
Islam and Pedophilias
মানুষ কেন পেডোফাইল হয়? ইসলাম ধর্ম কেন ও কীভাবে পেডোফিলিয়া ও ভয়ংকর শিশু নির্যাতন সমর্থন করে?
নেত্রকোনার মদন উপজেলার একটি মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে – এই খবর গত কয়েক মাসে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন, শিশুটির অভিভাবককে (নানাকে) দোষারোপের চেষ্টা হয়, একটি ধর্মীয় ও বুদ্ধিজীবী মহল উক্ত শিক্ষকের পক্ষেও দাঁড়ায়। কিন্তু এ মাসেই সিআইডির ডিএনএ প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয় – নবজাতকের বাবা তিনিই। এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বাংলাদেশে প্রায় প্রতি মাসেই কোনো না কোনো মাদ্রাসা থেকে একই ধরনের অসংখ্য সংবাদ আসে – কখনো হেফজখানায়, কখনো এতিমখানায়, কখনো স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসা সংলগ্ন কক্ষে। প্রশ্ন ওঠে – এই মানুষগুলো কেন এমন করে, এতো ভয়ংকর অপরাধ কেন করে? আর কেনই বা যুগের পর যুগ ধরে ঘটলেও এটা বন্ধ হয় না? ইসলামের নবী মুহাম্মদের জীবনে ও কোরআন-হাদিসে কেন পেডোফিলিয়ার উদাহরণ ও অনুমোদন আছে? আগেই বলে নেই, পেডোফিলিয়া ও ধর্ষণের মতো শিশু নির্যাতন এক নয়, পরবর্তী পয়েন্টে সেটা ব্যাখ্যা করবো।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দুটো আলাদা বিষয়কে আলাদা করে দেখা দরকার – একদিকে পেডোফিলিয়া নামের একটি ক্লিনিক্যাল অবস্থা, অন্যদিকে শিশু যৌন নির্যাতন নামের একটি সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ, ইসলাম আবার সেটাকে উদাহরণসহ স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে। দুটো একসঙ্গে ঘটে বলে গুলিয়ে ফেলা সহজ, কিন্তু গবেষণা বলছে এগুলো একরকম নয়।
পেডোফিলিয়া কী, আর কী নয়
মনোরোগবিদ্যায় পেডোফিলিয়া হলো প্রাক-বয়ঃসন্ধিকালীন শিশুর প্রতি প্রধান বা একচেটিয়া যৌন আকর্ষণ। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ICD-11 এবং আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের DSM-5-এ একটি প্যারাফিলিক ডিসঅর্ডার হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু গবেষকরা জোর দিয়ে বলেন – পেডোফিলিয়া (একটি যৌন অভিমুখিতা বা আকর্ষণ) আর শিশু নিপীড়ন (একটি কাজ) এক জিনিস নয়। অনেক পেডোফিলিক ব্যক্তি কখনো কোনো শিশুকে স্পর্শ করেন না, আবার অনেক শিশু নিপীড়নকারীর ক্লিনিক্যাল অর্থে পেডোফিলিয়া থাকেই না – তারা সুযোগসন্ধানী, ক্ষমতালোভী, বা নিয়ন্ত্রণকামী মানুষ, যারা দুর্বলতম শিকারকে বেছে নেয়।
স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণা (fMRI, sMRI ব্যবহার করে) দেখিয়েছে পেডোফিলিয়ায় আক্রান্তদের মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট অংশে – বিশেষত ফ্রন্টাল, টেম্পোরাল ও লিম্বিক অঞ্চলে – গঠনগত ও কার্যকরী পার্থক্য দেখা যায়, যা যৌন উদ্দীপনা প্রক্রিয়াকরণ ও প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কিছু গবেষণা প্রসবপূর্ব হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেন এক্সপোজারের ভূমিকার কথাও বলে, এবং জিনগত-এপিজেনেটিক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই ক্ষেত্রের বিজ্ঞানীরা নিজেরাই বলছেন – এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, ফলাফলগুলো মিশ্র, এবং কোনো একক “পেডোফিলিয়া জিন” বা নিশ্চিত কারণ পাওয়া যায়নি। এটি বহু-কারণ-নির্ভর (multifactorial) – স্নায়বিক বিকাশ, হরমোন, শৈশবের নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যা, এবং সম্ভবত পরিবেশগত প্রভাবের জটিল মিথস্ক্রিয়া।