
Islam and Slavery
ইসলামে দাসপ্রথা টিকিয়ে রাখা ও দত্তক প্রথা নিষিদ্ধকরণ – উভয় বিষয়ের পেছনেই মূল চালিকাশক্তি ছিল জেন্ডার ও যৌনতার রাজনীতি
আল্লাহর নৈতিক কম্পাস সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত! কিন্তু এর জন্য আল্লাহকে দোষ দেওয়া চলে না। আল্লাহ কোনো বাস্তব সত্তা নন; মুহাম্মদ নিজের বৈষয়িক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে এই নিয়মগুলো তৈরি করেছিলেন – বিশেষ করে সঙ্গমের চাহিদা মেটাতে অধিক নারী পাওয়ার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, তিনি তাই করেছিলেন। দাসী ভোগ শেষে বিক্রি করে জিহাদের টাকাও জোগাড় হতো। সমাজে দাসপ্রথা টিকিয়ে রাখা এবং দত্তক প্রথা নিষিদ্ধ করার মূল পরিণতি ছিল আরও বেশি নারী ও শিশুকেকে অরক্ষিত ও সুবিধাবঞ্চিত করে তোলা। এতে মুহাম্মদ ও তার সাহাবীদের সুবিধা হয়েছিল, তারা সঙ্গমের জন্য অনেক নারী ও কন্যাশিশু পেতো।
মুমিন ভাইরা প্রায়ই বলেন দাসপ্রথা তো ইসলাম তৈরি করেনি। আমাদের যুক্তিতে কথা ঠিক, কিন্তু তাদের ধপাস তত্ত্ব অনুযায়ী ৯০ ফুটি আদম দুনিয়ায় আসার পর থেকে ইসলাম চালু থাকলে সেই দায়ও ইসলামের ঘাড়েই পড়ে কারণ এটা আল্লাহ সমর্থিত। যারা ইসলামের দাসপ্রথার পক্ষে সাফাই গায় বা অজুহাত দেখায়, তারা একটি ঐতিহাসিক সত্য ভুলে যান। জাতিসংঘ ১৯৫৬ সালে ‘দাসপ্রথা দূরীকরণ সম্পূরক কনভেনশন’ (Supplementary Convention on the Abolition of Slavery)-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করে, যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ মাত্র ২০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে পেরেছিল। অবশ্য ইসলামী আইন মেনে চলা আরব দেশগুলো বাদে অন্যরা এটা আগেই নিজ তাগিদে নিষিদ্ধ করেছিল। অথচ ইসলাম দীর্ঘ ১৩৫০ বছরেও তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়। ওমান ও সৌদি আরব ১৯৬২ সালে, এবং সর্বশেষে ইয়েমেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯৭০-এর দশকে এসে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করতে বাধ্য হয়। এমনকি আজ নতুন শতাব্দীর ২৬ বছর পেরিয়ে ২০২৬ সালেও, ইসলামী শরিয়া আইন দ্বারা শাসিত মৌরিতানিয়ায় এখনো দাসপ্রথা বিদ্যমান রয়েছে (যেখানে ১৯৮১ সালে এটি কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ হলেও ২০০৭ সালের আগে একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি এবং এখনো সেখানে দাসত্বের আধুনিক রূপ টিকে আছে)।
সুতরাং, যারা বলেন – “ইসলামে তো দাসদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে বলা হয়েছে, প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে তাদের পা চুম্বন করতে ও পিঠ মালিশ করতে বলা হয়েছে” – তাদের এই দাবি এতটাই অবাস্তব যে ‘ডিজনী’ (Disney)-ও এমন হাস্যকর রূপকথা বানাতে পারত না। মূল কথা হলো, দাসদের যত্ন নেওয়ার অজুহাত দেখানোর চেয়ে দাসপ্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করাই সবসময় মানবজাতির জন্য শ্রেয় ছিল যা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে দাবিদার ইসলাম করেনি কখনো। এই একটিমাত্র কারণের জন্য হলেও এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় – আল্লাহ কোন সৃষ্টিকর্তা নন, মুহাম্মদ তার প্রেরিত কেউ না, ইসলাম কোন মানবতার ধর্ম নয়। কোন বিবেকবান মানুষের জন্য উপসংহারে পৌঁছাতে এই একটি কারণই যথেষ্ট।
দত্তক নেওয়া নিষিদ্ধ করার বিষয়টি তো আরও বেশি অদ্ভুত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মুহাম্মদ জায়েদকে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিজের পালক পুত্র হিসেবে রেখেছিলেন। তখন আল্লাহ কখনো এসে বলেননি – “ওহে মুহাম্মদ, তুমি এখানে বড় ভুল করছ!” কিন্তু যেই মুহূর্তে মুহাম্মদ জায়েদের স্ত্রীকে কাপড় ছাড়া রূপবতী ও আকর্ষণীয় অবস্থায় দেখলেন, অমনি একই সময়ে, অর্থাৎ ৩৩ নম্বর সূরার (সূরা আল-আহযাব) বেশ কয়েকটি আয়াত নাজিল হয়ে গেল। সেখানে দত্তক প্রথাকেই রাতারাতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো এবং অবিলম্বে মুহাম্মদকে জয়নবকে বিয়ে করার “আদেশ” দিয়ে বলা হলো – এখন যেহেতু জায়েদের আর তাকে প্রয়োজন নেই, তাই তুমি তাকে গ্রহণ করতে পারো।
“তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো। আল্লাহর কাছে এটাই ন্যায়সংগত…”
— কুরআন ৩৩:৫
এর ঠিক কয়েক আয়াত পরেই বলা হলো:
“…অতঃপর জায়েদ যখন তার (যয়নবের) সাথে বিবাহ সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলল (অর্থাৎ তার প্রয়োজন শেষ করল), তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম… আর আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়িত হওয়াই অবধারিত।”
— কুরআন ৩৩:৩৭
বাহ! আল্লাহর কী চমৎকার ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী! হে আল্লাহ, এই নিয়মটি আপনি আগে কেন প্রকাশ করলেন না? এখানেই শেষ নয়, চমক আরও আছে। মুহাম্মদের আরও একজন দত্তক পুত্র ছিল, যার নাম সালেম। যখন কোনো কোনো মুমিন দাবি করেন যে মুহাম্মদ ইসলাম আসার আগেই জায়েদকে দত্তক নিয়েছিলেন, তখন এটি মনে রাখা দরকার যে সালেমকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল ইসলাম আসার পর এবং হিজরতের পরবর্তী সময়ে – যা পাঁচ বছরেরও কম সময় আগের ঘটনা। কারণ হাদিসের সূত্র অনুযায়ী, সালেম প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তারপরেই তাকে দত্তক নেওয়া হয়। সুতরাং, ইসলাম আসার পরেও দত্তক প্রথা চালু ছিল এবং তা কেবল বিশেষ প্রয়োজনে বাতিল করা হয়। কী সেই প্রয়োজন সেটা বিবেক দিয়ে যাচাই করুন, অবশ্য যদি নিরপেক্ষ ও মানবিক বিবেক যদি থাকে।
এই দত্তক প্রথা বাতিলের আধুনিক আইনি ও সামাজিক রূপান্তর অত্যন্ত ভয়াবহ। বাবা মেয়ে বিয়ে হালাল! ইসলাম বাদে সাধারণ সমাজ তো দত্তক ছেলে মেয়েদের আলাদা করে দেখে না। কিন্তু ইসলাম? উদাহরণ, যেমন বর্তমান ইরানের পারিবারিক আইন অনুযায়ী, কোনো পালিত কন্যার বয়স ১৩ বছর হলে বাবা (পালক পিতা) তাকে বিয়ে করতে পারে, যা মূলত এই ইসলামিক নীতিটিকেই সমর্থন করে যে পালক সন্তান কখনো আসল সন্তান নয়। ইরানে এটা বহুল প্রচলিত!
পরিশেষে বলা যায়, দাসপ্রথা টিকিয়ে রাখা ও দত্তক প্রথা নিষিদ্ধকরণ – উভয় বিষয়ের পেছনেই মূল চালিকাশক্তি ছিল জেন্ডার ও যৌনতার রাজনীতি। যুদ্ধবন্দিনী, দাসী ও উপপত্নীদের ওপর আইনি অধিকার থাকার কারণে নারীদের ভোগ করা সহজ হয়েছিল। অন্যদিকে, দত্তক নেওয়া নিষিদ্ধ করার ফলে অনাথ ছোট ছোট মেয়েরা পারিবারিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন দাতব্য আশ্রমে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় যত দ্রুত সম্ভব তাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া – যেহেতু ইসলামে বিয়ের কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা নির্দিষ্ট নেই। আল্লাহর নৈতিক কম্পাস এতটাই ভেঙে পড়েছে যে, কোনো সুস্থ সমাজব্যবস্থাকে এর চেয়ে খারাপ করা সম্ভব ছিল না। তবে মনে রাখা দরকার, এটি কোনো ঐশ্বরিক আল্লাহর বিধান ছিল না; এটি ছিল একজন প্রাচীন রুক্ষ, দুর্ভিক্ষপীড়িত মরুভূমির রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী, নারীলোভী, শিশুকামী, মরুদস্যু সর্দার ও বাসিন্দার তৈরি করা নিয়ম, যে সমসাময়িক যুগের চেয়ে ভালো কিছু চিন্তা করতে পারেনি।
Related Posts

Islam contains many nonsense terms, and even those are not its own; they are borrowed from neighboring civilizations and mythologies
In English there are many nonsense rhymes, like “Humpty Dumpty sat on a wall.” InRead More

ইসলামে অনেক ননসেন্স টার্মস আছে, সেগুলোও আবার নিজের না; পার্শ্ববর্তী সভ্যতা, মিথলজি থেকে ধার করা
ইংরেজিতে অনেক ননসেন্স রাইমস আছে, যেমন হামটি ডামটি স্যাট অন এ ওয়াল। বাংলায়ও আছে অনেক,Read More

Except for Muhammad’s sexual life, almost everything in the Qur’an is borrowed! Nobody knew that Muhammad was such a great kutub
1400 years ago, in the harsh, famine‑stricken Arabia, scattered Bedouin people lived there. Because theRead More

Comments are Closed