
Islamic Deception
ইসলামের তাকিয়াবাজি – আপনজনের বেশ ধরে থাকা মুমিন ব্যক্তিটি হয়তো আপনাকে হত্যা করার মিশনে আছে!
ইসলাম ধর্ম ও তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য গতকাল সকালটা ১৭৪ জন যাত্রী, ক্রু, পাইলট, তাদের সবার পরিবারের জন্য হতে পারতো জীবন্ত বিভিষীকা। যাত্রীদের সবার পুড়ে অঙ্গার হওয়া ছিল প্রায় অবধারিত। প্রতিদিনের মতো ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কো-পাইলট ওমানি নাগরিককে নিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকালে FlyDubai এর FZ 1073 ফ্লাইটটি ১৭৪ জন আরোহী নিয়ে উড়াল দেন। যাত্রীদের সিংহভাগই ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক – তারা দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু মাঝ আকাশে উড্ডয়নকালে ওমানি কো-পাইলট তার ইসলামী উগ্রবাদী জঙ্গি মতাদর্শের বশবর্তী হয়ে ইসরায়েলি ও ভারতীয়দের ওপর প্রতিশোধ নিতে আকস্মিকভাবে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং বিমানটি ক্র্যাশ করানোর অপচেষ্টা করে। তবে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার অসীম সাহসিকতা দেখিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দিলে ভেতরের কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা দ্রুত ভেতরে ঢুকে আততায়ীকে কাবু করে ফেলেন এবং বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অলৌকিকভাবে জরুরি অবতরণ করে সব যাত্রীর জীবন রক্ষা পায়। কে জানতো ভদ্রতার বেশ ধরে থাকা এই ইসলামী কো-পাইলটের মনে কি ছিল? এতোজন নিরীহ মানুষের জীবনের বিনিময়ে আজ এটা সারা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়া খবর হতে পারতো। মুসলমানরা মনে মনে কী খুশি হতো নাকি নিন্দা জানাতো – কী মনে হয় আপনার?
আপনি আমি যে কোন সময় আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যেতে পারি, আমাদের গর্দান যেতে পারে, এবং অবাক হওয়ার বিষয় হবে কাজটা এমন কেউ করবে যাকে আমরা হয়তো খুব আপনজন ভাবতাম, আমরা জানতাম না সে ভদ্রতার বেশ ধরে থাকা ভয়ংকর কোন ইসলামী জঙ্গি। একটা প্রবাদ আছে – ইসলামি জঙ্গিরা আপনাকে হত্যা করতে চায়, ধর্মান্ধ মডারেট মুসলমানরা চায় জঙ্গিরা আপনাকে হত্যা করুক।
ইসলাম প্রচার প্রসারের স্বার্থে মিথ্যা বলা, ছলনা করা, গুপ্ত হয়ে থাকা, নিজের বিশ্বাস গোপন করার অনুমতি ইসলামে দেয়া হয়েছে। কোরআন, হাদিস, সিরাতে এর অনেকগুলো উদাহরণ আছে। আল্লাহ নিজেও কৌশলের নামে প্রতিপক্ষকে প্রতারিত করে ছলনা করার উদাহরণ দেখিয়েছেন, নবী মুহাম্মদও এই ছলনার আশ্রয় নিতে উৎসাহিত করেছেন। চরমপন্থীরা এই ধারণাকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করে। সেই মিশনে তারা নীতি-নৈতিকতার ধার ধরে না, যাকে খুন করলে, যেটা ধ্বংস করলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যাবে তাদের লক্ষ থাকে সেটাই। আর তারা যেহেতু নিজেরা আত্মঘাতী এবং বিশ্বাস করে তারা মরলে শহীদ হবে এবং বিনা প্রশ্নে মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে লোভনীয় জান্নাতে যাবে সেহেতু তারা কোন ভয়েই পিছু হটে না, নিজের জীবন দিতেই তারা পথে নামে।
বলে রাখি, ১৮০ কোটির বেশি মুসলমানের অধিকাংশ শান্তিপ্রিয় এবং জঙ্গিবাদের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। তারা মূলত ইসলামের কট্টর নির্দেশনাগুলো নিজেরা মেনে চলে না বা সেগুলোর তুলনায় রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর মানে এই নয় যে মতাদর্শ হিসাবে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের দায় থেকে দায়মুক্তি দেয়ার সুযোগ আছে। এবং তাদের অনেকেই ইসলামী জঙ্গিবাদকে সমর্থনও করে।