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো – পেডোফিলিয়া একটি “পছন্দ” নয়, কিন্তু তা কখনোই নিপীড়নের অজুহাত নয়। একজন মানুষের আকর্ষণ কী, তা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে হতে পারে; কিন্তু সেই আকর্ষণ অনুযায়ী কাজ করা বা না করা সম্পূর্ণভাবে নৈতিক ও আইনি দায়িত্বের প্রশ্ন। এ কারণেই চিকিৎসাবিজ্ঞান পেডোফিলিয়াকে একটি চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা হিসেবে দেখে, যেখানে থেরাপি ও তদারকির মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব।
যেখানে বিজ্ঞান থেমে যায়, সেখানে শুরু হয় সমাজবিজ্ঞান
কিন্তু মাদ্রাসা, চার্চ, বোর্ডিং স্কুল বা এতিমখানার মতো প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে যে শিশু নির্যাতন ঘটে চলে, তার ব্যাখ্যা শুধু ব্যক্তি-মনস্তত্ত্বে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্বজুড়ে গবেষকরা প্রাতিষ্ঠানিক শিশু নির্যাতনের একটি সাধারণ কাঠামো চিহ্নিত করেছেন, যা ধর্ম-নির্বিশেষে প্রায় একই রকম দেখা যায় – ক্যাথলিক চার্চের কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে ভারতীয় আশ্রম, খ্রিষ্টান বোর্ডিং স্কুল কিংবা বাংলাদেশের মাদ্রাসা পর্যন্ত। এই কাঠামোর কয়েকটি সাধারণ উপাদান আছে:
প্রশ্নাতীত কর্তৃত্ব
ধর্মীয় শিক্ষক বা “হুজুর”কে অনেক সময় ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয়, ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা মানেই যেন ধর্মের বিরুদ্ধে যাওয়া – এই ভয় শিশু ও অভিভাবক উভয়কেই চুপ করিয়ে রাখে।
বদ্ধ, তদারকিহীন পরিবেশ
আবাসিক মাদ্রাসা বা হেফজখানায় শিশুরা পরিবার থেকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকে, বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা বা অভিযোগ জানানোর কার্যকর পথ প্রায় নেই।
শাস্তি-নির্ভর শৃঙ্খলা সংস্কৃতি
কঠোর শারীরিক শাস্তির মধ্য দিয়ে শিশুকে বাধ্য থাকতে শেখানো হয় – এই একই কাঠামো তাকে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদহীন রাখে, কারণ ভয় ও বাধ্যতা ইতিমধ্যেই তার মধ্যে প্রোথিত।
প্রাতিষ্ঠানিক আত্মরক্ষা
অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষা করাকে প্রাধান্য দেওয়া হয় – অভিযুক্তকে সরিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো, ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা, বা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া।
সামাজিক ট্যাবু ও দারিদ্র্য
বাংলাদেশে বিশেষত কওমী মাদ্রাসাব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় শিক্ষা কাঠামোর বাইরে, স্বনিয়ন্ত্রিত। দরিদ্র পরিবার – বিশেষত এতিম বা অভাবী শিশুদের – বিনা খরচে থাকা-খাওয়া-শিক্ষার সুযোগ হিসেবে মাদ্রাসায় পাঠায়, যেখানে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত। যৌন নির্যাতন নিয়ে কথা বলাকে পারিবারিক সম্মানহানি হিসেবে দেখা হয়, ফলে বহু ঘটনা কখনো প্রকাশ্যেই আসে না।
