ফলে বড় আকারের প্রাণীর পক্ষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তুলনামূলক জীববিজ্ঞান: হাতি-পিঁপড়ার উদাহরণ
স্কেল ল বোঝার জন্য একটি সহজ উদাহরণ: একটি পিঁপড়া তার নিজের ওজনের ৫০ গুণ বেশি ভার বহন করতে পারে, কারণ তার আকার ছোট বলে পেশির প্রস্থচ্ছেদ তুলনামূলকভাবে বড়। কিন্তু পিঁপড়াকে যদি হাতির আকারে বড় করা হয়, তার সরু পাগুলো নিজের শরীরের ভারেই ভেঙে পড়বে। ঠিক একইভাবে, মানুষকেও অস্বাভাবিকভাবে বড় করলে তার দেহকাঠামো নিজের ভারেই ভেঙে পড়বে।
ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ
মিশর, মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে প্রাচীনতম মানব বসতির প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া কোনো কঙ্কাল, দরজা, আসবাবপত্র বা হাতিয়ারই অতিকায় আকারের মানুষের অস্তিত্ব সমর্থন করে না। বরং প্রাচীন সমাধিস্থল ও নগর পরিকল্পনার মাপজোক দেখায়, সেসব সময়ের মানুষ আধুনিক মানুষের সমান বা সামান্য খাটো ছিল।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি
এখানে উল্লেখ্য যে ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যেও এই বর্ণনাগুলোর ব্যাখ্যায় ভিন্নতা আছে। অনেক ধর্মতাত্ত্বিক ও পণ্ডিত এই ধরনের বর্ণনাকে রূপক (allegorical) বা প্রতীকী অর্থে ব্যাখ্যা করেন, আক্ষরিক ঐতিহাসিক দাবি হিসেবে নয়। ধর্মগ্রন্থের মধ্যেও হাদিসের সনদ (authenticity chain) নিয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যেই মতভেদ আছে – সব হাদিসকে সমান নির্ভরযোগ্য মনে করা হয় না। তাই এই আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মবিশ্বাসকে আক্রমণের জন্য নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট আক্ষরিক দাবির বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা মাত্র।
শেষের কথা
স্কেল ল, শারীরবৃত্তীয় সীমাবদ্ধতা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নথিভুক্ত গিগ্যান্টিজমের কেস স্টাডি, এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ – সব মিলিয়ে বিজ্ঞান স্পষ্টভাবে দেখায় যে ৯০ ফুট (বা তার কাছাকাছি) উচ্চতার কোনো মানুষের অস্তিত্ব জৈবিকভাবে অসম্ভব। মানুষের উচ্চতা বৃদ্ধি একটি ধীর, সীমিত, পরিবেশগত প্রক্রিয়া – কোনো আকস্মিক বা বিশাল আকারের পরিবর্তন নয়। এই ধরনের আক্ষরিক দাবিগুলোকে তাই ঐতিহাসিক বাস্তবতার চেয়ে সাংস্কৃতিক বা প্রতীকী বর্ণনা হিসেবে বিবেচনা করাই বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
Related Posts

Why does Allah show such preference for women with large breasts and large buttocks? Do men feel the same way? Does this give women any advantage?
If you leave Prophet Muhammad in Pattaya’s Walking Street and Beach Road after evening, inRead More

নারীর বড় বক্ষ ও নিতম্বের প্রতি আল্লাহর এতো পক্ষপাত কেন? পুরুষেরও কি তাই? এটা কি নারীকে সুবিধা দেয়?
আপনারা যদি পাতায়ার ওয়াকিং স্ট্রীটে ও বীচ রোডে সন্ধ্যার পর আলো আঁধারিতে নবী মুহাম্মদকে ছেড়েRead More

Do women like the color pink? What is the psychology behind it?
Last winter my friend Lamia went to buy a birthday present for her niece. TheRead More

Comments are Closed