ইসলামে অমুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা, তাদের সাহায্য করা, তাদের কল্যান কামনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (কোরআন – ৩ঃ২৮, ৩ঃ১১৮, ৪ঃ১৪৪, ৫ঃ৫১, ৯ঃ২৩, ৯ঃ২৪, ৯ঃ১১৩, ৯ঃ১১৪, হাদিস – hadithbd.com/hadith/link/?id=60155)। কিন্তু ইসলামে তাকিয়া এমন একটা জিনিস এতে সুযোগসন্ধানী মুসলিম মৌলবাদী জঙ্গিরা অমুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্বের ভান করে, তাদের আকৃষ্ট করে শেষে সেই ছলনার বন্ধুত্বের নামে মানুষকে শত্রুজ্ঞান করে ধ্বংস করতে পারে। তারা প্রথমে তাদের কর্মকৌশল ঠিক করে, এরপর তাদের ভিতরে বিভিন্ন ভদ্র মানুষের বেশে অনুপ্রবেশ করে, একপর্যায়ে সঠিক সময় এলে তাদের মূল উদ্দেশ্য হাসিল করে। অনেক ইসলামিক মৌলবাদীর কাছে ভিন্ন ধর্মের কোন নর-নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে তাদের ধর্মান্তরকরণ করাটাও তাকিয়ার অংশ।
কুরআনে আল্লাহর ছলনার উদাহরণ স্পষ্ট। সুরা আল-ইমরান ৩ঃ৫৪-এ বলা হয়েছে – “এবং কাফেররা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহও চক্রান্ত করেছেন। বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম চক্রান্তকারী।” একই আয়াতে অন্য অনুবাদে “আল্লাহ সর্বোত্তম প্রতারক” বলা হয়েছে। সুরা আল-আনফাল ৮ঃ৩০-এ বলা হয়েছে “আর কাফেররা যখন প্রতারণা করত আপনাকে বন্দি অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে… তখন তারা যেমন ছলনা করত তেমনি আল্লাহও ছলনা করতেন। বস্তুত আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম।” এসব আয়াত দেখায় যে আল্লাহ নিজে ছলনা করেছেন এবং তা ইসলামের স্বার্থে অনুমোদিত।
ভিন্ন ধর্মের মানুষদের হত্যা করার জন্যও আল্লাহ কোরআনে গুপ্ত আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা আত তাওবা ৯ঃ৫ – “তারপর (এই) নিষিদ্ধ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলে মুশরিকদেরকে যেখানে পাও হত্যা কর, তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে ঘেরাও কর, তাদের অপেক্ষায় প্রত্যেক ঘাঁটিতে ওৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু তারা যদি তাওবাহ করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।” এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেন – কুফফারদেরকে সতর্ক করার পূর্বেই তাদেরকে গুপ্তভাবে হত্যা করা জায়েয। অর্থাৎ হত্যা করার পূর্বে আপনার পূর্ব সতর্কতা বা কোন শর্ত যেমন, তুমি যদি এই না করো তাহলে তোমাকে হত্যা করা হবে – এমন কিছুই বলার প্রয়োজন নেই।
নবী মুহাম্মদ এর যুগেও এর উদাহরণ আছে। ইহুদি দুই কবিকে হত্যা করতে গুপ্ত হত্যাকারী টিম পাঠানো হয়েছিল এবং নবী মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নিতে অনুমোদন দিয়েছিলেন। সহিহ বুখারীতে (sunnah.com/bukhari:6622) বলা হয়েছে – “আল্লাহর ইচ্ছায়, যদি আমি কোনো ব্যাপারে শপথ করি আর পরে দেখি এর চেয়ে ভালো কিছু আছে তখন আমি যেটা ভালো মনে করি সেটাই করি এবং পূর্বেকার শপথ রক্ষার কোনো দরকার মনে করি না।” আবু বকর – এর উদাহরণও দেওয়া হয়েছে যেখানে শপথ ভঙ্গ করে উত্তম কাজ করা হয়েছে এবং কাফফারা দেওয়া হয়েছে। আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, “যুদ্ধ ছলনা” (sunnah.com/bukhari/56/234-238)। এমন আরো অনেক হাদিস আছে যেখানে ছলনা করা, শপথ করেও সেটা রক্ষা না করা, মিথ্যা বলে স্বার্থ উদ্ধার করার কথা বলা হয়েছে। সিরাত গ্রন্থগুলোতে অনেক উদাহরণ আছে সেগুলোর।