নেত্রকোনার ঘটনায় ঠিক এই প্যাটার্নটাই দেখা গেছে – অভিযুক্ত প্রথমে দোষ অস্বীকার করে, শিশুটির অভিভাবককে দোষারোপ করে, একটি অংশ তার পক্ষে দাঁড়ায়, আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় কেবল ফরেনসিক প্রমাণের জোরে। এটি প্রমাণ করে যে সমস্যাটি কেবল একজন ব্যক্তির বিকৃতি নয় – এটি এমন একটি ব্যবস্থার সমস্যা যা অভিযুক্তকে সুরক্ষা দেয় আর ভুক্তভোগীকে সন্দেহের চোখে দেখে।
ধর্মীয় গ্রন্থ-ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক
কোরান-হাদিস, তার তর্জমা, তাফসির ও ঐতিহ্যবাহী ফিকহ সাহিত্যে (হানাফি, শাফি’সহ বিভিন্ন মাজহাবে) বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত আলোচনা ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান, এবং মওদূদীর তাফহিমুল কুরআন বা খোমেনির লেখায় (তাহরিরুল ওয়াসিলাহ গ্রন্থে) শিশু-বিবাহ সংক্রান্ত ফিকহি আলোচনা পাওয়া যায় যেখানে স্পষ্ট লেখা আছে শিশুদের বিহাহ দেয়া, বিশেষ করে যে কোন বয়সের কন্যা শিশুদের বিবাহ দেয়া ও তাদের সঙ্গে তার স্বামীর যৌনতা করা ইসলাম ধর্ম স্বীকৃত অধিকার। এগুলো নিয়ে ইসলাম-সমালোচক ও সংস্কারপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন – তবে কোরআন, হাদিস যেহেতু অপরিবর্তনীয় সেহেতু এগুলো ইসলাম থেকে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই।
অন্য পক্ষ – অধিকাংশ সমসাময়িক ইসলামি পণ্ডিত ও সংস্কারপন্থী চিন্তাবিদ – বলেন, এই ফিকহি আলোচনাগুলো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক-আইনি প্রেক্ষাপটে বিবাহের বৈধতা নিয়ে আলোচনা, যা যৌন নির্যাতনের অনুমোদন নয়; তারা এই ব্যাখ্যাগুলোকে সময়ের সাথে অপ্রাসঙ্গিক বা ভুল ব্যাখ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন আধুনিক শরিয়াভিত্তিক আইনেও (যেমন অধিকাংশ মুসলিম-প্রধান দেশের পারিবারিক আইনে) সর্বনিম্ন বিবাহযোগ্য বয়স নির্ধারিত আছে। মিশরের আল-আজহারসহ অনেক প্রতিষ্ঠান বাল্যবিবাহবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এই বিতর্ক ধর্মতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে গভীরভাবে বিভাজিত একটি ক্ষেত্র, এবং এখানে “সঠিক ব্যাখ্যা” কোনটি তা নিয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য নেই।
তবে বাস্তবতা হলো – শিশু যৌন নির্যাতন কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বা সংস্কৃতির একচেটিয়া সমস্যা নয়। ক্যাথলিক চার্চে দশকের পর দশক ধরে যাজকদের দ্বারা শিশু নির্যাতনের বিশ্বব্যাপী কেলেঙ্কারি, হিন্দু আশ্রম ও গুরু-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ঘটনা, বৌদ্ধ মঠে অনুরূপ অভিযোগ – এসবই দেখায় যে ধর্মীয় পাঠ্য নয়, বরং প্রশ্নাতীত কর্তৃত্ব, বদ্ধ প্রতিষ্ঠান, ও জবাবদিহিতার অভাবই মূল কাঠামোগত সমস্যা। ধর্মীয় বৈধতার আবরণ এই নির্যাতনকে আরও কঠিন করে তোলে চিহ্নিত করা ও প্রতিরোধ করা – কারণ প্রশ্ন তোলাকেই “ধর্মদ্রোহিতা” হিসেবে দেখানো হয়।
তবে সব উদাহরণ ও ধারাবাহিকতা ছাপিয়ে গেছে বাংলাদেশের মতো ইসলাম প্রধান অনেক দেশের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এখানে কওমী মাদ্রাসা, হেফজখানা থেকে শিশু বলাৎকার, ধর্ষণ, নির্যাতনের ধারাবাহিকতা কমছে না। কোনভাবেই সরকার ও সমাজ সেটা প্রতিরোধ করতে পারছে না। হাজার হাজার শিশুর জীবন দূর্বিসহ করে দিচ্ছে, অনেককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে ইসলামের নামে তথা আল্লাহর নামে চালিত এই ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা।
নবী মুহাম্মদের পেডোফিলিয়া ও শিশু নির্যাতনের উদাহরণ
৯-১১ স্ত্রী, ৪+ যৌনদাসী থাকার পরেও নবী মুহাম্মদ কণ্যা শিশুদের যৌন নির্যাতন করতেন। নবী মুহাম্মদ ৬০ এর কাছাকাছি বয়সে প্রিয় শিশু স্ত্রী আয়েশাসহ ৯-১১ জন স্ত্রী, ৪ বা অধিক সংখ্যক যৌনদাসী থাকার পরেও অন্য কন্যা শিশুদের প্রতি ছিলেন বিশেষভাবে যৌনাসক্ত। এক মায়ের কোলে বা হামাগুড়ি দেয়া কন্যাশিশুকে দেখেও তিনি তার বড় হওয়া সাপেক্ষে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। ইসলামের ডিফেন্ডাররা যদিও এই হাদিসের সোর্সকে যঈফ বলে পাশ কাটিয়ে যান। তবে অন্য দুইটি সহিহ হাদিসে আছে নবী মুহাম্মদ দুই শিশু কন্যাকে যৌনতার উদ্দেশ্যে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। প্রথমেই বলে নেই ইসলামের ডিফেন্ডাররা সেগুলোকে বিয়ে, বিয়ের প্রস্তাব এসব বলে পিছলে যেতে চান। তবে নবী মুহাম্মদের যৌন জীবন, তার স্বভাব, সেই সময়ের আরবের প্রতিবেশ সব বিবেচনায় নিয়ে আপনারা যা বোঝার বুঝে নিতে পারবেন।
নবী মুহাম্মদ তার ৫৩ বছর বয়সে নিজ বন্ধুর ৬ বছরের কন্যা আয়েশাকে বিয়ে করেন, আয়েশার ৯ বছর বয়সে তার সঙ্গে যৌনতা করেন। এর পরেও জাওনিয়া ও উমাইমা নামের দুই শিশু কন্যকে নিয়ে দুইটা সহিহ হাদিস আছে। ইসলাম ডিফেন্ডাররা হাদিসের শিরোনাম দিয়ে বোঝাতে চাইবেন বিয়ে, তালাক এসব, কিন্তু মূল হাদিসের কোথাও বিয়ে, তালাকের কথা নেই। আর ঘটনাপ্রবাহে তা মনে হওয়ার কোন কারন নেই।
আমরা যে দৃশ্যকল্প দেখতে পাই তা এমন – আরবে সেই সময়ে মরুদ্যানের মাঝে ধনী মানুষদের রিসোর্ট বা বাগানবাড়ি বা প্রমোদ ভবন বা বালাখানা থাকতো যে স্থানের মূল কাজ ছিল নির্জনে যৌনতা করা। নবী মুহাম্মদ একবার তার সঙ্গী সাথী নিয়ে তেমন একটি প্রাইভেট রিসোর্টে যান। সেখানে জাওনিয়া নামের এক সম্ভ্রান্ত শিশু বা কিশোরীকে সাজিয়ে গুজিয়ে আনা হয় নবী মুহাম্মদের সামনে। জাওনিয়া যে শিশু বয়সী ছিল তার প্রমান তার সঙ্গে সেখানে তার ধাত্রী বা সেবিকা একজন নারী উপিস্থিত ছিলেন। আরবের ধনী পরিবারের শিশু, কিশোরীদের সঙ্গে সাধারনত এমন একজন ধাত্রী বা সেবিকা বা নার্স উপস্থিত থাকতেন। জাওনিয়াকে যে সেখানে কিজন্য নেয়া হয়েছে তা তিনি জানতেন না, সম্ভবত তার কোন সম্মতি ছিল না।
নবী মুহাম্মদ যখন জাওয়ানিয়া কাপড় চোপড় খুলে বেডে যাওয়ার কথা বলেন, (ইসলামের ভদ্র ভাষায় নবী বলেন তাকে নবীর কাছে সমর্পন করতে) তখন জাওনিয়া জানান – তিনি একজন রাজকুমারী, তিনি কোন বাজারিয়া মানুষের কাছে নিজেকে সমর্পন করতে পারেন না। আরবে সেই সময়ে শয়তান, লম্পট, বখাটে টাইপের মানুষদের বাজারিয়া বলা হতো। একাধিক হাদিস দ্বারা এটা প্রমানিত। নবী তখন উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে জাওনিয়ার শরীরে হাত রেখে তাকে শান্ত হতে বলেন। জাওনিয়া বুদ্ধিমতী ছিলেন – তিনি পরক্ষনে বলেন, নবী মুহাম্মদ যেনো তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে নিস্কৃতি দেন। স্পটত বোঝা যায়, নবী মুহাম্মদকে তিনি যতোটা পারেন অপমানিত করেন। এতে নবী মুহাম্মদ হতাশ হয়ে পড়েন ও তাকে সে যাত্রায় নিস্কৃতি দেন।