অনেক মাদ্রাসায় যখন ছোট ছোট বাচ্চা শিশুরা ধর্ষিত হয় তখন দেখবেন হুজুরদের বড় অংশ সেটা নিয়ে কোন কথা বলে না। কারন মুসলমানদের দোষ ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোরআনে ও হাদিসে। অমুসলিমদের কাছেও ইসলামের যে জিনিসগুলো সুন্দর মনে হবে না তা উল্লেখ করতে নিষেধ করা হয়। একবার যখন কেউ ইসলামে এসে যায় তখন সে বাধ্য হয় সেগুলো মেনে নিতে। কারন ইসলাম ত্যাগ করলে কেউ মুরতাদ হয়ে যায়, যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। সেজন্য সুন্দর ব্যবহার, ইসলামের ভাল ভাল দিক দেখিয়ে ছলে বলে কৌশলে কাউকে একবার মুসলমান বানাতে পারলে হয়, পরে আর তার বেরিয়ে যাওয়ার পথ খোলা থাকে না। মুসলমানের দোষ ঢেকে রাখার হাদিস (sunnah.com/bukhari:2442) কে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দুর্বলতা লুকিয়ে রাখতে হয়।
সুরা আল-বাকারা ২ঃ২২৫-এ শপথ ভঙ্গের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যদি উত্তম কিছু পাওয়া যায়। এসব রেফারেন্স থেকে বোঝা যায় যে ইসলামে তাকিয়াবাজি শুধু আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং ইসলামের বিস্তার, শত্রু ধ্বংস এবং গোপন অবস্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়। উগ্র ইসলামিস্টরা এই টেকনিক ব্যবহার করে। তারা আপাতদৃষ্টিতে ভদ্র মানুষের মতো বন্ধুত্ব করে, কিন্তু ভিতরে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে বসে থাকে। রাজনীতি, সমাজে ইসলামের নামে গুপ্তভাবে স্বার্থ উদ্ধার করে – যেখানে মিথ্যা বলা, ছলনা করা, ভান ধরা পুরোটাই জায়েজ।
অমুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিষেধ থাকলেও ইসলামের স্বার্থে বন্ধুত্ব করা যাবে, এমনকি সাময়িকভাবে তাদের রীতিনীতিও মুসলমানরা মেনে চলতে পারবে। এজন্য দেখবেন, কোন দেশে মুসলমানরা সংখ্যলঘু হলে অনেক মুসলমান নেতা সেখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা চায়, কিন্তু ইসলাম সংখ্যাগরিষ্ট হলে সেই চাওয়ার চিত্র একেবারে পাল্টে সেখানে তারা শরীয়া আইন চায়। সূরা নাহল ১৬ঃ১০৬ – এর ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টত অন্য ধর্মের মানুষ বা জাতিগষ্ঠীর সঙ্গে তাদের মতো হয়ে মিশে থাকার কথা জানিয়েছেন, এমনকি সেটা কুফর জাতীয় কাজ হলেও। যেমন দেখুন, ইন্ডিয়ায় থাকতে হলে প্রয়োজনে পূজা অর্চনাও করা যাবে যদি সেখানে ইসলামের স্বার্থ থাকে।
বিশ্বব্যাপী এজন্য এয়ারপোর্টে, পাবলিক প্লেসে, অফিসে, আদালতে এজন্য আলাদা করে অনেককে চেক করা হয়। নিয়োগের সময় কয়েকবার ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হয়। কাদের জন্য এটা বেশি করা হয় – নাম নাইবা বললাম। এই সমস্ত প্রক্রিয়াকে কেউ কেউ ফোবিয়া বলে নাম দিলেও দুনিয়ার বাস্তবতা তো অস্বীকার করা যাবে না।
Related Posts

The 72 full‑breasted, personality‑less houris of Paradise vs. the personality‑rich cherished women of the world! What do you want?
It is said that in Paradise a believing servant will receive 72 exquisitely beautiful houris;Read More

জান্নাতের ৭২ উন্নতবক্ষা ব্যক্তিত্বহীন হুর বনাম দুনিয়ার ব্যক্তিত্ববান শখের নারী! কী চান?
বলা হয় জান্নাতে মুমিন বান্দা ৭২ জন অপূর্ব সুন্দরী হুর পাবেন, তারা হবে চিরযৌবনা, চিরকুমারী।Read More

Islamic deception – the believer disguised as a close friend may actually be on a mission to kill you!
For the sake of Islam and establishing its supremacy, yesterday morning could have become aRead More

Comments are Closed