যে যাত্রায় হতাশ হয়ে ফিরে আবার নবী মুহাম্মদ একই প্রমোদভবনে যান। সেবার আর এক কিশোরী উমাইমাকে আনা হয় মুহাম্মদের সামনে। কিন্তু তিনিও বুইড়া নবীকে প্রত্যাখ্যান করে অপমানিত করে ফিরিয়ে দেন। ইসলামিস্ট ডিফেন্ডাররা এই দুইজনকে একজন বলে ইসলামের ইজ্জত বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সহিহ বুখারী ৫২৫৬, ৫২৫৭ ও ৫২৫৫ অনুসারে স্পষ্ট বোঝা যায় দুইটা ভিন্ন নাম, ভিন্ন ব্যক্তি, ভিন্ন সময়। অন্যান্য সোর্সেও তাদের পরিচয় ভিন্ন, একজন জাওনের কণ্যা জাওনিয়া, অন্যজন নু’মান ইবনে শাহরিলের কণ্যা উমাইমা।
সাহাবীরা জানতো যে নবী যৌনকর্ম করতে না পারলে শান্ত হন না। পরপর দুইবার অপমানিত হয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরে নবী ছিল কামোত্তেজনায় উন্মত্ত। তখন এক সাহাবী তার আপন বোনের সৌন্দর্য্যের বর্ননা দিয়ে তাকে নবীর কাছে এনে দেয়ার প্রস্তাব দেন, নবী রাজি হন। সাহাবী আশ’আছ তার বোন কাতীলাকে নবীর কাছে এনে দেন। নবী উক্ত রিসোর্টে কারো সঙ্গে যৌনতা করার তার খায়েশ সম্পূর্ণ করেন এভাবে। কারা ছিল নবী মুহাম্মদের সাহাবী একবার চিন্তা করে দেখুন, নিজের বোন তথা নারীদের তারা কি চোখে দেখতো ভাবতে পারেন! আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮৭ ও ৪৮৯ তে পাবেন এই বর্ণনা। আরো অনেক সোর্স আছে।
এই মানুষটিকে ইসলামিস্টরা দাবী করে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ, সর্বযুগের আদর্শ। তার কথা ও কাজ নাকি আবার আল্লাহর কথা ও কাজ! সেই যুগের প্রথা, স্বভাব, বদঅভ্যাস বলে পিছলানোর সুযোগ নেই। যদি পিছলানোর চেষ্টা করেন ইসলামিস্টরা তবে এটাও মেনে নিতে হবে – নবী মুহাম্মদ, কোরআন, হাদিস, আল্লাহ এই যুগে অচল, অগ্রহনযোগ্য।
শুধু নবী মুহাম্মদই নয়, আলী, ওমর প্রমুখ প্রভাবশালী সাহাবী ও খলিফাদের জীবনেও এমন শিশু কণ্যাদের প্রতি আসক্তি ও বিয়ের নামে তাদেরকে যৌন নির্যাতন করার উদাহরণ আছে।
ইসলামী শরীয়ায় এই সমস্ত অপরাধের বিচারের সুযোগ সীমিত
পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর প্রধান মুনাওয়ার হোসাইন এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন – কোন নারী যদি ধর্ষণের শিকার হয় এবং তিনি যদি স্বচক্ষে দেখেছেন, এমন চারজন পুরুষ সাক্ষী যোগাড় করতে ব্যর্থ হন তবে ঐ নারীর উচিৎ ধর্ষণের বিচার না চাওয়া। শরীয়া শাসিত দেশগুলোতে চারজন চাক্ষুস পুরুষ সাক্ষী না থাকায় উল্টো ধর্ষিতাকে জিনা-ব্যাভিচারের কঠিন শাস্তি পাওয়ার অনেক উদাহরণ আছে।
ইসলামে ধর্ষণের কোন সরাসরি বিচার নেই। সেই সময় ধর্ষণকে তেমন অপরাধ হিসাবেই দেখা হতো না। বরং ইসলামে জিনা-ব্যাভিচারের মতো সম্মতিসূচক যৌনতার জন্য কঠোর শাস্তি আছে। ধর্ষণকে জিনার ফ্রেমে ফেলে বিচার করা হয়, কিন্তু যেহেতু জিনার ক্ষেত্রে জিনা হতে দেখেছে এমন চারজন পুরুষ সাক্ষীর দরকার পড়ে, সেজন্য ধর্ষণের বিচার চাওয়ার হার খুব কম হয়। কারণ এটা প্রমান করা প্রায় অসম্ভব, উল্টো ধর্ষিতার জীবন হারানোর আশংকা থাকে।
আবার এক মুমিনকে বলা হয়েছে অন্য মুমিন মুসলমানের দোষ গোপন করতে। সেজন্য মাদ্রাসাগুলোতে ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটলেও অন্য হুজুররা সেগুলো চেপে যান, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করা তো বহু দূরের ব্যাপার। সেজন্য দেখবেন, ইসলামিস্টরা অন্য অনেক অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে নানান আন্দোলন, সংগ্রাম, মিছিল, মিটিং করলেও এই ভয়াবহ শিশু নির্যাতন নিয়ে একেবারেই কথা বলতে দেখা যায় না তাদের।
কিন্তু এই যুগে এসেও কেন বন্ধ হচ্ছে না?
বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসাব্যবস্থা এখনও অনেকাংশে রাষ্ট্রীয় নিবন্ধন, পাঠ্যক্রম তদারকি ও শিশু সুরক্ষা নীতিমালার বাইরে পরিচালিত হয়। শিশু অধিকার আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন দুর্বল, স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থা নেই, এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল অভিযুক্তকে রক্ষা করে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে দেখলে, ক্ষমতার অসম বণ্টন – একজন প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষকের সামনে একটি নিঃসঙ্গ, নির্ভরশীল, ভয়ার্ত শিশু – নিপীড়নের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করে। যোগ হয় সামাজিক লজ্জা, যা ভুক্তভোগীকে চুপ রাখে, এবং ধর্মীয় অনুভূতির রাজনীতি, যা তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করে।
দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা এই সংকটের একটি বড় ভিত্তি তৈরি করে। বাংলাদেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে কওমী মাদ্রাসা প্রায়ই একমাত্র সাশ্রয়ী শিক্ষা ও থাকা-খাওয়ার সুযোগ, কারণ এখানে খাওয়া-দাওয়া ও আবাসন বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে পাওয়া যায়। ফলে অনেক অভিভাবক সন্তানকে অল্প বয়সেই বাড়ি থেকে দূরে হেফজখানা বা মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন, না জেনেই তাকে এমন একটি পরিবেশে রেখে আসেন যেখানে বাহ্যিক তদারকি নেই। রাষ্ট্রীয় নিবন্ধন ও তহবিল ব্যবস্থার বাইরে থাকায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়, শিক্ষক নিয়োগে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই বা জবাবদিহিতার কাঠামো থাকে না, এবং আর্থিক দুর্বলতার কারণে দরিদ্র পরিবারগুলো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতেও দ্বিধাগ্রস্ত থাকে, কারণ সন্তানের একমাত্র শিক্ষার সুযোগ হারানোর ভয় কাজ করে।
সামাজিক কাঠামোও এই নীরবতাকে জিইয়ে রাখে। গ্রামীণ ও রক্ষণশীল সমাজে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে কথা বলা পরিবারের সম্মানহানির সমতুল্য বলে বিবেচিত হয়, ফলে ভুক্তভোগী শিশু বা তার পরিবার প্রায়ই মুখ বন্ধ রাখে অথবা স্থানীয়ভাবে “মীমাংসা” করে ফেলে। শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের মধ্যে যে ক্ষমতার অসমতা বিদ্যমান – একজন প্রাপ্তবয়স্ক, ধর্মীয় কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির সামনে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, নির্ভরশীল ও ভীত একটি শিশু – তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও নিপীড়নের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে। স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শিশুর কাছে অভিযোগ জানানোর কোনো নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য চ্যানেল থাকে না, এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কাঠামোই প্রায়শই অভিযুক্তকে রক্ষা করার হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
ধর্মীয় রাজনীতি ও প্রভাবশালী মহলের সুরক্ষা তৃতীয় স্তরের বাধা হিসেবে কাজ করে। কওমী মাদ্রাসাগুলো দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী সামাজিক-ধর্মীয় নেটওয়ার্কের অংশ, যাদের ভোটব্যাংক ও সামাজিক প্রভাব রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। এই কারণে কোনো অভিযোগ উঠলে তা প্রায়ই “ধর্মের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” বা “মাদ্রাসাশিক্ষা ধ্বংসের চক্রান্ত” হিসেবে চিত্রিত করে তদন্তকে বিপথে চালিত করা হয়, এবং স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রভাবশালী আলেম বা প্রতিষ্ঠান-প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। শিশু অধিকার আইন কাগজে-কলমে থাকলেও এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সদিচ্ছা, স্বাধীন তদারকি সংস্থা ও রাজনৈতিক সাহসের ঘাটতি এই দুষ্টচক্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলেছে – ফলে দারিদ্র্য, সামাজিক লজ্জা ও ধর্মীয় রাজনীতির এই ত্রিমুখী চাপ একসাথে মিলে শিশুদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ, প্রায় জবাবদিহিতাহীন পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে।
শেষের কথা
পেডোফিলিয়া একটি জটিল মনোচিকিৎসাগত অবস্থা, যার পেছনে স্নায়বিক ও বিকাশগত কারণ থাকতে পারে – কিন্তু তা কখনো নির্যাতনের ব্যাখ্যা বা অজুহাত নয়। মাদ্রাসায় ঘটে চলা শিশু নির্যাতনের প্রকৃত সমাধান নিহিত কাঠামোগত সংস্কারে – বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও তদারকি, স্বাধীন অভিযোগ ও তদন্ত ব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগে পূর্ব-যাচাই, শিশুদের জন্য নিরাপদ অভিযোগ জানানোর মাধ্যম, শারীরিক শাস্তির সংস্কৃতি থেকে সরে আসা, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – ধর্মীয় কর্তৃত্বকে ফৌজদারি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে না রাখা। নেত্রকোনার ঘটনায় বিচার শেষ পর্যন্ত ফরেনসিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে – এটি একটি ইঙ্গিত যে ব্যবস্থা কাজ করতে পারে, যদি রাজনৈতিক ও সামাজিক সদিচ্ছা থাকে। প্রশ্নটা তাই আর “কেন মানুষ পেডোফাইল হয়” নয়, বরং “কেন আমরা এমন একটি ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছি যেখানে নিপীড়নকারীরা সহজে লুকিয়ে থাকতে পারে।”
Related Posts

Islam’s extensive provisions for men’s sexual rights and marriage: Do other religions offer similar opportunities?
Islam has given a system in which the doors of sexuality are wide open forRead More

ইসলাম ধর্মে পুরুষের যৌন অধিকার ও বিবাহ ব্যবস্থার বিস্তৃত সুযোগঃ অন্য ধর্মে এমন সুযোগ কী আছে?
ইসলাম এমন এক ব্যবস্থা দিয়েছে যেখানে পুরুষের জন্য যৌনতার দ্বার অবারিত। যেকোনো বয়সের নারীকে বিয়েRead More

Threats of being burned to ashes in public: The shrinking of Bangladesh’s cultural sphere and the frightening spread of extremism
19 August 2026. That afternoon, a concert by popular rock bands Ashes and Nobelman wasRead More

Comments are Closed